বাগদাদে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আব্বাস আরাঘচি ও ফুয়াদ হোসেন
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আগামী ৩০ দিন সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকই তেহরানকে এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। আজ রোববার বাগদাদে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আরাগচি বলেন, ‘ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি। এ ছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা চুক্তির অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করেছি।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালির সার্বিক দেখাশোনা ও ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ইরানের হাতেই থাকবে। এরপর সব বাধা দূর হলে এই জলপথ আগের মতো পুরোপুরি সচল হবে। আমরা এখন সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।’
আরাগচি বলেন, ‘এই দায়িত্ব পুরোপুরি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো পক্ষ বা দেশের কোনো ভূমিকা নেই। সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী বিষয়টি একদম পরিষ্কার। তাই কোনো হস্তক্ষেপ বা একতরফা পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। সেই সঙ্গে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার কাজও পিছিয়ে যাবে। তাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) উচিত সই করা এই সমঝোতা চুক্তি মেনে চলা এবং এটিকে কোনোভাবেই ভেস্তে না দেওয়া।’
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ রোববার ইরাকি নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার জন্য বাগদাদে পৌঁছান। এই আলোচনায় মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালি, ইরানের আটকে থাকা সম্পদ এবং সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া সমঝোতাগুলোর বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব পাচ্ছে।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ইরাক সফর করছেন আরাগচি। তেহরান ও ওয়াশিংটন যখন বৈরিতা কমানোর জন্য একটি ভঙ্গুর চুক্তি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে, তখনই এই সফর অনুষ্ঠিত হলো। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে এখনো মাঝেমধ্যে সামরিক হামলা চলছে, যা সার্বিক আলোচনাকে বেশ জটিল করে তুলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সই হওয়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এখন নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, পরবর্তী ধাপে এই চুক্তির পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে গত ৭ আগস্ট সই করে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। চুক্তিটির লক্ষ্য হলো এই তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করে তোলা।
চুক্তি অনুযায়ী, এই জোটের কোনো সদস্যদেশ হামলার শিকার হলে সব সদস্যদেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, মক্কা চুক্তি প্রাথমিকভাবে একটি প্রতিরক্ষা জোট। এর লক্ষ্য হলো প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তুলে প্রাথমিকভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আপাতত চুক্তির পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। প্রথমে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ককে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ের এ কাজ শেষে একই অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, এমন সব দেশের চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানান সাজ্জাদ হায়দার। তিনি বলেন, চুক্তির কাঠামোর আওতায় সদস্য তিন দেশ বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। চুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়ে পরবর্তী ধাপে এই তিন দেশ সিদ্ধান্ত নেবে। এ পর্যায়ে সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।
মক্কা চুক্তির সদস্যদেশগুলোর মধ্যে প্রথম বৈঠক গত ৩১ আগস্ট তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মুখপাত্র বলেন, পরবর্তী বৈঠকগুলো কবে হবে, সে বিষয়ে তথ্য ‘নিয়মিতভাবে জানানো হবে’।
তবে ঠিক কবে এসব বৈঠক হবে, তা এখনো জানা যায়নি। সাজ্জাদ হায়দার বলেন, চুক্তি এখনো গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর কাঠামো, কার্যপ্রণালি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বলেন, বাংলাদেশের মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে চুক্তিভুক্ত সদস্যদেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর। তারা বাংলাদেশকে এ চুক্তিতে নেওয়ার বিষয়ে অভিপ্রায় প্রকাশ করলে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই এটাকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
চীনে বিদেশি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন
চীনের পূর্বাঞ্চলের শিংদাও বন্দরে মেরামতকাজ চলার সময় বিদেশি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। জাহাজটিতে মোট ৪২ জন ছিলেন।
চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে শিংদাওয়ের একটি শিপইয়ার্ডে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘ওশান মেলোডি’ জাহাজটিতে আগুন লাগে।
আগুন লাগার পর জাহাজটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০ মিটার বা ৬২৩ ফুট দীর্ঘ জাহাজটি গত ৩১ আগস্ট শিংদাও বন্দরে পৌঁছেছিল। শিংদাও চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরগুলোর একটি।
অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাহাজ থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেলেও কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্বিতীয় দফা ঝুঁকি বা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চলছে।
১৩২ বছরের রেকর্ড খরা যুক্তরাষ্ট্রে
এবার তীব্র গরমের মধ্যে পুরো গ্রীষ্মকাল কাটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রবাসী। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছিল তাপপ্রবাহ। এতে দেখা দিয়েছে খরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) গতকাল বুধবার জানিয়েছে, গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এ তাপমাত্রা পুরো ২০ শতকের গড়ের চেয়ে ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি।
এর আগে ১৯৩৬ ও ২০২১ সালের গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এবারের গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা সেই রেকর্ডের চেয়েও শূন্য দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা শূন্য দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি।
আগস্ট ছিল পশ্চিম ইউরোপেরও সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মের একটি মাস। এবারের গরম সেখানে ২০০৩ সালের প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এনওএএ গত ১৩২ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আবহাওয়ার তথ্য সংরক্ষণ করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ সময়ের মধ্যে কোনো গ্রীষ্মকালে এবারের মতো এত বেশি তাপমাত্রা দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে গত আগস্ট ছিল সবচেয়ে উষ্ণ মাস। ওই মাসজুড়ে দেশটিতে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড তাপমাত্রা ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে। এনওএএর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পাঁচটি উষ্ণতম গ্রীষ্মের চারটিই ছিল গত পাঁচ বছরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাপমাত্রা বৃদ্ধিও সেই বৃহত্তর প্রবণতার অংশ।
