• প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৫০ পিএম

জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদ হার, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে ধীরগতির কারণে ও বিনিয়োগ স্থবিরতা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ব্যাবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত, নীতিগত সংস্কার এবং রাজস্ব আদায়ের নামে হয়রানি বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। 


সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব সমস্যা রাতারাতি নিরসন করা সম্ভব নয়, তবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথে থাকা সব ধরনের বাধা দূর করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 


আজ শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের ষাণ্মাসিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 


বিশেষ অতিথি ছিলেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার এবং সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। 


ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের আলোচনার প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বেসরকারি খাতকেন্দ্রিক উন্নয়ন দর্শনে সরকার অটল থাকবে। তবে বিএনপি সব সময় বিধ্বস্ত অর্থনীতির সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসে। এর ভালো-মন্দ দুই দিকই আছে। তবু সরকার টেকসই অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।


বিনিয়োগে বাধা নিরসনে অর্থমন্ত্রী জানান, স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়। ব্যাবসা সহজ করতে সরকার ডিরেগুলেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য বিশেষ কমিটি ও ওয়েবসাইট চালু করা হচ্ছে, যেখানে ব্যবসায়ীরা সরাসরি সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। কাস্টমস ও বন্দরে পণ্য খালাসের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়ে ব্যাবসা করার খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তবে জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জ্বালানি খাতের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যাগুলো রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয় বলে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এগোচ্ছে। বর্তমানে এক মাসের জ্বালানি রিজার্ভ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং এটিকে তিন মাসে উন্নীত করা হবে। গ্যাসের সংকট মেটাতে একাধিক এফএসআরইউ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং নিজস্ব গ্যাস রিজার্ভ বাড়ানোর কাজও শুরু হয়েছে।


ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও এসএমই প্যাকেজ, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা নিয়োগ দেওয়া হবে না বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা ইচ্ছাকৃত খেলাপি নয় কিন্তু পরিস্থিতির শিকার, তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ প্যাকেজ ও সহজ এক্সিট পলিসি ঘোষণা করেছে।


অর্থমন্ত্রী বলেন, বিকল্প অর্থায়ন ও পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার এখন শুধু আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের মতো সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর না করে বিকল্প অর্থায়নের দিকে নজর দিচ্ছে। হংকং-এ বাংলাদেশের জন্য একটি ডেডিকেটেড দুই বিলিয়ন ডলারের ফান্ড এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পান্ডা বন্ড ও স্যামুরাই বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 


পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে বাজারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতিরোধ ও স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকারি সব সেবায় টোটাল অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সময় বেধে দেওয়া হয়েছে।


সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ মাত্র ৫ শতাংশ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেসরকারি ঋণের এমন ধীরগতি বিনিয়োগের জন্য উদ্বেগের বিষয়। শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত, রপ্তানির লিডটাইম কমানো এবং ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।


তাসকীন আহমেদ বলেন, সিএমএসএমই খাতে প্রকৃত ঋণপ্রবাহ লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশের বিপরীতে মাত্র ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে আটকে আছে। ব্যাবসার খরচ বাড়ায় এ খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ২৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রচলিত জামানতভিত্তিক ঋণের বাইরে ডিজিটাল স্কোরিংয়ের মাধ্যমে ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা এবং সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।


পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানি একটি নেতিবাচক কাঠামোয় পরিণত হয়েছে। ফলে সংস্কার উদ্যোগের সুফল মিলছে না। করজাল সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যকর করতে এ হয়রানি কমানোর পাশাপাশি সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তিনি অর্থনৈতিক সংস্কারের বাস্তবায়ন তদারকিতে ‘ইকোনমিক রিফর্ম এক্সিলারেশন ইউনিট’ গঠনের প্রস্তাব দেন।


আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে নামেনি, বেসরকারি ঋণপ্রবাহ দীর্ঘদিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা রয়েছে। উচ্চ সুদ, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয়, বিনিময় হার এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তায় ব্যাবসার খরচ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতের আস্থা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।


পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার বলেন, নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ফারাক থাকায় কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। আমদানি পর্যায়ে উচ্চ শুল্কহার স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে ভালো উদ্যোগ থাকলেও মুদ্রানীতিতে তার প্রতিফলন নেই। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতির সংস্কার জরুরি।


সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডিপি বাস্তবায়ন করতে হলে কর আহরণে বিল্পব ঘটাতে হবে এবং বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভব খুবই কম। তিনি বলেন, বাজেটের ভালো উদ্যোগ থাকলেও মুদ্রানীতিতে সেটার প্রতিফলন নেই, ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় মুদ্রানীতির সংস্কার জরুরি। এছাড়াও জনগণ যে পরিমাণ কর দিচ্ছেন, সেটাও কোষাগারে জমা হচ্ছে না, বিষয়টি বেশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়াও বিদেশি ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উচ্চ সুদের হার, খেলাপি ঋণ, সরকারের ব্যাংক খাত থেকে বেশি ঋণ নেওয়া, জ্বালানি সংকট ও দুর্বল লজিস্টিক ব্যবস্থাকে বেসরকারি খাতের গতি না ফেরার প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। তাদের মতে, শুধু সুদের হার কমালেই বিনিয়োগ বাড়বে না; জ্বালানি ও অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাবসা পরিচালনার অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে।



সর্বশেষ সব খবর

জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১২ পিএম

অনৈতিক সম্পর্কের কথা জেনে ফেলার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫) প্রলোভন দেখান। পাঁচ বছর সঙ্গে থাকলে জীবন বদলে যাবে বলে আশ্বাস দেন। গাজী নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছেন।


রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) কার্যালয়ে দুপুর ১২টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান এমন দাবি করেন। ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার দাবি ও হামলার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।


ওবায়দুর রহমান গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারীর পাশাপাশি গাড়িচালকের কাজ করতেন। গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা যায়। আলোচনায় ওঠার পর গাজী নজরুল জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। ওই তরুণীর আত্মীয় ওবায়দুর।


গাজী নজরুল সে সময় অভিযোগ করেছিলেন, ১৩ জুলাই ওই তরুণীর বাবার অফিসে তাঁকে জিম্মি করে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন ওবায়দুর রহমান। ভিডিও ফাঁসও তিনিই করেছেন।


ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তিনি এর প্রতিবাদ করেন। তখন গাজী নজরুল তাঁকে প্রথমে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি গাড়িচালক হিসেবে চাকরির প্রস্তাবও দেন। তিনি অর্থের প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও তরুণীর নিরাপত্তা ও অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের কথা বিবেচনা করে গাড়িচালকের কাজ নেন।


ওবায়দুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ৬ থেকে ১৩ জুলাই তিনি গাজী নজরুলের সঙ্গে ছিলেন। এ সময় তিনি গাজী নজরুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করেন।


সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান বলেন, গত ১৮ জুন তিনি প্রথম তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরদিন তরুণীর সঙ্গে কথা বললে সে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে। পরে ২০ জুন তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তখন গাজী নজরুল সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন।


ওবায়দুরের দাবি, ওই সময় গাজী নজরুল তরুণীর মাধ্যমে তাঁকে কিছু টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং তাঁকে ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। তিনি টাকা নেননি।


সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর আরও বলেন, গত ২২ জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপে এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউসে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীর অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন তিনি। পরে ওই রাতে তরুণীকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে যান তিনি। পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর কথামতো খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামের একজনের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। ওই রাতে বাসায় ফেরার পর তরুণীর বাবা ও আমিনুর তাঁর ওপর হামলা চালান এবং তাঁকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দিবাগত রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।


ওই ঘটনার পর ২১ জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি। ওবায়দুরের দাবি, মামলাটি পরে ডিবিতে স্থানান্তরিত হয় এবং কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে আদালত তাঁদের জামিন দেন।


এর মধ্যে ২ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তাঁর বোন ও তরুণীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন।


ওবায়দুর রহমান বলেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মা ও পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে হচ্ছে। এসব ঘটনায় ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৩৫ পিএম

কলকাতার একটি হোটেলে আগুনের ঘটনায় নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনের মরদেহ এরই মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। 


আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে কলকাতা থেকে মরদেহগুলো বাংলাদেশে আনা হয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।গত বুধবার (১৯ আগস্ট) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি নিহত হন।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্ঘটনার পর থেকেই কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করে।


