ছবি : সংগৃহীত
দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ সময় এসব অঞ্চলে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর চৌধুরী)
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীকে (এস কে সুর চৌধুরী) তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় আজ মঙ্গলবার তাঁকে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন। দুদকের কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সকালে কারাগার থকে এস কে সুরকে আদালতে হাজির করা হয়। সাজা ঘোষণার পর তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে দুদক ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১৫ জুলাই এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ যুক্তিতর্ক তুলে ধরে তাঁর সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা প্রার্থনা করেন আদালতের কাছে। আসামি পক্ষের আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার আসামির খালাস চান। মামলাটির বিচার চলাকালে আদালত সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন । আলোচিত পি কে হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম আসায় ২০২২ সালে এস কে সুরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই বছরের মার্চে তাঁকে দুদকে তলব করা হয়। এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান।
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
অভিযোগ আছে, এস কে সুর ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন এবং সুবিধা নিয়েছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, এসকে সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে তাঁর ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার জন্য সম্পদের হিসাব বিবরণীর নোটিশ জারি করা হয়। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করেন তিনি। তবে আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর দুদক মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন। ২৫ আস্ট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন। ৬ নভেম্বর এস কে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) দায়িত্ব পালন করা ৩২ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। ওই নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ হিসেবে আলোচিত।
তারা সবাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পান। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। আজ সোমবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, তাদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া প্রয়োজন বিবেচনায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তারা অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।
ওই সময়ের ডিসিদের মধ্যে রয়েছেন—নেত্রকোণার ডিসি মঈনউল ইসলাম, কুমিল্লার ডিসি মো. আবুল ফজল মীর, বান্দরবানের ডিসি মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নাটোরের ডিসি মো. শাহরিয়ার, চাঁদপুরের ডিসি মো. মাজেদুর রহমান খান, শরীয়তপুরের ডিসি কাজী আবু তাহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি এ জেড এম নুরুল হক, ময়মনসিংহের ডিসি মো. মিজানুর রহমান, চট্টগ্রামের ডিসি মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, লক্ষ্মীপুরের ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল, রাঙ্গামাটির ডিসি এ কে এম মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের ডিসি মো. কামাল হোসেন, কুষ্টিয়ার ডিসি মো. আসলাম হোসেন, শেরপুরের ডিসি আনার কলি মাহবুব।
এছাড়া তৎকালীন মানিকগঞ্জের ডিসি এস এম ফেরদৌস, চুয়াডাঙ্গার ডিসি গোপাল চন্দ্র দাশখাগড়াছড়ির ডিসি মো. শহিদুল ইসলাম, ফেনীর ডিসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বরিশালের ডিসি এস এম অজিয়র রহমান, ভোলার ডিসি মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পটুয়াখালীর ডিসি মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, সুনামগঞ্জের ডিসি মো. আব্দুল আহাদ, পাবনার ডিসি মো. জসিম উদ্দিন, ঝিনাইদহের ডিসি সরোজ কুমার নাথ, নীলফামারীর ডিসি নাজিয়া শিরিন, রাজশাহীর ডিসি এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার ডিসি মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের ডিসি মাহমুদুল কবীর মুরাদ, কিশোরগঞ্জের ডিসি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার ডিসি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, কুড়িগ্রামের ডিসি মোছা. সুলতানা পারভীনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর কাফরুলে যুবদলকর্মী ইউসুফ বেপারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের পরিকল্পনায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন। তবে সেদিন গুলিতে মারা যান ইউসুফ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নাহিদ হাসান, শাফিন আহমেদ, জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ ও আবির হাওলাদার। ধারাবাহিক অভিযানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি ও কাফরুল থানা পুলিশ। এর আগে ঘটনার পরপরই চঞ্চল মোল্লা নামে শুটারকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গতকাল সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ময়লার টেন্ডার, ফুটপাত দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন হাফিজ। তবে ঘটনাচক্রে অস্ত্রধারীদের গুলিতে যুবদলকর্মী ইউসুফ নিহত এবং দুজন গুরুতর আহত হন।
