সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ০৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:০১ এএম

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। গতকাল শনিবার সরকারিভাবে দেওয়া সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য থেকে এমনটা জানা গেছে।


এদিকে ধ্বংসস্তূপে জীবিত ব্যক্তিদের খোঁজে অভিযান চালানো আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধীরে ধীরে তাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম গুটিয়ে আনতে শুরু করেছে। গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ওই জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। অনেকে এখন খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে দিন কাটাচ্ছেন।


ভেনেজুয়েলা সরকার গতকাল নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। বলেছে, এ পর্যন্ত নিহত মানুষের সংখ্যা ২ হাজার ৯৫৪–এ দাঁড়িয়েছে বলে তারা নিশ্চিত হতে পেরেছে। গত শুক্রবারের তুলনায় মৃতের সংখ্যা ৩০০–রও বেশি বেড়েছে।


এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলা সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করেনি। তবে জাতিসংঘের ধারণা, রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর প্রায় ৫০ হাজার মানুষের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।


লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরা। সেখানে বহু আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে।


মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে হওয়া এ দুই ভূমিকম্পের ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো এখন জীবিত ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান গুটিয়ে আনতে শুরু করেছে। অনেক পরিবার এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে সাধারণত জীবিত কাউকে উদ্ধারে ৭২ ঘণ্টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এরপরও ভেনেজুয়েলায় চলতি সপ্তাহে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।


উদ্ধার অভিযান শেষের দিকে, এমন ইঙ্গিত দিয়ে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর সদস্য ও উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত প্রশিক্ষিত কুকুরগুলোকে সম্মাননা পদক দেন।


রদ্রিগেজ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা এখন গভীর শোকের মধ্যে আছে। অনেক পরিবার এখনো তাদের স্বজনদের জীবিত খুঁজে পাওয়ার আশা ছাড়েনি। আবার অনেক মানুষ এ ভূমিকম্পে তাঁদের সব হারিয়েছেন।’


যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশসহ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল গতকাল বলেছে, তারা ধীরে ধীরে তাদের উদ্ধার অভিযান শেষ করছে।


যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দলও ভেনেজুয়েলায় উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছিল। তবে সর্বশেষ তল্লাশিতে আর কোনো জীবিত মানুষের সন্ধান না পাওয়ায় দলটি তাদের অভিযান শেষ করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়া থেকে আসা উদ্ধারকারী দলগুলোও সপ্তাহান্তে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।


ভেনেজুয়েলাবাসীর অনেকে অভিযোগ করেছেন, দুর্যোগের পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তাঁদের দাবি, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগপর্যন্ত পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন।


তবে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট সরকারের পদক্ষেপের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, দুর্যোগের পরপরই হাজার হাজার সেনাসদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তাকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে পাঠানো হয়েছে।


সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরায় গতকাল ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধসে পড়া ভবনগুলো ভাঙার কাজ শুরু হয়। তবে অনেক জায়গায় পরিবারের সদস্যরা এখনো স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন, যেন তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়।


উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক ফ্রান্সিসকো সাসকিয়া বলেন, ‘আমরা এখনো কাজ করে যাচ্ছি। এখনো মরদেহ খুঁজে বের করছি। কাজটা মোটেও সহজ নয়।’


এই স্বেচ্ছাসেবক আরও বলেন, ‘আজ আমরা দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছি। সেগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’


অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা


জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, যা দেশটির জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশের সমান।


তেল রপ্তানিকারক দেশ ভেনেজুয়েলা এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ছিল। এর ফলে দেশটির অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আগেই দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এ ভূমিকম্প আরও বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে।


ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ত্রাণবাহী বিমানের অবতরণের জন্য বিমানবন্দরটি আংশিকভাবে চালু করা হয়েছে। তবে এখনো বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ আছে।


দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংস্কারে সহায়তার জন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত হবে।


এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ভিক্টর কোলিভের্তের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাঁর ভাতিজার মরদেহের সৎকার করা। ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং তা একটি ব্যাগে রাখা হয়েছে। বিশৃঙ্খলার মধ্যে মরদেহটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁর পরিবার সেটি ফরেনসিক কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি।


ভিক্টর বলেন, ‘প্রয়োজনে আমাকে চীন বা যেখানেই যেতে হোক, আমি যাব। কিন্তু আমি ওকে একা রেখে কোথাও যাব না। আমি ওর সঙ্গেই থাকব।’



