সকাল ১০টা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছিল। হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কয়েকজন কর্মকর্তা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাদকসহ নানা সামাজিক সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন তারা। আলোচনার একপর্যায়ে মাদক থেকে দূরে থাকার এবং কখনো মাদক না ছোঁয়ার শপথ নেন শতাধিক শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কিশোরীগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নেশা ছেড়ে কলম ধরি, মাদকমুক্ত জীবন গড়ি প্রতিপাদ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীদের সামনে মাদকের ভয়াবহতা, মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব, সামাজিক সচেতনতা এবং মাদক থেকে দূরে থাকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকবিরোধী লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় শতাধিক শিক্ষার্থী কখনো মাদক গ্রহণ না করার শপথ নেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রসিকিউটর অর্পণ কুমার ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান সময়ে চারদিকে মাদকের ভয়াবহতা বেড়ে যাচ্ছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানাতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
দিনাজপুরের বিরল সীমান্তে রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পৃথক দুটি অভিযানে ৩০ বোতল ভারতীয় মদ ও ৫০০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ধর্মজান ও মৌচোষা বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করেন বিজিবি সদস্যরা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তপথে মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি এবং নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সীমান্তকে নিরাপদ ও মাদকমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সীমান্ত অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা চক্রকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সেলিনা গোমেজ
জন্মের দেড় বছর বয়সে দত্তক হয়ে নেদারল্যান্ডসে চলে গিয়েছিলেন সেলিনা গোমেজ। এরপর কেটে গেছে ৪৫ বছর। এখন ৪৬ বছর বয়সে জন্মদাতা মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের খুঁজতে বাংলাদেশে ফিরেছেন নেদারল্যান্ডসের এই নাগরিক। তার জন্ম কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাটে।গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশে আসার পর থেকে চকরিয়ার মালুমঘাট, খুটাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছেন সেলিনা। হাতে লিফলেট নিয়ে খুঁজছেন মা-বাবা ও স্বজনদের। তাদের সঙ্গে পুনর্মিলনের আশায় বিভিন্ন মানুষের কাছে নিজের জন্মপরিচয় ও পরিবারের তথ্য জানাচ্ছেন তিনি।
সেলিনার পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৭ জুলাই দেড় বছর বয়সে একটি ডাচ পরিবার তাকে দত্তক নিয়ে নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যায়। পুরোনো নথিপত্র থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, তার জন্মদাত্রী মায়ের নাম হেলেনা গোমেজ এবং বাবার নাম বেনেডি গোমেজ।
ইংরেজিতে কথা বলা সেলিনা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি আমার মা-বাবাকে খুঁজছি। তাদের খুব মিস করি। তাদের মনে করতে পারি না, তবে জানি আমার মায়ের নাম হেলেনা গোমেজ এবং বাবার নাম বেনেডি গোমেজ। নেদারল্যান্ডসে আমি নিজেকে একা অনুভব করি। আশা করি, মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের খুঁজে পাব।’তিনি আরও বলেন, ‘আমার জন্ম মালুমঘাটে। একজন মহিলা আমাকে দেড় বছর বয়সে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখান থেকে একটি ডাচ পরিবার আমাকে দত্তক নিয়ে নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যায়। তাদের আদর-যত্নেই আমি বড় হয়েছি। কিন্তু আমার আসল পরিবার বাংলাদেশে। আমি তাদের সঙ্গে আবার একত্রিত হতে চাই।’
পরিবারের সন্ধানে সেলিনার কাছে রয়েছে শৈশবের একটি ছবি এবং নেদারল্যান্ডসে যাওয়ার সময়কার পাসপোর্টের ফটোকপি। এসব নথি নিয়ে নিজের জন্মপরিচয় ও পরিবারের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন তিনি।
সেলিনার ভ্রমণ সহকারী রাসেল আলম জানান, পরিবারের সন্ধানে এর আগেও একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছেন সেলিনা। এবার তিনি আরও ১০ থেকে ১৫ দিন বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। এ সময় তারা একসঙ্গে তার জন্মদাতা মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের খুঁজবেন।
সেলিনা গোমেজের জন্মদাতা মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন কিংবা তার পরিবার সম্পর্কে কারও কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছেন রাসেল আলম।
কেউ তার পরিবারের সন্ধান পেলে অথবা পরিবারের কোনো সদস্যের কাছে সেলিনার বাংলাদেশে ফিরে আসার খবর পৌঁছাতে পারলে ০১৭১৮-৬০৪৩৪৭ নম্বরে ফোন অথবা (findfamily1402@gmail.com) ঠিকানায় ই-মেইল করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
৪৫ বছর পর জন্মভূমিতে ফিরে মা-বাবার সন্ধানে নেমেছেন সেলিনা। শৈশবের স্মৃতি মনে না থাকলেও পুরোনো নথিতে পাওয়া নাম ও জন্মস্থানের সূত্র ধরে আপনজনদের খুঁজে ফিরছেন তিনি।
