ছাত্রলীগ কর্মী সন্দেহে মো. মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তার

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৩ পিএম

সিলেটের রাজপথে ঝটিকা মিছিলের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম মো. মাহফুজুর রহমান (১৯)। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি জানিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল।


পুলিশ সুত্র জানায়, গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেটের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন ধোপাদিঘীরপারের ওসমানী শিশু পার্কের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাহফুজ সিলেট মহানগরীর কালিঘাট আমজাদ আলী রোডের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান ও সীমা রহমানের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি গোলাপগঞ্জের রনকেলি লামা দক্ষিণভাগ গ্রামে।


পুলিশ জানায়, সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় গত ২১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রবিরোধী মিছিল ও স্লোগানের ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলার (নং ৪৪/২৫/০৯/২৬) তদন্তে প্রাপ্ত সন্ধিগ্ধ আসামি মাহফুজ।তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে এসএমপির মিডিয়া সেল।



সর্বশেষ সব খবর

চাটখিল থানা।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৯ এএম

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা একটি নোহা গাড়ির চাপায় মেহরাজ হোসেন (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামের কচুয়া বাজারে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহত মেহরাজ হোসেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার জীবতলী ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামের মেজবা উদ্দিন ও শারমিন সুলতানা দম্পতির ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।  


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এশার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হচ্ছিল মেহরাজ। এ সময় অজ্ঞাতনামা একটি নোহা গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে চাটখিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর মিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ হাসপাতালে পৌঁছে শিশুটির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।


পুলিশ আরও জানায়, নিহত মেহরাজের মা কচুয়া বাজারের আলহেরা ইসলামি একাডেমির সহকারী শিক্ষিকা। তিনি পরিবার নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন।


চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, বিষয়টি রামগঞ্জ থানাকে বেতার বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়েছে। ফিরতি বেতার বার্তা পাওয়ার পর মরদেহ নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাটি রামগঞ্জ থানা এলাকায় ঘটায় নিহত শিশুর পরিবারকে সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩২ পিএম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ৫০০ টাকার বাজি ধরে জীবন্ত শালিক পাখির পালক ছাড়িয়ে কাঁচা মাংস ছিঁড়ে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পরে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


গতকাল (মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার কোয়ালিকান্দি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. সাহাদুল্লা (৫৫)। তিনি কোয়ালিকান্দি বাজার এলাকার বাসিন্দা। 


আজ (বুধবার, ১৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বাজারের রাস্তার পাশে বসে থাকা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি একটি জীবন্ত ছোট পাখি হাতে নিয়ে এর পালক ছাড়াচ্ছেন। এরপর পাখিটির মাংস ছিঁড়ে কাঁচা চিবিয়ে খাচ্ছেন তিনি। এসময় তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন পথচারী, রিকশাচালক ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের কেউ কেউ মুঠোফোনে ঘটনাটি ধারণ করছিলেন।


ভিডিওটি প্রথম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন স্থানীয় সাংবাদিক সাদ্দাম হোসাইন। তিনি বলেন, ‘গতকাল বিকেলে কোয়ালিকান্দি বাজারে এক ব্যক্তির সঙ্গে ৫০০ টাকার বাজি ধরে জীবন্ত পাখি কাঁচা খাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এক যুবক তাকে এ ঘটনার ভিডিও পাঠান। বিষয়টি নিষ্ঠুর মনে হওয়ায় ভিডিওটি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন বলে জানান সাদ্দাম।’


ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, বাজি বা বিনোদনের নামে একটি জীবন্ত শালিক পাখিকে এভাবে নির্যাতন করা অমানবিক ও নিন্দনীয়। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।


মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, ‘জীবন্ত পাখি চিবিয়ে খাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হচ্ছে।’

সর্বশেষ সব খবর

পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৮ পিএম

ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সমন্বয়ের আহ্বান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ‘পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৪ অক্টোবর বিকালে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল আদালত ভবনের কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।   


‘পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন জাহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শহিদুল ইসলাম।  


প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা ও দায়রা জজ বলেন, জনগণের সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় অপরিহার্য। 


তিনি অপরাধ তদন্তের মানোন্নয়ন, সাক্ষীদের সময়মতো আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, আলামত সংরক্ষণ ও উপস্থাপনে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন এবং মেডিকেল ও ফরেন্সিক প্রতিবেদন দ্রুত প্রাপ্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের নিয়মিত সমন্বয় সভা জেলার বিচারসেবা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে। মাদক জিরো ট্রলারেন্সে নিতে বিজিবিকে সীমান্তে সিলগালা করার আহবান জানান।


