শতভাগ ফেল ২ মাদ্রাসায়
নাটোরের লালপুর উপজেলায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৪৪.৭৬ শতাংশে। এছাড়া উপজেলার দুটি দাখিল মাদ্রাসা থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি ফলে প্রতিষ্ঠান দুটি শতভাগ অকৃতকার্য (ফেল) হওয়ার লজ্জাজনক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর লালপুর উপজেলা থেকে এসএসসি (সাধারণ) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মোট ২,৬০০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ১,১৬৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১,৪৩৬ জন। এই বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪৮ জন পরীক্ষার্থী।
এসএসসি ভোকেশনাল শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৭০০ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৩৬৩ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৩৩৭ জন। পাসের হার ৫১.৮৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৯ জন শিক্ষার্থী।
এছাড়াও দাখিল পরীক্ষায় ৩৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১৬১ জন, আর ফেল করেছে ২১৫ জন শিক্ষার্থী। এ শাখায় পাসের হার ৪২.৮১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৫ জন। এ বছরের ফলাফলে সবচেয়ে হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে উপজেলার দুটি দাখিল মাদ্রাসায়। প্রতিষ্ঠান দুটির কোনো শিক্ষার্থীই পাসের মুখ দেখতে পায়নি।
এর মধ্যে মোহরকয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে, বিলমাড়ীয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২ জন পরীক্ষার্থীর ২ জনই ফেল করেছে।
ঘাটাইলে চার বছরে কাজ শেষ হয়নি ব্রিজের
*এলজিইডি কর্মকর্তারা জড়িত থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না স্থানীয়রা
* ১ বছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৪ বছরেও শেষ হয়নি
* কাজ ফেলে রেখে উধাও ঠিকাদার
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া-পূর্বাসিন্দা সড়কে দেওপাড়া ইউনিয়নের খাকুরিয়ার ব্রিজের কাজ ১ বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৪ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। ২০২১ সালের কাজটি শুরু হয়ে ২০২২ সালের ২০ মার্চ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান সম্পুর্ন কাজ শেষ না করে অজ্ঞাত কারণে ব্রিজের কাজ ফেলে রেখে উধাও হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ৪০ গ্রামের মানুষ।
জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া-পূর্বাসিন্দা সড়কে দেওপাড়া ইউনিয়নের খাকুরিয়ার ব্রিজটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে একাংশ ভেঙে যায়। ব্রিজটি পুননির্মানের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দরপত্র আহ্বান করে। ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এসই সাদিয়া অ্যান্ড সামিয়া জয়েন্টভেঞ্চারে ২১ সালে ২১ সেপ্টেম্বর চার কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার ৫৪৪ টাকা চুক্তিমূল্যে ২০২২সালের ২০ মার্চ কাজ শেষ করার নিমিত্তে কার্যাদেশ পায়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কাজ না করে স্থানীয় জনৈক সাইফুল ইসলামকে কাজটি করার জন্য সাব-ঠিকাদার নিয়োগ করে। সাব-ঠিকাদার বিকল্প সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ না করে কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও হয়ে যায়।
এতে ভোগান্তিতে ধলাপাড়া সহ দেওপাড়া ইউনিয়নের সরাশাক, কালিকাপুর, কোচপাড়া, পাঞ্জারচালা, শিবেরপাড়া, বাদে আমজানী, আমজানি পশ্চিম পাড়া, তালতলা, দেওপাড়া,কালিয়ান, গান্দী, চাম্বলতলা, রহমত খার বাইদ, রানাদহ, চৈতার বাইদ, মলাজানী, যুগিয়াটেঙ্গর, কুমারপাড়া, গানজানা, মাকড়াই, মাকড়াই ভবানী, মালেংগা, চৌরাশা, কোচক্ষিরা, কাপাসিয়া, বারইপাড়া, ভোজদত্ত, হরিণাচালা, কান্দুলিয়াপাড়া, করিমের পাড়া, কাকুরিয়া, কালু কাছড়া, খামার কাছড়া, দেলুটিয়া, ভাগলের পাড়া, ভাবনদত্ত, ঘোড়া মারা, বানীভাসাসহ ৪০ গ্রামের মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, ২০২১ সালে ব্রিজের কাজ শুরু করে। চার বছর পেরিয়ে গেলেও এ ব্রিজের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সাইফুল ইসলামকে কাজটি করার জন্য সাব-ঠিকাদার নিয়োগ করে। তিনি সম্পুর্ন কাজ শেষ না করে ১ বছর কাজ ফেলে রেখে উধাও হয়ে যায়। ২০২৫ সালে ৯ এপ্রিল অসমাপ্ত ব্রিজের পাশে প্রায় ৪০ গ্রামের ভুক্তভোগীরা দ্রুত ব্রিজটির কাজ সম্পন্ন করা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। স্থানীয়দের দাবি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জড়িত থাকার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
