আলোচনায় ৭০ অনুচ্ছেদ
বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হচ্ছে ৭০ অনুচ্ছেদ। বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়নের সময় থেকেই এই অনুচ্ছেদ নিয়ে নানা ধরনের তর্ক-বিতর্ক ও সমালোচনা চলে আসছে।
সবশেষে জুলাই সনদে এই অনুচ্ছেদর সংস্কার নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনও নির্বাচনে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনও ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি- উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে। তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনও নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।
অর্থাৎ সংসদ সদস্যরা যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দলের প্রস্তাবিত যেকোনো নীতি বা সিদ্ধান্ত অকপটে মেনে নিতে বাধ্য করে এই ৭০ অনুচ্ছেদ। কেউ যদি এর ব্যত্যয় ঘটান বা না মানেন, তাহলে এর পরিণাম খুবই কঠোর। তাদের আসনই শূন্য হয়ে যায়।
এদিকে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। ইতোমধ্যে জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তারা। জোটের নেতারা মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে নির্বাচনে জামায়াত জোটের এই প্রার্থীর পরাজয় প্রায় নিশ্চিত।
তাহলে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা জেনেও কেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট-এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকে আলোচনা আনতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে জামায়াত জোট। কেউবা একে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
জামায়াতসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দলমত নির্বিশেষে সর্বজনীন শ্রদ্ধেয়। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন ছিলেন, তিনবার মন্ত্রীও ছিলেন। বিএনপির সংসদ সদস্যরাও তাকে সম্মান করেন। যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজের ইচ্ছে মতো ভোট দিতে পারতেন-তাহলে এই মুহূর্তেই তার পরাজয় নিশ্চিতভাবে বলা যেতো না।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাই শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট রাত। সরকারি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের আসন ও বিভক্তি নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধন হয়নি, সুতরাং এটা কার্যকর থাকবে।
নিজ দলের পছন্দের প্রার্থীর বাইরে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারবেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হবে।
ডেঙ্গু জ্বরে হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড
এক দিনের ব্যবধানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী ভর্তি হওয়ার নতুন রেকর্ড হয়েছে। সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এর আগে গতকালের প্রতিবেদনে ২৪ ঘণ্টায় ৭২৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন রোগীদের নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৮২৭ জনে।
চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ জন নারী ও ২২ জন পুরুষ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৫৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
ভারত সফরের আমন্ত্রণ পেলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার পাশাপাশি আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশগ্রহণের জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক ছিল। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে নিয়মিত যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন।
ব্রিকসের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, আঞ্চলিক জোটগুলোর নেতৃত্বে থাকা দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সেই ধারাবাহিকতায় বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
পুনঃনিরীক্ষণ বা খাতা চ্যালেঞ্জের প্রক্রিয়া ঘোষণা করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০ টায়। এবার পরীক্ষায় পাশের হার ৬২.২৫ শতাংশ। এতে পাশ করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ শিক্ষার্থী। আর ফেল করেছে ছয় লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
ফলাফল যাদের আশানুরূপ হয়নি, তাদের জন্য পুনঃনিরীক্ষণ বা খাতা চ্যালেঞ্জের প্রক্রিয়া ঘোষণা করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু জানান, আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে।
পুনঃনিরীক্ষণের পুরো আবেদন প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট (rescrutiny.eduboardresults.gov.bd) এর মাধ্যমে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের নিয়মাবলী
তথ্য প্রদান: পোর্টালে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ড্রপডাউন তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে 'সাবমিট' বাটনে ক্লিক করতে হবে।
মোবাইল নম্বর: এর পরবর্তী ধাপে একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের চূড়ান্ত ফলাফল এই নম্বরেই এসএমএস এর মাধ্যমে জানানো হবে।
বিষয় নির্বাচন: স্ক্রিনে বিষয়ভিত্তিক নম্বর ও ফলাফল প্রদর্শিত হবে। শিক্ষার্থী যে বিষয়ে পুনঃনিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে 'ফি প্রদান করুন' বাটনে ক্লিক করবেন। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে।
ফি পরিশোধ: প্রতি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি নির্ধারিত রয়েছে। বিকাশ, নগদ কিংবা সোনালী সেবার মতো ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ফি দেওয়া যাবে। ফি সংক্রান্ত বিস্তারিত গাইডলাইন পোর্টালের 'হেল্প' বাটনে পাওয়া যাবে।
আবেদন জমা: ফি পরিশোধ শেষে আবেদনে ফিরে এসে 'জমা দিন' বাটনে ক্লিক করলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।
ফি জমা দেওয়ার পর আবেদনে আর কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না এবং ফি বাবদ কাটা টাকা অফেরতযোগ্য। তবে ফি পরিশোধের আগে নির্বাচিত বিষয়ে ভুল থাকলে 'মুছে ফেলুন' বাটনে ক্লিক করে তা সংশোধন করা যাবে।
