বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে: প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪৩ এএম

বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লংঘন না করে সেজন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজনীতির সংস্কৃতি যাতে গালাগালিতে পরিণত না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান। জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। সরকারি দল ও বিরোধীদল মিলে গালাগালির পরিবর্তে কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান তিনি।


তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে বিভেদ পরাজিত ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসার পথ সুগম করতে পারে। এজন্য ঐক্য রাখা একান্ত কাম্য। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু ভিন্নমত যাতে শত্রুতায় পরিণত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।


সরকারপ্রধান বলেন, “ফ্যাসিবাদ শাসনকালে জনগণের সব গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বাকস্বাধীনতা। বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক একটি পরিবেশ বিরাজ করছে, বাকস্বাধীনতা অবারিত। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে।”


তারেক রহমান বলেন, “আমরা যেরকম চাই না, দেশের জনগণের কাঁধে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী শাসন চেপে বসুক, যেকোনো বিবেকবান মানুষ, যেকোনো দেশপ্রেমিক রাজনীতিক অবশ্যই আমরা চাই না, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন গালাগালিতে পরিণত হয়।


“এজন্যই আমাদের সবাইকে দলমত নির্বিশেষে, আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পারিবারিক পরিবেশে আমরা যেসব কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না, কেন আমরা জনপরিষদে সেসব শব্দ ব্যবহার করব? কেন আমরা জনপরিসরেও সেই শব্দগুলোকে পরিহার করব না মাননীয় স্পিকার? আপনার মাধ্যমে আমি এটি সব সদস্যের কাছে, দেশের সব বিবেকবান নাগরিকের কাছে প্রশ্ন রেখে যেতে চাই।


“আমরা যদি সত্যিকারভাবে সবাই এ ব্যাপারে একমত হই, আসুন আমরা তাহলে গালাগালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা গ্রহণ করি।”


এ সময়ে সংসদ অধিবেশনের কক্ষে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সমর্থন জানান।


এদিন বিকাল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। মাগরিবের নামাজের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ অধিবেশন সমাপনীসংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ সংসদে পড়ে শোনান।


সমাপনীতে সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী ৭টা ৪৫ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন।


সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয় গত ২৭ অগাস্ট।


‘বিরোধ-বিভেদ ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুরুজ্জীবিত করবে’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘সরকারি দলই বলি, বিরোধী দলই বলি, আমরা সবাই মিলে আসুন একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলি। সে কারণে মাননীয় স্পিকার, সবসময় আমি বলার চেষ্টা করি, আমি বলে থাকি, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।


“জনগণের কাছে আমার আহ্বান, আসুন গণতন্ত্র, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির মধ্যে বিভেদ, বিরোধ কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকেই পুনরুজ্জীবিত করতে পারে, সেই পথকেই হয়তো সুগম করতে পারে…। এটি যেন আমরা ভুলে না যাই।”


সরকারপ্রধান বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থেই, শহীদদের প্রতি কর্তব্যের অংশ হিসেবে অবশ্যই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”


তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা— আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকবে। সারা পৃথিবীতেই সেটি থাকে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও থাকবে। এটিও ডেমোক্রেটিক প্র্যাকটিস।


“কিন্তু ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, মাননীয় স্পিকার, সে ব্যাপারে অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”


‘সংসদ সব কর্মের কেন্দ্রবিন্দু’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সংসদকে আমরা সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু করতে চাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের কারোরই সদিচ্ছার অভাব ছিল না, সেটি নিশ্চয়ই প্রমাণিত হয়েছে। আমরা উভয়পক্ষ দেশ এবং দেশের জনগণের স্বার্থে যে কাজ করছি, দেশ এবং দেশের জনগণের স্বার্থে যে আলোচনা করেছি ও কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করার চেষ্টা করেছি, সে ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।


“এই জাতীয় সংসদকে কার্যকর এবং প্রাণবন্ত রাখার জন্য আমি আজ উপস্থিত সকল সংসদ সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রত্যেকটি গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশা এই জাতীয় সংসদের কাছে। এই জাতীয় সংসদে আলোচনা করে জনগণের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব করা সম্ভব হবে; এই সংসদ তাদের জন্য শান্তি এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে, এটিই জনগণের প্রত্যাশা।”


‘গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের কারণে জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে সরকার সচেতন। এ সমস্যা হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। ফ্যাসিবাদের শাসনামলে দেশীয় সোর্স থেকে গ্যাস তোলার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি। খুবই আশ্চর্যের বিষয়, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ডানে এবং বামে যে প্রতিবেশী দেশগুলো আছে, তারা সমুদ্র থেকে গ্যাস তুলছে। কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় মাঝখানে বাংলাদেশ, মাঝখানে বঙ্গোপসাগর, সেই বঙ্গোপসাগর থেকে বিগত এক যুগের বেশি সময় ফ্যাসিবাদের আমলে গ্যাস উত্তোলনের বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি।


