সন্ত্রাসী সাকিল

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাকিল (৩৭) ওরফে বুলেট সাকিল নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা তারাব পৌরসভার বরাবো রসূলপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সাকিল উপজেলা বরাবো রসূলপুর এলাকার মৃত মোস্তাফা মিয়ার ছেলে।


স্থানীয়রা বলেন, সাকিল তারাব , বিশ্বরোড ও বরাব এলাকায় কিশোরগ্যাং দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ করে। সাকিল ও তার বাহিনীর সদস্যরা মাদক ও অস্ত্র রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবারহ করে থাকে। এছাড়া তারাব ও বিশ্বরোড এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি, জমি দখলসহ নানা অপকর্ম করে বেড়ায় সাকিল ও তার বাহিনীর সদস্যরা। তাদের কারণে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কে থাকতে হয়। তুচ্ছ ঘটনাতেও সাকিল ও তার বাহিনীর সদস্য অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। 


রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচ এম সালাউদ্দিন জানান, তারাব পৌরসভার তারাবো এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে দুই গ্রুপের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলি বর্ষণ ও ককলেট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার এজাহার নামীয় আসামী সাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।  





দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০১ পিএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের বড়কুমিরা কিং অব কুমিরা কনভেনশন হলের দক্ষিণ পাশে গত ঢাকামুখী লেনে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে লরির ধাক্কায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত ২টার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 


ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী, একজন পুরুষ ও এক শিশু রয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২ জন বাসের ভিতরে ও ৩ জন বাইরে ছিলেন। 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই দাঁড়িয়ে থাকা বাসের যাত্রী ছিলেন। বাসটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে সার্ভিসিংয়ের কাজ চলছিল। বাস থেকে অধিকাংশ যাত্রী নেমে পাশে একটি গাছের ডালের ওপর বসেছিলেন। এ সময় একইমুখী লেনে একটি লরি এসে বাসটিকে ধাক্কা দেয়। লরিটি বাসের পেছনে ধাক্কা দিলে তা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে বাসের ভিতরে থাকা ও বাইরে থাকা অনেক যাত্রী হতাহত হন। 


খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস টিম উদ্ধার অভিযানে নামে। ঘটনাস্থল থেকে আহত-নিহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হতাহতের অধিকাংশের বাড়ি নেত্রকোনা এলাকায়।


চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন—নেত্রকোনা জেলার সীবাশ্রম এলাকার ফাতেমা (৪০), আজহারুল (৪২), রাকিব (৮) ও বড়কান্দার আবুল হোসেন (৫০)।


কুমিরা ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফিটার হাবিবুর ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় তিনজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু নিহত হয়েছে। আহত রয়েছে ২০ জনের অধিক। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


আগুনের প্রবাহ বেশি হওয়ায় আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৭ এএম

কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ (টিউবওয়েল) বসাতে গিয়ে মাটির নিচ থেকে গ্যাস বের হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছোট ইনানী এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় এ ঘটনা ঘটে। গ্যাস বের হওয়ার পরপরই আগুন জ্বলে ওঠে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির আঙিনায় নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খনন করা হচ্ছিল। এ সময় মাটির নিচ থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেই গ্যাসে আগুন জ্বলে ওঠে। আগুনের প্রবাহ বেশি হওয়ায় আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।


ইনানীতে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচকর্মীদের সুপারভাইজার বেলাল উদ্দিন  বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করছেন।


কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করছেন।


প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাটির নিচে গ্যাস থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।


নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২২ এএম

বিরোধ মেটাতে থানায় এসে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পাঁচজনকে আটক করেছে।


সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।


আটককৃতরা হলেন, মো.আলা উদ্দিন ওরফে সহেল, ইমতিয়াজ চৌধুরী, মো.আজগর আলী, জাহিদুল ইসলাম সাব্বির ও মাইন উদ্দিন।  