আজ শনিবার সকালে সাতক্ষীরার এস এম আলীমুজ্জামানের মরদেহ ঘোজাডাঙ্গা-ভোমরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়। পরে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


এ ছাড়া কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত এবং একই পরিবারের তিন সদস্য আফসানা শারমিন, শর্ণশিষ দত্ত ও মো. আকরাম আলীর মরদেহ পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আজ বিকেলে দেশে আনা হয়। ঢাকার আমিনবাজারের নিহত বাবু আহমেদের মরদেহও একই সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হয়।


কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন জানিয়েছে, মরদেহ সংরক্ষণ, পরিবহন ও দেশে ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এদিকে সাতক্ষীরার নিহত রেপতি সরকারের মরদেহ তার পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী গতকাল রাতে কলকাতায় সৎকার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উপহাইকমিশন আর্থিকসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছে।


উল্লেখ্য, কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। 

সর্বশেষ সব খবর

শামা ওবায়েদ

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৯ পিএম

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি, ব্যস্ততা ও গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেড়েছে। মন্ত্রণালয়ের কাজের সুবিধার্থে এবং গতি আরও বেগবান করার লক্ষ্যেই সরকার এখানে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।


আজ শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগের একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘পলিটিক্স ল্যাব: বাংলাদেশে তরুণ নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক পাবলিক ডায়ালগ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ ও দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, গত ছয় মাসে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিগত ১৭ বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কাজ হয়েছে।


আমরা তিনটির মতো নতুন উইং চালু করেছি। অভিবাসন ও অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কাজ করছি। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ, সংস্কৃতি, শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় ফোকাল পয়েন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেগুলো আগে ছিল না।


তিনি আরও বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।


আগামী এক বছর তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন। ফলে কাজের সুবিধার্থে এবং গতি বাড়াতে সরকার যে সিদ্ধান্তই নেবে, সে অনুযায়ী টিমওয়ার্ক হিসেবে আমরা কাজ করব।


অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মক্কা প্যাক্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেকোনো বহুপাক্ষিক সংস্থায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থই হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।


বিএনপির এই সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো বহুপাক্ষিক সংস্থায় বা জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কি হবে না, তার সিদ্ধান্ত সরকার নিজেই নেবে। আর এ ধরনের যেকোনো সিদ্ধান্ত হলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমই তা আগে জানতে পারবে। বিদেশি কোনো দেশের গণমাধ্যমে কী আসছে, তা দেখে আমাদের প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২১ পিএম

নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আসনটিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের (আইন প্রণয়ন শাখা-২) সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা-৩, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করেছেন। সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে তাঁর সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের জন্য সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শূন্য হওয়া আসনে উপনির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। 


এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়, বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।


এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫৬ এএম

বিএনপি সরকারের গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; জ্যেষ্ঠতম মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রেক্ষাপটে আসা এই রদবদলে নির্বাহী দায়িত্বে তিনি আনলেন নতুন ছয় মুখ।


নির্বাহী বিভাগের পুনর্গঠনে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে বাদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী; তাকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে দপ্তর পাল্টে তার জায়গায় পদোন্নতি দিয়ে আনা হয়েছে রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে; এতদিন ওই মন্ত্রণালয়ে রিতার জুনিয়র মন্ত্রী ছিলেন তিনি।


প্রায় দুই দশক বিরতির পর বেশিরভাগ নতুন মুখ নিয়ে আসা বিএনপি সরকারের জন্য এমন পরিবর্তনকে স্বাভাবিকই মানছেন বিশ্লেষকরা।


আবার কারও কাছে মাত্র ছয় মাসে এই রদবদল ‘অবাক করা’।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। সেদিন প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।


মন্ত্রীদের মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরে স্পিকারের দায়িত্ব পান। আর প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে কায়সার কামাল গত মার্চে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পান।


হাফিজ উদ্দিনের জায়গায় মন্ত্রিসভায় আসেন আহমেদ আযম খান। আর ১ জুন পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে যাওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পদও শূন্য হয়। আর শুক্রবারের রদবদলে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেন জহির উদ্দিন স্বপন।


ফলে সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সরকারে মন্ত্রীর সংখ্যা হল ২৬ জন, আর প্রতিমন্ত্রী থাকলেন ২৪ জন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা ছিলেন। তাদের পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।


তাদের মধ্যে হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় এবং জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রী থেকে উপদেষ্টা হওয়ায় উপদেষ্টাদের মোট সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন হল না।


৫১ জন সদস্য নিয়ে মন্ত্রিসভার এই পুনর্গঠনকে কুঁড়েঘরের ‘খুঁটি পাল্টানোর’ সঙ্গে তুলনা করেছেন সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার।


ছয় মাসের কাজ দেখে দায়িত্বে এমন পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে এই বিশ্লেষক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী একেবারে শূন্য থেকে শুরু করেছিলেন বলা যায়। আবার তার মন্ত্রিসভায় অধিকাংশই ছিলেন নতুন মুখ। এখন তিনি কাজ দেখলেন, নাড়াচাড়া করে দেখে খুঁটিতো বদলাতে হয়।”


প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একানব্বইয়ের সরকারের শুরু দিকেও মন্ত্রিসভায় এমন পরিবর্তন আসার কথা তুলে ধরে সাবেক এই সচিব বলেন, “দীর্ঘ বিরতির পর কোনো দল ক্ষমতায় এলে এটা স্বাভাবিকভাবে করতে হয়।


“কারণ, আগে সরকারে থাকা সিনিয়র অনেক নেতা মারা যান এবং কেউ কেউ বার্ধ্যক্যজনিত কারণে কর্মক্ষম থাকেন না।”


তবে, আরেক বিশ্লেষক অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলেছেন, “রদবদল তো সবসময় মন্ত্রিসভায় হয়। তবে ছয় মাসের মধ্যে রদবদল হয়তো মানুষকে একটু অবাক করে দিয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে ছয় মাসের মধ্যেই যে বিষয়টি হচ্ছে সরকার এবং বিএনপি দল অনেকটাই কাছাকাছি চলে আসছে। যে কারণে রাজনীতির দল হিসেবে বিএনপির আলাদা যে গুরুত্ব, আলাদা যে অবস্থান সেটি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।


“বিলীন হওয়ার কারণে যেটা হচ্ছে যে নতুন সদস্যদের মন্ত্রীর জায়গায় অন্তর্ভুক্তি এবং এখন পর্যন্ত আপনার, আমরা দেখেছি যে হয়তো আরো সামনে মন্ত্রিপরিষদে নতুন অন্তর্ভুক্ত হবে।”


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, “এখন বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ থেকে অন্তর্ভুক্তিগুলো করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে দলের যারা তরুণ তারাও আছেন, আবার যারা অভিজ্ঞ, তারাও আছেন।


“তো একটি হল যে সমন্বয়, আরেকটি হল আমার কাছে মনে হচ্ছে যে এক ধরনের বিএনপির অভ্যন্তরের রাজনীতি ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি এবং দল ও সরকার দুটোর মধ্যে একটা সমঝোতা করার চেষ্টা। পাশাপাশি নানারকম চাপ থাকতে পারে।”


কার ভাগে কোন মন্ত্রণালয়


তারেক রহমানের সরকারে যুক্ত হয়েছেন চারজন নতুন মন্ত্রী, তাদের একজন আগে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। আর নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দুজন, তাদের একজন আগে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।


মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত।


আর প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।


শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর পরপরই তিনি চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ান।


রাতেই তাদের দপ্তর বণ্টনের তথ্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। পরে জারি করা হয় প্রজ্ঞাপন।


মির্জা ফখরুলের ছেড়ে আসা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির প্রবীণ নেতা আবদুল মঈন খান। তিনি নরসিংদী-২ আসনের এমপি।


খালেদা জিয়ার ১৯৯১-৯৬ মেয়াদের সরকারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মঈন খান। পরে ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারে প্রথমে তথ্য এবং পরে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ছিলন।


আন্দালিভ রহমান পার্থ বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


বর্তমানে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।


গত আড়াই মাস ধরে খালি থাকা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাচিং প্রু জেরী।


এর আগে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনেও তিনি এমপি হয়েছিলেন। বান্দরবান সদর উপজেলা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলেছেন।


মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পাওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়েরই মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আর বর্তমান মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।


নতুন প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।


আর প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসা হুমায়ুন কবিরকে পরররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।


কিন্তু ওই মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “এক মন্ত্রণালয়ে দুইজন প্রতিমন্ত্রী থাকলে তো অসুবিধা নেই।”


একই মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী থাকলে কোনো অসুবিধা না থাকার কথা বলেছেন সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদারও।


এ বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতার ক্রম, কে কোথায় যাবেন, কোন মন্ত্রণালয়ে কতজন প্রতিমন্ত্রী থাকবেন- এগুলো একেবারেই এবং পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। এখানে কার্যবিধিমালার কোনো ব্যত্যয় হবে বলে মনে হয় না।


পরিবর্তনে ইঙ্গিত কী


নতুনদের দিয়ে শুরু করা সরকারে মন্ত্রীদের ‘পারফরমেন্স’ দেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হয়েছে বলে মনে করছেন সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার।


তিনি বলেন, “প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান সরকারে একেবারে নতুন এবং দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। সরকার গঠনের পরপরই তিনি বিভিন্ন আলোচনায় কিন্তু বলেছেন, মন্ত্রীদেরও ‘পারফরমেন্স’ বিবেচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।


“আর মন্ত্রিসভায় যারা এসেছিলেন, তাদের বেশিরভাগও ছিলেন অনভিজ্ঞ ও নতুন। এখন ছয় মাস পার এসে তিনি দেখেছেন, কোথায় কোথায় পরিবর্তন করা দরকার এবং সেভাবে পরিবর্তন করছেন।”


তথ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের কারণ প্রকাশ পেলে অন্যরাও সতর্ক হবেন বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান।


তিনি বলেন, “এই পরিবর্তনের মূল কারণটা যেটা আসবে বা প্রকাশ পাবে, সেটার ভিত্তিতে অন্যদের কাছেও বার্তা যাবে। নেতিবাচক কারণে পরিবর্তন হলে অন্য মন্ত্রীরাও সাবধান হবেন।”


রাষ্ট্রপতি হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জায়গায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে মঈন খানের যাওয়াকে ‘যথার্থ’ বলেই মানছেন অধ্যাপক কাজী মাহবুব।


জোটসঙ্গী বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসার মাধ্যমে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সেটা এখনও স্পষ্ট না হওয়ার কথা তুলে ধরে এই বিশ্লেষক বলেন, “হয়ত তিনি আউটস্পোকেন হওয়ায় সরকারের পক্ষে বক্তব্য দিতে পারবেন এবং জনমত তৈরি করতে পারবেন।”


দলীয় কাজে জহির উদ্দিন স্বপনকে আরও বেশি পরিমাণে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকে তাকে উপদেষ্টা করা হয়েছে, ধারণা এই বিশ্লেষকের।


সরকারে নতুন গতিবেগ দেওয়ার দেওয়ার এই পরিবর্তন আনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না যে, কারও অদক্ষতা বা ব্যর্থতার কারণে এই রদবদল করা হয়েছে বা সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কি-না। গুরুত্বপূর্ণ ছিল কাকে কোথায় কাজে লাগানো যায় সেই বিবেচনা।


“সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে গতি বা মাত্রা বাড়ানো যায় কি-না, সেই চিন্তা করা হয়েছে। এই পুনর্গঠনের বড় রকমের প্রভাব সরকারে উপর পড়বে বলে মনে হয় না। দল এবং সরকারের প্রয়োজনে কিছু জায়গায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।”

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম

জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নতুন সদ্য শপথ নেওয়া রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপ্রধান। এরপর তিন বাহিনীর তরফে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।


নতুন রাষ্ট্রপতি সেখানকার পরিদর্শন বইয়ে সইয়ের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণও করেন।


রাষ্ট্রপ্রধান সেখান থেকে সরাসরি মিন্টু রোডের বাসায় ফিরবেন। তিনি রোববার বঙ্গভবনে উঠবেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে।


দেশের তেইশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেন দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব সামলানো মির্জা ফখরুল। এর আগের দিন সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হন।

সর্বশেষ সব খবর