• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ পিএম

ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, লুটপাট, ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন নলছিটি উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 


আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঝালকাঠির নলছিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। সংবাদ সম্মেলনে নলাছটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান হেলাল, জেলা বিএনপির আহ্বাক কমিটির সদস্য এনায়েত করিম মিশু, পৌর বিএনপির সহসভাপতি সরোয়ার হোসেন তালুকদার ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদ আলম মান্নাসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান জেলা বিএনপির আহ্বাক কমিটির সদস্য ও নলছিটি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এনায়েত করিম মিশু। 


লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, নলছিটি পৌরসভা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকে বর্তমানে দুর্নীতির আতুরঘরে পরিনত হয়েছে। ২০১৭-১৮ ও ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত হাতে পাওয়া বিভিন্ন নথিপত্রে মিলেছে লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র। 


গত এক দশকে রাজস্ব ও উন্নয়ন বরাদ্দসহ বিভিন্ন খাতে অন্তত ৩০ কোটি টাকার বেশি অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। এই লুটপাটের প্রধান হোতো পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামান। 


সম্প্রতি নলছিটি পৌরসভার সিটিসিআরপি প্রকল্পের আওতায় চারটি সড়ক নির্মাণে ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যায় ধরে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দরপত্র আহ্বান করে পৌর কর্তৃপক্ষ। সর্বনিম্ম দরদাতা হিসেবে কাজ পায় ইউনুস ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছেন পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এনায়েত করিম মিশু। তাঁর সঙ্গে আরো কয়েকজন এ কাজে যুক্ত আছেন। নিয়মানুযায়ী দরপত্র আহ্বানের ৯০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে সর্বনিম্ম দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার। কিন্তু ৬ মাস অতিবাহিত হলেও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। মূলত ইভ্যালুয়েশন, রি-ইভ্যালুয়েশনের নামে এই কালক্ষেপন করছেন সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামান। যাতে তার কমিশনের টাকা দর কষাকষি করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে পারেন। কিন্তু তাঁর এই কমিশন বা ঘুষ বাণিজ্যের কারনে বাকি ঠিকাদাররা পে-অর্ডার জমা দিয়ে এখন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় ভুয়া হুমকির অভিযোগ তুলে গত রবিবার বরিশাল কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন আমাদের বিরুদ্ধে। 


সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামানকে অপসারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এছাড়াও তিনি যে জিডি করেছেন, তা নিজেই প্রত্যাহার না করলে নলছিটি পৌরবাসীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলন করা হবে বলেও জানান বক্তারা। নলছিটি পৌরসভাকে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের ঊধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। 


এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নলছিটি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামান বলেন, আমাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় থানায় জিডি করার পরে তাঁরা কয়েকজনে মিলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।



সর্বশেষ সব খবর

ইউএনও এর কার্যালয়ে ভাঙ্গচুর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ পিএম

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় বিক্ষোভকারীরা।


​একই সময় অনিয়ম ও ভাঙচুরের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক আমার সংবাদ ও দৈনিক গনকন্ঠের গাইবান্ধা মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার এর জেলা প্রতিনিধি এবং ফুলছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান তুহিন।


​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কয়েকজন প্রার্থী ও স্থানীয় অধিবাসী সহ সরকার দলীয় নেতা কর্মিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এনে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং কার্যালয়ের ভেতরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালায়।


​ঘটনার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান তুহিন ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। এমন সময় হঠাৎ যুবদল ও ছাত্রদলের বেশ কিছু নেতা কর্মী তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আক্রমণ করে।


​নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


​খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 


সাংবাদিকের ওপর হামলা ও সরকারি কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোড় দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ।​ তদন্তের মাধ্যমেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সততা নিশ্চিত হওয়া এবং এই অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করছে স্থানীয় সচেতন মহল।

সর্বশেষ সব খবর

কোম্পানীগঞ্জ থানা, নোয়াখালী

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৪ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযোগ তদন্তে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ স্কুল রোড এলাকার হাবা সফিদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ, কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ মহিনউদ্দিন, পুলিশ কনস্টেবল মো.ইছাক, মো.ইউছুফ ও শাহাদাত হোসেন।  


পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দারুল ইহছান মাদরাসার চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার একই এলাকার মানিক মিয়াসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৯-১০ জনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ করেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ১টার দিকে অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ, এসআই আরিফ মহিউদ্দিনসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তদন্ত শেষে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার সময় অভিযোগকারী পক্ষ ফোন করে জানায়, বিবাদীরা নির্মাণাধীন ভবনের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করছেন। পরে পুলিশ সদস্যরা পুনরায় সেখানে গিয়ে ভাঙচুরের কারণ জানতে চাইলে বিবাদীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে পুলিশ সদস্যকে জখম করা হয়।


পরে হামলায় জড়িত সন্দেহে ছেমনা খাতুন, বিয়াধুনি, মনোয়ারা, আয়েশা, অজি উল্লা, আবু সুফিয়ান ও বোবা জাবেরকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ সদস্যরাও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের স্বজন মো. বাবুল দাবি করেন, পুলিশ বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে আমার শার্টের কলার ধরে। এরপর বাড়ির নারীদের মারধর করে। এরপর নারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে সড়কে থাকা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে দুজন পুলিশের হাতে হালকা আঘাত লাগে।  


পুলিশের ভাষ্য, মাদরাসার নির্মাণাধীন ভবনের জায়গাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। বিবাদী পক্ষ জায়গাটিতে মৌরসী স্বত্ব দাবি করে নোয়াখালীর দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছে। অপরদিকে, অভিযোগকারী পক্ষ জায়গাটি ক্রয়সূত্রে মালিক বলে দাবি করছে।


কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ বলেন, তদন্তে গিয়ে আমিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাৎক্ষণিক নারীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার পর দারুল ইহছান মাদরাসার চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ পিএম

  • এক বছরে ৩৮১ কোটি ৮২ লাখ টাকার রাজস্ব, সম্পাদন ৯৬ হাজার ৫৮৮টি দলিল;
  • সেবায় ফিরেছে স্বস্তি, নেই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ


একসময় যেখানে দলিল করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, সেখানেই এখন সেবাগ্রহিতাদের জন্য রয়েছে বসার ব্যবস্থা, উন্নত পরিবেশ ও মানসম্মত টয়লেট সুবিধা। শুধু সেবার মানোন্নয়নই নয়, বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়েও সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। 


বিগত অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অফিসটি ৩৮১ কোটি ৮২ লাখ ৫৫ হাজার ৩৪১ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। এ সময়ে সম্পাদন করা হয়েছে ৯৬ হাজার ৫৮৮টি দলিল।


সেবার মানে পরিবর্তন, কমেছে ভোগান্তি


দলিল সম্পাদন করতে আসা সেবাগ্রহিতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় অফিসের সামগ্রিক পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে সেবা নেওয়ার পরিবর্তে বর্তমানে অফিসে সেবাগ্রহিতাদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে।


একজন সেবাগ্রহিতা বলেন, আগে দলিল করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। বর্তমানে অফিসের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো হয়েছে এবং বসার ব্যবস্থা থাকায় অপেক্ষা করতেও স্বস্তি পাওয়া যায়।


অফিসের স্যানিটেশন ব্যবস্থাতেও এসেছে পরিবর্তন। আগে পর্যাপ্ত টয়লেট সুবিধা না থাকলেও বর্তমানে সেবাগ্রহিতাদের জন্য মানসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


সরকারি ফি’র বাইরে দিতে হয়নি অতিরিক্ত টাকা


অফিসে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে এক সেবাগ্রহিতা জানান, সরকারি ফি ছাড়া তাকে একটি টাকাও অতিরিক্ত দিতে হয়নি।


সেবাগ্রহীতাদের এমন বক্তব্য অফিসের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ঘুষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান


অফিসের সেবার বিষয়ে ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, তিনি নিরলসভাবে মানুষকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কোনো সেবাগ্রহিতার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হলে সরাসরি তাকে জানানোর জন্য প্রতিদিন মাইকিং করে নির্দেশনা দেওয়া হয়।


সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, “আমি নিরলসভাবে মানুষকে সেবা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিদিনই মাইকে বলে দিই-কেউ যদি কোনো ধরনের অতিরিক্ত টাকা দাবি করে, সরাসরি আমাকে জানাতে। আমার অফিসে কোনো ধরনের ঘুষের লেনদেন বরদাশত করা হবে না।”


