• প্রকাশ : সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ এএম

ট্রেনের অনলাইন টিকেট তিন মাসে ৭ হাজার ৮১০টি ‘সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট’ আটকে দেওয়ার কথা বলেছেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।


তিনি বলেন, অনলাইনে টিকেট বিক্রির ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত সংখ্যক ‘পাসওয়ার্ড রিসেটের’ অনুরোধ বা বারবার পরিবর্তনের চেষ্টা করা হলে সেগুলোকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। “গত তিন মাসে এ ধরনের ৭ হাজার ৮১০টি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে ৪ হাজার ৩৩৪টি, এপ্রিলে ৪১৩টি এবং মে মাসে ৩ হাজার ৬৩টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়।”


রেলমন্ত্রী বলেন, অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে থাকা ‘সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন’ এর সঙ্গে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আগামী বছরের ২৪ মার্চ শেষ হবে।


“গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি। বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়ানো সাপেক্ষে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শতভাগ সার্ভার পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।


হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও দেশের মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নছিমন, করিমন ও ভটভটির মতো যানবাহন চলছে বলেও সংসদে তুলে ধরেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। রংপুর-৩ আসনের সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।


স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।


মন্ত্রী বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে।


‘দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল প্রায় ৫০ লাখ’


টাঙ্গাইল-৭ আসনের সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, বিআরটিএ ইনফরমেশন সিস্টেম অনুযায়ী দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি।


যেসব মোটরসাইকেলের নিবন্ধন নেই, সেগুলোর মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেবে বলে জানান তিনি।


এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এমআরটি লাইন-২ এর রুট অ্যালাইনমেন্টে নারায়ণগঞ্জ শহরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই রুটের দৈর্ঘ্য হবে ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার।


একই প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম জানান, কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত উড়াল ও পাতাল সমন্বয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৪ নির্মাণের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংক সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে।


তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) কাছে পাঠানোর পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।


অর্থায়ন সাপেক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে


মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সদস্য মো. আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড গড়ে তোলা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের লক্ষ্য সামনে রেখে ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প প্রণয়নের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, বৈদেশিক অর্থায়ন পাওয়া সাপেক্ষে প্রকল্পটির পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।


৫ আগস্টের পর বন্ধ হওয়া ৯ সেতুর মধ্যে ২টিতে ফিরেছে টোল আদায়


সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে দেশে ৬৭টি সেতুতে টোল আদায় করা হয়।


তিনি বলেন, টোল আদায় সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি উৎস এবং সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সেতুতে টোল আদায় চালু বা বন্ধ করতে পারে।


মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর ৯টি সেতুতে টোল আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি সেতুতে টোল আদায় পুনরায় চালু করা হয়েছে। বাকি সাতটি সেতুতে এখনও টোল আদায় বন্ধ রয়েছে।


দ্বিতীয় যমুনা সেতুর সমীক্ষায় পরামর্শক নিয়োগ শেষ পর্যায়ে


জামালপুর-৩ আসনের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।


সেতু কর্তৃপক্ষের মহাপরিকল্পনায় ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ রয়েছে বলে জানান তিনি।


মন্ত্রী বলেন, সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। তাদের সঙ্গে দর কষাকষির কাজ শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই চুক্তি সই হবে।


সমীক্ষার ভিত্তিতে বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ অথবা গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ঘাট-এই দুই সম্ভাব্য অবস্থানের মধ্যে উপযুক্ত স্থানে সেতু নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।


রেলওয়ের জমি ও ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ


সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবহৃত জমি ও ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তিনি জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ এর ওপেক্স মডেল অনুসরণ করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য আহ্বান করা হবে বেসরকারি বিনিয়োগ।


প্রথম ধাপে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেট রেলস্টেশনের খালি ছাদ এবং ঢাকায় রেলওয়ের অফিস ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্টেশন ও স্থাপনাকেও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।


সব রেললাইন একসঙ্গে ডাবল করা বাস্তবসম্মত নয়


চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।


তিনি জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মাস্টারপ্ল্যান (২০১৬-২০৪৫) অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত রেলপথগুলো পর্যায়ক্রমে ডাবল লাইনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।তবে অর্থনৈতিক ও কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের সব রেললাইন একযোগে ডাবল করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।


মন্ত্রী বলেন, ট্রাফিকের ঘনত্ব এবং বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ধাপে ধাপে ডাবল লাইন নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


কুমারখালী স্টেশনে দুই ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে


কুষ্টিয়ার কুমারখালী রেলস্টেশনে সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির দাবি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ওই দুটি আন্তঃনগর ট্রেন সেখানে থামে না।