“অনেকে বলে, বিশেষ কোনো দেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, কিংবা তারা যেন গ্যাস নিয়ে যেতে পারে, সেজন্যই বাংলাদেশ অংশে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস উৎপাদন করা হয়নি। অপরদিকে পশ্চিম এশিয়া ছিল আমাদের গ্যাস আমদানির প্রধান উৎস। এমন পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণভাবেই দেশকে জ্বালানি-নির্ভর করে ফেলা হয়েছিল।”


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপক্ষে ইরানের চলমান যুদ্ধের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “সরকার গঠন করার ১০-১২ দিন পরেই মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয় যুদ্ধ পরিস্থিতি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যে তেল এবং গ্যাস আমদানি করা হতো, সে ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হলো। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এই পরিস্থিতির ভেতরেই আমাদের যে দুটি এফএসআরইউ আছে, তার একটিতে ইলেকট্রিক শকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে এবং সম্পূর্ণভাবে সেই এফএসআরইউতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে এটি বিকল হয়ে যায়। এ কারণেই বর্তমানে গ্যাস এবং বিদ্যুতের জন্য সমগ্র দেশের মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”


‘বিরোধী দলের লংমার্চ’


দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ৬ দাবিতে গত শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চ করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।


তাদের সেই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমস্যা সমাধানে আমরা আমাদের বিরোধীদলীয় বন্ধুদের কাছে সহযোগিতা আশা করেছিলাম। অথচ আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়িবহরের লং মার্চ আয়োজন করা হয়েছিল।


“বিভিন্ন মানুষ বাইরে একটি কথা বলে, জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কিনা? গাড়ির লং মার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।”


তিনি বলেন, “একটি কথা সবারই মনে আছে, তাও এটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, রাশিয়া ও ইউক্রেইন যুদ্ধ যখন শুরু হলো, সেই ২০২২ সালে যুদ্ধের অজুহাতে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করার জন্য, তখন অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত করা হয়েছিল। শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে এক দিনের জায়গায় বাড়িয়ে দুই দিন ছুটি করা হয়েছিল। ব্যাংকের লেনদেনের কর্মসূচিও পরিবর্তন করা হয়েছিল।


“আমরা আগেই বলেছি, কোনো অজুহাত তুলে আমরা জনগণের দুর্ভোগ বা সমস্যার সমাধানকে এড়িয়ে যেতে চাই না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, যারা ২০০৯ সাল থেকে একটানা বছরের পর বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল, মানুষের কথা বলার অধিকারকে কেড়ে নিয়ে, ভোটের অধিকারকে কেড়ে নিয়ে, তাদেরও, মাননীয় স্পিকার, বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল বা করেছিল। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত রাখার জন্য ‘সো-কল্ড নিশ্চিত’ কুইক রেন্টাল বসানো হয়েছিল। এই কুইক রেন্টালের নামে কিছু মানুষকে সুবিধা দিয়ে এই রাষ্ট্রকে ফতুর করে দেওয়া হয়েছিল, ঋণগ্রস্ত করে দেওয়া হয়েছিল। তারপরেও তারা বিদ্যুৎ সমস্যা বা জ্বালানি সমস্যার স্থায়ী সমাধান বের করে আনতে পারেনি।”


বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রেক্ষাপটের বিষয়ে তিনি বলেন, “অথচ বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের ভেতরেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেই ইউক্রেইন যুদ্ধকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন পদক্ষেপ তখন তারা নিয়েছিল, সেই ইউক্রেইন যুদ্ধ এখনো চলমান। এর মধ্যে পড়ল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি।


“এর পাশাপাশি দুটি এফএসআরইউ, দুটি এলএনজি টার্মিনাল— একটি গেল নষ্ট হয়ে। আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। এসব সমস্যা বর্তমান সরকার এবং যেহেতু আমি বলেছি বিরোধী দল সরকারের একটি অংশ, আমরা সকলেই এসব সমস্যা উত্তরাধিকার সূত্রেই পেয়েছি।”


তারেক রহমান বলেন, জনগণের সামনে বিদ্যমান পরিস্থিতি তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের যেমন রয়েছে, যেহেতু জনগণ আমাদের সকলকেই ভোট দিয়ে পাঠিয়েছে, তাই আমি মনে করি, এই সংসদের প্রত্যেক সদস্য, তিনি বিরোধী দলের হোন কিংবা সরকারি দলের হোন— আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব সঠিক চিত্র বা বাস্তব পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরা। প্রকৃত পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন না করে এটি যদি করার সুযোগ না হয়, তাহলে পতিত, পরাজিত, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্রই লাভবান হবে। তাহলে এতগুলো আত্মদানের কী মূল্য থাকবে?”


সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলায় কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, তা চলতি সংসদে তুলে ধরার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।


স্পিকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমি আপনার মাধ্যমে জনগণকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, ইতোমধ্যেই আমরা যথাসম্ভব অনেকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী, ইনশাআল্লাহ আমরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই যে সমস্যা যাচ্ছে, যেটি গ্যাস বা বিদ্যুতের, সেই সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হব।


“দেশ এবং জাতিকে অবশ্যই আমাদের বিরোধীদলীয় বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে আমরা এ সমস্যা থেকে ইনশাআল্লাহ বের করে আনতে সক্ষম হব।”


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এতদিন আমরা আমদানিনির্ভর উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের গ্রাহক ছিলাম। বর্তমান সরকার যে ব্যবস্থা বা যে উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা যদি আমরা ইনশাআল্লাহ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আমরা শুধু গ্রাহক নয়, বরং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হব ইনশাআল্লাহ।


“সেই সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। কারণ আমাদের এই আত্মবিশ্বাসের কারণ হচ্ছে আমাদের অভিজ্ঞতা, আমাদের এই আত্মবিশ্বাসের কারণ হচ্ছে বিএনপির গৌরবময় অতীত ইতিহাস। বিএনপি— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল— যতবারই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, প্রত্যেকটি বার, মাননীয় স্পিকার, দেশকে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত দেশ এবং জনগণের প্রতিটি সংকটে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি দেশের হাল ধরেছে এবং সফল হয়েছে।”


‘অর্থনীতি প্রসঙ্গে’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০০১ সালে জনগণের রায়ে প্রত্যাখ্যাত অপশক্তি ষড়যন্ত্রের পথ ধরে, যে কথাটি মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা একইভাবে বলেছেন, ২০০৯ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবার রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে। তারা জনগণের অধিকারকে কেড়ে নেয়। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দেশ ছেড়ে পালানোর আগে পর্যন্ত তাদের দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের কারণে বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অপবাদ সইতে হয়েছে। এই ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার দায়িত্ব এখন বিএনপির কাঁধে পড়েছে।


“এরা পালিয়ে গিয়েছে, কিন্তু এই ঋণ রেখে গিয়েছে এই দেশের কাঁধে, এই দেশের জনগণের কাঁধে। যারা পালিয়ে গিয়েছে, তারা শুধু ঋণখেলাপিই করেনি, বরং ঋণখেলাপির পরিমাপের যে হিসাব-নিকাশ, সেটির মধ্যেও তারা জালিয়াতি করেছে। এমন পরিস্থিতিতেই বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বর্তমানে ঋণখেলাপির অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে। বিগত নির্বাচনের পরে যেখানে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, সেখানে এটি নেমে এসেছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে। অর্থাৎ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে শুরু করেছে বর্তমান বিএনপি সরকারের অধীনে।”


তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট চক্রের অনাচার, লুটপাট, দুর্নীতি— এসব উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের কলঙ্ক থেকে বিএনপি যেভাবে বাংলাদেশকে মুক্ত করে নিয়ে এসেছিল, একই চক্রের কারণে ২০২৪ সালে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ঋণখেলাপির যে কলঙ্ক, এর থেকেও বিএনপি বাংলাদেশকে ইনশাআল্লাহ মুক্ত করে নিয়ে আসবে।


“বৈদেশিক ঋণের ভারে জর্জরিত একটি রাষ্ট্র আমরা পেয়েছি। যারা বাংলাদেশকে ঋণের ভারে জর্জরিত করেছে, তাদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে; কিন্তু বাংলাদেশকে এখনো সেই ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার গত পাঁচ মাসে বৈদেশিক ঋণের আসল এবং সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখি ডলার পরিশোধ করেছে। যদিও ফ্যাসিবাদের লুটতরাজ, টাকা পাচারের কারণে এখনো দেশের কাঁধে, জনগণের কাঁধে হাজারো কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ বাকি রয়ে গেছে।”



সর্বশেষ সব খবর

এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২৮ পিএম

বিমান চলাচল খাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টির পাশাপাশি নিরাপত্তার ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক উড্ডয়ন সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ফ্লাইট সেফটি নিশ্চিত করতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, যথাযথ প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল, কার্যকর নেতৃত্ব, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় ও দলগত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করে তুলতে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত কার্যক্রমের সমন্বিত প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেমিনারে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সর্বশেষ সব খবর

এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২১ এএম

ওয়াজ মাহফিলে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান ও তাদের পেটানোর উসকানিমূলক হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত ইসলামী বক্তা ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠানো হয়েছে।