রাজস্ব আদায়েও বড় সাফল্য


সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়েও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ৩৮১ কোটি ৮২ লাখ ৫৫ হাজার ৩৪১ টাকা রাজস্ব আদায় এবং ৯৬ হাজার ৫৮৮টি দলিল সম্পাদনের তথ্য অফিসটির কার্যক্রমের ব্যাপকতারই চিত্র তুলে ধরে।


সেবা সহজীকরণ, অফিসের পরিবেশ উন্নয়ন, সেবাগ্রহিতাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রমে সেবাগ্রহিতাদের সন্তুষ্টি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সেবা নিতে আসা ব্যক্তিরা।

সর্বশেষ সব খবর

পঞ্চগড়ে লাইসেন্সবিহীন প্যাথলজি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৫০ পিএম

পঞ্চগড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স না নিয়ে লিভার পরীক্ষার ভূয়া রিপোর্ট দিয়ে প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে লিভার পরীক্ষা করতে আসা রোগী প্রতারনার শিকার হয়ে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে ক্ষোভে ফুসছেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে আসা রোগীরা সেই সাথে স্থানীয়রা প্যাথলজি বন্ধের দাবী জানিয়েছে। 


এ দিকে স্বাস্থ্য বিভাগ অভিযোগ পেয়ে প্যাথলজিটির বিরূদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনাটি পঞ্চগড় জেলা শহরের পঞ্চগড়- তেঁতুলিয়া মহাসড়কের আনোয়ার প্লাজার মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে সাইদুজ্জামান রেজা নামে রোগীর লিভার পরীক্ষার ভূয়া রিপোর্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গত ০৯ আগস্ট রোববার লিভার রোগে আক্রান্ত রোগী সাইদুজ্জামান রেজা লিভার পরীক্ষা করেন পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে সেখানে তার লিভার এসজিপিটি পরীক্ষায় ১২৭ ইউএল সনাক্ত হয়। লিভারের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চিকৎসকের পরামর্শে আবারও এসজিপিটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। 


ওই দিনই সাইদুজ্জামান রেজা (৪৪) মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে এসজিপিটি পরীক্ষার জন্য রক্ত দিয়ে আবারও পরীক্ষা করান সেখানে এসজিপিটি রিপোর্টে মাত্র ২৬.৭ ইউএল পাওয়া যায়। এতে সাইদুজ্জামান রেজা ডায়াবেটিক হাসপাতালে এসজিপিটি রিপোর্টের সাথে মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের রিপোর্টে ব্যবধান অনেক বেশি হওয়ায় মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ হয়। 


পরে তার লিভারের সঠিক অবস্থা জানতে আবারও চিকিৎসকের পরামর্শ নেন এ সময় চিকিৎসক আবারও এসজিপিটি পরীক্ষার পরামর্শে পরদিন গতকাল ১০ আগস্ট সোমবার সঠিক পরীক্ষার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তৃতীয়বারের মত এসজিপিটি পরীক্ষা করান আধুনিক সদর হাসপাতালের এসজিপিটি পরীক্ষার রিপোর্টে ১২১ ইউএল পাওয়া যায়। এ নিয়ে তার সাথে প্রতারনা হয়েছে মর্মে সাইদুজ্জামান রেজা আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন বরাবর মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরূদ্ধে প্রতারনার অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দেন।




এ বিষয়ে মুঠোফোনে মেডিকেয়ার সেন্টারের পরিচালক সৈয়দা নাসরিন মিনুর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে সাংবাদিকের কন্ঠ শুনে উত্তেজিত হয়ে যায়। এ সময় বিচারপতি মনসুর এবং স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের আত্নীয় বলে পরিচয় দেন। সেই সাথে সাংবাদিকদের বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন পরে তিনি জানান আমার ডায়াগনেস্টিকের দেওয়া রিপোর্টে কোন ভূল নেই বলে দাবী করেন।


এদিকে সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে দেখা গেছে লিভার প্রদাহ সনাক্তের জন্য ফুল অটোমেটিক এবং সেমি অটো মেশিন ব্যবহার করা হয় এক্ষেত্রে মেডিকেয়ার সেন্টারে এখনো পুরোনো সেমি অটো মেশিনে দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই সাথে লিভার রোগী সাইদুজ্জামানের ডায়াবেটিক সমিতি এবং মেডিকেয়ার সেন্টারে কর্মরত টেকনোলজিস্ট একই ব্যাক্তি আবুল বাশার। তিনি একজন ডিপ্লোমাধারী টেকনোলজিস্ট। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে একই টেকনোলজিস্ট কেন একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে দুই ধরনের রিপোর্ট দিবেন? 


