টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার এক নারীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, প্রতারণা, মালামাল আটকে রাখা এবং হুমকির অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সোনিয়া আক্তার নামে ওই নারী।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের বটতলায় প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি। সোনিয়া আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পশ্চিমপাড়া এলাকার নজরুল মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী শাহিন মিয়া দেলদুয়ার উপজেলার চণ্ডী ইউনিয়নের পাথরাইল এলাকার ছানোয়ার হোসেনের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে সোনিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী,শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামীর বোনসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, শ্বশুরবাড়িতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল রয়েছে। এর মধ্যে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ ব্যক্তিগত সামগ্রীর মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার অর্থ ও মালামাল সেখানে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দেনমোহর নিয়েও প্রতারণার অভিযোগ করেন সোনিয়া। তার দাবি, বিয়ের সময় দেনমোহর ৩ লাখ টাকা নির্ধারণের কথা থাকলেও পরবর্তীতে কাবিননামা হাতে পাওয়ার পর সেখানে ৩০ হাজার টাকা লেখা দেখতে পান। কাজি ও স্বামীর পরিবারের লোকজনের যোগসাজশে দেনমোহরের পরিমাণ কম দেখিয়ে তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া তার স্বামী বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে গালিগালাজ ও মারধর করা হতো বলে দাবি করেন সোনিয়া। পরে স্বামীর পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোনিয়া আক্তার জানান, এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তার দাবি। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সোনিয়া আক্তার বলেন,আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরে ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা চাই।
এদিকে সোনিয়া আক্তারের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার স্বামী শাহিন মিয়া। তিনি দাবি করেন, মুঠোফোনে কথা বলার একপর্যায়ে সোনিয়াকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, সোনিয়ার এর আগে আরও তিনটি বিয়ে হয়েছিল।
শাহিন মিয়া বলেন,আমরা তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করিনি। সে আমাকে না জানিয়েই নিজে বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে আমি তাকে ডিভোর্স দিয়েছি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাদ্দাম হোসেন হলের একই কক্ষে থাকা তিন বন্ধুই বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তারা সবাই আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এবার ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় দুজন এবং এর আগে ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় একজন সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএসসি) সচিবালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে এ ফল প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে কমিশনের ওয়েবসাইটেও ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সহকারী জজ পদে ২০০ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে সুপারিশপ্রাপ্ত দুই বন্ধু হলেন, আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাকির আলম ও আনোয়ার হোসাইন। এর আগে, ১৬তম বিজেএসে সুপারিশপ্রাপ্ত আইর হোসাইনও একই বিভাগ ও শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনজনই সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে থাকতেন বলে জানা গেছে।
সুপারিশপ্রাপ্ত সিভিল জজ শাকির আলম বলেন, ‘প্রথমেই মহান আল্লাহ তা'আলার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা যে, তিনি আমাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। টানা ২ বার ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল ছাড়িনি। তৃতীয়বারের চেষ্টায় উত্তীর্ণ হয়েছি। কুরআনের সেই আয়াত মনে পড়ে যায় যে, শিগ্গিরই তোমার রব তোমাকে এত বেশি দিবেন যে, তুমি খুশি হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল একদিন বিচারক হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। পরিবার ও সমাজের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতে অবদান আছে। পাশাপাশি উৎসাহিত হয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড়ো ভাই-আপুদের সুপারিশপ্রাপ্ত হতে দেখে। আমার সবচেয়ে বড় ভালো লাগা সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর রুম থেকে আমরা তিনজনই জজ হয়েছি।’
কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত সন্দেহে আটকের পর সদর দক্ষিণ মডেল থানা প্রাঙ্গণে স্বজনদের অপেক্ষা