সর্বশেষ সব খবর

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫২ পিএম

ব্রিক্‌স সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে ভারতে গেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আজ শুক্রবার ভোরে দিল্লির পালাম বায়ুসেনা ঘাঁটিতে অবতরণ করে পুতিনের বিমান। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর সঙ্গে আসা প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ।


নয়াদিল্লির আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশ নেবেন পুতিন। তিনি বার্ষিক ব্রিকস বিজনেস ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন। এদিকে আগামীকাল শনিবার সম্মেলন শুরুর আগে আজ শুক্রবার তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেবেন। দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।


এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ভারতের সুপারসনিক ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন প্রকল্পসহ কৌশলগতভাবে নানা বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। 


এর আগে ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ২৬তম ‘শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ (এসসিও)-এর শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে পুতিনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল মোদির। সেই বৈঠকে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্রিক্‌সের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। 


বৈঠকের পর মোদি জানিয়েছিলেন, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিক্‌স শীর্ষ সম্মেলনে পুতিনকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছে ভারত।


অন্যদিকে আজ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে নরেন্দ্র মোদির।


নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ১৮তম ব্রিক্‌স সম্মেলন। চলবে রোববার পর্যন্ত। পুতিন ছাড়াও এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজশকিয়ানসহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। 


সম্মেলন শুরুর আগে আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্রিক্‌স নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আগামী কয়েকদিন বিশ্বের নানা প্রান্তের রাষ্ট্রপ্রধানেরা ব্রিক্‌স সম্মেলনের জন্য সমবেত হবেন। আমি আশাবাদী, এই সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইতিবাচক এবং অর্থপূর্ণ আলোচনা হবে। বিশ্বের কল্যাণের বিষয়টিও এখানে স্থান পাবে।’ 


খবর-এনডিটিভি 

সর্বশেষ সব খবর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম

সাত বছর পর বিক্রস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শি জিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। 


ধারণা করা হচ্ছে- এতে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি আসতে পারে।


১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর মোদির চীন সফরের পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে গতি আসে। চলতি মাসে কিরগিজস্তানে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও শি জিনপিংয়ের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎও হয়েছে।


চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, দুই নেতা মনে করেন- ভারত ও চীন ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’। পাশাপাশি দুই দেশ একে অপরের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ তৈরি করে বলে মনে করেন তারা।


ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামীও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, বিশ্বের দুই বৃহৎ উদীয়মান অর্থনীতি ভারত ও চীনের স্থিতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুই দেশের ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। এ সম্পর্ক এশিয়া ও বৃহত্তর বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।


সীমান্ত নিয়ে আলোচনা


মোদি-শি বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারে। নয়াদিল্লির অবস্থান হলো, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ছাড়া ভারত-চীন সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।


২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ভারত ও চীনের সেনাদের সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। পরে কাজানে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আবার শুরু করার বিষয়ে সমঝোতা হয়। 


পূর্ব লাদাখে সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে বিরোধের কিছু বিষয় সমাধানের পর দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোয়।


সীমান্তবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিদের দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের একটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার বিষয়েও তাদের কাজ করার কথা রয়েছে।


গত মাসে বেইজিংয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠকেও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের বৈঠকের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে আলোচনা হয়।


বাণিজ্য ঘাটতিও আলোচনায়


চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়লেও বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। শি জিনপিংয়ের সফরে বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে ভারত ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রেকর্ড ১৫১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে রেকর্ড ১১২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছর এই ঘাটতি ছিল ৯৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।


ভারত চীনের বাজারে নিজেদের পণ্যের জন্য আরও বেশি সুযোগ চায়। একই সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা এবং দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়েও জোর দিতে পারে নয়াদিল্লি।


চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনের সাংবাদিক হুয়াং ইউ বলেন, শির সফর দুই দেশের বাণিজ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তার ভাষ্য, বড় একটি চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শির সঙ্গে নয়াদিল্লিতে আসছে। চীনা কোম্পানিগুলো ব্রিকসের দেশগুলোতে ব্যবসার সুযোগ খুঁজছে।


সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের সম্পর্কে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। দুই দেশ সরাসরি বিমান চলাচল আবার শুরু করেছে। চীনা ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াও সহজ করেছে ভারত।


ছয় বছর বন্ধ থাকার পর এ বছর ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্যও আবার শুরু হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালে এই বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।