তিনি জানান, হত্যার মিশনে ১১ জন অংশ নেয় বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে সরাসরি জড়িত চার শুটারসহ আটজনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার জন্য হাফিজ তাদের ঝিনাইদহ ও মাগুরা থেকে ভাড়া করে আনেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইউসুফ হত্যার ঘটনায় তাঁর বড় ভাই কাফরুল থানায় মামলা করেন। এর পরপরই ডিবি মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত শনিবার ডিবি মিরপুর এলাকা থেকে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া থেকে জিয়ারুল এবং মিরপুর থেকে আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে কাফরুল থানা পুলিশ শরীয়তপুর থেকে জিহাদ মোল্লা এবং যশোরের বাঘারপাড়া থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবির হাওলাদারকে গণপিটুনির পর স্থানীয়রা কাফরুল থানায় সোপর্দ করেছিল।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের বরাতে ডিবি জানায়, গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজন ঢাকায় আসেন। তারা মিরপুর-১০ নম্বরের বৈশাখী হোটেলে ওঠেন এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে বৈঠক করেন। তখন আবির হাওলাদারের কাছ থেকে দুটি পিস্তল নিয়ে সেখানে হাজির হন হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে মিসফায়ার হলে সেদিন হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাঁকে শনাক্ত করেন। সেইসঙ্গে হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান। ২২ জুলাই হাফিজের নির্দেশে তারা পুনরায় ঢাকায় এসে মিরপুর-২ নম্বরের সোনালী হোটেলে ওঠেন। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হন। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ গুলিভর্তি দুটি পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাত দুই-তিনজন বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর অফিসের সামনে অবস্থান নেন। হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করেন।
গত শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে কাফরুলের ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডে বাবু তাঁর কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখন অপরিচিত কয়েকজনকে সন্দেহ হলে তিনি পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তল্লাশির চেষ্টা করলে তাদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে ইউসুফ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন আহত হন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা? এমন প্রশ্নে ডিবিপ্রধান বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে তাদের সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার আব্বাস ও ইব্রাহিমের যোগসাজশ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে অপরাধীরা নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরতে অনেক সময় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে।
যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবু সমকালকে বলেন, ময়লার টেন্ডার বা ফুটপাত দখল নিয়ে বিরোধের কথা পুরোপুরি মিথ্যা। হাফিজ শুটার ভাড়া করেছেন, কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। তিনি অন্য কারও হয়ে কাজ করেছেন। তাঁকে পেলে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অভিযুক্ত কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
প্রতীকী ছবি
গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ অনুমোদিত হলেও সংবিধান সংশোধন না হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে পুরোনো নিয়মেই। গোপন ব্যালট ব্যবহার হবে না। তবে যদি একাধিক প্রার্থী থাকেন, তাহলে সংসদ সদস্যরা (এমপি) ব্যালটে সইয়ের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ভোট দেবেন।
জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই ছয়টি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের একক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদিও এর একাংশে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি এসব নিয়োগ ক্ষমতা পাবেন না। জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করতে ইতোমধ্যে সংসদীয় কমিটি করেছে সরকারি দল। তবে বিরোধী দল এতে যোগ দেয়নি। তারা সংবিধান সংশোধন নয়; গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার চায়।
এদিকে সরকারি দলের সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম সভা এখনও হয়নি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সংবিধান সংশোধন করতে কয়েক মাস লেগে যাবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে তার সম্ভাবনা নেই। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, শিগগির তারা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে ইসি তা করে থাকে। ফলে আগামী সপ্তাহে জানা যাবে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা কবে হবে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। মোঃ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়েন ২৪ জুলাই। এ হিসাবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।
১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিলে সর্বোচ্চ ২৫ দিন সময় দেওয়ার নজির রয়েছে। ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে এই নির্বাচন হতে পারে। একাধিক প্রার্থী না থাকলে এর আগেও নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগে শূন্য পদে ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৭৭ দিন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তৎকালীন স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে শূন্য পদে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোঃ আবদুল হামিদ ২০১৩ সালের ২০ মার্চ থেকে ওই বছরের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল তপশিল ঘোষণা করে ২৯ এপ্রিল ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছিল। মোট সময় দেওয়া হয়েছিল ২০ দিন। তবে আবদুল হামিদ একক প্রার্থী হওয়ায় ভোট গ্রহণের আর প্রয়োজন হয়নি। ২০১৩ সালের তপশিলে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই ছিল ২২ এপ্রিল। আর কোনো প্রার্থী না থাকায় সেদিনই আবদুল হামিদ নির্বাচিত হয়ে যান।
এবারের সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। নির্বাচন হবে ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী। এই আইনের ১০ ধারা অনুসারে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার নিয়ম থাকায়, বিএনপির প্রার্থী ছাড়া অন্য কারও নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা নেই।