" করবো সমবায় , গড়বো দেশ , সবার জন্য বাংলাদেশ " প্রতিপাদ্য নিয়ে লালপুরে ৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়। রবিবার ( ৮ নভেম্বর) লালপুর উপজেলা প্রশাসন ও সমবায় অধিদপ্তরের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নির্বাহী অফিসার কাজী মো: মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সমবায় অফিসার ইবনে জামান মো: ফয়জুল কবীরের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সহকারি কমিশনার ( ভূমি) মোঃ আবীর হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার প্রীতম কুমার হোড় প্রমূখ
আলোচনা সভার পূর্বেই র্যালি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিকাশ ও রকেটের এজেন্ট ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদকে (৩৯) কুপিয়ে টাকা ও মুঠোফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে এ তথ্য জানায় ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশ। এর আগে শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া গ্রামের শরিফুল আলম সোহাগ (৩৫) ও নলেয়া গ্রামের সোহেল রানা স্বপন (৩৬)।
পুলিশ জানায়, কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বির নির্দেশনায় ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ও উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাতে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ দেওয়ানের খামার এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন নুর মোহাম্মদ। তিনি বিকাশ ও রকেটের এজেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করেন। দোকানের কার্যক্রম শেষে বাড়ি ফেরার পথে নির্জন স্থানে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তাঁর মাথা ও হাঁটুতে আঘাত করে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
রাত গভীর হলেও নুর মোহাম্মদ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে বাড়ির সামনের সড়কে তাঁকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন জানান, দুজনকে গ্রেপ্তার ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া টাকা ও বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ৫০ পিস ইয়াবাসহ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে আটক যুবদল নেতা মো. মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা যুবদল। তিনি উপজেলার ৮ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদা। তিনি বলেন, মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনার পর দিন শনিবার রাতে মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে শাহেদা বেগম (৩৫), দেলোয়ার হোসেন (৩০) ও মো. মাসুদকে (৩১) গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. জাফর (৪৫) নামে আরও একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।
সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন সৈকত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাসুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন ও সদস্য সচিব নুরুল হুদা এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ছবি : সংগৃহীত
হিমাগারে আলু, অথচ ক্রেতা নেই। পাইকারিতে কমতে কমতে কেজিপ্রতি দাম নেমেছে ১১ থেকে ১২ টাকায়। কিন্তু শুধু হিমাগারে সংরক্ষণ করতেই খরচ হয়েছে ৯ টাকার বেশি। উৎপাদন ও সংরক্ষণ মিলিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ব্যয় পড়েছে ২০ টাকারও বেশি। ফলে আলু বিক্রি করলেও কেজিপ্রতি বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় লোকসান মেনে বিক্রি করতে চাইলেও মিলছে না ক্রেতা। এ অবস্থায় কুড়িগ্রাম ও রাজারহাট উপজেলার ছয়টি হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু অবিক্রীত পড়ে থাকার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হিমাগারে আলু সংরক্ষণকারী রাজারহাটের কৃষক আব্দুল্লাহ বলেন, লাভের আশায় আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। এখন কেজি ১১-১২ টাকায় বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠছে না। হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ যোগ করে লোকসান আরও বাড়ছে। রাজারহাটের চাষি রোকন মিয়া বলেন, কৃষক আলু উৎপাদন করতে ঋণ করেছেন, হিমাগারে রাখতেও খরচ হয়েছে। এখন কম দামে বিক্রি করলে ঋণের টাকা পরিশোধ করাই কঠিন হবে। কুড়িগ্রাম সদরের বাবর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফ আল মাসুদ জানান, চলতি বছর তাদের হিমাগারে ১১ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয় হাজার টন বিক্রি হয়েছে। এখনও পাঁচ হাজার টন অবিক্রীত রয়েছে। নতুন মৌসুম শুরুর আগে বাকি আলু আগামী দুই মাসের মধ্যে বিক্রি করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। রাজারহাটের এ হক হিমাগার, রাবেয়া কোল্ড স্টোরেজ এবং কুড়িগ্রাম সদরের মোস্তফা কোল্ড স্টোরেজ থেকেও একই রকম তথ্য পাওয়া যায়।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে আলু চাষ করেন। একই সময়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় সরবরাহ বেড়ে দাম কমে যায়। বর্তমানে হিমাগারে থাকা আলুর সঠিক ব্যবস্থাপনা করা গেলে বাজারদর বাড়তে পারে। এতে কৃষকদের ভোগান্তি কমবে এবং হিমাগারে থাকা আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না।