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ছোটধলী গ্রামের দুবাই প্রবাসী মো. আলাউদ্দিন ওরফে সোহেল প্রায় এক বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লামছি প্রসাদ গ্রামের মাশরুপা আক্তারকে (১৯) বিয়ে করেন। প্রায় তিন মাস আগে সহেল প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। এরপর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ঘটনায় একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা থানায় আসেন। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়দাস গুপ্ত বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে পরামর্শ দেন। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে উভয় পক্ষ থানার বাইরে যাওয়ার সময় থানার গেটসংলগ্ন সড়কে দুই পক্ষের লোকজন বাকবিতন্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষের পাঁচজনকে আটক করে।


কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, একটি পারিবারিক বৈঠক শেষে চলে যাওয়ার পথে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাথে সাথে উভয় পক্ষের পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলায় আটকদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সাতক্ষীরার এডিসি রিপন বিশ্বাসকে অপসারণ দাবি

মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা জা.আ.ফো'র


সাতক্ষীরার এডিসি রিপন বিশ্বাসকে অপসারণ দাবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৫ এএম

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে তাকে দ্রুত অপসারণের দাবিতে আগামী (২৮ অক্টোবর) মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।


সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি হলরুমে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাড. আকবর আলীর সভাপতিত্বে আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি হলরুমে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন, সংগঠনের সদস্য সচিব অ্যাড. নুরুল আমিন।


সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, অ্যাড. এবিএম সেলিম, অ্যাড. শহীদ হাসান, অ্যাড. আবু সাঈদ রাজা, অ্যাড. শাহরিয়ার হাসিব, অ্যাড. জি এম ফিরোজ আহমেদ, অ্যাড. মিজানুর রহমান বাপ্পি, অ্যাড. ওলিউল্লাহ, অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম (৫), অ্যাড. সোহরাব হোসেন বাবলু ও অ্যাড. সরদার সাইফসহ সংগঠনের নেতারা। আলোচনা সভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত (১৯ অক্টোবর) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার আদেশকে কেন্দ্র করে সিনি: আইনজীবী অ্যাড. আকরাম আলী এবং আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাড. আলহাজ্ব মোঃ নুরুল আমিনের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাস অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ ঘটনায় আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।


এ সময় তারা আরো বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে যেকারো মতপার্থক্য দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।


এ ঘটনার প্রতিবাদে আগামী (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে মানববন্ধন সহ এডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


তবে, এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাস জানান, তার সাথে কোন প্রকার খারাপ আচরন করা হয়নি বলে দাবি করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিপন বিশ্বাস। তিনি বলেন, ভিপি “ল” ইয়ার অ্যাড. নুরুল আমিন কর্তৃক সরকারের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করায় আইনমন্ত্রালয়ে তার বিষয়ে পত্র প্রেরন করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছেন। তার সাথে যা আলাপ আলোচনা হয়েছে তার ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৮ এএম

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় কথিত ভুয়া কাবিননামা তৈরি, জালিয়াতি ও তা ব্যবহারের অভিযোগে তিন বিবাদীর বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।


মামলাটি তদন্ত শেষে সংস্থাটির প্রতিবেদনে এমন মতামত দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে কাবিননামার সত্যতা, এক নারী ও তাঁর কন্যাসন্তানের সঙ্গে বাদীর সম্পর্ক, হাসপাতালের নথিপত্র এবং শিশুটির জন্মের পর তোলা একটি ছবিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।


পাঁচলাইশ থানার সিআর মামলা নম্বর ৯৩৭/২০২৫-এর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদী মো. মুসলিমের অভিযোগ ছিল, শেলীনা বেগম ওরফে শেলী আক্তারের সঙ্গে তাঁর কোনো পরিচয় বা বৈবাহিক সম্পর্ক নেই। তাঁর নাম ব্যবহার করে এবং সংশ্লিষ্ট কাজির সিল ও স্বাক্ষর নকল করে একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তবে তদন্ত শেষে শেলীনা বেগম, নিপু মনি ও মো. নাঈম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১, ৩৮৫, ৫০৬(২), ১০৯ ও ৩৪ ধারায় আনা অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে মতামত দেয় পিবিআই।


