• প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৯ পিএম

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় অবৈধপথে ভারতে অনুপ্রবেশের সময় চার তরুণকে আটক করেছে বিজিবি। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের শারিয়ালজোত সীমান্ত এলাকায় তাদের আটক করা হয়। এসময় আরও তিনজন তরুণ বিজিবির ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় তেঁতুলিয়া থানায় বিজিবির পক্ষ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।


আটককৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আলীপুর লতারগাঁও এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে মো. হাফিজুল ইসলাম (২১), জেলার সদর উপজেলার বনগাঁও এলাকার মো. জাহেল মিয়ার বড় ছেলে মো. সাব্বির হোসেন (১৫) ও তার ছোট ছেলে মো. রাহান (১৩) এবং কুমিল্লা জেলার নাসির নগর উপজেলার ব্যাংগোতা ছপ্পরতোলা এলাকার মো জজ মিয়ার ছেলে মো. শিপন মিয়া (১৯)।


বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের শারিয়ালজোত বিওপি ক্যাম্পের টহল দল সীমান্তে টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় শারিয়ালজোত ফরেষ্টের ভিতর দিয়ে সীমান্তের মেইন পিলার ৪৪০ এর ২৫ নম্বর সাব পিলার এলাকা দিয়ে সাতজন বাংলাদেশী তরুণ অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশর চেষ্টা করে।


এ সময় ১৮ বিজিবির শারিয়ালজোত বিওপির টহল দলের কমান্ডার হাবিলদার মো. সেকেন্দার আলীর নেতৃত্বে টহল দল টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করেন এ সময় তারা পালানোর চেষ্টাকালে চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। তবে অন্য তিনজন পালিয়ে গেছেন। তারা কাজের সন্ধানে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল মালেক বলেন, চারজন তরুণকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে বিজিবি। তাদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলা  প্রস্তুতি চলছে।


পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস জানান, তারা ভারতে অবৈধপথে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির টহল দল তাদের ধাওয়া করে। আমরা চারজনকে আটক করতে সক্ষম হই৷ তিনজন পালিয়ে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৭ পিএম

হিমাগারে রেখে আলুর ভালো দাম পাওয়ার আশায় ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সেই আশায় এখন যেন গুড়েবালি। হিমাগার ভাড়া, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর দাম পড়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা। অথচ বাজারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৪ টাকা কেজি দরে। এতে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা লোকসানে পড়েছেন তারা।


কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমে মাঠ থেকে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে আলু কেনা বা বিক্রি হয়েছিল। পরে দাম বাড়বে এমন আশায় অনেকে আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু এখন বাজারে চাহিদা কম থাকায় প্রত্যাশিত দামে আলু বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু পড়ে থাকায় লোকসানের শঙ্কা আরও বাড়ছে।


ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি এলাকার কৃষক আরমান হোসেন বলেন, মাঠে আলুর দাম কম থাকায় হিমাগারে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম পরে দাম বাড়লে খরচ উঠে লাভ হবে। কিন্তু এখন হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে আলুর দাম ১৯ থেকে ২০ টাকা পড়েছে। সেই আলু ১৪ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বড় লোকসান হচ্ছে।


রানীশংকৈল উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ী মো. ওহাব বলেন, গত ২-৩ মৌসুমে আলু চাষ করে ও হিমাগারে আলু রেখে আমরা অনেক লসের মুখে পড়েছি। এবারোও একই অবস্থা। এতে আমার পুঁজি হারিয়ে ফেলেছি। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন। সরকার উচিত আলুর দাম সামঞ্জস্য রেখে আমাদের কৃষকদের বাঁচাতে উদ্যোগ নেওয়া।


সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে ব্যবসায়ী শামসুজ্জোহা বলেন, এ সময়ে হিমাগার থেকে প্রচুর আলু বের হওয়ার কথা। কিন্তু বাজারে চাহিদা নেই। এখনও প্রায় দুই তৃতীয়াংশ আলু হিমাগারে পড়ে আছে।  বাজারজাত করা না গেলে লোকসান আরও বাড়বে।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে।


জেলায় আলু সংরক্ষণের জন্য রয়েছে ১৯টি হিমাগার। এসব হিমাগারে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুদ রয়েছে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় ধীরগতিতে আলু বের হচ্ছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি হিমাগার মালিকরাও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।


শাহী হিমাগারের ম্যানেজার মো. আল আমিন বলেন, আলুর দাম না থাকায় হিমাগার মালিকরাও চিন্তিত। হিমাগার থেকে আলু বের না হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।




