সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ এএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শেষকৃত্য শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া শোকাহত মানুষের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভমূলক কর্মসূচি পালন করেছে। শোভাযাত্রায় ট্রাম্পের প্রতিকৃতিতে প্রতীকীভাবে পাথর নিক্ষেপের পাশাপাশি ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় লেখা 'আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব' স্লোগানসংবলিত একটি বড় ব্যানারও প্রদর্শন করা হয়।


ইরানের রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার তেহরানের আজাদি স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত শোক মিছিলে অংশ নেওয়া অনেকেই ট্রাম্পের প্রতিকৃতিতে ছোট ছোট পাথর নিক্ষেপ করেন। 


আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ইসলামের হজের অন্যতম আনুষ্ঠানিকতা ‘রমি আল-জামারাত’ বা ‘শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ’-এর প্রতীকী অনুকরণ, যা অশুভ শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।


একই শোভাযাত্রায় কয়েক মিটার দীর্ঘ একটি ব্যানার বহন করতে দেখা যায়, যাতে ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় লেখা ছিল, 'উই উইল কিল ইউ ট্রাম্প'। ব্যানারটি খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে প্রদর্শন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন। এরপর সোমবার রাজধানী তেহরানে তার প্রধান শেষকৃত্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভোর থেকেই বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এর আগে শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিক শোকানুষ্ঠান শুরু হয়। সপ্তাহান্তজুড়ে তেহরানের ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় কোরআন তেলাওয়াত, শোকগাথা পাঠ এবং দোয়া-মাহফিলের মধ্য দিয়ে লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান। রোববার সেখানে খামেনি ও তার পরিবারের নিহত সদস্যদের জানাজায় দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।


সোমবারের শোভাযাত্রা শেষে মরদেহ কুম শহরে নেওয়া হয়েছে। এরপর ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে বৃহস্পতিবার ইরানের মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)–এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের অনেককে লাল পতাকা বহন করতে দেখা গেছে। তাদের দাবি, খামেনির হত্যার বিচার ও প্রতিশোধের দাবি এখনও বহাল রয়েছে।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:২৬ এএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি রিল ভিডিও বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। পোস্ট করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটি ৩০ কোটিরও বেশি ভিউ অর্জন করে ইনস্টাগ্রামের একক ভিডিওর সর্বোচ্চ ভিউয়ের আগের রেকর্ড ভেঙেছে।



সম্প্রতি দেশজুড়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে তরুণদের লক্ষ্য করে মোদী পরপর দুটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ও শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে ধারণ করা ভিডিও দুটিতে তিনি তুলনামূলক অনানুষ্ঠানিক ভঙ্গিতে কথা বলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।



এর আগে ইনস্টাগ্রাম রিলে সর্বোচ্চ ভিউয়ের রেকর্ড ছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিডের দখলে। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের সদস্যদের সঙ্গে ধারণ করা একটি ভিডিও সেই রেকর্ড গড়েছিল।




ভারতে চলমান আন্দোলনের সূত্রপাত হয় নিট মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১২ মে তা বাতিল করা হয়। পরে আন্দোলনের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি), যা অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে কর্মসূচি পালন করে।



ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার (২৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


১০ কোটিরও বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা সত্ত্বেও মোদির এমন সেলফি-ধাঁচের রিল ভিডিও প্রকাশের ঘটনা খুবই বিরল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করতেই তিনি এই কৌশল নিয়েছেন। তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, শিক্ষার্থী আন্দোলনের চাপ সামলাতেই এই নতুন প্রচার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, ভিডিওটির রেকর্ডসংখ্যক ভিউ ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রভাব এবং রাজনৈতিক যোগাযোগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই সামনে এনেছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:২২ এএম

ভারতের বেঙ্গালুরুতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে এক মুসলিম দম্পতিকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


অভিযোগ, ওই চিকিৎসক দম্পতিকে ভারত থেকে একবার বিতাড়িত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন। তবে দম্পতির জাতীয়তা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য এখনো যাচাই করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নগেন্দ্রাপ্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়।



পুলিশ জানায়, বেঙ্গালুরুতে নিজস্ব ক্লিনিক পরিচালনা করেন ডা. নগেন্দ্রাপ্পা। বুধবার সকালে তিনি ২৩ বছর বয়সী নাসরিনা ও তার স্বামী মোহাম্মদ বিলালের পথরোধ করেন।



নাসরিনার অভিযোগ, প্রথমে তাদের জাতীয়তা নিয়ে হিন্দি ভাষায় গালিগালাজ করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এরপর তার স্বামী বিলালের ওপরও হামলা চালানো হয়। বিলালের মাথা ও পিঠে একাধিকবার আঘাত করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয়। এছাড়া ঘটনাটি পুলিশকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।



এ ঘটনায় বেঙ্গালুরুর বেলান্দুর থানায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মারধর, নারীর শ্লীলতাহানি, বেআইনিভাবে পথরোধ এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।


তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


গ্রেপ্তারের আগে ডা. নগেন্দ্রাপ্পা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাকে ওই দম্পতিকে ‘বাংলাদেশি’ বলে উল্লেখ করতে এবং তারা একবার ভারত থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আবার ফিরে এসেছে বলে দাবি করতে শোনা যায়।


অন্যদিকে, ভিডিওতে মোহাম্মদ বিলালকে কন্নড় ভাষায় বলতে শোনা যায়, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে বসবাস করছেন। একই ভিডিওতে চিকিৎসককে বিলালের গায়ে হাত তুলতেও দেখা যায়।


সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অভিযুক্ত ডা. নগেন্দ্রাপ্পা।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:১৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলিদের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন সহযোগীদের সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। যারাই যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে তারাই ইরানের বৈধ ও নিশ্চিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে দেশটি। 


এই সতর্কবার্তায় সুনির্দিষ্টভাবে যুক্তরাজ্য এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দেশের ওপর বিশেষ নজর রাখছে ইরান- এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 


ইরানের ইসলামী রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে  জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে যদি কোনো দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য বা সমর্থন করে, তবে সেই দেশকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হবে।


মোহেব্বি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি মার্কিন B-1 বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে। এই ধরনের সহযোগিতা বজায় থাকলে তারা ইরানের 'নিশ্চিত এবং বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হয়ে উঠবে বলে তিনি সতর্ক করেন।


আইআরজিসি দাবি করেছে যে, যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বা উত্তেজনা মোকাবিলা করার জন্য তারা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং কৌশলগত প্রস্তুতি তৈরি করে রেখেছে। 


এই বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, অঞ্চলটিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কতটা তীব্র এবং ইরান মূলত এই অঞ্চলে পশ্চিমা ও প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে এই প্রতিরোধমূলক অবস্থান নিয়েছে।


হোসেইন মোহেব্বি আরও বলেন, ‘প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য আমাদের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে।’


তবে আইআরজিসির এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩৯ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, ‘এবার এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে।’ 


দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।


শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পথে একটি বড় পদক্ষেপ।’ একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।



তিনি আরও লিখেছেন, ‘এখনও দুটি দাবি রয়েছে, যা পূরণ হয়নি। আর তা হলো- শিক্ষার্থী এবং ভারতের ভবিষ্যৎকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।



তিনি আরও যোগ করেন, ‘সমাজের অন্যান্য অংশ, যাদের এই সরকার দমন ও নিষ্পেষণ করেছে (কৃষক, শ্রমিক, দরিদ্র) তাদের এখন সংবিধানসম্মত উপায়ে সাহস নিয়ে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার সময়। এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে। ভয় পাবেন না!’


পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশের ঐক্য অটুট রাখা, শিক্ষার্থীদের আইনি জটিলতা থেকে দূরে রাখা এবং তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


এর আগে শুক্রবার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সংগঠনটি জানায়, সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একদিন সময় চেয়েছে।


অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর যন্তর-মন্তরের সমাবেশে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে ধন্যবাদ জানান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি বলেন, ‘তিনি আমাদের ‘তেলাপোকা’ না বললে এই আন্দোলনের জন্মই হতো না।’


গত মে মাসে এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ঘিরেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দেন, মন্তব্যটি বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়, ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গে করা হয়েছিল। তবে ততদিনে মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং তা আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়।


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ পিএম

প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের পর এবার পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্বখ্যাত ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রযুক্তিবিদ নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।


রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা জানান। সেখানে মোদি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কেন্দ্র সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। যারা পরীক্ষায় অনিয়ম করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।


আমরা ইতোমধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই সঙ্গে কঠোর আইনি বিধান সংযোজন করে নতুন আইন প্রণয়নের দিকেও এগোচ্ছি।


তবে ভবিষ্যতের দিকেও নজর দিতে হবে। আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর।


প্রধানমন্ত্রী জানান, নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সুপারিশ করবে এবং ভবিষ্যতের পরীক্ষাগুলোর স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।


এদিকে ভারতের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে টানা ৩৭ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।


সংগঠনটির দাবি, কেন্দ্র সরকার তাদের উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় ‘সদিচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেছে।


নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে বাকি দাবিগুলোও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের পর সরকার নিট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যাকারীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে।


সিজেপি জানিয়েছে, তারা শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্যে পাঁচ দফা প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। চার সপ্তাহ পর এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আরেক দফা বৈঠক হবে।


সংগঠনটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, তাদের মূল দাবিগুলো নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। তাই আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:২৩ পিএম

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে দুটি মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলেছে, গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে নাবলুস ও তুলকারেম এলাকার দুটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।


নাবলুস শহরের দক্ষিণে কুসরা শহরের মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, শহরের দক্ষিণাংশে নির্মাণাধীন একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।


আবদেল আজিম ওয়াদি জানান, আগুনে মসজিদের প্রবেশপথ পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নির্মাণকাজও। হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধ’ শব্দসহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে রেখে যায়।


ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একটি মসজিদে আগুন লাগার খবর পেয়ে সেনারা কুসরার উপকণ্ঠে যান। তবে তাঁদের পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে আগুন দেওয়ার আলামত এবং দেয়ালে লেখা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।


তুলকারেমের কাছে কুর গ্রামে আরেকটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগানও লিখে যায়।


গত শুক্রবার পশ্চিম তীরের তেল গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হন। এরপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাবলুস শহর ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে আটক করে। সেনাবাহিনীর দাবি, এটি ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’-এর অংশ।


গতকাল নাবলুস শহরে জ্বালানিসংকট দেখা দেয়। পেট্রলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায় বলে জানিয়েছে এএফপির একজন সংবাদদাতা।


২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তখন থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সশস্ত্র যোদ্ধারাও রয়েছেন।


অন্যদিকে ইসরায়েলের সরকারি তথ্য বলছে, একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলা অথবা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় অন্তত ৪৮ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।


পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস। একই এলাকায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বলে বিবেচিত বসতিগুলোতে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছে।