সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। নতুন পে স্কেল শুধু সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়াবে, কিন্তু তা দেশের পুরো শ্রমবাজারের মজুরি কাঠামোয় প্রভাব ফেলবে। কারণ এতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকট, উৎপাদন, বিনিয়োগে স্থবিরতাসহ নানা কারণে বেসরকারি খাতের পক্ষে বেতন বাড়ানো কতটুকু সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এর আগে ২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়। তার প্রভাব নিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিপিডির করা গবেষণায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ার পর বেসরকারি খাতের উচ্চ বেতনভোগীদের একটি অংশ নিজেদের বেতন সমন্বয় করতে পেরেছিল। কিন্তু কম বেতন পাওয়া কর্মীরা সেই সুযোগ পাননি। ফলে সরকারি-বেসরকারি কর্মীদের বেতন ব্যবধানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের ভেতরেও বৈষম্যের চাপ তৈরি হয়।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে একযোগে সব ভাতা কার্যকর হলে বছরে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রায় অর্ধেক।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিপুল অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, সরকারকে বাড়তি রাজস্ব আয়ের জন্য মূলত বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে হবে। সেই চাপও বেসরকারি খাতের কর্মীদের ওপর পড়বে।
বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের একটি অংশ অবশ্য বলছে, বেসরকারি খাতে কোনো একক বেতন কাঠামো নেই। সরকারি পে স্কেলের সঙ্গে বেসরকারি খাতের মজুরি পুনর্গঠনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বেসরকারি খাতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়মিত বেতন বেড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়লেও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় হয়নি। আবার কোথাও হয়তো দীর্ঘদিন বাড়েনি। একটি মিশ্র চিত্র রয়েছে।
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক। এর ফলে সৎ কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে। তাঁর মতে, ১৮ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ২৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়ানোর কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে জনগণের করের টাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে ঘুষ-দুর্নীতি কমা উচিত।
ফজলে শামীম এহসান বলেন, গত ১১ বছরে তৈরি পোশাক খাতে বেতন ১৩৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যান্য বেসরকারি খাতেও বিভিন্ন হারে বেড়েছে। এ কারণে সরকারি পে স্কেলের সঙ্গে বেসরকারি খাতে বেতন পুনর্গঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।
২০১৫ সালের পর করা ওই গবেষণায় সিপিডি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপের ডেটা ব্যবহার করেছিল। গবেষণা অনুযায়ী, বেতন বৃদ্ধির কারণে সরকারি চাকরি তুলনামূলক আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে বেসরকারি খাত দুধরনের চাপে পড়ে। একদিকে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে কর্মীদের
বেতন বাড়ানোর দাবি ওঠে। অন্যদিকে সরকারি চাকরির তুলনায় বেতন ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবধান বেশি হওয়ায় দক্ষ কর্মী ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিগত সরকারি বেতন কাঠামোর অভিজ্ঞতা বলছে, সরকারি চাকরির সঙ্গে বেসরকারি খাতের প্রতিযোগিতা তাই শুধু বেতনের নয়; পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ছুটি, চিকিৎসা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, চাকরির নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধাও এর অংশ। সিপিডির গবেষণায় দেখা যায়, এসব বেতনবহির্ভূত সুবিধার আওতাও সরকারি খাতে তুলনামূলক বেশি। এবারের বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের পেনশনও বাড়ানো হয়েছে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও এই পে স্কেল শ্রমবাজারের সিংহভাগজুড়ে থাকা বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। বেসরকারি চাকরিজীবীদের আয় না বাড়লেও খরচ বাড়বে, যা সামাজিক বৈষম্য ও ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে।
২০১৫ সালের বেতন কাঠামোর আরেকটি প্রভাব দেখা গিয়েছিল বেসরকারি শিক্ষা খাতে। অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তখন বেতন ও শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি অস্বাভাবিক হারে বাড়াচ্ছিল– এমন অভিযোগের পর সরকার শিক্ষার্থীদের বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ সীমা নির্ধারণ করে দেয়। নতুন বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরদিন গতকালই এ প্রশ্ন সামনে এসেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কী হবে?
মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন লেখেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে।’ এর আগে গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে স্কেলে অন্তর্ভুক্ত হবেন কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্যের পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। দেশের প্রায় সোয়া ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগঠন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট দ্রুত নতুন পে স্কেলে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানায়।
ব্যাংক, টেলিকম, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, ভোগ্যপণ্য, উৎপাদন, এনজিও, গণমাধ্যম– এসব খাতে কী হবে, এখনও পরিষ্কার নয়। বড় প্রতিষ্ঠানের কেউ কেউ বাজার ধরে রাখতে বেতন সমন্বয় করতে পারে। কিন্তু ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য একই হারে বেতন বাড়ানো কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে দুই ধরনের শ্রমবাজার তৈরি হতে পারে।
নিটওয়্যার শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বেসরকারি খাতের শিল্পকারখানা এমনিতেই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত তিন বছরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরও অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। এ অবস্থায় মজুরি বাড়ানো হলে শিল্পমালিকদের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী তৈরি পোশাক খাতে ২০২৮ সালের আগে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন বা মজুরি নির্ধারণের আইনগত সুযোগ নেই। ২০২৩ সালে সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময়কার আইনে পাঁচ বছর পর নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান আছে।
সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কেবল সরকারি কোষাগারের হিসাব নয়। এর প্রভাব পড়বে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ ব্যয়, কর্মী ধরে রাখার সক্ষমতা, পণ্যের উৎপাদন ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক মজুরি কাঠামোর ওপর।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, দুর্বল রাজস্ব আদায়ের মধ্যে সরকার ব্যাংক ঋণ বা নতুন টাকা সৃষ্টির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করলে বেসরকারি বিনিয়োগের ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বরাদ্দ কমিয়েও এ ব্যয় মেটানো সমীচীন হবে না। তাই করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ, অপ্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয় হ্রাস এবং ভর্তুকির যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে অর্থসংস্থান করতে হবে। তিনি মনে করেন, সরকারি খাতে নতুন পে স্কেল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বেতন বাড়ানোর চাপ তৈরি করবে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেট ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপানো হলে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বাড়বে। আবার ব্যাংকিং খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে সুদের বোঝা বাড়বে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। এমনকি বাজেট বিস্ফোরণের ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে।
জাহিদ হোসেন বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বেসরকারি খাত এমনিতেই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর বিশাল ব্যয়ের চাপে সরকার যদি ভর্তুকি পরিশোধে দেরি করে, তাহলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। এতে বেসরকারি খাতসহ দেশের ১৮ কোটি মানুষের জীবনযাত্রা আরও সংকটের মুখে পড়বে। তাই সুষ্ঠু আর্থিক ও অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে নতুন পে স্কেল সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও বাগেরহাট সফর করবেন। দিনব্যাপী এ সফরে তিনি সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা আকাশপথে পরিদর্শন, মোংলা বন্দরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি সরকারি একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারে করে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। সকাল ১০টার দিকে আকাশপথে হিরণ পয়েন্ট ও এর আশপাশের সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করবেন।
পরে সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে লঞ্চঘাটে গিয়ে নৌপথে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি।
দুপুরে বানৌজা মোংলা জেটিতে পৌঁছানোর পর ওয়ার্ডরুমে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মধ্যাহ্ন বিরতি শেষে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত একটি সভায় অংশ নেবেন তিনি।
বিকেলে মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও জেটি পরিদর্শন করবেন তারেক রহমান। এরপর বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখার কর্মসূচি রয়েছে তার।
দিনব্যাপী সফর শেষে বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানানো হয়েছে, সফরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে খুলনা ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়েছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) একটি দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী দল। বাংলাদেশের জনগণ তাদের আর কখনও রাজনীতি করতে দেবে না।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
স্পিকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছিল দেশের সম্পদ লুটপাট করতে। দলটির এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে লুটপাটের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর বিদেশে দুই শতাধিক বাড়ি রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।’
বিগত শাসনামলে নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন অন্যায়-অপরাধের কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, ২০০১ সালে এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি পরাজিত হওয়ায় পরে ঢাকা থেকে এক সন্ত্রাসীকে এনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করান শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তজুমদ্দিন উপজেলা শাখার পক্ষ থেকেও স্পিকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
বিগত শাসনামলে নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন অন্যায়-অপরাধের কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০০১ এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি পরাজিত হওয়ায় পরবর্তীতে ঢাকা থেকে এক সন্ত্রাসীকে এনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করান শেখ হাসিনা।
তিনি আরও জানান, সেই ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে লালমোহনে ৫০০ বিঘা জমি ও ঢাকায় একাধিক বাড়ি করেছিলেন। তবে, ৫ আগস্টের পর সেসব সম্পদ রেখে সপরিবারে পালিয়ে যান।
নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে স্পিকার বলেন, তজুমদ্দিনকে পৌরসভায় রূপান্তর করা হবে। এ ছাড়া বিনোদনের জন্য মেঘনার পাড়ে একটি পার্ক নির্মাণ করা হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করে দেন তিনি।
তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলহাজ ওমর আসাদ রিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে স্পিকার উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘসময়ের বিরতির পর অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল কাঙ্ক্ষিত ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা ডিভি লটারি। ট্রাম্প প্রশাসনের ডিভি লটারি বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় রায়ে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) ডিভি লটারি পুনরায় চালুর পক্ষে রায় দিয়েছে দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। খবর বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের
আদালতের রায় অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ডিভি লটারির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। আবেদনের জন্য নির্ধারিত পোর্টাল চালু করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বরের ১ তারিখ। নিবন্ধন কার্যক্রম অন্তত ৩০ দিন চালু থাকবে। এ ছাড়া ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত আবেদনকারীদের বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবারের আবেদনে বাংলাদেশের নাম থাকা নিয়ে এখনও বিস্তারিত জানায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে ২৯ অক্টোবরের ডিভি লটারির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর।
২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি (ডাইভারসিটি ভিসা) লটারি বন্ধ রয়েছে। মূলত, ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তথা আমেরিকা ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী পাওয়ায় দেশটি এই কর্মসূচির বাইরে চলে যায়। কারণ ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি কর্মসূচিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পূর্বে যোগ্যতার শর্ত, সঠিক ওয়েবসাইটের ঠিকানা এবং আবেদনের নির্ভুল পদ্ধতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য সতর্কতার সঙ্গে অপেক্ষা করতে হবে।
সেখানে আরও বলা হয়েছে, গ্রিন কার্ড লটারিতে চান্স পাইয়ে দেওয়া বা অর্থের বিনিময়ে বিজয়ী করার নামে কোনো প্রতারকের ফাঁদে পা দেবেন না। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মার্কিন সরকারের অফিসিয়াল পোর্টালে সম্পন্ন করতে হবে।
ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ সাতটি জটিল ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের এককালীন এক লাখ টাকা করে চিকিৎসা সহায়তা দেবে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬৫ হাজার রোগীকে এ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে সহায়তা করা এবং তাদের পরিবারের আর্থিক চাপ কমানো এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
যে সাত রোগে মিলবে আর্থিক সহায়তা
সরকারের এ কর্মসূচির আওতায় সাতটি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। রোগগুলো হলো-
১. ক্যান্সার
২. কিডনি রোগ
৩. লিভার সিরোসিস
৪. প্যারালাইসিস
৫. হৃদরোগ
৬. লিউকেমিয়া
৭. থ্যালাসেমিয়া
কারা পাবেন অগ্রাধিকার
আর্থিক সহায়তা পেতে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। রোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ জন্য পরিবারের আয়-ব্যয় ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করা হবে।
এ ছাড়া যেসব রোগীর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এবং যাঁদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু, নারী ও প্রবীণ রোগীরাও অগ্রাধিকার পাবেন।
তবে আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া, জাল কাগজপত্র জমা দেওয়া, একই বিষয়ে সরকারের অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা কিংবা তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সহায়তা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট কমিটি আবেদন বাতিল করতে পারবে।
নিয়ম অনুযায়ী, একজন আবেদনকারী একই অর্থবছরে একবার এবং সারা জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এ সহায়তা পেতে পারবেন।
আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে
আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারী বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি, নমিনির তথ্য, রোগী বা আবেদনকারী কিংবা অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং ব্যাংকের চেকবইয়ের কভার পাতার ফটোকপি দিতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি এবং রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপিও জমা দিতে হবে।
রোগভেদে যেসব পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন
ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের টিস্যু ডায়াগনস্টিক, হিস্টোপ্যাথলজি, সাইটোপ্যাথলজি, বোন ম্যারো বা বায়োপসি রিপোর্টসহ প্রযোজ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে।
কিডনি রোগীদের রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয়ের রিপোর্ট এবং ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা সেবাকেন্দ্রের চিকিৎসকের সনদও প্রয়োজন হবে।
লিভার সিরোসিসে আক্রান্তদের লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ফাইব্রোস্ক্যান রিপোর্টসহ প্রাসঙ্গিক পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে। প্যারালাইসিসের ক্ষেত্রে এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট কিংবা রোগের প্রমাণযোগ্য ছবি জমা দেওয়া যাবে।
হৃদরোগীদের এনজিওগ্রাম বা ইকোকার্ডিওগ্রামের রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে। অন্যদিকে, থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস বা প্রযোজ্য অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সাধারণত এক বছরের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় রিপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে; মূল কপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
যেভাবে আবেদন করবেন
আর্থিক সহায়তা পেতে প্রথমে নির্ধারিত অনলাইন লিংকে প্রবেশ করে আবেদন করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্রের স্বাক্ষরিত প্রিন্টকপি, চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি এবং পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আবেদন ফরম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রত্যয়নপত্র পূরণ করে দুই কপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা, নির্ধারিত অনলাইন আবেদনের লিংক এবং কাগজপত্র জমা দেওয়ার পদ্ধতি নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৭ জন মারা গেছেন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩৭৩ জন। আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭ জন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৬৪ জন মারা গেছেন।
এছাড়া, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১৬ হাজার ৯৯০ জন।
প্রতীকী ছবি
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১০ জন। আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২০৫ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৯৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫ জনে।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ২১২ জনে।
গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৯২ হাজার ৬৯৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৮৫ হাজার ১১০ জন।