• প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩১ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুরে যাত্রীবাহী বাস ও গরবোঝাই নসিমনের মুখোমুখি  সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছে। শনিবার ( ৮ আগষ্ট)  সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার বনপাড়া হাটিকুমরুল মহাসড়কের গুরুদাসপুর নয়াবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন, বড়াইগ্রাম উপজেলার পৌরসদরের লক্ষিকোল মহল্লার আব্দুর রহমান( ৭০), একই উপজেলার ধামানিয়া মহল্লার আক্কাছ আলী ( ৫৯) ও তাঁর আপন ছোট ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন ( ৪৭)। এঘটনায় আহত ৭ জন গুরুদাসপুর ওবড়াইগ্রাম হাসপাতাল চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 


পুলিশ জানায়, সকালে একটি গরুবাহী নসিমন বনপাড়া এলাকা থেকে চান্দাইকুনা হাটে যাচ্ছিল। পথে নয়াবাজার এলাকায় বিপরীত দিক ঢাকা থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই  নসিমনে থাকা গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান নিহত হোন।  অপর  দুইজন বড়াইগ্রাম ও রাজশাহী কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। 


এ ঘটনায় আহত বেশ কয়েকজন গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।


বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


এ দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।




সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৩ পিএম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ প্রকল্প বাস্তবায়নের এক মাস না যেতেই মারা গেছে প্রায় তিন শতাধিক গাছ। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে করা এ প্রকল্পের কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খাল খননের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খালের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু রোপণের পর সঠিকভাবে পরিচর্যা না করার কারণে অধিকাংশ চারা মারা গেছে। 


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার পুটিমারি ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত দেড় কিলোমিটার অংশে খাল খনন কাজ করা হয়। সেখানে খালের দুইপাশে ৭০০ তাল ও ১২০০ ফলজ গাছের চারা রোপণ করা হয়। সেখানে তালগাছের চারা রোপণ ও গাছের চারা ঘিরে রাখার জন্য চারা প্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০১ টাকা। ফলজ গাছের চারা প্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ টাকা। 



তবে  বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী রোপণ করা তাল গাছের চারা ৭০ টাকা এবং প্লাস্টিক নেট গার্ড যার বর্তমান বাজার মূল্য ২০০ টাকা । রোপণ করা ফলজ গাছের চারার বর্তমান বাজার মূল্য ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা। এতে তাল গাছের চারায় প্রায় ২০০ টাকা এবং ফলজ গাছে ১০ থেকে ২০ টাকা উদ্বৃত্ত দেখানো হয়েছে।  


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০১৮ - ২০১৯ অর্থ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ধাইজান নদীটি খনন করা হয়। খনন হওয়া নদীকে খাল দেখিয়ে ফের নামমাত্র খনন করা হয়েছে। এক মাস না যেতেই খালের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। খালের পাড়জুড়ে রোপণ করা দুপাশে সারি সারি প্রায় তিন শতাধিক তালের গাছের চারা মারা গেছে। কোথাও গাছের পাতা ঝরে গেছে, আবার কোথাও শুধু শুকনো ডালপালা পড়ে আছে। কয়েকটি স্থানে গাছের চারার গোড়ায় মাটি শক্ত হয়ে থাকলেও নিয়মিত পানি দেওয়ার কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও এর কোন সুফল মিলবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 


স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের উদ্যোগটি শুরুতে ভালো মনে হয়েছিল। কিন্তু গাছের চারা লাগানোর পর সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা করা হয়নি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক গাছের চারা মারা গেছে। এতে একদিকে যেমন সরকারের অর্থের অপচয় হয়েছে, অন্যদিকে পরিবেশের জন্য নেওয়া উদ্যোগও ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 


স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, শুরুতে খাল খননের কথা শুনে ভাবছিলাম এটি হলে এলাকার কৃষকদের সুবিধা হবে । কিন্তু সেখানে অনেক গাছ লাগানো হয়েছে সেগুলো মরে গেছে। তাছাড়া খাল খননের এক মাস না যেতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। 