১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। জেলার ১৮টি থানা পুলিশ একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। এ পর্যন্ত ৬২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার পর পুলিশ একযোগে অভিযান শুরু করে, চলে রাত দেড়টা পর্যন্ত। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও আছে। তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সের কিশোরদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। যেসব এলাকায় ‘বখাটেদের’ উৎপাত এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আটক কিশোরদের আগের কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা যাচাই করেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭৫ জন, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ৪৬, বুড়িচং থানায় ৫০, মনোহরগঞ্জ থানায় ৪১, দাউদকান্দি থানায় ৫৯ ও লাকসাম থানায় ৩৫ জন আছে। অন্য থানায় আটক ব্যক্তিদের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ারের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা শিক্ষার্থী, সেটিও দেখা হচ্ছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পেলে তাদের আজ বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে। অন্যদের সতর্ক করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হতে পারে।
থানায় অভিভাবকদের ভিড়
অভিযান শুরুর পর গতকাল রাত আটটা থেকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা, সদর দক্ষিণ মডেল থানাসহ বিভিন্ন থানার সামনে অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। কিশোরদের আটকের খবর পেয়ে থানায় ছুটে আসেন তাঁরা। গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের অনেকে থানার বাইরে অপেক্ষা করেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে নগরের ঈদগাহ মাঠ থেকে আটক করা হয়। সেখানে আটক ব্যক্তিদের একজন নগরের একটি পরিচিত বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা প্রবাসে থাকেন। মা পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে নগরের নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকায় থাকেন। ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে তিনি থানায় ছুটে আসেন।
ওই নারী বলেন, ‘আমার ছেলে সন্ধ্যার পর প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল। রাত সাড়ে নয়টার দিকে খবর পাই, তাকে থানায় আটক করা হয়েছে। পরে ছেলের স্কুলের পরিচয়পত্র নিয়ে এসেছি। পুলিশ বলেছে, কোনো অপরাধ না করলে যাচাই করে ছেড়ে দেবে। তারা কয়েকজন নাকি সেখানে আড্ডা দিচ্ছিল। এখন থেকে ছেলের দিকে বাড়তি খেয়াল রাখব। কারণ, আমি চাই না আমার ছেলেটা নষ্ট হয়ে যাক।’
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা এলাকায় আটক কিশোরদের বেশির ভাগকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশ ও কোটবাড়ি এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও আছে। তার বাবা কোটবাড়ি এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে ওই ব্যক্তি মধ্যরাত পর্যন্ত সদর দক্ষিণ থানার সামনে অপেক্ষা করছিলেন।
তিনি বলেন, ‘কোটবাড়িতে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে আমার ছেলে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিল। আমার ছেলে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত নয়। সে এ বছর এসএসসি পাস করেছে। পুলিশ তাকেও ধরে নিয়ে এসেছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের এ অভিযান ইতিবাচক। তবে অভিযানের নামে শিক্ষার্থীসহ ভালো ছেলেদের সবাইকে এভাবে ধরে নিয়ে এলে সমস্যার সমাধান হবে না।’
কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কুমিল্লায় নতুন নয়। তবে গত শুক্রবার রাতে ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ পর্যন্ত এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুজন কিশোর। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর ১৯ বছর বয়সী তরুণকে হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
অপ্রতিম হত্যার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। এর মধ্যে বুধবার কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার, দলগুলোর তৎপরতা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় জান্নাতুল মাইসা (১৩) নামের ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খিলপাড়া গ্রামের আতিক উল্যাহ ফরাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাইসা ওই গ্রামের মো. মাসুমের মেয়ে এবং স্থানীয় খিলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মাইসার মা-বাবা মোবাইলে ফ্লেক্সিলোড করতে বাজারে যান। এ সময় মাইসা বসতঘরে একা ছিল। তখন পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে চাটখিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ বলেন, ‘ওই ছাত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। মা-বাবা মোবাইলে ফ্লেক্সিলোড দিতে বাইরে গেলে সে গলায় ফাঁস দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে।’
ওসি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