ওই সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক উজ্জল, শফিক, ভ্যান চালক তাওহিদুল, রাজ্জাক, মিনি ট্রাক চালক রশিদ, জহির উদ্দিন, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক আসাদুল, সুজন, নওশাদ সহ অনেকেই জানান, খাকুরিয়া ব্রিজটি ৪ বছর ধরে ফেলে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানান তারা।
টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন জানান, ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়ায় এলাকায় নির্মাণাধীন ৫২ মিটার খাকুরিয়া ব্রিজের বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুধু রেলিং ও এপ্রোচ এর কাজ বাকী আছে। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করা হবে।
আক্কাস খান (৫৫)
ঝালকাঠির নলছিটিতে হামলার হাত থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পিটুনিতে নিহত হয়েছেন বাবা। উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে গতকাল রবিবার বিকেলে হামলায় বাবা আক্কাস খান (৫৫) ও ছেলে জসিম খান (৩২) আহত হয়। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে আক্কাস খানকে ঢাকা নেওয়ার পথে রাত রাড়ে ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ আজ সোমবার সকালে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গোবিন্দপুর গ্রামের আক্কাস খানের ছেলে জসিম খানের সঙ্গে প্রতিবেশী সজল খানের বিরোধ চলছিল। এতে রবিবার বিকেলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয়ের পরিবার। এসময় বাড়ির সামনের রাস্তায় জসিমকে একা পেয়ে সজল খান, তাঁর বাবা সেলিম খান ভাই শফিক খান লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। জসিমের চিৎকার শুনে তাঁর বাবা আক্কাস খান বাঁচাতে গেলে দু’জনকেই কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে প্রতিপক্ষরা। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে আক্কাস খানের মৃত্যু হয়। ছেলে জসিম খানকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাথায় গুরুতর আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় আক্কাস খানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান সোহাগ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা পালিয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় সালেহ আহমেদ (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুল করিম দোলন।
এর আগে, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বরলা উত্তরপাড়া এলাকার ভূঁইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত সালেহ আহমেদ ওই এলাকার মৃত ছেরাজুল হকের ছেলে। তিনি পেশায় স-মিলের মিস্ত্রি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সালেহ আহমেদের গলায় আঘাত করে। এতে তার গলায় গুরুতর জখম হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
পরিবারের দাবি, রাতে একজন চোর ঘরে ঢুকে সালেহ আহমেদকে জবাইয়ের চেষ্টা করে। তবে ঘর থেকে কোনো মালামাল খোয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
সোনাইমুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুল করিম দোলন আরও বলেন বলেন, আমি জেলা শহর মাইজদীতে ছিলাম। এখন আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। ঘটনাস্থল থেকে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
দিনাজপুর জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মজিবর রহমান
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভেতরে পুলিশ পরিদর্শক নওয়াবুর রহমানকে থাপ্পড় মারা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে কৃষক দল নেতা মজিবর রহমানকে (৫৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক নওয়াবুর রহমান বাদী হয়ে গতকাল রাতে মজিবর রহমান ও অজ্ঞাতনামা দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মজিবর রহমান জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব। তিনি একটি ইজিবাইক গ্যারেজের মালিক ও বালুয়াডাঙ্গা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য। পুলিশ পরিদর্শক নওয়াবুর রহমান দিনাজপুরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) কর্মরত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি হত্যা মামলার নথিপত্র সংগ্রহ ও আগের তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে গতকাল রাতে কোতোয়ালি থানায় যান পুলিশ পরিদর্শক নওয়াবুর রহমান। তিনি তখন সাদাপোশাকে ছিলেন। প্রায় একই সময়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে দেখা করতে যান কৃষক দল নেতা মজিবর রহমান।
