প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৭ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার বাইরে তিন বিভাগের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের অংশ হিসেবে রংপুরের ধর্মসভা পূজামন্ডপে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২ টার দিকে তিনি রংপুর নগরীর এই ঐতিহাসিক ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ) মন্দিরের পূজামণ্ডপ পৌছান তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সৈয়দপুর থেকে রংপুর আসার পথে মহাসড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। যাত্রাপথে তিনি তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় সংক্ষিপ্ত দুটি পথসভায় বক্তব্য দেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন।


প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তাঁর সাথে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুন রায় চৌধুরী, সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। রংপুরের কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী দুপুরের দিকে বিমানযোগে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।




রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কুমারপাড়া গ্রামে নিজ ক্ষেতে মিজানুর রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৩ পিএম

শুরুর গল্পটা ছিল কিছুটা ভিন্ন। ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হন কৃষক মিজানুর রহমান মিজান। মুহূর্তের মধ্যেই অনলাইন থেকে বীজ সংগ্রহ করে শুরু করেন পরীক্ষামূলক চাষ। সেই ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো ধান নিয়ে এখন নতুন স্বপ্ন দেখছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের কামারপুর গ্রামের এই কৃষক। ব্ল্যাক রাইস চাষ এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। কামারপুর গ্রামের মধ্যপাড়ার ছোট্ট মাঠজুড়ে সবুজের মাঝে ভিন্ন রঙের ধানের উপস্থিতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। খবর পেয়ে আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত কৃষক ও দর্শনার্থী দেখতে আসছেন এই ক্ষেত। 


কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্ল্যাক রাইসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, প্রোটিন ও খাদ্য-আঁশ রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর। প্রচলিত ধানের চেয়ে প্রতি মণে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি পাওয়া যায় বলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও এটি চাষে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে। 


স্থানীয় কৃষক মজিদ সরদার বলেন, মিজানুরের এই উদ্যোগ সফল হলে কৃষিতে বৈচিত্র্য আসবে। 


কৃষক মিজানুর বলেন, বীজ, সার ও সেচ মিলে মোট খরচ হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। ফলন আশানুরূপ হলে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এই ধান চাষ করবেন।


কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাগমারায় বছরে ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হলেও ‘ব্ল্যাক রাইস’ এবারই প্রথম। পুষ্টিগুণ ভালো এবং বাজারে উচ্চমূল্য পাওয়ায় এটি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলছে। কৃষি অফিস থেকে এই উচ্চমূল্যের ধান চাষে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৪ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সমাজের খেটে খাওয়া মানুষসহ সব শ্রেণির মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নেতাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রাপথে পাগলাপীর এলাকায় সংক্ষিপ্ত পথসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।


তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে এখন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা চলছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। একইভাবে সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চায়।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—যারা বাংলাদেশে আছি, এ দেশ আমাদের। তাই সবাই মিলে পরিশ্রম করে দেশকে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। এটাই হোক আমাদের আজকের প্রত্যাশা।’


শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার বাইরে তিন বিভাগের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের অংশ হিসেবে রংপুরে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পথে মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। যাত্রাপথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দুটি সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।


সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রংপুর নগরীর ঐতিহাসিক ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ) মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।


যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে দুটি গাড়িই দুমড়ে-মুচড়ে গেছে

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩১ এএম

নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জন। মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। 


নাটোর জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।  


বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক শামীম হোসেন বলেন, বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাই নবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়।


তিনি জানান, আহতদের উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। সড়কে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।   


নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আক্তার হামিদ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 


তিনি জানান, বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ভেতর আটকেপড়া যাত্রীদের উদ্ধারে বেগ পেতে হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।


বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, এটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। 


দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১৩ এএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আবদুল্লাহ শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। সোমবার বিকেল ৩টা থেকে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপগুলোতে উপস্থিত হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।


পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য শেখ মো. আবদুল্লাহ ভাগ্যকুল ইউনিয়নের হরিসভা কামারগাঁও, বাঘড়া মনিপাড়ার ঋষিবাড়ি, বাঘড়া বাজার দুর্গা মন্দির, মধ্য কামারগাঁও নাগর নন্দী পূজা মণ্ডপ এবং মাইজপাড়া বাবুর বাড়ি নাট মন্দিরসহ একাধিক মণ্ডপ ঘুরে দেখেন।




মণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু দুলাল দাস,সহকারি কমিশনার ভূমি  শ্রীনগর   আফরোজা তানিয়া ও শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হাফিজুল ইসলাম খানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ  উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে বাঘড়া মনিপাড়ার ঋষিবাড়ি পূজা মণ্ডপ এলাকায় গিয়ে সংসদ সদস্য জলাবদ্ধতা এবং এর কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় মণ্ডপে আগত ভক্ত ও স্থানীয়দের যাতায়াতে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে দেখে তিনি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। 


জলাবদ্ধতার বিষয়ে ক্ষোভ ও সমবেদনা প্রকাশ করে সংসদ সদস্য শেখ মো. আবদুল্লাহ বলেন,এর আগেও এলাকাটি পরিদর্শন করেছি নিচু এলাকা হওয়ায় এখানে সহজে পানি জমে থাকে যার কারণে ডেঙ্গু মশার বংশবিস্ত করে সাধারণ মানুষের বসবাস করতে চরম কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে এই এলাকার মানুষের ভোটে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েও এখনো এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে না পারায় নিজেকে নিজের কাছেই  ছোট মনে হচ্ছে।


