বরগুনার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট চরমে পৌঁছেছে। জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ ছয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯৩টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৭ জন। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে ২১৬টি পদ। এর মধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেই কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ।
ফলে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার দুই থেকে তিনগুণ শিশু রোগী ভর্তি হলেও স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এতে কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি খরচ ও ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা।
এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে চিকিৎসক সংকট দূর করে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী- বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৮৩ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ১৮ জন। এ ছাড়াও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসে ১৩ জনের বিপরীতে ৫, আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪১ জনের বিপরীতে ১৭, তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৪ জনের বিপরীতে ৮, বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৮ জনের বিপরীতে ৬, বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪১ জনের বিপরীতে ১২, পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪০ জনের বিপরীতে ৯ এবং সিভিল সার্জন অফিসে ৩ জনের বিপরীতে ২ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন।
এ অবস্থায় জেলার অন্তত ১২ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবায় প্রধান ভরসার জায়গা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসকের পদই রয়েছে শূন্য। এতে হাসপাতালটিতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া ও জরুরি চিকিৎসা সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।
বিশেষ করে বরগুনার জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ফলে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারছেন না কর্মরত চিকিৎসকরা। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা।
স্বজনদের দাবি- হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় বাধ্য হয়ে শিশুদের নিয়ে যেতে হচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে। এ ছাড়াও একটু বেশি অসুস্থ হলেই শিশুদের রেফার করা হচ্ছে বরিশালে। এতে একদিকে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়, অপরদিকে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে সৃষ্টি হচ্ছে ভোগান্তির।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে হামের প্রকোপসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অসংখ্য শিশু রোগী। হামের উপসর্গ ও জ্বর, সর্দি, কাশি এবং নিউমোনিয়া নিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের নির্ধারিত ৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন শিশু। ফলে এতসংখ্যক শিশু ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা সেবায় বর্তমানে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার দাবি চিকিৎসা নিতে আসা শিশু রোগীর অভিভাবকদের। অনেক সময় বাধ্য হয়ে শিশুদের নিয়ে বাইরের ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে বলেও জানান তারা।
২৮ দিন বয়সী মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মো. মিজান বলেন- হাসপাতালে যে পরিমাণ রোগী ভর্তি তার বিপরীতে যে কজন চিকিৎসক আছেন, তাতে ঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি না। দিনে একবার এসে কোনোরকম রোগী দেখে চলে যান চিকিৎসকরা। একজন রোগীকে বলতে গেলে এক মিনিটও সময় দিতে পারেন না তারা।
শিশু মরিয়মের মা মোসা. কুলসুম বলেন- আমার ছোট মেয়ে অসুস্থ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই মেয়েকে নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যদি বাইরের ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়, তাহলে এই সরকারি হাসপাতালের প্রয়োজন কী? হাসপাতালে যদি ভালো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকত তাহলে আর সমস্যা হত না।
বর্তমানে বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ও চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি ও সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল বলেন- হাসপাতালটি এখন নিজেই রোগীতে পরিণত হয়েছে। অসুস্থ হয়ে যে রোগীরা হাসপাতালে যায়, তারা সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পায় না। কারণ বর্তমানে হাসপাতালে চারভাগের একভাগও জনবল নেই। পদায়নকৃত চিকিৎসকদের অনেকেই নিয়মিত কর্মস্থলে আসেন না। হাসপাতালে আসা রোগীদের অবস্থা একটু খারাপ হলেই রেফার করে দেওয়া হয় বরিশাল অথবা ঢাকায়। এ অবস্থায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।
শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায়, একজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে শিশু ওয়ার্ড পরিচালনা করছে জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে ধারণক্ষমতার থেকে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জানিয়ে হাসপাতালে কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডা. শায়লা আক্তার বলেন- প্রতিদিনই হাসপাতালে ১০০ থেকে ১৫০ জন শিশু রোগী ভর্তি থাকে।
যতদিন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মেহেদী পারভেজ স্যার ছিলেন, তিনি রোগী দেখতেন। আমরাও তার সঙ্গে থাকতাম। তিনি চলে যাওয়ার পর আমাকে একাই রোগী দেখতে হচ্ছে। এ কারণে এতসংখ্যক রোগী দেখতে একটু হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ কয়েকজন মেডিকেল অফিসার পদায়ন করা হলে আমাদের জন্য সুবিধা হত।
বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার বিষয়ে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন- বরগুনায় ২৯৩ জন চিকিৎসকের বিপরীতে মাত্র ৭৭ জন চিকিৎসক আছেন। এই স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়েই হটস্পট বা বিভিন্ন রোগে প্রাদুর্ভাব প্রবণ এলাকার চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু চিকিৎসক, যারা তাদের কর্মস্থলে অনিয়মিত অথবা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত আছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমন ১৩ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এটি অন্য চিকিৎসকদের জন্য একটি সতর্ক বার্তা। এ অঞ্চলের চিকিৎসক যারা আছেন, তারা তাদের দায়বদ্ধতা এবং মানবিক গুণাবলি থেকেই চিকিৎসা সেবা চালাতে হবে।
বরগুনায় চিকিৎসক সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি যোগদানের প্রথম থেকেই চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অনেক চিকিৎসক পদায়নও হয়েছিল। বিশেষ করে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুর হটস্পট হওয়ার পর একসঙ্গে ১০ জন চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা আবার এখান থেকে চলে গেছেন। এ ছাড়াও জেনারেল হাসপাতালে যিনি শিশু বিশেষজ্ঞ ছিলেন, তিনি সহকারী অধ্যাপক হয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যাওয়ায় ওই পদটি শূন্য রয়েছে। জেলার চিকিৎসক সংকটসহ শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসনও কাজ করছেন। পাশাপাশি আমরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি।
বাঁ থেকে নিহত পর্যটক রোহান, জিসান ও আকাশ। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।
নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়।
কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ছবি : সংগৃহীত
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির কার্যালয়ে তাকা চেয়ার, টেবিল, ব্যানারসহ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কামদেব শেখপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফিজ, আকিব ও নিবিড় ব্র্যান্ডের বিড়ির স্বত্বাধিকারী মীর কাসেম মিঠুর সঙ্গে ফ্রেশ বিড়ির স্বত্বাধিকারী রমজান আলী জিকুর বিড়ির বাজার নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে মীর কাসেম মিঠু, ছোট আসাদ ও তৌফিক হোসেন বাবলু আহত হন।