কাযক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই ও বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই অভিযোগে তার স্ত্রী আকতার জাহান বকুল ও ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নোয়াখালী দুদকের উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। আজ নিউজে দেখেছি, তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা থেকে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে অনুমোদনের কাগজপত্র এখনো আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি।
দুদক সূত্র জানায়, আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে দুদক আইনের ২৭(১) ধারায় মামলা অনুমোদন করা হয়েছে। তার স্ত্রী আকতার জাহান বকুলের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে স্বামীকে সহায়তাকারী হিসেবে উল্লেখ করে দুদক আইনের ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা অনুমোদন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে বাবার সহায়তায় ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে একই ধারায় মামলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালী দুদকের উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ আরও বলেন, মামলার অনুমোদনের কাগজপত্র আমাদের হাতে এসে পৌঁছালে আমরা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার সূর্যপাশা এলাকায় টিনশেড বসতঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত আ:রাজ্জাক হাওলাদার ফরহাদকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন,নলছিটি উপজেলা প্রশাসন,নলছিটি পৌরসভার সমন্বয়ে এ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় বলে জানা গেছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে সূর্যপাশা এলাকার আ:রাজ্জাক ফরহাদের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।আগুন নেভাতে নলছিটি ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট রওনা হলেও অর্ধেক পথে রাস্তা খারাপ হওয়ায় আটকে যায়।এরফলে তার ঘরটি পুরে ছাই হয়ে গেলেও আগুন নেভানো যায়নি।
এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নগদ অর্থ,স্বর্নালঙ্কার সহ ফরহাদ হোসেনের প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরপরই নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডু সহ উপজেলা বিএনপি নেতারা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন।
এই আর্থিক সহায়তা ছাড়াও পরবর্তীতে ঘর নির্মানে ক্ষতিগ্রস্ত আ:রাজ্জাক ফরহাদের পরিবারকে যথা সম্ভব সহায়তার আশ্বাস দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডু।
গ্রেপ্তার ‘হ্যাকার সম্রাট’ ওহিদুল মোল্লা
গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের ওপর নজরদারি করার জন্য গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন ওহিদুল মোল্লা (৩২)। হ্যাকিংয়ের কাজের জন্য ৭টি মুঠোফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করতেন ৬৮টি সিম। ঘুমানোর জন্য কবুতরের ঘরের মধ্যে তৈরি করেছিলেন বিছানা। সেখানে ছিল সিসিটিভি মনিটর, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ নানা সুবিধা। তবু শেষরক্ষা হয়নি তাঁর।
গতকাল সোমবার দিবাগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ওহিদুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে। সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে তাঁকে আদালতে পাঠানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুল মোল্লা ইমো হ্যাকিং চক্রের রাজধানীখ্যাত বিলমাড়িয়া গ্রামের হ্যাকার সম্রাট। তাঁর অধীনে এলাকায় হ্যাকার চক্র গড়ে উঠেছে। সবাই তাঁকে গুরু হিসেবে মানেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বিঘ্নে হ্যাকিং কার্যক্রম চালাতে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করেন ওহিদুল মোল্লা। প্রধান সড়ক থেকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত স্থাপন করেন অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। যেন পুলিশ প্রধান সড়ক থেকে নামামাত্র তিনি পালাতে পারেন।
পুলিশ জানায়, ওহিদুল প্রাচীরঘেরা পাকা বাড়ির একটি কক্ষে কয়েক শ কবুতর রাখার বাসা বানিয়েছেন। এর মধ্যে একটি খাটে তিনি ঘুমান। বাইরে থেকে দেখে কেউ বুঝতে পারবেন না, সেখানে মানুষের থাকার ব্যবস্থা আছে। আরাম–আয়েশের জন্য সেই ঘরে দামি আসবাব, সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বসিয়েছেন। এখানে বসে তিনি হ্যাকিং করে অন্যের মুঠোফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতেন। যাতায়াতের জন্য দামি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন।
ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন অপারেটরের ৬৮টি সিম কার্ড। সেগুলোর নম্বর সাদা কাগজে ছক করে ছিল। কোনটা বিকাশ, কোনটা নগদ, হিসাব রাখতে সাংকেতিক চিহ্ন দেওয়া আছে। ওহিদুল ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করতেন।
ওসি শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ওহিদুল মোল্লা ছাড়াও তাঁর পাঁচ সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।