আরেক বাসিন্দা খালেক উদ্দিন বলেন, এখানে নদীকে খাল দেখিয়ে খনন করা হয়েছে । খালের দুই পাশে গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে তবে সেগুলো এক মাস না যেতে প্রায় ৩০০ গাছ মরে গেছে। ভালো মানের চারা না লাগানোর কারণে অল্প সময়ে এগুলো মারা গেল । এখানে শুধু ঘিরে রাখা দেখা যাচ্ছে, ভিতরে চারা মরা । 


বাসিন্দা সামছুল হক বলেন, চারা অল্প টাকায় কেনার কারণে রোপণের কয়েক দিনের মধ্যে মরে গেছে । শুনেছি এক গাছে ৫০১ টাকা ব্যয় করা হয়েছে তবে এ টাকা আসলেই ব্যয় করলে গাছ ভালো থাকত । বরাদ্দ সঠিক ব্যবহার না করার কারণে এমন হয়েছে । 


এবিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ও পুটিমারি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প আমার নামে আছে আমি সভাপতি । ইউনিয়ন পরিষদ , উপজেলার মুকুল ভাই সহযোগিতায় আছেন। এছাড়াও মুকুল ভাই ২০০ তাল গাছের চারা ম্যানেজ করে দিয়েছে। সেখানে পরিচর্যার গাফিলতি আছে , মরা গাছগুলো নতুন করে লাগানো হবে। কোনো তাল গাছ ৪০ টাকা ,আবার কোনোটা ৮০ টাকায় কেনা হয়েছে।  


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. লতিফুর রহমান বলেন, সেখানে তালের ৭০০ গাছ লাগার কথা থাকলেও আমরা এক হাজার লাগিয়েছি । সেখানে যে গাছগুলো মারা গেছে সেগুলো নতুন করে লাগানোর জন্য বলা হয়েছে । 


এবিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান বলেন , বিষয়টি জানালেন সেখানে কোনো রকম অনিয়ম থাকলে সেটি খতিয়ে দেখা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০২ পিএম

শরীয়তপুরে জেলা মহিলা দলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও অসহায় মানুষের মাঝে চাল বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 


শরীয়তপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি আল আসমাউল হুসনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা কৃষক দলের সভাপতি হাজী বিএম হারুন অর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ডামুড্যা পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোশারেফ তালুকদার। 


কর্মসূচিতে এসময় উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি নুরজাহান বেগম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহানা হক মনি, নড়িয়া উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ বেগম, সহ-সভাপতি আছিয়া বেগম, নড়িয়া পৌরসভা মহিলা দলের আহবায়ক শাহনাজ বেগম, জাজিরা পৌরসভা মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক রেখা ইসলাম, শরীয়তপুর পৌরসভা মহিলা দলের সদস্য সালমা বেগম, গোসাইরহাট উপজেলা মহিলা দল নেত্রী রানী সহ জেলা, বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আল আসমাউল হুসনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী মোট ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করার এক বিশাল জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছের চারা লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা এই কর্মসূচী হাতে নিয়েছি। এটা অব্যাহত থাকবে। 

তিনি আরও বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মহিলা দলের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”


প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী বিএম হারুন অর রশিদ বলেন, “বৃক্ষ আমাদের জীবন ও পরিবেশ রক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান। তাই সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং গাছের পরিচর্যা করতে হবে। পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব। মানুষের কল্যাণে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো কাজ করে যাচ্ছে।”


পরে অতিথিরা শহীদ মিনার চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন এবং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করেন। কর্মসূচিতে স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০৮ পিএম

গাছ লাগিয়ে যত্ন করি, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ শিক্ষার্থীদের  মাঝে ১ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়। 


​রবিবার (৯ আগস্ট) নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া ডিগ্রি পাস ও অনার্স কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, নাটোর ১ , ( লালপুর - বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন।


