• প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১১ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একাধিক আবাসিক হলে গত কয়েকদিনে পরপর চুরির অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে আবাসিক হলগুলোর পেছনের অংশ, প্রবেশপথ ও জানালার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 


গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের ‘ডি’ ব্লকের তৃতীয় তলায় একাধিক কক্ষে চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই হলের শিক্ষার্থীরা জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। পরে আরও একটি কক্ষে চুরির চেষ্টা করার সময় কক্ষের বাসিন্দার নজরে পড়লে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান। এ সময় তার জুতা ও কিছু আলামত ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে।


ফজলুল হক হলের শিক্ষার্থী সোয়াইব বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য হলের পেছনের অংশ নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। দেওয়ালের কাঁটাতার দ্রুত মেরামত করতে হবে। পুরো হলকে সিসিটিভির আওতায় আনার পাশাপাশি পেছনের গেটে সার্বক্ষণিক একজন নিরাপত্তাকর্মী রাখার দাবি জানান তিনি।


এদিকে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহীদ শামসুল হক হলের ‘এ’ ব্লকের তৃতীয় তলা থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে গত ৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে হলের ‘সি’ ব্লকের পেছন দিয়ে এক ব্যক্তি প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বাথরুমের পাইপ বেয়ে উঠে পেছনের জানালা দিয়ে ২২৮ নম্বর কক্ষ থেকে টেবিলে রাখা একটি স্মার্টফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


শামসুল হক হলের শিক্ষার্থী দিগন্ত বলেন, হলে কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা জরুরি। বিশেষ করে হলের পেছনের অংশ দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীন। ওই অংশের বাউন্ডারি টপকে সহজেই হলে প্রবেশ করা সম্ভব। তাই সেখানে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।


এদিকে গত ২২ আগস্ট মাওলানা ভাসানী হলে ‘এ’ ব্লকের ১০৫ নম্বর কক্ষে থাকা নেপালি শিক্ষার্থীদের দুটি ফোন চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ফোন ২৪ আগস্ট অজ্ঞাতভাবে ফেরত পাওয়া গেলেও ওই শিক্ষার্থীদের মানিব্যাগ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এরপর গত ২৭ আগস্ট একই ব্লকের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকেও একটি ফোন চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়।


মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী জায়েদ মন্ডল বলেন, হলে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি থাকলে চুরির ঝুঁকি বাড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


এছাড়া গত ৩০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বৈশাখী চত্বরে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরে পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই স্থান থেকে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি।


পরপর এসব ঘটনায় আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী ও নিয়মিত নজরদারির ঘাটতির কারণে হলের বিভিন্ন প্রবেশপথ, পেছনের অংশ ও জানালা দিয়ে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ এস এম খায়রুল ফাত্তাহ বলেন, বৈশাখী চত্বর ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে ছিনতাইয়ের ঘটনায় একই ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই ৭-৮টি মামলা রয়েছে এবং তিনি জামিনে ছিলেন। প্রথম ঘটনার পর পর্যাপ্ত প্রমাণ ও বাদী না থাকায় তাকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দিতে হয়েছিল। বর্তমানে অপরাধ দমনে প্রক্টর অফিসের সঙ্গে যৌথভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক টহলের জন্য একটি স্থায়ী পুলিশ টিম মোতায়েনের চেষ্টা চলছে। অনিয়ন্ত্রিত অনুপ্রবেশ বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জনবল ঘাটতি পূরণ এবং প্রয়োজনীয় গাড়ি ও সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।


ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রায়হান হাবিব বলেন, চুরি রোধে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মূল্যবান জিনিসপত্র লকারে তালাবদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি বাইরে থেকে হাত বাড়িয়ে নেওয়া যায় এমন স্থানে না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হলের পেছনের অন্ধকার জায়গাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো পেছনের এলাকা কভার করে এমন একটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।


শামসুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবুল মঞ্জুর খান বলেন, চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীরা একজনকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। পরবর্তী কার্যক্রম পুলিশ পরিচালনা করছে। নিরাপত্তা জোরদারে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। হলে বিভিন্ন ধরনের লোকজনের আসা-যাওয়া থাকায় মনিটরিং সহজ করতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় সবার নাম খাতায় লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি একজন নিরাপত্তাকর্মীও বাড়ানো হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, সম্প্রতি আবাসিক হলগুলোতে বেশ কিছু চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভায় আলোচনা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট বৈশাখী চত্বর থেকে দুজন এবং পরে বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। হলগুলোর পেছনের অংশে আলোর স্বল্পতা আছে কি না, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হল প্রশাসনকেও নিজ নিজ দায়িত্বে কোনো ধরনের গাফিলতি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রক্টর বলেন, জব্বারের মোড় থেকে ফার্স্ট গেট পর্যন্ত সড়কে বর্তমানে নির্মাণকাজ চলছে। এ কারণে সড়কের লাইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর রাস্তাটি অন্ধকার থাকে। সড়কটি সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেখানে নতুন করে লাইট স্থাপন করতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর ঝুঁকিপূর্ণ এসব সড়ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১০ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মার্কেটিং বিভাগের আধুনিকায়নকৃত কম্পিউটার ল্যাবের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যাবটির উদ্বোধন করেন।


উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন,"বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই কম্পিউটার ল্যাব শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই ল্যাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্কিল ডেভেলপমেন্টে আরও অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পাবে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ও ধীরে ধীরে আরও এগিয়ে যাবে।"


তিনি আরও বলেন,"ল্যাবের আধুনিক সুবিধা যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কম্পিউটার ল্যাব ও এর সরঞ্জাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই এগুলোর সঠিক ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"


অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাঃ আলী নূর এবং মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হকসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, মার্কেটিং বিভাগের কম্পিউটার ল্যাবটিতে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন মোট ৩০টি কম্পিউটারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বের ৬টি কম্পিউটারের সঙ্গে নতুন করে আরও ২৪টি কম্পিউটার সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাস ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী আসন ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আধুনিকায়িত এ ল্যাবের মাধ্যমে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা কম্পিউটারভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবহারিক শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং একাডেমিক কার্যক্রমে আরও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৮ এএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) লিও ক্লাবের ৫ম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে জেনেটিক্স অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ ওমর আসিফ সভাপতি এবং ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী জুনায়েদ ইসলাম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন।


মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে ৫২ সদস্যের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। নতুন কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছেন ক্লাবের নবনিযুক্ত উপদেষ্টা কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিক-ই-রব্বানী।


কমিটিতে সহসভাপতি হিসেবে এ.এস.এম. মুশফিকুর রহিম ইফতি, কোষাধ্যক্ষ রিয়াজ উদ্দিন, ক্লাব ডিরেক্টর সানজিদা হায়দার, কাওসার হামিদ ও লিও আবু সাঈদ, সদস্য আহ্বায়ক তাবের হোসাইন অন্তর, ক্লাব কো-অর্ডিনেটর মো. তাওহীদুল ইসলাম, প্রোটোকল অফিসার নির্মল ডাহাল, পাবলিসিটি অফিসার মেহরাব হোসাইন বাপ্পী, পাবলিক রিলেশন অফিসার বিবেক পাকওয়াল, স্পোর্টস কো-অর্ডিনেটর লুৎফর রহমান তুহিন এবং সদ্য সাবেক সভাপতি ছিলেন মো. রাকিব হাসান দায়িত্ব পেয়েছেন।


উল্লেখ্য, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের যুব সংগঠন লিও ক্লাব বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বাকৃবিতে অধ্যয়নরত ২০ জনের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৪ এএম

কৃষকদের মধ্যে বালাইনাশকের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার প্রসার এবং কৃষিকাজে বালাইনাশকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। 


গত ১৬ থেকে ২০ আগস্ট ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় পাঁচ দিনব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ক্যাবির সহযোগিতায় ‘বালাইনাশক ঝুঁকি হ্রাস-সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তনভিত্তিক যোগাযোগ মাঠ কার্যক্রম (পাইলট পর্যায়)’ শীর্ষক উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হয়।


এতে ৩২টি কৃষক গ্রুপের ৬৪০ জন কৃষক অংশ নেন। প্রতিটি গ্রুপে প্রায় ২০ জন কৃষককে নিয়ে সরাসরি আলোচনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি আচরণ পরিবর্তনভিত্তিক যোগাযোগ কার্যক্রমও চালানো হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ কেন্দ্রের সহায়তায় কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এর সমন্বয় করেন।