জানা গেছে আবুল বাশারের টেকনোলজিস্ট রিপোর্ট নিয়ে চলতি বছরেই নানা গড়মিলের অভিযোগ উঠেছিল এ নিয়ে পঞ্চগড় মকবুলার ডায়াবেটিক সমিতি থেকে সাময়িক বহিস্কার হয়। বর্তমানে পঞ্চগড়ের ক্লিনিক ডায়াগনেস্টিক জগতে একক আধিপত্য বিস্তার করছে আবুল বাশার।


পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরূদ্ধে প্রতারনার অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অভিযোগকারী লিভারের রোগীর পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সহ তিন প্রতিষ্ঠানে এসজিপিটি পরীক্ষায় মেডিকেয়ার সেন্টারের এসজিপিটি পরীক্ষা রিপোর্টটি অসামঞ্জস্য মনে করছি।

সর্বশেষ সব খবর

সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩৩ পিএম

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী পারভিন আক্তার এবার এমপির তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন। 


মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, অসুস্থ নাছির চৌধুরীকে গলায় দা লাগিয়ে বাড়িসহ সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি করেছেন সৎ ভাইরা।


পারভিন আক্তারের পক্ষে আদালতে মামলার আবেদন করেন আইনজীবী কাওছার আলম। আমল গ্রহণকারী দিরাই আদালতের বিচারক মো. জসিম এই মামলা গ্রহণ করে আদেশে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


মামলার আরজিতে দিরাই উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকসহ নাছির চৌধুরীর তিন সৎ ভাইকে বিবাদী করা হয়েছে। বিবাদীরা হলেন- নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। অন্য বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপনের নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম ও দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে মোহরার মমতাজ বেগম।


মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে বাদী পারভিন আক্তার নাছির উদ্দিন চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে মারপিট ও শ্লীলতাহানির শিকার হন। 


এতে আরও বলা হয়, বিবাদীরা নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িসহ সম্পত্তি থেকে তাঁর দুই স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চিত করে সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য আগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।


আরজিতে আরও বলা হয়, নাছির উদ্দিন চৌধুরীর প্রথম স্ত্রী শেলী চৌধুরী অসুস্থ হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন তখন। একই সময়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীও দিরাইয়ের বাড়িতে অসুস্থ ছিলেন। ওই সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে দাতা সাজিয়ে বিবাদীরা গ্রহীতা হয়ে বাড়িসহ অন্য ভূমি থেকে বাদীর দুই কন্যা, অন্য স্ত্রী ও নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বোনকে বঞ্চিত করে দলিল তৈরি করার পরিকল্পনা নেয়।


এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই এসআরও অফিসের দুই কর্মচারীকে অফিসার সাজিয়ে অসুস্থ, অক্ষম নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে দলিলে স্বাক্ষর করতে বললে তিনি অসম্মতি জানান। পরে তাঁরা গলায় রামদা ধরে স্বাক্ষর না করলে গলা কেটে খুন করবে বলে ভয় দেখায়। কথাবার্তা শুনে তাঁর অন্য স্ত্রী শেলী চৌধুরী এসে বাধা দিলে আসামি মিজানুর রহমান চৌধুরী তাঁকেও খুন করার হুমকি দেয়। 


এ সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর টঙ্গর এলাকার সমর্থক ওয়াকিব হাসান তখন ওই বাড়িতে তাঁকে দেখতে আসেন এবং ঘটনাটি দেখেন। মঈন উদ্দিন চৌধুরীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওয়াকিবকে তাড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে নাছির উদ্দিনের মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য আসামিরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করতে থাকে। পরে নাছির উদ্দিন চৌধুরী সুস্থ হয়ে এসব বিষয় জানিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।

মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, বিবাদীদের এমন আচরণের কথা জেনে এলাকায় জনরোষ তৈরি হলে তাঁরা ক্ষমা প্রার্থনা করে দলিল বাতিল করার অঙ্গিকার করেন। এ কারণে তাদের আদালতের আশ্রয় নিতে বিলম্ব হয়েছে।