ওসি তখন থানায় ছিলেন না। ওসির কক্ষের সামনে মজিবর ওসির অবস্থান সম্পর্কে নওয়াবুরের কাছে জানতে চান। এ সময় নওয়াবুর নিজেকে এই থানার পুলিশ নয়, সিআইডির পুলিশ হিসেবে পরিচয় দেন। তখন মজিবরের সঙ্গে থাকা একজন নওয়াবুরকে গালিগালাজ শুরু করেন। নওয়াবুর রহমান এর প্রতিবাদ করলে মজিবর রহমান তাঁকে ডান গালে থাপ্পড় দেন। এ সময় তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে থানায় অন্য পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। কৃষক দল নেতাকে গ্রেপ্তার করে থানায় রাখা হয়।
এদিকে মজিবর রহমানকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে গভীর রাত পর্যন্ত তদবির করতে দেখা গেছে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে। পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরাও সেখানে ছিলেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবী বলেন, থানায় অবস্থান করে পুলিশ সদস্যের গায়ে হাত তুলেছেন ওই ব্যক্তি এবং এমনকি হত্যার হুমকিও দিয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আজ সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জামিনে কারামুক্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করতে গিয়ে দলটির চার নেতাকর্মী আটক হয়েছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে নোয়াখালী জেলা কারাগারের ফটক থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক ব্যাগ ফুলের মালা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটকরা হলেন, সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামের মৃত শফি উল্যার ছেলে ছেরাজল হক চৌধুরী (৬৩), একই গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয় (২০), মো. বাহারের ছেলে মো. ফারুক হোসেন (১৮) ও মো. খোকনের ছেলে মো. নাজিম (১৮)। পুলিশ জানায়, তারা সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন জুমার নামাজ শেষে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের যৌথ উদ্যোগে প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। ওই কর্মসূচির জের ধরে পুরো উপজেলা উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। রোববার তাদের মধ্যে চারজন জামিনে মুক্তি পেলে খবর পেয়ে এক ব্যাগ ফুলের মালা নিয়ে কারাগারের ফটকে অবস্থান নেন দলটির নেতাকর্মীরা। পুলিশ বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অভিযান চালিয়ে ফুলের মালাসহ চারজনকে আটক করে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, স্বজনেরা একটি ফুলের মালা নিয়ে আসতে পারেন। কিন্তু আটক ব্যক্তিরা এক ব্যাগ ফুলের মালা নিয়ে এসেছিলেন এবং তারা জামিনে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন নন। বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে তারা ছবি তুলে শোডাউন করতে চেয়েছিলেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে যুবদলের সাবেক এক নেতাকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. সোহাগ ওরফে সোহেল (৩৫) নামে ওই যুবদল নেতা আহত হয়েছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ সোহেল গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। তিনি ওই গ্রামের চৌকিদার বাড়ির মাহফুজ মিয়ার ছেলে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই চার বছর পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন সোহেল। গত বুধবার দুপুরে পাশের আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের জনকল্যাণ এলাকায় রসুলপুর গ্রামের যুবদল কর্মী সুমনকে পথরোধ করে মারধর করেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় সোহেলের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে রোববার সন্ধ্যায় জামায়াত-শিবিরের নেতা ছেনি আলম, নাছির, জহির ও চশমা জাবেদের নেতৃত্বে সোহেলকে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে। তাৎক্ষণিক স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবীবুর রহমান হাবীব অভিযোগ করেন, গোপালপুর ইউনিয়নে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি না করলে বসবাস করা কঠিন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মিরা যুবদল নেতা সোহেলকে বাড়িতে গুলি করে পালিয়ে যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোপালপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাস্টার আবু তাহের। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন।
বেগমগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শ (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, এলজির ছররা গুলিতে একজন আহত হয়েছেন। আঘাত তেমন গুরুতর নয়। রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।