কাবিননামার সত্যতা যাচাইয়ে যা উঠে এসেছে


তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিতর্কিত কাবিননামায় বিয়ের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২১, বালাম নম্বর ০৫ এবং পৃষ্ঠা নম্বর ৫৭ উল্লেখ রয়েছে। এতে বরের নাম মো. মুসলিম এবং কনের নাম শেলীনা বেগম লেখা ছিল। নথিটিতে কাজি মাওলানা জামাল উদ্দিনের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়।


কাবিননামাটির সত্যতা যাচাই করতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কাজি মাওলানা জামাল উদ্দিনের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চান। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজির কাছ থেকে পাওয়া প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর বালাম নম্বর ০৫-এর ৫৭ নম্বর পৃষ্ঠায় মো. মুসলিম ও শেলীনা আক্তারের নামে কোনো নিকাহনামা লিপিবদ্ধ ছিল না।


তদন্তে আরও উঠে আসে, শেলীনা বেগম কাবিননামাটির সত্যতা যাচাই না করেই বাদী মো. মুসলিমের কাছ থেকে পাওয়া নকল হিসেবে সেটি আদালতে দাখিল করেছিলেন। তবে তিনি নিজে কাবিননামাটি তৈরি বা জাল করেছেন—এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার মতামত, শেলীনা বেগম সরল বিশ্বাসে নিকাহনামাটির অনুলিপি আদালতে দাখিল করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে জাল নথি তৈরির অভিযোগ প্রমাণের মতো প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


পূর্বপরিচয় ও সম্পর্কের তথ্য তদন্তে


পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে মো. মুসলিম ও শেলীনা বেগমের পূর্বপরিচয় এবং তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের দিকে মুসলিম শেলীনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী সময়ে মুঠোফোনে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


পরে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শেলীনা বেগম একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


শিশুটির জন্মসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পিপলস হসপিটাল লিমিটেডের আইপিডি অ্যাডমিশন রিপোর্ট পর্যালোচনা করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নথিতে শেলীনার স্বামীর নামের ঘরে ‘লিটন’ লেখা ছিল। হাসপাতালের জন্মসনদেও ‘Selina Akter wife of Mr. Liton’ উল্লেখ থাকার তথ্য পাওয়া যায়।


অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে বাদী মো. মুসলিমের নাম ‘মো. মুসলিম ওরফে লিটন’ হিসেবে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।


হাসপাতালের কেবিনে শিশুকে কোলে নিয়ে মুসলিমের ছবি


তদন্ত প্রতিবেদনে শিশুটির জন্মের পর হাসপাতালের কেবিনে তোলা একটি ছবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে সংগৃহীত রঙিন ছবি পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্মকর্তা দেখতে পান, শিশুটির জন্মের পর পিপলস হসপিটালের একটি কেবিনে মো. মুসলিম শিশুটিকে কোলে নিয়ে ছিলেন। ওই সময় শেলীনার বোন নিপু মনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ছবিতে তাঁদের হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ছবিটি এবং হাসপাতালের নথিপত্র তদন্তে উঠে আসা অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির জৈবিক পিতৃত্ব সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।


ভরণপোষণ নিয়ে বিরোধের পর পৃথক মামলা


পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে শেলীনা বেগম ও তাঁর কন্যাসন্তানের ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে দেন মো. মুসলিম বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেলীনা পাঁচলাইশ থানার সিআর মামলা নম্বর ৮৬০/২০২৪ দায়ের করেন।


ওই মামলায় শেলীনা নিজেকে মুসলিমের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন এবং মুসলিমের কাছ থেকে পাওয়া কাবিননামার অনুলিপি আদালতে দাখিল করেন বলে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।


এ ছাড়া ওই মামলা নিয়ে মুসলিম ও শেলীনার মধ্যে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। এসব বৈঠকে সাক্ষীদের উপস্থিতির বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


শিশুটির পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন


তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা হাসপাতালের নথি, ‘লিটন’ নামের ব্যবহার, শিশুটিকে কোলে নিয়ে মুসলিমের ছবির বিবরণ এবং শেলীনার দায়ের করা পৃথক মামলার তথ্য—সব মিলিয়ে শিশুটির পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে।