‘পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মোঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম, পুলিশ সুপার (পিবিআই) শচীন চাকমা, পুলিশ সুপার (সিআইডির)  সুত্রধর ত্রিপুরা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মফিজুর রহমান বাবুল, সাধারণ সম্পাদক  একেএম আব্দুল হাই, জজ কোর্ট পিপি এডঃ ফখর উদ্দিন আহমেদ খাঁন, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পিপি এডঃ তারিকুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তার, সিনিয়র জুডিসিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিছবাহ উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলমগীর, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লতা দাস, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক, জেলা সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ রতন কুমার ঢালী, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ডাঃ মাহমুদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (র‌্যাব প্রতিনিধি) শেখ মাহফুজার রহমান প্রমুখ। 


অনুষ্ঠানটি যৌথ পরিচালনা করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফনান সুমী ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, গণপূর্ত বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১০ পিএম

ঢাকার সাভারে গ্যারেজ ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে গ্যারেজ ভাড়া কমানোসহ যাত্রী পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রেখে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন এলাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা।


এর আগে গতকাল মধ্যরাতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে অটোরিকশা চালকদের সম্মিলিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে সকল চালকদের আজ কোন অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে বের না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।


আজ বুধবার সকাল থেকে সাভারের বিভিন্ন পয়েন্টে দলবদ্ধভাবে লাঠি হাতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করার পাশাপাশি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ কোন সড়ক বা লেনে যেন কোন অটোরিকশা চলাচল করতে না পারে সেই লক্ষে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এছাড়াও এই আন্দোলন আগামী ৩ দিন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।


এসময় সড়ক মহাসড়কে কোন অটোরিকশা চলাচল করতে দেখলেই তাদের থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে অটোরিকশার চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি অটোরিকশাগুলো আটকে রাখছেন আন্দোলনকারীরা। যদিও অন্য কোন যান চলাচলে কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে দেখা যায়নি তাদের।


সকাল থেকে সাভারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ও সমর্থনে কর্মবিরতি পালন করা মো আলম, ফরহাদ সহ একাধিক অটোরিকশা চালকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইতোপূর্বে এই এলাকার গ্যারেজগুলোতে অটোরিকশা প্রতি ব্যাটারি চার্জিং বিলসহ ১৫০ টাকা হারে নেওয়া হয়। গত দেড় বছরে বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর অজুহাতে গ্যারেজ মালিকরা এই ভাড়া পর্যায়ক্রমে কয়েক দফা বাড়িয়ে দেয়। সর্বশেষ গতকাল এই ভাড়া ২৫০ টাকা নির্ধারণ করেন গ্যারেজ মালিকরা।




আন্দোলনরত ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালকরা এসময় অনতিবিলম্বে বর্ধিত গ্যারেজ ভাড়া প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল বাড়ানো সাপেক্ষে যৌক্তিকভাবে গ্যারেজ ভাড়া নির্ধারণ ও যাত্রী পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানান।


বেলা ১১ টা নাগাদ সাভারের পৌর এলাকার ব্যাংকটাউন, কাতলাপুর, গেন্ডা, উলাইল, তালবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা এসব এলাকার সড়কগুলোর কোনটিতেই কোন অটোরিকশা চলাচল করছে না।


ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এসময় কিছু অটোরিকশাকে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেলেও, মহাসড়কের উলাইল স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, সড়কে চলাচলরত এসব অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি অটোরিকশার চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়াসহ কয়েকজন অটোরিকশা চালক যাত্রী পরিবহন করায় তাদের মারধরও করতে দেখা যায় আন্দোলনরতদের।


তবে সাভারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আন্দোলনের এসব স্পটের কোনটিতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।


এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, 'লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান, কোন অটোরিকশা আটকে চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়া বা মারধর করার মত কোন তথ্য আমরা এখনো পাইনি। এমন অভিযোগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও আমাদের অতিরিক্ত পুলিশও বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন রয়েছে।'


তিনি আরও বলেন, 'আমাদের কাছে তারা জানিয়েছেন তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন। তবুও বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, আন্দোলনের পেছনে অন্য কোন গোষ্ঠীর কোন হাত বা হীন কোন উদ্দেশ্য আছে কিনা, সেটিও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।'

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৮ পিএম

মান নিয়ন্ত্রণে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি বিবেকের শুদ্ধতা জরুরী। পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকী এবং উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের নৈতিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম। 


তাঁরা বলেছেন, পণ্যের মান রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারীর পাশাপাশি ব্যক্তিগত সততা ও বিবেকের শুদ্ধতাও জরুরী। একই সঙ্গে জেলার যেসব বেকারীর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র নেই বলে অভিযোগ রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দিনাজপুর বেকারী মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ সাইফুল্লাহ।


আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), দিনাজপুরের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।


এবারের প্রতিপাদ্য ‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব-সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানী’। আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘Shared Vision for a Better World’-এর আলোকে মানসম্মত পণ্য ও সেবা, ভোক্তার অধিকার, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানীর গুরুত্ব আলোচনায় উঠে আসে।


দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাঞ্চন-১ সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আলোচনা সভায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবার ও সমাজের অন্যদের কাছেও পৌঁছে দিতে হবে। এতে মান সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষও উপকৃত হবে।


মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলা ভাষার নিজস্ব মান, সম্মান ও মর্যাদা রয়েছে। এ মর্যাদা রক্ষায় বাঙালীদের সচেতন ও দায়ীত্বশীল হতে হবে। তিনি বাংলা ভাষায় কথা বলার সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইংরেজি শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে মাতৃভাষার যথাযথ চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মান নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়; উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত তদারকী অপরিহার্য।


বিএসটিআইয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি পণ্যের গায়ে বাংলাদেশী মান নির্দেশক বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন এবং আন্তর্জাতীক মানের ক্ষেত্রে আইএসওর মতো স্বীকৃত ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, পণ্যের মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।


নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, “যতদিন বিবেকের মান ঠিক না হবে, ততদিন কোনো কিছুর মান ঠিক হবে না।” তিনি সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বজায় রাখার বিষয়ে পবিত্র কোরআনের শিক্ষার প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর মতে, খাদ্যে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য মানুষের স্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর ক্ষতিকর প্রভাব ব্যক্তি ও সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়ে। তাই ভেজাল প্রতিরোধ ও মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার দায়ীত্বশীল হওয়া জরুরী।”


সভায় দিনাজপুর বেকারী মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ সাইফুল্লাহ জেলার কিছু বেকারীর অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জেলায় এমন কিছু বেকারী রয়েছে, যেগুলোর বিএসটিআই সনদ নেই এবং বেকারী পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারী কাগজপত্রও সম্পূর্ণ নয় বলে তাঁর জানা রয়েছে।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তাস্বার্থে অভিযোগগুলো যাচাই করার আহ্বান জানান।


তাঁর বক্তব্য, বেকারী পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বিধিবিধান ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সব বেকারী মালিককে বিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনায় বাধ্য করতে হবে।


সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক ড. হাবিবা খাতুন এবং দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ গোলাম রসুল রাখি। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আবু বকর ছিদ্দীক এবং বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক। উপপরিচালকও সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস.এম. হাবিবুল হাসান। সভায় বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।


বিশ্ব মান দিবসের আলোচনায় বক্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায়ীত্ব নয়; এর সঙ্গে জড়িত উৎপাদক, ব্যবসায়ী, তদারককারী সংস্থা এবং ভোক্তা-সব পক্ষের সচেতনতা ও দায়ীত্বশীলতা। নিয়মিত বাজার তদারকী, আইনানুগ ব্যবস্থা, নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির সমন্বিত উদ্যোগই পারে নিরাপদ পণ্য ও সুস্থ সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩২ পিএম

প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে আইনগত সহায়তা প্রদানে সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর রেফারেল পদ্ধতি প্রতিষ্ঠায় রংপুরে নেটওয়ার্কিং সভা হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এতে সভাপতিত্ব করেন, জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। 


ব্লাস্ট রংপুরের সমন্বয়কারী অ্যাড. দিলরুবা রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফুল আলম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শাকিল, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় কুমার সরকার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সেলোয়ারা বেগম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নুসরাত ফাতেমা, পরিবার-পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের এএসআই নবয়িন আক্তার চম্পা, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সমন্বয়কারী ডাঃ সোহেলী বিনতে মোস্তফা, রংপুর আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আফতাব উদ্দিন, ব্লাষ্টের আইনজীবি অ্যাড. মোনালিসা আক্তারসহ অন্যরা।


সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষত নারী, শিশু, দলিত, সমতল ভূমির আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং জলবায়ু-প্রভাবিত এলাকার মানুষ প্রতিনিয়তই ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক সেবায় প্রবেশগম্যতার ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। এ প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকর রেফারেল পদ্ধতি গড়ে তোলা অপরিহার্য। তাই নানা ধরণের সহিংসতা প্রতিরোধসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে আইনগত সহায়তা প্রদানে  জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা-বেসরকারী সংস্থা একসাথে কাজ করতে হবে।

 

বক্তারা আরও বলেন, সরকার ফৌজদারী অপরাধ ব্যতিত অন্য মামলা আপোষ মিমাংসার উপর জোর দিয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয় আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিস্পত্তি ও ন্যায় বিচার নিশ্চিতে কাজ করছে। এতে করে বিচারপ্রার্থীদের অর্থ খরচ ও হয়রানি হতে হচ্ছে না। সেই সাথে বিরোধ নিস্পত্তি হওয়ায় ভবিষ্যতে নতুন করে কোন বিরোধ সৃষ্টির সুযোগ থাকছে না। তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিনা খরচে আইনগত সহায়তা প্রদানসহ আপোস মিমাংসার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হবে এবং অসহায় বিচার প্রার্থীরা ন্যায্য বিচার পাবে। 


ব্লাস্টের আয়োজনে এ সভায় জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, হাসপাতাল, জেলা আইনগত সহায়তা কমিটি, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার এবং স্থানীয় অন্যান্য বেসরকারি আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থারা অংশ নেন।

সর্বশেষ সব খবর