তাই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটে প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। জামায়াত নেতারা ইতোমধ্যে তা সমকালকে জানিয়েছেন। ১৯৯১ সালে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেওয়ায়, সেবার প্রথম এবং শেষবারের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করতে হয়েছিল। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এমপিদের সমর্থনে ১৭২ ভোট পেয়ে আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন।
ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া ঠেকাতে জুলাই সনদে প্রস্তাব করা হয়েছে, সংসদের উভয় কক্ষের ৪৫০ এমপির গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। যে ৩০টি সংস্কার প্রস্তাবে কোনো দলেরই নোট ডিসেন্ট ছিল না, এর একটি এই প্রস্তাব। সংবিধানের সংশোধন না হওয়ায় ১০০ আসনের সংসদের উচ্চকক্ষও গঠিত হয়নি।
ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে জুলাই সনদে ছয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের একক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দিতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।
বিএনপি এ প্রস্তাবের একাংশে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। দলটি রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগের ক্ষমতা দিতে রাজি হয়নি। গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে যে ৯টি সংস্কার প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, এর একটি এটি।
বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে। যদিও বিরোধী দল এতে রাজি নয়। তবে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটি যেভাবে চাইবে সেভাবেই সংবিধান সংশোধন হবে। ফলে আগামী দিনের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ ক্ষমতা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া সব কাজ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে করতে হয়। সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের আস্থাভাজনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে বাধ্য রাষ্ট্রপতি। ফলে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা নেই তাঁর। চারটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ক্ষমতা দিতে হলেও সংবিধান সংশোধন করতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় প্রকাশিত পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ সময়ে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ সময় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। ফলে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আজ সোমবার বিকালে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, “আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজটি আমরা তখনই সফলভাবে করতে পারব, যখন তোমরা আজকে যারা গ্যালারিতে বসে আছ এবং যারা খেলার মাঠে পুরস্কার পেয়েছ, তোমরা নিজেদেরকে আগামী দিনের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। এখন পড়ার সময় মন দিয়ে পড়তে হবে, একইভাবে মন দিয়ে খেলতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা সঠিকভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের দিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাকিয়ে আছে, বাংলাদেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা যদি নিজেদের গড়ে তুলতে পারো, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এই কাজ আমরা হয়তো শুরু করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ গড়ার কাজ তোমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”
আমার দৃঢ় বিশ্বাস-আজ প্যান্ডেল ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশুর মধ্য থেকেই আগামী দিনের সফল ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে; যারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা শক্তভাবে নিজেদের আত্মগঠনে মনোযোগ দাও।
ছোট্ট শিশুদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদের সকলের কাছে আমি একটি সহযোগিতা চাই। এই দেশটা আমাদের সকলের। এই দেশের আলো, এই দেশের বাতাস, এই দেশের পরিবেশ আমরা সকলে মিলে যদি ঠিক রাখি, তাহলে একটি সুন্দর পরিবেশ গড়তে পারব। তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তোমার বাসার আশপাশে অনেকে বিভিন্ন রকম ময়লা, প্লাস্টিকের বোতল ফেলে যায়। কেউ এগুলো ফেলছে-সেটি পুকুর হোক, নদীনালা হোক বা বাসার আশপাশে; এখন থেকে যদি এরকম কোনো দৃশ্য তোমাদের চোখে পড়ে, প্লিজ! তোমরা তাকে বারণ করবে। দরকার হলে সেই ময়লাটি তোমরা তুলে নিয়ে গিয়ে যেখানে ময়লা ফেলার জায়গা, নির্দিষ্ট সেই জায়গায় ফেলবে। যাতে আমাদের পরিবেশ, আমাদের নদীর পানি, পুকুরের পানি পরিষ্কার থাকে। সেখানে মানুষ সুন্দরভাবে হাঁটাচলা করতে বা বসতে পারে।”
শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রতিবছর চেষ্টা করবে, তোমার বাড়ির আশপাশে হোক, স্কুলের আশপাশে হোক অথবা যেখানে তুমি সুবিধা মনে কর সেইখানে একটি করে গাছ লাগাতে হবে। গাছ যদি আমরা লাগাতে পারি, আমাদের পরিবেশটা সুন্দর হবে, পরিষ্কার হবে। আমরা সকলে মিলে বুকভরে শ্বাস নিতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, “কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা প্রকৃতির প্রতি, বিভিন্ন পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত নির্দয়। আজকে আমার সকল ছোট্ট বন্ধুদের আমি অনুরোধ করব, আসো আমাদের আশপাশে যত কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল যত রকম পশুপাখি আছে আমরা চেষ্টা করব এই যে প্রকৃতির, আল্লাহ দেওয়া বিভিন্ন জীব, পশুপাখি এদের যত্ন নেওয়ার। যত্ন যদি নিতে না পারি, অন্তত আমরা চেষ্টা করব তাদের যাতে কোনো প্রকার ক্ষতি হতে না পারে।”
বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সরকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শিশুরা যে ক্ষেত্রে নিজেদের বিকশিত করতে চায়, তা পড়ালেখা, খেলাধুলা, গান বা ছবি আঁকা-যা-ই হোক না কেন-সরকার তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”