সিকিমের নাথুলা পাস দিয়েও ছয় বছর পর সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু হয়েছে। ঐতিহাসিক সিল্ক রোডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথ পুনরায় চালু হওয়াকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আরেকটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সূত্র: এনডিটিভি

সর্বশেষ সব খবর

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহবন্দিত্ব চাইলেন মাদুরোর স্ত্রী ফ্লোরেস

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০২ পিএম

হৃদরোগের অবনতির কথা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফেডারেল হেফাজত থেকে মুক্তি চেয়েছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস দে মাদুরো। 


বিচার শুরুর আগ পর্যন্ত তাকে ম্যানহাটনের একটি বাসায় গৃহবন্দি রাখার অনুমতি দিতে বিচারকের কাছে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


এর আগে বুধবার আদালতে দেওয়া আবেদনে ফ্লোরেসের আইনজীবীরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর ভেনেজুয়েলা থেকে তাকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। একই অভিযানে তার স্বামী ও ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকেও যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়।


আইনি আবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলা থেকে আটক হওয়ার আগে ফ্লোরেস শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং নিয়মিত কোনো ওষুধ গ্রহণ করতেন না। শুধু হৃদযন্ত্রের একটি ভালভের সমস্যা, মাইট্রাল ভালভ প্রোল্যাপস নিয়ন্ত্রণে মাসে একবার একটি ইনজেকশন নিতেন তিনি।


তবে বর্তমানে তার চার ধরনের ওষুধ প্রয়োজন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। সম্ভাব্য হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তিনি সবসময় নাইট্রোগ্লিসারিন সঙ্গে রাখছেন। চিকিৎসকেরা তার হৃদ্‌যন্ত্র পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


আইনজীবীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকার সময় গত ২৯ জুলাই ফ্লোরেসের ছোট ধরনের হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে বাইরের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করার পর তারা এমন আশঙ্কা করছেন। তার মাইট্রাল ভালভ প্রোল্যাপসের জন্য যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।


ফ্লোরেসের আইনজীবীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে আটক হওয়ার পর থেকে তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় মাসিক ইনজেকশনটি পাননি। এর পরিবর্তে তাকে বেবি অ্যাসপিরিন, স্ট্যাটিন, ডিলটিয়াজেম এবং বুকে ব্যথা হলে ব্যবহারের জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।


ভবিষ্যতে তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। আইনজীবীরা বলেছেন, এমন চিকিৎসা হলে সুস্থ হওয়ার জন্য ফ্লোরেসের পর্যাপ্ত সময় এবং উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন হবে। তবে আবেদনে ফ্লোরেসের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে যে চিকিৎসকরা তাকে ‘চমৎকার চিকিৎসা’ দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, একটি আটককেন্দ্রে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ পাওয়া কঠিন।


আইনজীবীরা ফ্লোরেসকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার থেকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের আওতাধীন একটি বাসায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন। আগামী জুনে ওই আদালত জেলাতেই ফ্লোরেস ও মাদুরোর বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।


গৃহবন্দিত্বের আওতায় ফ্লোরেসকে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র নজরদারিতে রাখা হবে। আদালত ও ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অনুমোদিত ব্যক্তিরাই তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। 


তার বাসায় ভিডিও নজরদারি এবং ফোনকল রেকর্ড করার ব্যবস্থাও থাকবে বলে আবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ফ্লোরেসের আবেদনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি বিচারক অ্যালভিন কে. হেলারস্টেইন।


৬৯ বছর বয়সী ফ্লোরেস এবং ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোকে গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে তাদের বাড়ি থেকে অপহরণ করে মার্কিন বাহিনী। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে করা মামলায় দুজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। 


ফ্লোরেস ২০১৩ সালে মাদুরো প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলার ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন করেন। 


এর আগে তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির (পিএসইউভি) গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন এবং চার বছরের বেশি সময় জাতীয় পরিষদের নেতৃত্ব দিয়েছেন।


মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারকারীদের পাঠানোর অভিযোগ করেছিলেন। মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনে সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।


সূত্র: আলজাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৭ পিএম

ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের পাভলোহরাদ শহরে একটি শপিং মলে রুশ ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬৭ জন। আহতদের মধ্যে আটজন শিশু। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় এ হামলা হয় বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। 


দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি বলেন, রাস্তায় যখন মানুষের ভিড় ছিল, তখন শপিং মলটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে দোকানপাট ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


আঞ্চলিক গভর্নর ওলেকসান্দর হানঝা জানান, হামলায় ৬৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আটজন শিশু। হামলার পর ঘটনাস্থলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। 


