এনসিপির নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন দলের নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু

  • প্রকাশ : বুধবার ১১ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৮:৪৩ এএম

সরকারি খেজুর বিতরণ সংক্রান্ত খবরকে ঘিরে এনসিপির নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন দলের নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু। আজ বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাস দেন তিনি।


স্ট্যাটাসে ডা. মিতু লিখেছেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি না হলে, সরকার যে খেজুর দেয় জনগণ জানতোই না। পেলেও জনগণ জানতো এলাকায় নেতায় পাঠিয়েছে।’


তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪২ পিএম

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০২ জনের। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং ৬৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৪ জনের শরীরে।


চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও ঢাকা জেলার বাসিন্দা। 


রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম যে কোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যেসব মৃত্যু হয়, সেগুলোকে হামের কারণে মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। 


সর্বশেষ সব খবর

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৫ পিএম

দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদের আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।


আজ বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে এ অনুরোধ জানানো হয়। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেন উপসচিব তানিয়া আফরোজ।


পরিপত্রে বলা হয়, সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে মহামান্য ও মাননীয় শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।


এতে বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ পাঠানোর ক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির পূর্বে যথাক্রমে মহামান্য ও মাননীয় কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

সর্বশেষ সব খবর

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) লোগো

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ পিএম

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক কর্মকর্তা। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। 


এতে বলা হয়, আজ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দু’জন সৈনিক নিহত এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। 


আইএসপিআর জানিয়েছে, আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি: পিএসসি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩৮ পিএম

সরকারি চাকরির নিয়োগবিধিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত বিধিমালা এরই মধ্যে অনুমোদন করেছে প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটি। এখন সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সব চাকরিতে এক মানবণ্টনে পরীক্ষা হবে। এর মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ ঠেকানো যাবে। 


তবে বিরোধী দলের অভিযোগ, সরকারের পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা দিতে এমন পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে নিয়োগ দুর্নীতির পথ খুলবে। প্রস্তাবিত পদ্ধতির প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। বিষয়টি গতকাল সংসদেও উঠেছে। তবে স্পিকার পয়েন্ট অব অর্ডার গ্রহণ করেননি। আলোচনা চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। সরকারি চাকরিতে প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত নিয়োগ পরীক্ষা নেয় সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ১০-১৩ গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। 


এর বাইরে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তরসহ সরকারি সংস্থাগুলোর ১০ থেকে ২০ গ্রেডে নিয়োগ হয় সরাসরি। নিজেরা পরীক্ষা নিয়ে জনবল নিয়োগ দেয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নিম্ন গ্রেডের চাকরিতে একজনের লিখিত পরীক্ষা আরেকজনকে দেওয়ানোর মতো ঘটনা ধরা পড়েছে। এই যুক্তিতে সচিব কমিটি ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসারের মতো শৃঙ্খলা বাহিনী বাদে সরকারি বাকি প্রতিষ্ঠানের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অভিন্ন নম্বর বণ্টন বিধিমালা করতে যাচ্ছে সরকার। গত রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে ‘প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও এর আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাগুলোর ১১-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মানবণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়।


প্রস্তাবিত বিধিমালায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বর্তমানে মন্ত্রণালয়-বিভাগ, অধিদপ্তর-পরিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষার নম্বর বণ্টন একেক রকম। 


অধিদপ্তরে কী আছে, কী হতে যাচ্ছে

সংযুক্ত অধিদপ্তর, পরিদপ্তর এবং দপ্তরের কমন পদ নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯-এ ১১টি পদের জন্য নিয়োগের যোগ্যতা ও পরীক্ষার ধরন নির্ধারণ রয়েছে। এসব পদের ক্ষেত্রে লিখিত, মৌখিক এবং পদভেদে সাঁটলিপি ও কম্পিউটার মুদ্রাক্ষর পরীক্ষা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এগুলো ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদ।  বিধিমালার তপশিল-২ অনুযায়ী এই ১১টি পদে লিখিত পরীক্ষায় মোট ৭০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ নম্বর রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা ২০, ইংরেজি ২০, গণিত ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান ১৫ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ৫০ শতাংশ এবং সময় ৯০ মিনিট। সব মিলিয়ে পরীক্ষা ১০০ নম্বরের। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ। 


অনুমোদিত খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, ১১ থেকে ১২ গ্রেডের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরে। ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডে লিখিত পরীক্ষা হবে ৬০ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ৪০ নম্বরে। ১৭ থেকে ২০ গ্রেডের লিখিত পরীক্ষা হবে ২৫ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ২৫ নম্বরের। বর্তমানে ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ। কমিটির অনুমোদিত খসড়ায় ১১ থেকে ১২ গ্রেডের ক্ষেত্রে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ এবং ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। 


এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মৌখিক পরীক্ষায় মুখে চিনে নম্বর দেওয়ার আশঙ্কা ও নজির রয়েছে। যেমন– ১১ থেকে ১২ গ্রেডের নিয়োগে একজন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় ১০০ এর মধ্যে ৬০ পেল। আরেকজন ৪০ পেল। কিন্তু ‘বিশেষ কারণে’ যদি ৪০ পাওয়া প্রার্থীকে নিয়োগ নিতে চায় কর্তৃপক্ষ, সে ক্ষেত্রে তাঁকে মৌখিকে ৪০ নম্বর দিয়ে এগিয়ে দেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় ৬০ পাওয়া প্রার্থীকে মৌখিকে ১৯ দিয়ে পিছিয়ে দেওয়া হবে। তাই এই নম্বর বণ্টন গ্রহণযোগ্য নয়। 


অধিদপ্তরে সাঁটলিপিকার ও সাঁটমুদ্রাক্ষরিকসহ সংশ্লিষ্ট পদে সাঁটলিপি ও কম্পিউটার মুদ্রাক্ষর পরীক্ষার জন্য আলাদা নম্বর ও গতি নির্ধারণ করা হয়েছে। সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদের ক্ষেত্রে ইংরেজি সাঁটলিপিতে মিনিটে ৮০ শব্দ এবং বাংলায় ৫০ শব্দ লেখার গতি নির্ধারিত। উভয় পরীক্ষার মোট নম্বর ১০০ করে এবং ন্যূনতম পাস নম্বর ৮০ শতাংশ।


মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা

সচিবালয় (ক্যাডারবহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা-২০১৪ অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নিয়োগ হয়। বিধিমালার তপশিল অনুযায়ী, ১০ম গ্রেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা প্রটোকল অফিসার পদে সরাসরি নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা হয় ২০০ নম্বরে। এর মধ্যে বাংলায় ৭৫, ইংরেজিতে ৭৫, গণিতে ২৫ এবং সাধারণ জ্ঞানে ২৫ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ৫০ শতাংশ। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ২৫ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। 


অন্যদিকে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী, অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ইলেকট্রিশিয়ান ও প্লেইন পেপার কপিয়ার পদে সরাসরি নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা ১০০ নম্বরের। বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০, গণিতে ২০ এবং সাধারণ জ্ঞানে ২০ নম্বর রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ। এর সঙ্গে ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা থাকায় মোট নম্বর ১১০। এগুলো ১০ থেকে ১৬ গ্রেডের পদ।


সচিব কমিটির অনুমোদিত খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, ১১ থেকে ১২ গ্রেডের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরের। ১৩ থেকে ১৬ গ্রেডে লিখিত পরীক্ষা হবে ৬০ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ৪০ নম্বরে। 


মন্ত্রণালয়ে ১৭ থেকে ২০ গ্রেডের অফিস সহায়ক ও ডুপ্লিকেটিং মেশিন অপারেটর পদের সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষা ৪০ নম্বরের—বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫ ও গণিত ১০ নম্বর। এর সঙ্গে ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা রয়েছে। সচিব কমিটির অনুমোদিত খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা হবে ২৫ নম্বরে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ২৫ নম্বরের।


অন্যান্য অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তর তাদের নিজস্ব নিয়োগবিধি অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষা নেয়। কিছু অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তরে নিজস্ব নিয়োগবিধি থাকলেও এখনও নম্বর বণ্টন হয়নি। বিভাগীয় নিয়োগ বা পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) পরীক্ষার আগে নম্বর নির্ধারণ করে। ফলে এসব দপ্তর নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। 