এ ছাড়া ফি জমা দেওয়ার পর কোনো পরীক্ষার্থী নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে আগের প্রক্রিয়াতেই মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে তা করতে পারবেন। শিক্ষাবোর্ড থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ই-পোর্টাল ব্যতীত কোনো ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের (বাঁয়ে) সঙ্গে বৈঠকে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে বৈঠকে বসছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল ও প্রধান নির্বাচনী কর্তা (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।
এদিন বেলা ১১টায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবালয় ও সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার, সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী হলে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এরই মধ্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে মনোনয়ন দিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।
শেষ পর্যন্ত দুজন প্রার্থী থাকলে ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর দ্বিতীয়বার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করেছিলেন।
তবে সেই নির্বাচনে ভোটদান থেকে বিরত থাকেন জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ কয়েকটি দলের সংসদ সদস্যরা।
বিগত সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন। এবারও তেমনটা হবে বলে মনে করেছিলেন অনেকে।
তবে গতকাল রোববার জামায়াত জোট প্রার্থী ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে ইসি। এ নিয়ে গতকাল অনির্ধারিত বৈঠকও করে নির্বাচন কমিশন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় গ্রামে তীব্র লোডশেডিং
জ্বালানি সংকট ও মেরামতের কারণে দেশের ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ আছে। চালু থাকা কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর বাইরে শিল্পাঞ্চলগুলোতেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ। কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোথাও একবার গেলে কয়েক ঘণ্টায়ও আসছে না। তীব্র গরমে মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে।
বিতরণ কোম্পানির সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গড়ে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হয়েছে। গত রোববার বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। রাত ১টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে।
এর আগে ৩ আগস্ট রাত ১টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৫১২ মেগাওয়াট। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের ২৭ জুন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট।
লোডশেডিংয়ের মূল কারণ গ্যাসের ঘাটতি। চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের কম গ্যাস পাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কয়লা সরবরাহের সংকট। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
গ্যাস নেই, বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় একটি অংশ এখনও গ্যাসনির্ভর। ফলে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২৫২ কোটি ঘনফুট। লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্তত ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৭০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার এক-তৃতীয়াংশেরও কম গ্যাস পাচ্ছে কেন্দ্রগুলো। জ্বালানি সংকট ও মেরামতের জন্য ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ। চালু থাকা কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই চলছে আংশিক সক্ষমতায়।
একসময় গ্যাস থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। এখন তা নেমে এসেছে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াটে। কিছুদিন আগেও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ও অবকাঠামো থাকলেও জ্বালানির অভাবে তার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরেনি এলএনজি টার্মিনাল
গ্যাস সংকটের বড় ধাক্কাটি আসে গত ২১ জুলাই। কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়।
টার্মিনালটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দৈনিক প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২১৪ কোটি ঘনফুটে। ১৫ দিন পর আংশিক মেরামতের মাধ্যমে ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে টার্মিনালটি এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারেনি।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানিয়েছেন, টার্মিনালটির মেরামত শেষ হতে দুই-তিন দিন লাগতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে আরও ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে এটিই সংকটের শেষ নয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ক্রমেই কমছে। একই সঙ্গে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে গ্যাস সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেই এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ খাতে।
কয়লাতেও সংকট
বিদ্যুৎ সংকটকে আরও তীব্র করেছে কয়লা সরবরাহের জটিলতা। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার পটুয়াখালী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কুতুবদিয়ায় বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে কয়লা খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে কয়লা কেন্দ্রে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।
ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের কেন্দ্র থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে। বাংলাদেশে কেন্দ্রটি প্রায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও কয়েক দিন ধরে তা নেমে এসেছে ৮০০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াটে। ঝাড়খণ্ডে বন্যার কারণে কয়লা ভিজে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
তবে আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।
দেশে বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট সক্ষমতা প্রায় সাত হাজার ৯৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। রক্ষণাবেক্ষণ শেষে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট চালু হওয়ায় উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। তবে রামপাল ও বড়পুকুরিয়ায় উৎপাদন কমেছে। বড়পুকুরিয়ার তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি কারিগরি কারণে বন্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল মানুষ
বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের। অনেক এলাকায় দিন-রাতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তীব্র গরমে ফ্যান-এসি চালানো কিংবা পানির পাম্প চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অনলাইনভিত্তিক কাজ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
সিলেটে গতকাল সোমবার ২৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ২০২ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৪৫ মেগাওয়াট। আগের দিন ঘাটতি ছিল ৫৬ মেগাওয়াট। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে রোববার রাতে সিলেটের টুকের বাজারে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।
বগুড়ার সান্তাহারেও চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং বাড়ায় চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটছে। শিল্পাঞ্চলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গ্যাস সংকট আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতি যোগ হয়ে তৈরি হয়েছে দ্বিমুখী চাপ। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে উৎপাদন লাইন বন্ধ হয়ে যায়।
আবার বিদ্যুৎ এলে মেশিন স্বাভাবিক করতে সময় লাগে। উৎপাদন সচল রাখতে বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। বাড়ছে উৎপাদন খরচও।
গ্যাস বাড়াতে তাগাদা
লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সচিব পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে ফোন করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন। যেসব কেন্দ্র দ্রুত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে পারবে, সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে। এতে লোডশেডিং কমানো সম্ভব হবে। তবে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক নয়।
তেল দিয়ে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা
গ্যাস ও কয়লার সংকট সামাল দিতে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে এতে উৎপাদন ব্যয় ও সরকারি ভর্তুকির চাপ বাড়ে। তা ছাড়া বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় জ্বালানি তেল আমদানিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানো হলেও দীর্ঘ সময় এভাবে চালানো ব্যয়বহুল। তাই গ্যাস ও কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
দুই-তিন দিনে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম আশা করছেন, এক-দুই দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। তিনি জানান, গ্যাস সংকটের পাশাপাশি কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। পটুয়াখালী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আদানি পাওয়ারের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে।
অন্যদিকে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হলে দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, লোডশেডিং পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে লোডশেডিং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
পুরোনো সমস্যার নতুন বিস্ফোরণ
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকট আকস্মিক নয়। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস, আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং বিদ্যুৎ খাতের অতিরিক্ত সক্ষমতার চাপের পুঞ্জীভূত ফল হিসেবেই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাড়তি গ্যাস সরবরাহ করে লোডশেডিং কমানো গেলেও স্থায়ী সমাধান হবে না। দীর্ঘ মেয়াদে অযৌক্তিক ব্যয় কমানো, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘দেশের জ্বালানি সংকট এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। দ্রুত এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। তবে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত সচল রাখতে প্রয়োজনে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে।’
স্থানীয় অবকাঠামোর দুর্বলতাও ভোগাচ্ছে
জাতীয় গ্রিডে ঘাটতির পাশাপাশি স্থানীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতাও ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৪০ মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকছে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট।
আড়াইহাজারে ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ২০২০ সালে শুরু হয়। ২০২৩ সালে এটি চালুর কথা থাকলেও এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। কোরিয়া থেকে বিশেষায়িত প্রকৌশলী দল এলে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হতে পারে।
নতুন গ্রিডটি চালু হলে ভূলতা গ্রিডের ওপর চাপ কমবে। তৈরি হবে বিকল্প সঞ্চালন পথ। এতে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতি থাকলে শুধু স্থানীয় অবকাঠামো শক্তিশালী করে লোডশেডিং পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবার ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদেরও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে এসব অনুরোধ জানানো হয় বলে জানিয়েছেন সরকারপ্রধানের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বৈঠকে বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। একই সঙ্গে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।’
ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে গত নভেম্বরে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার ভারতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। তবে ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে।’
এদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে গুলিতে ওসমান হাদি নিহত হওয়ার আড়াই মাস বাদ প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেন ধরা পড়েন পশ্চিমবঙ্গে। এরপর থেকে তাদের ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
উপ প্রেস সচিব স্বাধীন বলেন, ‘দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দুই দেশের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।’
শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, ভারতের নতুন হাই কমিশনারকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। ঢাকায় গেল দুই মাসের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন ত্রিবেদী।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রথম সাক্ষাৎ। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।