জানা যায়, মাঠ পর্যায়ের আলোচনায় বালাইনাশক ব্যবহারের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত ও পরিবেশগত ঝুঁকি, নিরাপদ বালাই ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকি কমানোর বাস্তবসম্মত কৌশল তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কম ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ভিদ সুরক্ষা পণ্য ব্যবহার, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) এবং নিরাপদ বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বালাইনাশকের ওপর নির্ভরতা কমানোও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল।


কার্যক্রমে কৃষকেরা তাঁদের দৈনন্দিন বালাইনাশক ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় বালাইনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিকূলতা, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং নিরাপদ পদ্ধতি গ্রহণে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি সরাসরি কথোপকথন ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে কোন ধরনের বার্তা ও যোগাযোগ পদ্ধতি বেশি গ্রহণযোগ্য, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হয়।


অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, এই পাইলট উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল তথ্য দেওয়া নয়; নিরাপদ কৃষি অনুশীলনে কৃষকদের মধ্যে স্থায়ী আচরণগত পরিবর্তন আনা। মাঠ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়া ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কার্যক্রমকে আরও কৌশলগত ও কৃষকবান্ধব করে তুলতে সহায়ক হবে।


পাইলট কার্যক্রমে ৩২টি গ্রুপের ৬৪০ জন কৃষকের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ বালাইনাশক ব্যবহার ও টেকসই বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৃষকদের অভিজ্ঞতা, ঝুঁকিবোধ এবং আচরণগত প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে কৃষককেন্দ্রিক আচরণ পরিবর্তনমূলক যোগাযোগ কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কাজে লাগবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩১ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ফিচার, কলাম অ্যান্ড কনটেন্ট রাইটার্সের (JnUFCCW) ২০২৬–২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন ফাহিম হাসনাত এবং সাধারণ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম অমি।


মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির উপদেষ্টামন্ডলীর সইকরা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।


কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. রাকিব হোসেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাহুল শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক নুসরাত জাহান অর্পিতা, দপ্তর সম্পাদক মালিহা মেহনাজ ঐশী, অর্থ সম্পাদক জয়া রাণী পাল এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হুমায়ুন আহমেদ নাঈম।


এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইলমা জাহান, আকাশ আহমেদ রুপম, শ্রেয়া বাইন ও হাসনাত হাবিব। সমন্বয় সহযোগী হিসেবে রয়েছেন আরাফাত চৌধুরী লিনয় ও তাসনিমা আক্তার।


কমিটির সভাপতি ফাহিম হাসনাত বলেন, “জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি ফিচার, কলাম অ্যান্ড কনটেন্ট রাইটার্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে কৃতজ্ঞ ও সম্মানিত বোধ করছি। আমি বিশ্বাস করি, লেখালেখি শুধু মত প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি চিন্তা, সৃজনশীলতা ও দায়িত্বশীলতারও প্রতিফলন। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা ফিচার, কলাম ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট রাইটিংয়ে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে। সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে সংগঠনটিকে আরও কার্যকর, সৃজনশীল এবং শিক্ষার্থীবান্ধব একটি লেখক-কমিউনিটিতে পরিণত করার জন্য আমরা কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।”


সাধারণ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম অমি বলেন, “আমার কাছে লেখালেখি শুধু নিজের ভাবনা প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং যেকোনো সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক। একটি লেখা মানুষের চিন্তাকে প্রশ্ন করতে পারে, সচেতনতা তৈরি করতে পারে এবং পরিবর্তনের পথে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। তাই সংগঠনের সেক্রেটারি হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের কার্যক্রম শুধু সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। লেখালেখি, চিন্তাচর্চা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখাই হবে আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”


নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখালেখি, সাংবাদিকতা, গবেষণা ও সৃজনশীল কনটেন্টচর্চাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৭ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সঙ্গে ইরাসমাস প্লাস মোবিলিটি কর্মসূচির আওতায় নোবিপ্রবি সফররত তুরস্কের সাকারিয়া ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস এর প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নোবিপবি উপাচার্যের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নোবিপ্রবিতে স্বাগত জানান। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, এ মোবিলিটি কর্মসূচির আওতায় উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একাডেমিক ও পেশাগত জ্ঞান আদান-প্রদান সহজতর হবে বলে আমি মনে করি। এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময়ের সুযোগ পাবে। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এবং শিক্ষার্থী বিনিময়, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টিতে এ কর্মসূচি অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।