১৯৩৬ সালের রেকর্ড তাপমাত্রার সময়ে গ্রেট প্লেইনস অঞ্চলে তীব্র গরম ও খরার সঙ্গে ক্ষতিকর কৃষিপদ্ধতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল।
অন্যদিকে, এবারের গ্রীষ্মকালজুড়ে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়া ক্রমেই তীব্রতর হয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের প্রায় ৫৯ শতাংশ এলাকা খরার কবলে ছিল। এক মাসের ব্যবধানে দেশটিতে খরাকবলিত এলাকার পরিমাণ ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গ্রেট প্লেইনস, মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
টেক্সাস ও ওকলাহোমায় গত আগস্টে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০ শতাংশেরও কম বৃষ্টি হয়েছে। তবে সব জায়গায় পরিস্থিতি একই রকমের শুষ্ক ছিল না। ইন্ডিয়ানা ও ওহাইওর মতো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গত আগস্টে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের প্রায় দ্বিগুণ।
যুক্তরাষ্ট্রে তাপপ্রবাহের তীব্রতা এখনই কমছে না। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, এল নিনো পরিস্থিতি আরও সক্রিয় আর শক্তিশালী হচ্ছে। এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর প্রভাব ২০২৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত থাকতে পারে।
ডব্লিউএমওর প্রধান সেলেস্তে সাওলো গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনকার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে, এটি আমাদের পর্যবেক্ষণ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে। অর্থাৎ চার দশক ধরে আমরা যে মাত্রা দিয়ে এটি পরিমাপ করে আসছি, এবার আক্ষরিক অর্থেই সেই মাত্রার বাইরে চলে যেতে পারে।’
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিস্থিতি। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বেশি বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যে এল নিনো পরিস্থিতি বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ডব্লিউএমও সতর্ক করে বলেছে, এখনকার এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যা দেখা দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি সেপ্টেম্বরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে এনওএএ। সংস্থাটি আরও জানায়, দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে খরা অব্যাহত থাকতে পারে কিংবা আরও তীব্র হতে পারে।
এনওএএ আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশকিছু অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের দাবানলের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
আগামী নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠাতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ‘অবিলম্বে’ ইরান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে আগ্রহী না হলেও আলোচনা ‘হতে পারে’।
সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা কেবল একটি পারমাণবিক অস্ত্র চায়, আর যদি তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকে, তবে পুরো বিশ্ব বিপদে পড়বে। আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে যাচ্ছি... আরও অনেক বিষয় এখন আলোচনার টেবিলে চলে আসবে, যা তিন মাস আগেও টেবিলে থাকত না।
তেহরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, সত্যি বলতে, আমরা এমন কিছু চাইছি না।
তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি; তাদের দেশ বলে এখন খুব সামান্যই বাকি আছে।
হ্যাঁ, একটি আলোচনা হয়ত হতে পারে। আমাদের নির্বাচনের ঠিক পরপরই এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।
ইসরায়েলের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতিগুলোর ওপর সম্প্রতি যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।
সূত্র: আল জাজিরা
ভারতের মাটিতে রাশিয়ার সামরিক বিমান
ভারতের নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো তিনটি রুশ সামরিক যুদ্ধবিমান অবতরণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) টাইমস নাউ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিমানগুলো বিমানবন্দরে পৌঁছায়, যার মধ্যে একটি আইএল-৭৬ সামরিক পরিবহন বিমান ছিল।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে রুশ সামরিক কর্মকর্তা ও একটি অগ্রবর্তী দলকে নিয়ে বিমানগুলো ভারতে পৌঁছায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত বিমান তিনটি নয়ডা বিমানবন্দরেই অবস্থান করছিল এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংস্থাগুলো রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সার্বিক ব্যবস্থার ওপর কড়া নজর রাখছে।
নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটিই প্রথম কোনো বিদেশি সামরিক বিমানের অবতরণ। এর আগে ভারতে আগত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও সামরিক বিমানের ক্ষেত্রে মূলত দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহৃত হতো। ফলে প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিমানও নয়ডায় নামতে পারে বলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে নয়ডা বিমানবন্দরে ভিভিআইপিদের যাতায়াত ঘিরে প্রস্তুতি ও তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: টাইমস নাউ
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদ বুধবার ভোট দিয়ে ইরানের পারমাণবিক ‘অমান্যতা’র কারণে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের যোগদানে, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের একটি সংঘাত শুরু করার পর থেকে আইএইএ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার পায়নি। ওই সংঘাতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলাও চালানো হয়েছিল। সবশেষ যুদ্ধেও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছে। এই যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এবং আইএইএ বারবার সেখানে প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
প্রস্তাবটির পক্ষে পড়ে ২৩ ভোট আর বিপক্ষে ৩ ভোট। ভোটদানে বিরত থাকে ৮টি দেশ। রাশিয়া, চীন ও নাইজার এর বিপক্ষে ভোট দেয়।
এতে আইএইএ’র মহাপরিচালককে ইরানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘প্রতিবেদন করার’ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি ইরানের পারমাণবিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থতার কারণে ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটিকে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর ঘটনা।
এই পদক্ষেপকে মূলত প্রতীকী হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ইরানের মিত্র চীন ও রাশিয়ার তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নিষেধাজ্ঞায় ভেটো দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ইরান এই প্রস্তাবের নিন্দা করেছে এবং বলেছে, এটি কোনো ফলাফল বয়ে আনবে না।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রাজনৈতিক চাপের অধীনে পাস হয়েছে এবং আমাদের দৃষ্টিতে এর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি এএফপিকেও বলেন যে প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ বিপরীত ফল বয়ে আনবে।’