তবে হাসপাতালের নথিতে কোনো নাম থাকা, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে শিশুর ছবি থাকা কিংবা কোনো মামলায় কাউকে স্বামী হিসেবে দাবি করা—এসব তথ্যের কোনোটিই এককভাবে জৈবিক পিতৃত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। এ বিষয়ে বিরোধ থাকলে আদালতের এখতিয়ার ও প্রযোজ্য আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।


অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বাদী


পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদীকে অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্ত চলাকালে তিনি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।


তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদীর মনোনীত দুই সাক্ষীসহ মোট ছয়জনের বক্তব্য গ্রহণ করেন। পাশাপাশি প্রকাশ্য ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার।


সংগৃহীত সাক্ষ্য, নথিপত্র ও পারিপার্শ্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্মকর্তা মতামত দেন, মামলার তিন বিবাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগে উল্লিখিত ধারাগুলোর অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।


চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের


পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে একদিকে কথিত জাল কাবিননামা তৈরি ও ব্যবহারের অভিযোগে তিন বিবাদীর বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, একই প্রতিবেদনে কাবিননামার সত্যতা যাচাই, মুসলিম ও শেলীনার পূর্বপরিচয়, কন্যাসন্তানের জন্ম, হাসপাতালের নথিপত্র, শিশুটিকে কোলে নিয়ে মুসলিমের ছবির বিবরণ এবং পরবর্তী সময়ে দায়ের করা মামলার তথ্য উঠে এসেছে।


এ পরিস্থিতিতে কাবিননামা নিয়ে বিরোধের প্রকৃত ঘটনা এবং শিশুটির পিতৃপরিচয়সংক্রান্ত প্রশ্নের আইনগত নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


সংশ্লিষ্ট নারীর দাবি, সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর প্রত্যাশা, বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রামাণ্য নথি ও আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে।


তবে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়। প্রতিবেদনে উল্লিখিত মতামত ও তথ্যের আইনগত মূল্যায়ন এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কয়রায় কপোতাক্ষ নদীর দখলকৃত চরে চাতাল তৈরির অভিযোগ

নেপথ্যে বহিষ্কৃত এনসিপি নেতা গোলাম রব্বানী


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৪ এএম

খুলনা কয়রায় কপোতাক্ষ নদের চর দখল করে বালু ব্যবসার চাতাল তৈরি করতে গিয়ে বাঁধের ঢাল কেটে গর্ত করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে বহিষ্কৃত নেতা গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কাটার কারণে সদ্য নির্মিত বাঁধের ঢাল ধসে পড়েছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে গর্তটি ভরাট করার চেষ্টা করছেন।


সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলার  মেঘারাইট গ্রামের পাশের রাতে কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী বাঁধের ঢালে এ ঘটনা ঘটে।


বালু ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, সেখানে বালুর ব্যবসার জন্য প্রায় ১০০ ফুট আয়তনের একটি গর্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটির ক্ষতির আশঙ্কা আরও বেড়েছে। বাঁধের ঢাল ধসে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে গর্তটি মাটি দিয়ে ভরাট করেছেন। এ খবরে অভিযোগ ওঠা গোলাম রব্বানী লোকজন নিয়ে এসে স্থানীয়দের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। খবরটি শুনে পাউবো'র কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।


চর দখলের অভিযোগের কথা  (মুঠোফোনে) বললে, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন মো. গোলাম রব্বানী। পরে মূল ঘটনা অন্যদিকে প্রভাবিত করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। 
এ ব্যাপারে পাউবোর সেকশন কর্মকর্তা (এসও) মো. সোলায়মান বলেন, খবর পেয়ে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে গিয়েছি। যারা সেখানে গর্ত করেছেন, তাঁদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে এবং কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

 
উল্লেখ্য, দলীয় (এনসিপি) ব্যানারে ইফতার মাহফিলের মতো পবিত্র কাজে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়ায় গত (২৮ এপ্রিল ২০২৫) গোলাম রব্বানীকে এনসিপি থেকে বহিষ্কার করে দলটি। তবে বহিষ্কারের পরেও এনসিপির পরিচয়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত তার বিরুদ্ধে থাকা সকল অপকর্ম খতিয়ে দেখে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটা প্রত্যাশা করেন স্থানীয়রা।