আলুর বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে হিমাগারের শ্রমিকদের উপরও। শ্রমিকরা জানান, আলু ওঠানো ও নামানোর কাজ কমে যাওয়ায় কমেছে তাদের আয়।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, কৃষকেরা লাভের আশায় আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন। বর্তমানে আগের তুলনায় দাম অনেক কম থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন।


কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, লোকসান কমাতে দ্রুত আলু বাজারজাতের পাশাপাশি রফতানির উদ্যোগ নিতে হবে। এতে হিমাগারে পড়ে থাকা আলু দ্রুত বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ পিএম

একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি আর দীর্ঘ এক যুগের বন্ধুত্বকে উদযাপন করতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এসএসসি ১৯৯৯ ব্যাচের ব্যাচভিত্তিক সামাজিক সংগঠন গৌরবোজ্জ্বল ৯৯ এর এক যুগ পূর্তি অনুষ্ঠান।


‘মোরা এক হয়ে ফুটি শতদল’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নতুন বাজার এলাকার সংগঠনের কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে তিন দিন ধরে কার্যালয়টি সাজানো হয় বর্ণিল আলোকসজ্জায়। এতে সদস্যদের মধ্যে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।


অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। পরে শুরু হয় স্মৃতিচারণ ও আলোচনা পর্ব। এতে এক যুগের পথচলায় সংগঠনের নানা কর্মকাণ্ড, অর্জন এবং বিভিন্ন চড়াই উতরাইয়ের কথা তুলে ধরেন সদস্যরা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে মতামত দেন তাঁরা।


আয়োজনে সংগঠনের সদস্যদের পরিবারের সদস্য এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।


স্মৃতিচারণ পর্বে বক্তব্য দেন গৌরবোজ্জ্বল ৯৯ এর সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান সুজন মৃধা, আব্দুল্লাহ আল নাসের, শামসুল আরেফিন শাকিল, মিঠুন পাল, মো. মাসুম বিল্লাহ ও মো. শামীম গাজীসহ অন্যরা।


পরে এক যুগ পূর্তির কেক কাটা হয়। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। সবশেষে নৈশভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এ মিলনমেলা।


আয়োজকদের ভাষ্য, গৌরবোজ্জ্বল ৯৯ শুধু একটি ব্যাচের নাম নয়, এটি দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি বন্ধন। এক যুগ পেরিয়ে সেই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই তাঁদের প্রত্যাশা।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৯ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার সময় একটি গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে গ্যারেজে থাকা ১১টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেল এবং সংলগ্ন মুদির দোকানের মালামাল ও একটি ফ্রিজ পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।


আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের মামারিশপুর এলাকায় ইদ্রিস অটো গ্যারেজে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রাতে গ্যারেজে অটোরিকশাগুলো চার্জে দেওয়া ছিল। এ সময় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গ্যারেজের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ভালুকা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।


প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ১৪ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডে গ্যারেজে চার্জে থাকা ১১টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। একই সঙ্গে পাশের মুদির দোকানের মালামাল ও একটি ফ্রিজও আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত অটো গ্যারেজটির কোনো ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় আশপাশের বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।


ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিকুর রহমান বলেন, "বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।"


মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪১ পিএম

প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণকে যৌক্তিক দাবি করে মন্তব্য করার একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার রাতে এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরপরই পুলিশ প্রশাসন এএসআই ইলিয়াস হোসাইনকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে উপজেলার রানীগাঁও বাজারে ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তে যান এএসআই ইলিয়াস। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায়।


ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে। কথা বুঝস না? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না। আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব হইব নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’


এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার ওই বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।



এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর তাকে রাতেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকেও অবগত করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  


এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মাধবপুর সার্কেল) মো. মাফিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানাব।’


নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৮ পিএম

পঞ্চগড়ে রিকশাচালক আল আমিনকে গুম করে হত্যার মামলায় পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তাকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কাজীপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তাকে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোশারফ হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পঞ্চগড়ে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার পর নিখোঁজ হন রিকশাচালক আল আমিন। পরে তার বাবা মনু মিয়া গত ১০ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় সদর থানায় গুম ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তাসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আল আমিনকে গুম ও হত্যার অভিযোগের এ মামলাসহ বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলাসহ মুক্তার বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা রয়েছে।

 


