প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ধর্ম-বর্ণ, মত ও শ্রেণি-পেশার ভেদাভেদ ভুলে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় কাউকে পিছিয়ে রাখা যাবে না।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুর মহানগরের ধর্মসভা এলাকার রাধাগোবিন্দ মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় কোনো ধর্মের মানুষকে আলাদা করে দেখা হয়নি। সব ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও সব ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল।
হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতি ও সহাবস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, তাহলে সব ধর্ম ও মতের মানুষকে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশটি আমাদের সবার। এই দেশকে গড়ে তুলতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশটিকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সব বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
সরকারের দায়িত্ব ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার শুধু ভোট দেওয়া মানুষের জন্য নয়, যারা ভোট দেননি, তাদের জন্যও কাজ করতে চায়। নির্বাচনে কোনো এলাকায় বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, আবার কোনো এলাকায় হননি। তবে সরকার দল-মত নির্বিশেষে সব এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সব এলাকায় সমানভাবে উন্নয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। কোনো অঞ্চল যেন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট থাকবে।
রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে সম্প্রতি ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ভেতরে ভেদাভেদ ভুলে থাকতে হবে। একসঙ্গে হাত ধরে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”
দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, একটি মহল তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে তা জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদে তুলে ধরা উচিত। জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
দেশের মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা চায় এবং সরকারও সেই লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে মহানবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, “আসুন, আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য একসঙ্গে কাজ করি। আমরা আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করি, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করি, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করি। সর্বোপরি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যেভাবে প্রয়োজন, আমরা সেভাবেই সবাই মিলে কাজ করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যারা আছি, এই বাংলাদেশ আমাদের। এই দেশকে সুন্দর করে আমরা সকলে মিলে পরিশ্রম করে গড়ে তুলব।”
অনুষ্ঠানে রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজারিরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। ছোট শিশুরা নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়। পরে মন্দিরের সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি ক্রেস্ট তুলে দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। পাশাপাশি মন্দিরের পেছনে হোস্টেলের মতো অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৪ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর প্রথম রংপুর সফর।
রংপুরের উদ্দেশে যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দুটি পথসভায় বক্তব্য দেন তিনি। সেখানেও সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
পথসভায় তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শাহাব উদ্দিন
সিলেটের কানাইঘাটে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সিরিয়াল নিয়ে বিরোধের জেরে শাহাব উদ্দিন (৩২) নামে এক চালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল আটটার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সোনাতনপুঞ্জি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহাব উদ্দিন ওই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কানাইঘাটের সুরইঘাট এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সিরিয়াল নিয়ে সম্প্রতি দুই চালকের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর জের ধরে আজ মঙ্গলবার সকালে শাহাব উদ্দিনের ওপর হামলা হয়। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ‘প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।’
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেছেন, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের ১৬ বছর শেখ হাসিনা ও তার সন্ত্রাসী এমপিগুলো দেশে এতো লুটপাট করেছে যা বিশ্বের কোথাও হয়নি। পৃথিবীর ইতিহাসে এত বড় চোরের দল মানুষ দেখেনি। দেশের সম্পদ ও টাকা লুপ পাট করে তারা বিদেশে প্রাসাদ তৈরী করেছে। তাদের পতনের পর এখন বিদেশের সে সব প্রসাদে বসে তারা দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। এখানে একজন সন্ত্রাসী ছিল, যে কয়েক শত জমি দখল করেছে। তারা মনে করেছিল, কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আই.পি.ইউ এর এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে লালমোহন উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে গণ সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, বছর বছর যারা লুটপাট করেছে, তারা ভারতে বসে এখন ষড়যন্ত্র করছে। কীভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করা যায়, সেই চেষ্টা করছে তারা।
হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতে এত পূজামণ্ডপে কখনো পূজা উদ্যাপিত হয়নি বলেও উল্লেখ করে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
আইপিইউ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তানজানিয়ায় বিশ্বের ১৬৭টি দেশের সংসদ সদস্যদের নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকে ছয়টি ভৌগোলিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। আমাকে অঞ্চলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ থেকে কেউ এ পদে নির্বাচিত হননি। এ সম্মান আমার একার নয়, এটি সবার সম্মান। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পৃথিবীতে উজ্জ্বল হয়েছে।
মেজর হাফিজ আরও বলেন, দেশে আওয়ামী লীগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র আট মাস। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের একজন নারী সংসদ সদস্যকে দখলবাজির অভিযোগের কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ায় একজন প্রতিমন্ত্রীকেও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এটা শুধুমাত্র এদেশে বিএনপি সরকারই করেছে। অন্য কোন সরকারের এমন নজির দেশে নেই। বিএনপি ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছে।
আওয়ামী লীগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা চুরি ও লুটপাট করে সম্পদ নিয়ে গেছে। টাকা দিয়ে আইন-আদালত কিনে ফেলেছিলো। ভারতে প্রাসাদের মধ্যে বসবাস করে। এভাবে লুটপাট কেউ করতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিএনপি সরকার ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে চান বলেও জানান।
লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পাঞ্চায়েত এর সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফান বিন সাদেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ, লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলামসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লালমোহন উপজেলার ১৫০ জন অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।
কোম্পানীগঞ্জ থানা, নোয়াখালী
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ভাড়া বাসা থেকে রোকন কর্মকার (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেট এলাকার ফাইজা কটেজ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রোকন কর্মকার বেগমগঞ্জ উপজেলার রফিকপুর গ্রামের শংকর কর্মকারের ছেলে। তিনি বসুরহাট পৌরসভার হাসপাতাল গেট এলাকায় একটি স্টিলের (এসএস) দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোকন কর্মকার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতাল গেট এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঘটনার দিন তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকায় তিনি বাসায় একা ছিলেন। দুপুরের দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্থানীয়রা তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দেনা দায়ে অথবা আর্থিক সংকটের হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
হাতিয়া থানা, নোয়াখালী
নোয়াখালীর হাতিয়ায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সোহরাব উদ্দিন (১৯) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিন হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাতিয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব খোন্দকার সোহেলের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেপ্তার সোহরাবকে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে সোমবার ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার সোহরাব উদ্দিন হাতিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরকৈলাশ এলাকার ফাহাদ উদ্দিনের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরের দিকে সোহরাব বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের বসতঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন এবং একপর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এ সময় হাতিয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব খোন্দকার সোহেল তার বাবার পকেটে তিন হাজার টাকা ঢুকিয়ে দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন। পরে তার বাবা বিষয়টি তাকে জানালে তারা ওই টাকা ফিরিয়ে দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খোন্দকার সোহেল বলেন, এ বিষয়ে সামাজিক বৈঠক হওয়ার সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ছিলেন। এটি প্রতিপক্ষের অপপ্রচার।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সোহরাবকে তার বাড়ির সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার কোনো ঘটনা তার জানা নেই।
জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল
সিলেট মহানগরীর মেজরটিলায় গড়ে ওঠা ‘জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল’ এখন নানা সমস্যায় জড়জড়িত হয়ে পড়ছে। পরিচালনার নানা সমস্যায় এ হাসপাতালটি এখন রোগীদের সঠিক চিকিৎসা সেবা দিতে পারছেনা।
অন্ধজনে আলো দিতে প্রায় অর্ধশত বছর আগে ‘জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে মহানগরীর মেজরটিলায় এ হাসপাতালটি স্থাপন করা হয়েছিল। চক্ষুসেবায় এটিই হচ্ছে সিলেটের সবচেয়ে পুরনো হাসপাতাল। দীর্ঘ পথচলায় স্বেচ্ছাসেবী হাসপাতালটি ফিরিয়ে দিয়েছে অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত রোগীর চোখের আলো। কিন্তু নানা অনিয়মের বেড়াজালে আটকে হাসপাতালটি এখন নিজেই অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে। অব্যবস্থাপনা, কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, আয়ের উৎস সংকোচন এবং পাঁচ বছর ধরে লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ায় দিন দিন সংকট বেড়েই চলছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। কমছে সেবা ও রোগীর সংখ্যাও।
সিলেটে চক্ষু রোগীদের স্বল্প খরচে সেবা দেওয়ার লক্ষে ১৯৭৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর স্থাপন করা হয় ‘জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল’। সরকারি-বেসরকারি অনুদান ও নিজস্ব আয় দিয়ে প্রায় অর্ধশত বছর ধরে হাসপাতালটি চক্ষুসেবা দিয়ে আসছে। নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা ও সেবা প্রদানের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারও হতো হাসপাতালটিতে। চক্ষুর চিকিৎসায় হাসপাতালটির বেশ সুনামও ছিল। সরকারি কর্মকর্তা ও সিলেটের বিশিষ্টজনের সমন্বয়ে গঠিত পরিচালনা পর্ষদ দিয়ে হাসপাতালটি পরিচালিত হয়ে আসছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের আগ পর্যন্ত ২৫ সদস্যের কমিটির মধ্যে পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন। পর্ষদের বাকিরা ছিলেন জীবন সদস্য ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনেরা। পট পরিবর্তনের পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ কমিটি ভেঙে দিয়ে এডহক কমিটি গঠন করেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তানির্ভর ওই কমিটি থেকে বাদ পড়েন আগের কমিটির অনেক জীবন সদস্য। ওই সময় হাসপাতালের নিজস্ব আয়ের উৎস বেশ কিছু দোকানপাট ভেঙে ফেলা হয়। এ নিয়ে আগের কমিটির নেতৃবৃন্দ আদালতের শরণাপন্ন হন। এতে কমতে শুরু হাসপাতালের আয়।
এদিকে, নূন্যতম প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় ২০২০-২০২১ সালের পর থেকে হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। বর্তমানে অবৈধভাবেই চলছে হাসপাতালটির কার্যক্রম। কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, আয় সংকোচন ও কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ায় দিন দিন হাসপাতালের বর্হিবিভাগ ও অপারেশনের রোগীর সংখ্যাও কমছে।
এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন জানান, যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল না থাকায় ২০২০-২০২১ সেশনের পর হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। এখন ২০২১-২০২২ সালের জন্য লাইসেন্স নবায়ন ফি জমা দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে লাইসেন্স আপডেট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আগের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, সাবেক জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে এডহক কমিটি করেছেন। হাসপাতালের আয়ের উৎস অনেক দোকানপাট ভেঙেছেন। ফলে আয় কমেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বর্তমান কমিটিতে থাকলেও লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। ফলে অবৈধভাবে হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে। সেবা কমে যাওয়ায় রোগীর সংখ্যাও কমছে।
হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারিও সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানান, আগের পরিচালনা পর্ষদ নিয়মতান্ত্রিকপন্থায় হাসপাতালটি পরিচালনা করেছেন। তারা নিয়মমাফিক চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেননি। লাইসেন্স নবায়নেরও উদ্যোগ নেননি। বর্তমানে নিয়মে ফিরছে হাসপাতালটি। ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করে কয়েক মাসের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দ্বিতীয় কোনো দেশ নেই। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর মেহেরবানিতে এই সম্প্রীতি আমাদের গর্ব ও অহংকার। গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে সিলেটের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করা বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের জন্মগত অধিকার। এ দেশের মানুষ বরাবরই মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যখন নিজেদের লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশে নাশকতার চেষ্টা করে, কেবল তখনই এখানকার শান্তিশৃঙ্খলায় ব্যাঘাত ঘটে। এ ধরণের অপচেষ্টা ছাড়া দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এ জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী প্রতিযোগীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।