সাক্ষাৎকালে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, নোবিপ্রবি ইন্টারন্যাশনাল কোলাবরেশন এন্ড এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের অতিরিক্ত পরিচালক ও ইরাসমাস প্লাস কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান সিদ্দিকী, নোবিপ্রবি ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শিবলুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।


উল্লেখ্য, নোবিপ্রবি সফররত সাকারিয়া ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস এর প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ হলেন- কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সেলমান হিজাল, ছাত্র পরামর্শ বিভাগের প্রধান জনাব হাসান তুর্ক ও সহকারী অধ্যাপক ড. এ এফ এম. শোয়াইব আখতার। প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ নোবিপ্রবিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন এবং মোবিলিটি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্নের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবিপ্রবির পক্ষ থেকে তাদের সনদ প্রদান করা হয়।


প্রসঙ্গত, Erasmus+ KA171 মোবিলিটি কর্মসূচির আওতায় এ সফর সম্পাদিত হচ্ছে। এই মোবিলিটি কর্মসূচির লক্ষ্য হলো জ্ঞান আদান-প্রদান সহজতর করা, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার এবং নোবিপ্রবি ও সাকারিয়া ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস এর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

সর্বশেষ সব খবর

চিঠি দিবস

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১২ পিএম

চিঠি দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘বই প্রবাহ’ মার্কেটিং বিভাগের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে ভিন্নধর্মী এক কর্মসূচি। ক্যাম্পাসের কাউকে চিঠি লিখে তা প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দিতে এ আয়োজন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।


আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিঠি লেখার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার মধ্যে ব্যক্তিগত অনুভূতি, ভালোবাসা, শুভেচ্ছা ও নানা কথা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। চিঠিতে প্রেরক ও প্রাপকের নাম, ব্যাচ ও বিভাগ উল্লেখ করে তা নির্ধারিত স্থানে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


আয়োজনের অংশ হিসেবে চিঠি লেখা ও প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হয়। এতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে চিঠি লেখার পাশাপাশি নিজেদের অনুভূতি ও ভাবনা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের  শিক্ষার্থী আকাশ আহমেদ রুপম বলেন, “চিঠি লেখার মতো সুন্দর ও পুরোনো একটি মাধ্যমকে ক্যাম্পাসে এভাবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগটি সত্যিই আনন্দের। ব্যস্ততার সময়ে হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগটি আমাদের জন্য ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।”


এ বিষয়ে বই প্রবাহ এর সভাপতি  মুনায়েম শারিয়ার চৌধুরী বলেন, “আমরা মার্কেটিং বিভাগ থেকে ‘বই প্রবাহ’ নামের একটি সংগঠন পরিচালনা করছি। এই সংগঠনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে থাকি এবং সাহিত্য চর্চা করি। সেই সংগঠন থেকেই মূলত আমার আজকের এই আয়োজন ‘চিঠি উৎসব’।”


চিঠি হারিয়ে যাওয়া এক ঐতিহ্যে পরিণত হচ্ছে দিন দিন। অথচ একসময় এই চিঠির মধ্য দিয়েই আমাদের মনের ভাব ও সাহিত্য ফুটে উঠতো। সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্যই আমাদের আজকের এই আয়োজন। মার্কেটিং বিভাগের ‘বই প্রবাহ’ থেকে আমরা এটি আয়োজন করেছি।


তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি সবার কাছ থেকে। এই এআই (AI) এবং ডিজিটাল মেসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপের যুগেও আমার মনে হয়, হাতে লেখা চিঠি এবং খামে ভরে পাঠানো চিঠির কদর এখনো কোনো না কোনো জায়গায় রয়ে গেছে। আমরা মনে করি, এই অভ্যাসটি আমাদের ধরে রাখা উচিত। চিঠির মধ্যে আমরা নিজেদের খুঁজে পাই; একটি লিখিত চিঠির মাধ্যমে নিজের কিছু অংশ অন্য কারও কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। সেখানে আমাদের আঁকাবাঁকা হাতের লেখা এবং কাগজের ওপর হাতের স্পর্শ থাকে যা আসলে কোনো দিনও কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম দখল করতে পারবে না।

সর্বশেষ সব খবর