মোহরকয়া ডিগ্রি পাস ও অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইসমত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মতবিনিময় ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন: লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মোঃ হারুন-অর রশিদ (পাপ্পু), গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবু, লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সহ - সভাপতি ও সাপ্তাহিক লালপুর বার্তার সম্পাদক আব্দুল মোতালেব রায়হান, যুগ্ম সম্পাদক ফজলুর রহমান, যুগ্ম সজিবুল ইসলাম হৃদয় দপ্তর সম্পাদক মিঠু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শিমুল আলী প্রমুখ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০৪ পিএম

ঝালকাঠির নলছিটিতে গাছের সঙ্গে গলায় কোমড়ের বেল্ট দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় বুলবুল হাওলাদার (৩২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।


রোববার (৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার ৬ নম্বর কুশংগল ইউনিয়নের ৫ নং পশ্চিম কুশাঙ্গল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম কুশাঙ্গল এলাকার নূর আলম হাওলাদারের বাড়ির দক্ষিণ পাশে কাঁচা রাস্তার পাশে একটি কাফুলা গাছের সঙ্গে গলায় কোমড়ের বেল্ট (দড়ি) দেওয়া অবস্থায় বুলবুলের গলায় অপর প্রান্তে কাফুলা গাছের ডালের সাথে বাঁধা অবস্থায় নিচে কাঁচা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।


আজ সকালে নূর আলম হাওলাদারের মেয়ে ইতি (১৮) প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় মরদেহটি দেখতে পান। পরে তিনি চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।


নিহত বুলবুল হাওলাদার একই এলাকার তৈয়ব আলী হাওলাদার ও পারুল বেগমের ছেলে। 


এ বিষয়ে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তৌহিদুজ্জামান সোহাগ জানান, খবর পেয়ে নলছিটি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সর্বশেষ সব খবর

পুলিশ-জনতার আস্থার বন্ধনে অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়

  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৫০ পিএম

“পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুর কোতোয়ালী থানায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ওপেন হাউস-ডে। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় কোতোয়ালি থানা কক্ষে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, পুলিশ সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।


উন্মুক্ত আলোচনায় এলাকার মাদক, অনলাইন জুয়া, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্বসহ বিভিন্ন সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা সমস্যার কথা তুলে ধরেন স্থানীয়রা। সভায় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মোকারম হোসেন, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম গুরু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. সুমন, ইন্সপেক্টর ইন্টেলিজেন্স মো. আব্দুর রাজ্জাক, এসআই মো. আরিফ হোসেন, এসআই মো. গোলাম মোস্তফা, এএসআই মো. শাকিল আহমেদসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা।


এ ছাড়া দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসু খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম, দিনাজপুর পৌর তাঁতীদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রেজাকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় কোতোয়ালি থানার এসআই, এএসআই, কনস্টেবল, গ্রাম পুলিশ এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের বাসিন্দাদের উপস্থিতি ছিল।


ওপেন হাউস-ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সাধারণ মানুষের সরাসরি বক্তব্যের সুযোগ। কোনো মধ্যস্থতা ছাড়াই স্থানীয়রা তাদের এলাকার সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন।

চেহেলগাজী ইউনিয়নের মাজাডাঙ্গা এলাকার এক বাসিন্দা বক্তব্যে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের দাবী জানান। তিনি বলেন, এলাকায় মাদক কেনাবেচা সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছে তথ্য থাকলেও তা কার্যকরভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছানো এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে জমি দখল নিয়ে বিরোধ, অসহায় মানুষের হয়রানি এবং পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বের বিষয়। ছোটখাটো বিরোধ যেন অযথা মামলা-মোকদ্দমায় গড়ায় না যায়, সে ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রাখার আহ্বান জানান তিনি।


ওই বাসিন্দা আরও বলেন, বর্তমানে মোবাইল ফোন ও অনলাইনভিত্তিক জুয়ার বিস্তার পরিবার ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে তারা মনে করছেন। এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধের উৎস শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্য এক বক্তা চেহেলগাজী ইউনিয়নের রানীগঞ্জ মোড় এলাকায় মাদকসংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরে মাদকসেবীদের পাশাপাশি মাদক সরবরাহ ও বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান। তবে বক্তব্যে উত্থাপিত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা এলাকার অভিযোগগুলো যাচাই করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