তিনি অঙ্গীকার করে বলেন,আমি কথা দিচ্ছি,অতিসত্বর এখানে আমাদের ইঞ্জিনিয়ার পাঠাবো  যত দ্রুত সম্ভব এই  পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 


তিনি জানান সংসদ সদস্যের এই আশ্বাসে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পরিদর্শনের সময় তিনি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দকে নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশ পূজা উদযাপনের আহ্বান জানান এবং সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৩ পিএম

কক্সবাজারের ঈদগাঁও ও রামু উপজেলার পাহাড়ি জনপদের ভেতর দিয়ে যাওয়া ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে দিনের বেলায় অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে লুটপাট চালিয়েছে একদল ডাকাত। আজ সোমবার সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। 


ডাকাতদের কবলে পড়ে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন। এগুলোর বেশির ভাগই সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। শতাধিক যাত্রীর কাছ থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।


ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল সড়কে যানবাহনের গতিরোধ করে যাত্রীদের জিম্মি করে। পরে তাঁদের পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়। একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, কয়েক ঘণ্টা ধরে এভাবে লুটপাট চললেও ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল ছিল না।


ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার বলেন, স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহনে লুটপাট চালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে। তাঁদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।


১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কের গহিন বনাঞ্চল এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে মোট কতটি যানবাহনে লুটপাট হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি ওসি।


একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। এরপর দুজনকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করা হয়। তাঁদের শরীর তল্লাশি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোন ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।


রবিউল ইসলামের ভাষ্য, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাতেরা ৫০ থেকে ৬০টি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে লুটপাট চালায়। বেলা তিনটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি। ঘটনার সময় সড়কে পুলিশের টহল ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


আরেকটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিম বলেন, তাঁরা তিনজন একটি অটোরিকশায় করে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে সশস্ত্র ডাকাতেরা তাঁদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তাঁদের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেওয়া হয়।


ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুল হাকিম বলেন, এ সড়কে প্রায়ই লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও অহরহ ঘটছে। অথচ যাত্রীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নেই।


ঈদগড়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেকও ডাকাতির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পাঁচ যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে অটোরিকশাটি ডাকাতদের কবলে পড়ে। এ সময় তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। জীবন বাঁচাতে তিনি চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।


ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনের ভাষ্য, আজ সোমবার সকাল ৮টা ও দুপুর ১২টার দিকে দুই দফায় এ সড়কে লুটপাট চালানো হয়। দুই দফায়  আড়াই ঘণ্টার মতো ডাকাতি চলে। তাঁদের দাবি, অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনের যাত্রীরা এ সময় ডাকাতের কবলে পড়েন।


শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৭ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আবদুল্লাহ শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। গতকাল রোববার বিকেল ৩টা থেকে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপগুলোতে উপস্থিত হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।


পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য শেখ মো. আবদুল্লাহ ভাগ্যকুল ইউনিয়নের হরিসভা কামারগাঁও, বাঘড়া মনিপাড়ার ঋষিবাড়ি, বাঘড়া বাজার দুর্গা মন্দির, মধ্য কামারগাঁও নাগর নন্দী পূজা মণ্ডপ এবং মাইজপাড়া বাবুর বাড়ি নাট মন্দিরসহ একাধিক মণ্ডপ ঘুরে দেখেন।


মণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু দুলাল দাস, সহকারি কমিশনার ভূমি  শ্রীনগর   আফরোজা তানিয়া ও শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হাফিজুল ইসলাম খানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 


পরিদর্শনকালে বাঘড়া মনিপাড়ার ঋষিবাড়ি পূজা মণ্ডপ এলাকায় গিয়ে সংসদ সদস্য জলাবদ্ধতা এবং এর কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় মণ্ডপে আগত ভক্ত ও স্থানীয়দের যাতায়াতে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে দেখে তিনি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। 


জলাবদ্ধতার বিষয়ে ক্ষোভ ও সমবেদনা প্রকাশ করে সংসদ সদস্য শেখ মো. আবদুল্লাহ বলেন, এর আগেও এলাকাটি পরিদর্শন করেছি নিচু এলাকা হওয়ায় এখানে সহজে পানি জমে থাকে যার কারণে ডেঙ্গু মশার বংশবিস্ত করে সাধারণ মানুষের বসবাস করতে চরম কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে এই এলাকার মানুষের ভোটে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েও এখনো এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে না পারায় নিজেকে নিজের কাছেই ছোট মনে হচ্ছে। 


তিনি আরও অঙ্গীকার করে বলেন, আমি কথা দিচ্ছি, অতিসত্বর এখানে আমাদের ইঞ্জিনিয়ার পাঠাবো যত দ্রুত সম্ভব এই পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, জানান সংসদ সদস্যের এই আশ্বাসে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পরিদর্শনের সময় তিনি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দকে নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশ পূজা উদযাপনের আহ্বান জানান এবং সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।