পারভিন আক্তার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা জোর করে কিছু করতে চাই না। আইন হাতেও তুলতে চাই না। এ জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।’


বিবাদী মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক সমকালকে বলেন, ‘মামলা কী হয়েছে জানি না। জানার পর আইনিভাবেই জবাব দিব।’

সর্বশেষ সব খবর

সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০১ পিএম

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির প্রবীণ নেতা মরহুম ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যু বার্ষিকী ১১ আগষ্ট। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, জনসম্পৃক্ততা এবং এলাকার উন্নয়নে অবদান লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষের কাছে আজও স্মরণীয়। চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি শুধু নিজের রাজনৈতিক অবস্থানই সুদৃঢ় করেননি, নাটোর জেলার প্রথম মন্ত্রী হওয়ার গৌরবও অর্জন করেছিলেন।


আজ ১১ আগস্ট তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৬ সালের এই দিনে কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার রবীন্দ্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে লালপুর-বাগাতিপাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। মৃত্যুর এক দশক পরও রাজনৈতিক সহকর্মী, কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে তিনি অম্লান।


শৈশব ও পারিবারিক জীবন 


ফজলুর রহমান পটল ১৯৪৯ সালের ২৪ এপ্রিল নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম আরশাদ আলী, মা ফজিলাতুন নেছা। পাঁচ ভাই ও এক বোনের পরিবারে তিনি ছিলেন সবার বড়। পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন ছিলেন তাঁর চাচা।


১৯৮৪ সালের ১৪ মে কামরুন্নাহার শিরিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফজলুর রহমান পটল। কামরুন্নাহার শিরিন পরবর্তীতে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে।


বড় ছেলে ইয়াসির আরশাদ রাজন একজন চিকিৎসক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি এবং লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। ছোট ছেলে ইস্তেখার আরশাদ প্রতীক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বড় মেয়ে ফারহানা শারমিন কাকন গৃহিণী। ছোট মেয়ে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল নাটোর ১ ( লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।


শিক্ষাজীবন ও ছাত্ররাজনীতি


লালপুর উপজেলার ২ নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ফজলুর রহমান পটল গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে পাবনার রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৬৭ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন।


এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে তিনি দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন।


১৯৭৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান পটল। ছাত্রজীবনের এই নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাঁর জাতীয় রাজনীতির পথকে আরও সুগম করে।


বিএনপির রাজনীতিতে পথচলা


১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে যুক্ত হন ফজলুর রহমান পটল। এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন বিএনপির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।


পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেন। দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকা লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষের সঙ্গেও তাঁর ছিল নিবিড় যোগাযোগ।


চারবার সংসদ সদস্য, জেলার প্রথম মন্ত্রী


নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চার মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান পটল। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি ছিল জাতীয় সংসদে বারবার নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা।


১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের শাসনামলে তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি নাটোর জেলার প্রথম মন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।


২০০১ সালের ১ অক্টোবরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চারদলীয় জোট সরকার গঠিত হলে ফজলুর রহমান পটল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ এলাকার উন্নয়নেও তিনি ভূমিকা রাখেন।


উন্নয়নে তাঁর অবদান


যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে আজিমনগর রেলস্টেশন ভবন , লালপুরে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্টেডিয়াম, রাস্তাঘাট, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।


স্থানীয় মানুষের কাছে তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্মৃতির মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং যোগাযোগব্যবস্থার প্রসারে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।

রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার শিক্ষা, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কথাও এখনও স্মরণ করেন তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীরা।


শেষ অধ্যায়


২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ফজলুর রহমান পটল। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রার্থী আবু তালহার কাছে তিনি পরাজিত হন।


এরপর জীবনের শেষ সময়ে তিনি কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট রবীন্দ্র হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে লালপুর-বাগাতিপাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।


স্মৃতিতে পটল 


রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু একজন নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনকে মূল্যায়ন করতে গেলে তাঁর কর্ম, নেতৃত্ব, জনসম্পৃক্ততা এবং এলাকার মানুষের জন্য রেখে যাওয়া অবদান সামনে আসে। সেই বিচারে ফজলুর রহমান পটলের রাজনৈতিক জীবন ছিল ঘটনাবহুল ও বর্ণাঢ্য।

সর্বশেষ সব খবর