মীর কাসেম মিঠুর দাবি, মর্ণেয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতা বন্ধ করে দেওয়ায় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
রমজান আলী জিকু বলেন, বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, দলীয় কার্যালয়ে তার ছেলেরাই হামলা চালিয়েছে। এর আগেও বিড়ির বাজার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে বুধবার ১১টার দিকে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ এবং জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রুহুল আমীনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও মীর কাসেম মিঠুর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানান উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার।
রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর বলেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই অবরোধের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। বিবৃতিতে আগামী শনিবার রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ওই দিন সকাল ৫টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে সড়ক ও নৌপথ অবরোধ চলবে বলে জানানো হয়।
সংগঠনটি ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির সাজেকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ডাকা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা, লাঠিচার্জ ও ঘরবাড়ি-দোকান, ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির সমর্থনে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা শান্তিপূর্ণ সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় অবরোধ ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অবরোধের সময় অ্যাম্বুলেন্স, রোগী ও লাশবাহী যান, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন ও সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে বৃহস্পতিবার ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের’ ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে আটকে পড়েন প্রায় তিন হাজার পর্যটক।
পুলিশ জানায়, এসব পর্যটককে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি সদরে ফিরিয়ে নিয়ে আসার পথে সাজেক উজো বাজার এলাকায় আসলে অবরোধকারীরা আটকে দেয়। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ব্যাপী আটকা পড়েন সাজেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। এসময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তাদের উপর অবরোধকারীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে এক পর্যায়ে পর্যটক ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা। পরে পর্যটক ও সরকারি সম্পত্তি ও জানমাল রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। এসময় বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে গোলাগুলিতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। গোলাগুলির ঘটনার পরে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব।
তিনি আরও জানান, গোলাগুলির ঘটনার আগে অবরোধকারীদের এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ৬ সদস্য আহত হন।
রংপুর মেডিকেলে আগুন
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচ তলায় বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগলে ভয়াবহ ধোয়া আর আগুনের কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ ভয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় অন্তত ৪০ জন রোগী আহত হয়েছেন। এ সময় পুরো হাসপাতাল জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এদিকে হাসপাতালে বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার ঘটনায় পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর কয়েকটি ওয়ার্ডে আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলেও নেফ্রোলজি, হৃদরোগ, গাইনি, কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ড অন্ধকারে। ফলে জরুরি অপারেশন ও সব ধরনের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাসপাতালের নিচ তলায় বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুরো হাসপাতালে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচতলা থেকে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালের বাইরে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় পড়ে গিয়ে অন্তত ৪০ জন আহত হন।
বিকেল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়, হৃদরোগ বিভাগ, প্যাথলজি ওয়ার্ড, চর্ম ও যৌন ওয়ার্ড, কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ড, নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে রোগীরা প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্বিতীয় তলায় নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী সফিউল আলমকে কোলে করে দোতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামানোর সময় তার দুই ভাতিজা পড়ে গিয়ে আহত হন। ওই সময় কিডনী রোগী সফিউলও আহত হন। ওই ওয়ার্ডের অন্তত ১৫ জন রোগী তাড়াহুড়া করে নিচে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে আহত হন। অপরদিকে গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ও সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুদের নিয়ে তিনতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে।
গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী মমতাজ বেগম জানান ৫ দিন আগে তার শিশু কন্যার জন্ম হয়েছে। আগুন লাগার খবর শুনে তিনি তার শিশু সন্তানকে নিয়ে নিচে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে আহত হন।
এ ছাড়াও লোহার জরুরি বহির্গমন সিঁড়ি দিয়ে অনেকেই নিচে নামেন। এ সময় পদদলিত হয়ে বেশ কয়েকজন আহত হন।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আব্দুল মোকাদ্দেম জানান, বিদ্যুতের শট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি।
সিলেটের তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে জৈন্তাপুর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল আহমেদকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে কামাল আহমেদ ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে উপস্থিত হন। এ সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর গোয়াইনঘাট থানার অধীন তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির চার সদস্য সেখানে উপস্থিত হন। পরে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে জৈন্তাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দিদারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাকে জৈন্তাপুর থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে জৈন্তাপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, কামাল আহমেদ থানা হেফাজতে আনা হয়। যাচাই-বাছাই করে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে সহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে প্রেরন করা হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীতে গ্যাস সিলেন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু এবং মেয়ের আশঙ্কাজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাদের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে তানিশা আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহতরা হলেন লাল চাঁন মিয়া (৬০) ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগম (৫০)। তারা টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নং ওয়ার্ডের মুদাফা এলাকার মাস্টার বাড়ি জনৈক ফখরুল ইসলামের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার সকাল ৬টার দিকে রান্নার চুলা জ্বালাতে গেলে ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরিবারের তিনজন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান দম্পতির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদের মেয়েও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।