নবীগঞ্জের দিনারপুরে নিজের মাল্টা বাগানে আবুল খয়ের

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ এএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে হবিগঞ্জঞ্জের নবীগঞ্জে পাহাড়ের টিলায় কমলা ও মাল্টা চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন যুবক কামাল উদ্দিন জুবেদ। সেখানকার দিনারপুর পাহাড়ের প্রায় প্রতিটি টিলায় এখন শোভা পাচ্ছে সারি সারি কমলা ও মাল্টার বাগান। সমতল ভূমি না হলেও দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় মাল্টা ও কমলা চাষ করে নতুন এক কৃষিবিপ্লব ঘটিয়েছেন তিন উদ্যোক্তা। তারা হলেন–গজনাইপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের কামাল উদ্দিন জুবেদ, কায়স্থগ্রাম মাহমুদপুর গ্রামের আবুল খয়ের কায়েদ এবং প্রবাসী দিলওয়ার উদ্দীন। তাদের এই সাফল্য দেখে এখন এলাকার বহু যুবক ও উদ্যোক্তা পাহাড়ি টিলায় মাল্টা ও কমলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।


ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হওয়া যুবক কামাল উদ্দিন জুবেদ জানান, নিজ বাড়ির একটি টিলায় প্রায় ৩০০টি মাল্টা ও ৫০টি কমলা গাছ দিয়ে তিনি প্রথম চাষাবাদ শুরু করেন। শুরুর দিকে তিনি নবীগঞ্জ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এ বছর তিনি তিন থেকে চার লাখ টাকার ফল বিক্রি করে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেছেন। জুবেদ বলেন, কমলার ফল আসতে একটু দেরি হলেও মাল্টা এক বছরেই ফলন দেয়। সে কারণে এটি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি আরও দুটি নতুন বাগান করার পরিকল্পনা করছেন।


সবুজের ছায়াঘেরা পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ। উঁচুনিচু টিলা আর প্রকৃতির নিস্তব্ধতার মধ্যে সকাল হলেই শোনা যায় বিভিন্ন ধরনের পাখির কিচিরমিচির। এমনই অপরূপ সাজে সজ্জিত পাহাড়ি জনপদ নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর পরগনা এখন নতুন সম্ভাবনার সাক্ষী।


একই এলাকার কায়স্থগ্রাম মাহমুদপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল খয়ের কায়েদ ২০১৪ সালে শখের বশে বাড়ির পাশে ৫ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে শুরু করা এই বাগানে বর্তমানে প্রায় ৫০০টি গাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে তিনি ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন, যার মধ্যে তাঁর লাভ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। বাগান পরিচর্যাকারী হারুনুর রশিদ জানান, মালিক কায়েদ মিয়ার সাফল্য দেখে তারা আরও নতুন বাগান করার জন্য জায়গা খুঁজছেন। অন্যদিকে, প্রবাসী দিলওয়ার উদ্দীন তাঁর বাড়ির আঙিনায় ৩০০টি গাছ লাগিয়ে সফল হয়েছেন। বাণিজ্যিকভাবে আরও বড় পরিসরে মাল্টা চাষের উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি।


স্থানীয়রা জানান, জুবেদ ও কায়েদ মিয়ার বাগানগুলোর সুনাম এখন হবিগঞ্জ ও সিলেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বাগান দেখতে ও ফল কিনতে আসছেন। বাজারে যে মাল্টা পাওয়া যায় তা অনেক সময় টক হলেও এখানকার গাছের মাল্টা অত্যন্ত মিষ্টি ও সুস্বাদু। ফলে স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরাও প্রতিদিন এসে বাগান থেকে তাজা ফল সংগ্রহ করছেন।


নবীগঞ্জ উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য তোফাজ্জুল হোসেন বকুল এবং স্থানীয় শিক্ষকরা জানান, তাদের সফলতা দেখে দিনারপুর এলাকায় এখন অনেকে বেকারত্ব দূর করতে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথ তৈরি করতে মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি এসব বাগানে কাজ করে অনেক শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে।


নবীগঞ্জ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার ধনঞ্জয় দেবনাথ জানান, ব্যাংকের ঋণ নিয়ে জুবেদ স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং পুরো ঋণ পরিশোধ করেছেন। তাদের এমন সাফল্য ব্যাংকের জন্য আনন্দের।


নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফিন হাসান জানান, দিনারপুরের মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা, লেবু ও কমলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। জুবেদ মিয়ার কমলার পরীক্ষামূলক চাষও সফল হয়েছে।