জানতে চাইলে সাবেক সচিব আব্দুল আওয়াল মজুমদার বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার জন্য এমন বিশেষ মানবণ্টন বিধিমালা করা ভালো হবে না। কারণ, এতে সরকারের প্রতি মানুষের অনাস্থা ও অবিশ্বাস তৈরি হবে এবং বিতর্ক বাড়বে। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ বাড়বে।


সরকার যা বলছে

নতুন বিধিমালায় কারিগরি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পৃথক বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাঁকে ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও পাস করতে হবে। এতে উত্তীর্ণ হলে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে নিয়োগ হবে না। 


মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ভালো মনে হয়েছে বলে সরকার বাস্তবায়ন করছে। নিয়োগের মানোন্নয়নের জন্য মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। 


মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার ফলে লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়– সাংবাদিকের এমন যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা বলেন, ‘ভাইভা যেহেতু সাবজেক্টিভ, তাই সেখানে কারসাজি বা পছন্দের কাউকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। এ বিষয়ে দ্বিমত করছি না।’ 


তাহলে কেন ভাইভায় নম্বর বাড়ানো হচ্ছে প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, চাকরির জন্য শুধু বইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। একজন প্রার্থীর অন্যান্য যোগ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কোনো নিয়োগে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমকে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। 


বিরোধিতা-বিক্ষোভ 

গতকাল সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার  নম্বর বৃদ্ধি এবং লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানো মেধার পরিবর্তে কোটার দিকে ধাবিত হওয়া। 


পছন্দের প্রার্থীকে ভাইভায় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ায় দুর্নীতি হবে আশঙ্কা করে এই এমপি বলেন, প্রক্সি পরীক্ষা বা জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি দেখালেও এতে প্রশাসনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণের রাস্তা সুগম হবে।


স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রুলিং দিয়ে বলেন, সংসদে চলমান নয়, এমন বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডার হয় না। 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ভাইভার নম্বর বৃদ্ধিকে ‘নব্য কোটা’ আখ্যা দিয়ে মঙ্গলবার রাতে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম এতে নেতৃত্ব দেন। ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, দলের লোকে চাকরি পায়’, ‘নব্য কোটার নাম কী, ভাইভা ছাড়া আর কী?’ ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, চাকরি হয় পয়সায়’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। 


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ সব খবর

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সেমিনারে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০৮ পিএম

দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তাঁর আশঙ্কা, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের শুরুর দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।


স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। আমরা আশঙ্কা করছি, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ এবং অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।’


ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক অভিযান শুরু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।


তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে কার্যক্রম চালাবে।


ডা. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের মূল লক্ষ্য দুটি—আক্রান্তের সংখ্যা কমানো এবং মৃত্যুর হার কমানো। এ জন্য ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সময় হাসপাতালগুলোতে শয্যা, স্যালাইন ও পরীক্ষার কিটের সংকট এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান রোগীর হারের ভিত্তিতে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যাও চালু করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে প্রয়োজনে অন্যান্য শয্যা পুনর্বিন্যাস করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে।


ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সময়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে এ সময়ে অযৌক্তিকভাবে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ানো যাবে না। হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রাখারও আহ্বান জানান তিনি।


সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ পিএম

চার দশক পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে আরেকবার বসল বাংলাদেশ। 


আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।


গত ২ জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করেন।


নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নতুন অধিবেশন শুরু হয়। সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে ৮১তম অধিবেশন নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। এরপর তিনি কাজ শুরু করেন।


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। এ অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


সাবেক পেশাদার কূটনীতিক খলিলুর রহমান কর্মজীবনের বড় অংশজুড়ে জেনেভা ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বিভিন্ন সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে জেনেভায় জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন খলিলুর রহমান। 


এরপর ২৫ বছর নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি; ছিলেন জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রকাশনার প্রধান লেখক।


বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করে। তবে এই পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে দেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি। এর পর থেকে পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক প্রচার শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সুযোগ ছিল না। 


তবে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক ফোরামে অত্যন্ত সক্রিয় ও কৌশলগত প্রচার চালিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে সফল হন। অপর দিকে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস ২০১৬ সালে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে। এক দশক ধরে ধারাবাহিক প্রচার চালায় দেশটি।


১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। 


রাজনীতিতে যোগদানের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হন হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।

সর্বশেষ সব খবর