রোববার (২৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমকর্মী আজহারুল ইসলাম সুজনের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়, নোটিশ প্রাপ্তির আগামী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে তার প্রদত্ত বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় পেশাদার সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে মানহানি ঘটানো, শারীরিক হামলার হুমকি এবং অনুসারীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নোটিশের বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ অক্টোবর চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাংবাদিকদের তীব্র সমালোচনা ও হুমকি দেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশের সাংবাদিকগুলো। এগুলোরে কুত্তার মতো পেটানো দরকার। তিনি আরও দাবি করেন, একটা যুবক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে তার বাহিনী নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের চেইনকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছে। সাংবাদিকরা ইতিবাচক সংবাদটা প্রচার করে নাই, প্রচার করেছে পিস্তল নিয়ে দৌড়িয়েছে। এই সাংবাদিকগুলো হচ্ছে সাংঘাতিক। এরা হলুদ সাংবাদিকতা করে।


এরা বিদেশি ইন্টিলিজেন্স ব্রাঞ্চ কর্তৃক পয়সায় চলে। বাংলাদেশ ভালো হোক এটা তারা চায় না। আইনি নোটিশে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, জনসম্মুখে দেওয়া এমন বিষোদ্গারমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্বয়ং এবং তার ভক্ত-অনুসারীদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর হামলার হুমকি সৃষ্টি করেছেন। যা স্বাধীন ও পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য অত্যন্ত ভীতিকর ও বিপজ্জনক পরিবেশ তৈরি করেছে। এই ধরণের ভিত্তিহীন অভিযোগ ও পেটানোর উসকানি সাংবাদিকতা পেশা এবং পেশাদার সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি ও চরম অবজ্ঞার শামিল।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৭ এএম

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সোয়া ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিআইপি ফ্লাইটে জাপানের রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা।

উচ্চপর্যায়ের এই সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এছাড়া প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত বিষয়ে শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন। সফরটিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৩ পিএম

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারসহ তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।


প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসানকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।


অন্যদিকে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) মোহাম্মদ এনামুল হককে খাগড়াছড়ি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।একই আদেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকায় কর্মরত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সংযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম মাহবুবুর রহমানকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার) পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।


নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে পরদিন ২৯ অক্টোবর থেকে তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) হয়েছেন বলে গণ্য হবেন।


জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ এএম
  • আপডেট : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ এএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রার) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে ইউনিটটি।  প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবরের দিকে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। 


এদিকে, রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সফররত উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রতিনিধিদল মন্ত্রীকে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করে।  শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাশিয়ার দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তি ও ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। 


দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও প্রকল্পের পরিচালনাকারী সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।  দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়, বৈঠকে উভয়পক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ ও প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করে। পাশাপাশি অদূর ভবিষ্যতে যৌথভাবে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও মতবিনিময় হয়। 


এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। এ ধাপের ফিজিক্স টেস্টও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল বৈঠকে ইউনিট-১-এর ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি সি স্টেজে প্রবেশ করবে এবং এরপর পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হবে। 


জাহেদুল হাসান আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। পরবর্তী কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।  প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মাসের শেষ দিকে, সম্ভাব্য ২৫ অক্টোবর, পাওয়ার স্টার্টআপ শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে এ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে কিনা- তা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।


প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি নির্ভর করবে পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপর।

সর্বশেষ সব খবর

আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৪১ পিএম

সমাজ থেকে মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, জিনা ও অন্যায়-অবিচার দূর করতে জুমার খুতবার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরিতে ইমামদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।  


ধর্মমন্ত্রী বলেন, সমাজের বিভিন্ন অন্যায় ও অনৈতিকতা দূর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ইমামদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ মানুষ ইমামদের কথা পরম আস্থার সাথে শোনে ও বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি জুমার খুতবার মাধ্যমে সার্বিক নৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য সকল ইমামদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। সম্মেলনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।



সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নেতাদের পর্যায়ক্রমে সরকারি সম্মানী কাঠামোর আওতায় আনা হবে।  ইমাম ও আলেম সমাজের ঐতিহাসিক অবদানের কথা উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েও দেশের ইমাম, ওলামা ও পীর-মাশায়েখরা সমর্থন ও সহযোগিতা করেছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ‘আস্থা গণভোট’ (হ্যাঁ-না)-এর নির্বাচনেও আলেম-ওলামারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়া, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া ২ কোটি টাকার কল্যাণ তহবিল গঠনের যে ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে বলেও সম্মেলনে জানান ধর্মমন্ত্রী।  


সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন ধর্মমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে বলেন, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও তার ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে বিবেচিত হয়। 


তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে আলেম-ওলামা ও ইমাম সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর শক্তিকে উন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।


বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হুরায়রার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল, বিএনপির চেয়ারপারসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান, এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহিল বাকী নদভী। 

সর্বশেষ সব খবর