তিনি আরও বলেন, অপরাধের তথ্য দিতে গিয়ে স্থানীয় তথ্যদাতারা যেন কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসনের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জনগণকে পুলিশের সহযোগী হিসেবে কাজে লাগিয়ে অপরাধের তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। সভায় উপস্থিত অন্যান্য নাগরিক ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। মাদক, জুয়া, চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কা, সামাজিক বিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তারা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং দ্রুত প্রতিকারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয়দের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উত্থাপিত সমস্যাগুলো আইন ও বিধি অনুযায়ী যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সঠিক তথ্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’—এই দর্শনকে সামনে রেখে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওপেন হাউস-ডের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধের প্রকৃতি ও সমস্যাগুলো সরাসরি জানার সুযোগ সৃষ্টি হয়।


সভায় বক্তারা বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। মাদক, জুয়া, কিশোর অপরাধ, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিংসহ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ও পুলিশের জবাবদিহিমূলক সেবার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক আস্থা আরও শক্তিশালী করে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে ওপেন হাউস-ডের আলোচনা শেষ হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৩ পিএম

বৃদ্ধ বয়সে একটু স্বচ্ছলভাবে জীবন কাটাবেন, এই আশায় দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে কষ্ট করে তিলে তিলে টাকা জমিয়েছিলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুমাইটারী গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম। কিন্তু সেই সঞ্চয়ের ২ লাখ টাকা উইপোকা কেটে টুকরো-টুকরো করে ফেলেছে। জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে এখন দিশেহারা এই দম্পতি।


ক্ষতিগ্রস্ত তোফাজ্জল হোসেন ওই গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করে আসছেন তিনি। জীবিকার তাগিদে রিকশা চালিয়ে সংসার চালান তোফাজ্জল। তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমও ঢাকায় অন্যের বাসায় কাজ করতেন। কঠোর পরিশ্রম করে সংসারের খরচ মেটানোর পর যা কিছু অবশিষ্ট থাকত, সেখান থেকেই অল্প অল্প করে টাকা জমাতেন তারা।


স্বামী-স্ত্রীর এই দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের পেছনে ছিল একটি স্বপ্ন, বৃদ্ধ বয়সে যেন অন্যের কাছে হাত পাততে না হয়। ভবিষ্যতে গ্রামের বাড়িতে কিছু জমি বন্ধক নিয়ে চাষাবাদ কিংবা অন্য কোনো কাজে লাগিয়ে জীবনের শেষ সময়টা একটু স্বস্তিতে কাটাবেন। তাদের রয়েছে তিন কন্যাসন্তান। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা পরিকল্পনা ছিল এই দম্পতির।


সম্প্রতি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী। তাদের পরিকল্পনা ছিল দীর্ঘদিনের জমানো টাকা দিয়ে জমি বন্ধক নেওয়া। সেই উদ্দেশ্যে ঘরে রাখা সঞ্চয়ের বাক্সটি খুলে টাকা বের করতে যান তারা।


কিন্তু বাক্স খুলতেই তাদের চোখ কপালে ওঠে। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের প্রায় পুরো টাকাই উইপোকা কেটে নষ্ট করে ফেলেছে। কোথাও নোটের অংশবিশেষ, কোথাও আবার ছোট ছোট কাগজের টুকরো, এমন দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন তারা।


যে টাকা নিয়ে তারা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই টাকাই মুহূর্তে তাদের কাছে পরিণত হয়েছে মূল্যহীন কাগজের টুকরোয়। দীর্ঘ বছরের শ্রম, ঘাম ও ত্যাগের সঞ্চয় এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তোফাজ্জল হোসেনের মতো একজন শ্রমজীবী মানুষের জন্য ২ লাখ টাকা জমানো সহজ বিষয় নয়। ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনে রিকশা চালিয়ে উপার্জন করা অর্থ থেকে সংসারের খরচ চালিয়ে সামান্য সামান্য করে টাকা জমিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে তার স্ত্রীও গার্মেন্টসে শ্রম দিয়ে সংসারের সচ্ছলতার জন্য অবদান রেখেছেন।

সর্বশেষ সব খবর