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শপিং মলের আশপাশে অবস্থান করা মানুষকে লক্ষ্য করে রুশ বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করেছে।


ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা এই হামলাকে রাশিয়ার ‘চাপ প্রয়োগের কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার অভিযোগ, বেসামরিক মানুষের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে ইউক্রেনের জনগণকে ক্লান্ত করে যুদ্ধ বন্ধে ছাড় দিতে বাধ্য করতে চায় রাশিয়া।


পাভলোহরাদ দনিপ্রো শহরের কাছের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও সরবরাহকেন্দ্র। 


এর আগেও শহরটিতে রুশ হামলা হয়েছে। গত মাসে শহরের কয়েকটি গুদামে হামলায় দুজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।


সম্প্রতি ইউক্রেনের আরও কয়েকটি শপিং মল রুশ হামলার লক্ষ্য হয়েছে। বুধবার সুমি শহরের একটি শপিং মলে রুশ হামলায় দুজন নিহত ও ২০ জন আহত হন বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সুমিতে রুশ বিমান হামলায় আরও আটজন আহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু।


সোমবার জাপোরিঝঝিয়া শহরের একটি শপিং মলও রুশ হামলায় প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে এর মালিকপক্ষ জানিয়েছে। তবে হামলার সময় সেটি বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


অন্যদিকে, রাশিয়াও ইউক্রেনের হামলায় হতাহতের কথা জানিয়েছে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, বুধবার রাতে সোচি শহরের উপকূলে ইউক্রেনের সমুদ্রপথে চালানো ড্রোন হামলায় ২৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন শিশু। 


সূত্র: বিবিসি

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ এএম

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সই হওয়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এখন নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এ কথা বলেছেন। 


তিনি বলেন, পরবর্তী ধাপে এই চুক্তির পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে গত ৭ আগস্ট সই করে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। চুক্তিটির লক্ষ্য হলো এই তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করে তোলা। 


চুক্তি অনুযায়ী, এই জোটের কোনো সদস্যদেশ হামলার শিকার হলে সব সদস্যদেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।


বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, মক্কা চুক্তি প্রাথমিকভাবে একটি প্রতিরক্ষা জোট। এর লক্ষ্য হলো প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তুলে প্রাথমিকভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আপাতত চুক্তির পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। প্রথমে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ককে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে হবে।


প্রাথমিক পর্যায়ের এ কাজ শেষে একই অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, এমন সব দেশের চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানান সাজ্জাদ হায়দার। তিনি বলেন, চুক্তির কাঠামোর আওতায় সদস্য তিন দেশ বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। চুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়ে পরবর্তী ধাপে এই তিন দেশ সিদ্ধান্ত নেবে। এ পর্যায়ে সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।


মক্কা চুক্তির সদস্যদেশগুলোর মধ্যে প্রথম বৈঠক গত ৩১ আগস্ট তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মুখপাত্র বলেন, পরবর্তী বৈঠকগুলো কবে হবে, সে বিষয়ে তথ্য ‘নিয়মিতভাবে জানানো হবে’। 


তবে ঠিক কবে এসব বৈঠক হবে, তা এখনো জানা যায়নি। সাজ্জাদ হায়দার বলেন, চুক্তি এখনো গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর কাঠামো, কার্যপ্রণালি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা হবে।


মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বলেন, বাংলাদেশের মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে চুক্তিভুক্ত সদস্যদেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর। তারা বাংলাদেশকে এ চুক্তিতে নেওয়ার বিষয়ে অভিপ্রায় প্রকাশ করলে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই এটাকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

সর্বশেষ সব খবর

চীনে বিদেশি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩২ এএম

চীনের পূর্বাঞ্চলের শিংদাও বন্দরে মেরামতকাজ চলার সময় বিদেশি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। জাহাজটিতে মোট ৪২ জন ছিলেন।


চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে শিংদাওয়ের একটি শিপইয়ার্ডে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘ওশান মেলোডি’ জাহাজটিতে আগুন লাগে।


আগুন লাগার পর জাহাজটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।


মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০ মিটার বা ৬২৩ ফুট দীর্ঘ জাহাজটি গত ৩১ আগস্ট শিংদাও বন্দরে পৌঁছেছিল। শিংদাও চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরগুলোর একটি।


অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাহাজ থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেলেও কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি।


মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্বিতীয় দফা ঝুঁকি বা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।


অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চলছে।

সর্বশেষ সব খবর