তিনি বলেন, কোনো স্টেশনে নতুন যাত্রাবিরতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিকটবর্তী স্টেশনের দূরত্ব, বাণিজ্যিক গুরুত্ব, ট্রেনের বিদ্যমান স্টপেজ সংখ্যা, পরিচালনাগত প্রভাব এবং সময়সূচির পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


সস্তা কৃত্রিম তন্তুর চাপে বিশ্ববাজারে ‘হুমকিতে পাটপণ্য’


সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পাটপণ্য রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।


তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপী স্বল্পমূল্যের কৃত্রিম তন্তুর সহজলভ্যতা ও ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে পাটজাত পণ্য বিশ্ববাজারে হুমকির মধ্যে পড়েছে।”


মন্ত্রী জানান, অধিকাংশ পাটকলে পুরোনো প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হচ্ছে। দেশে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব টেস্টের সুবিধা না থাকায় পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে রপ্তানিকারকরা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন।


বিজেএমসির ২৫ মিলের মধ্যে চালু ৯টি


জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে পাটমন্ত্রী জানান, পাটের উৎপাদন বাড়াতে সরকার ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষ হবে।


তিনি জানান, ২০২০ সালের ১ জুলাই সরকারি সিদ্ধান্তে বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে এর মধ্যে ২০টি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারাভিত্তিতে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়।


ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে; এর মধ্যে ৯টি মিল চালু হয়েছে।


বাকি ছয়টি মিল ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনটি মিলের বিপরীতে চূড়ান্ত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে, একটি মিলের আগ্রহপত্র মূল্যায়ন চলছে, একটি মিলের জন্য আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং একটি মিলের ইজারা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নতুন সরকারি পাটকলের পরিকল্পনা নেই


পাটমন্ত্রী জানান, বাকি মিলগুলোও সরকার ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।


ইজারার বাইরে থাকা পাঁচটি মিলের মধ্যে তিনটি সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় এবং দুটি মামলাজনিত কারণে লিজের বাইরে রাখা হয়েছিল।


তিনি বলেন, “সরকারিভাবে দেশে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বরং সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই সেক্টরে বেসরকারিখাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য।”




নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৬ পিএম

নগরীর যানজট নিরসন ও নৌপথ জনপ্রিয় করতে আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।


আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।


নৌমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছর ধরে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালু ছিল এবং সেই ওয়াটার বাস গত ১০ বছরে ক্ষতি করেছে ৫৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রত্যেক বছর ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার মতো। এখন নতুন করে বিআইডব্লিউটিএ সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস আবার পরিচালনা করার উদ্যোগ নিয়েছে। 


তিনি বলেন, বাংলাদেশের নৌপথের ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে এই মুহূর্তে ড্রেজিং করে সচল রাখা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের মতো। ড্রেজিং চলমান রয়েছে নৌপথ সচল রাখার জন্য। সংরক্ষিত ড্রেজিং সব সময়ের জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে বাস্তবায়ন করা হয়। যেখানে নৌপথের নাব্যতা রক্ষা করা দরকার, নৌচলাচল রুট যেখানে সচল আছে, তা ড্রেজিং করে নিয়মিতভাবেই সংরক্ষণ করা হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, ঢাকার চারপাশে যে নদী, সেখানে দূষণ আছে এবং সেই দূষণ কী প্রক্রিয়ায় হচ্ছে, তা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করে ৪২৪টি স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে কেমিক্যাল বর্জ্য আছে, লিকুইড বর্জ্য আছে, সলিড বর্জ্য আছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ঢাকার এই চারপাশে যে পাঁচটি নদী, তা দূষণমুক্ত করার জন্য ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে এবং গতকাল এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বিত মিটিং হয়েছে, কমিটি করা হয়েছে, এই পাঁচটি নদী পরিদর্শন করা হয়েছে।


নৌ-পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এই দূষণমুক্ত করার জন্য ওয়াসা, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর দুই সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়- সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যে কার্যক্রম ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে আগামীতে নদীগুলির পাড় সংরক্ষণ এগুলিও এই বিষয়ের মধ্যে আমলে আনা হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পবর্জ্য যাতে আর নদীতে না যায়, সেজন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়।  

সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে আরও ৮৮, ৯০৯ চিকিৎসক প্রয়োজন


স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৩ পিএম

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। চিকিৎসকের শূন্য পদের সংখ্য ১১ হাজার ৪৯৫টি। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। 


স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত সংসদে প্রশ্নের জবাব দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।


মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে আরও জানানো হয়, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড অনুসারে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন। সরকারের চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


বিএনপির সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ৩ বছর ধরে চাহিদার তুলনায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও চিকিৎসা উপকরণের সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।


মন্ত্রী জানান, ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মাঠপর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।


মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের আসনসংখ্যা ৫ হাজার ১০০টি। বেসরকারি ৬৮টি মেডিকেল কলেজের আসন ৬ হাজার ২৭৮টি।


হামের প্রাদুর্ভাবের যে কারণ


গোপালগঞ্জ-১ আসনের মো. সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের টিকা সংগ্রহ না হওয়া এবং পরে দেশজুড়ে টিকা সংকটের পেছনে মূল কারণ ছিল টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক নীতি পরিবর্তন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ইউনিসেফের সতর্কতা উপেক্ষা করা।


এই প্রশ্নের লিখিত জবাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই বিলম্ব ও সংকটের প্রধান কারণগুলোও তুলে ধরা হয়। 


এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পিছিয়ে যাওয়া এবং পরে ২০২৫ সালে সরকারের পক্ষ থেকে একটি পরিপূরক হাম-রুবেলা বিশেষ ক্যাম্পেইন বাতিল করা হয়। ফলে নিয়মিত টিকাদানের আওতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং পরে দেশের শিশু ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে হামের প্রাদুর্ভাব মারত্মক রূপ নেয়।


জাকাত সংগ্রহ ৭ কোটি টাকা


কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অর্থ বছরে সংগৃহীত জাকাতের পরিমাণ ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৯ টাকা সরকারি জাকাত ফান্ডে জমা আছে। বাকি টাকা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের জাকাত ফান্ডে জমা আছে।


চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, দেশের বিভিন্ন মত ও পথের প্রখ্যাত আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসন এবং সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ ও মতবিনিময়ের লক্ষ্যে উপজেলাভিত্তিক গবেষণা ও ইফতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।


৩৫ বছরে নৌ দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৫২ জন নিহত


চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, প্রথমবারের মতো পরিচালিত নৌযান শুমারি কার্যক্রমে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮১৩টি নৌযান তালিকাভুক্ত হয়েছে।


সংরক্ষিত আসনের সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, গত ৩৫ বছরে ৪৭ হাজার ৬০৬টি নৌযানের বিরুদ্ধে মামলা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৬৭১টি মামলা মেরিন কোর্টে বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমানে নয় হাজার ৯৩৫টি নৌযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত ৩৫ বছরে নৌ দুর্ঘটনায নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৫২ জন এবং আহতের সংখ্যা ৮০৭ জন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৪ পিএম

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন উপজেলাভিত্তিক হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। এক্ষেত্রে একটি উপজেলার যতগুলো ইউনিয়ন আছে, সবগুলোয়ে একই সঙ্গে নির্বাচন হবে। আজ সোমবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।


আখতার আহমেদ বলেন, "ইউপি নির্বাচন কয়েক ধাপে হবে। এক্ষেত্রে পাঁচ ধাপে নাকি ছয় ধাপে হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে আমি এটুকু বলতে পারি উপজেলাভিত্তিক নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে একটি উপজেলার যতগুলো ইউনিয়ন আছে সেগুলো একই সঙ্গে হবে। "


তার কথায়, “এক উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন একসঙ্গে হলে, বাকিগুলো অন্য ধাপে হলে একটা বিশৃঙ্খলা হয়ে যাবে। তাই একই সঙ্গে এক উপজেলার সবগুলোতে নির্বাচন হবে এবং কয়েক ধাপে হবে নির্বাচন।”


এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়টি কমিশন নির্ধারণ করবে বলেও জানিয়েছেন ইসি সচিব।


সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড ইস্যু প্রসঙ্গে বৈঠক করেন ইসি সচিব। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইউপি নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন তিনি।


স্থানীয় নির্বাচনের বিধিমালা নিয়ে ইসি সচিব বলেন, এই ভোটে পোস্টার থাকবে না। এছাড়াও কিছু পরিবর্তন এসেছে।


সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ইতোমধ্যে বলেছেন, সেপ্টেম্বরে তফসিল দিয়ে নভেম্বরে ইউপি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা এবং জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে।


ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই


রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন সচিব আখতার আহমেদ।


এর আগে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার রোববার বলেছিলেন, “এই নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। সেটার আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং এর প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা রাখি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা সিডিউলটা ডিক্লেয়ার করতে পারব। নির্বাচন পূজা, পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হবে।”


গত ২১ অগাস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে ওই আসনটি শূন্য হয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪১ পিএম

দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। এর আওতায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মাসিক সম্মানী, উৎসব ভাতা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।


তাদের এ অবদান বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।


নীতিমালার আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে উৎসব ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়মিত আয় ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যেই এ উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিকল্পভাবে আয় করার সুযোগ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের পেশাগত দক্ষতাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।


ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছেন। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে তাদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমবে এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

 


সংসদ অধিবেশন

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৪ পিএম

দান করার পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন– এমন বিধান রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাস হয়েছে। গতকাল রোববার সংসদে ‘১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামন্ডমেন্ট) বিল’ সংসদে পাস হয়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিলের ওপর আনা বিরোধী সদস্যদের জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করা হয়।


পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, পিতামাতা বা পিতামহ/মাতামহ তাঁর সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি ভোগের অধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।


বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।


বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্টত কন্ট্রাডিকশন আছে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কী কোরআনের মূলনীতি রাখব নাকি বাদ দেব? আমি মনে করি, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই আইন এভাবে উপস্থাপন করায় সমাজে ব্যাপক উচ্ছৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই আইন দ্বারা হকদারের হকও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।’


আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে জামায়াতের নাজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল, তারা কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। কিন্তু কোরআন-সুন্নাহ সুস্পষ্ট বিরোধী এই আইন পাস করতে যাচ্ছে। ইসলামিক স্কলারদেরও এই আইনটি নিয়ে ঘোর আপত্তি রয়েছে।


পাবনা-৩ আসনের আলী আছগার এই বিলকে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আখ্যায়িত করেন। 


চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সব সন্তান পিতামাতার সঙ্গে এই আচরণ করছেন না। গুটি কয়েক অপরাধীর সঙ্গে আমাদের মূল চিন্তা ও বিশ্বাসে সাংঘর্ষিক আইন আমরা পাস করতে পারি না।’


বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলীম বলেন, এই আইন না করে কোরআনে বিধান রয়েছে এক-তৃতীংয়াশের বেশি কেউ দান করতে পারবে না। সেই বিধানটি আইনে পরিণত করা দরকার। ইসলামিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই আইনে ইসলামিক স্কলারদের মতামত দরকার।


শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ বলে একটি নিয়ম থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, অধিকাংশ সংসদ সদস্য এই আইন পাসের সময় হয় বিরোধিতা করবেন, না হয় চুপ থাকবেন। ইসলামিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি কাঠামো তৈরি হলে তা আমরা মেনে নিতে পারি না।’


ময়মনসিংহ-৬ আসনের কামরুল হাসান বলেন, ‘এই আইন সংশোধন করতে গিয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে হাত দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে কৌশলে এই আইন পাস করা হচ্ছে। এই আইন সব ধর্মের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে যে বিধান যুক্ত করা হয়েছে, তাতে আমাদের চরম আপত্তি রয়েছে। এই আইন পর্যালোচনা করা না হলে জনবিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে।’


কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের (স্বতন্ত্র) শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘এই আইন দ্রুত পাস করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি। যাতে কোনো কুলাঙ্গার সন্তান দ্বারা কোনো বাবা-মা লাঞ্ছিত না হন।’


স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মা-বাবার কথা বিবেচনা করে এই বিল আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।


আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই আইন হেবা বা অন্যভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এখানে আমরা মুসলিম ল’কে টাচ করিনি। এই আইনে যে গিফটের (সম্পত্তি হস্তান্তর) কথা বলা হচ্ছে, তা হেবা নয়। এটি হেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এই আইনে হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর বাধাগ্রস্ত হবে না।’


মুসলিম পারিবারিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এই বিলটি এনেছি।’ 


ইসলামী ব্যাংকিং প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসলামিক আইনে সুদ নয়, মুনাফা নেওয়া হয়। উনারা মুনাফা নেন কিন্তু লোকসানের ভাগ নেন না। লোকসানের ভাগদান না হলে ইসলামিক এই ব্যাংকিং সিস্টেম অনুমোদিত না, কিন্তু এটা চলছে। 


একাধিক মুসলিম দেশের উদাহরণ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই আইন অগণিত পিতামাতার শেষ নিঃশ্বাস শান্তিতে নিতে সহায়তা করবে। এই আইন সমাজের চাহিদা পূরণ করবে। মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১-এর তুলনায় ইসলামের সঙ্গে অসাংঘর্ষিক।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৩ পিএম

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নতুন বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করা হয়েছে। 


নতুন বিধিমালায় নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন ও ব্যয়ের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।


নতুন আচরণবিধির অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো পোস্টার নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।


তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল করার সুযোগ থাকবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।


ডিজিটাল প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতেও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ। এআই ব্যবহার করে এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না। ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।


ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার কিংবা কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে।


সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেও কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে।


নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।


নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।


এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।নির্বাচন কমিশনের নতুন এ বিধিমালার মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন বন্ধ এবং ডিজিটাল প্রচারণায় এআই-নির্ভর অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান এবারের উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।