সাংবাদিকদের সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর দেখতে দেখতে ১৬ বছরে পদার্পণ করেছে নাটোরের লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাব। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক চর্চা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দুর্যোগকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে নিজেদের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে সংগঠনটি।
লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের যাত্রা শুরু হয় প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. সাহীন ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলমের নেতৃত্বে। পরবর্তী সময়ে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল মোতালেব রায়হান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। বর্তমানে সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন মো. সালাহ্ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ফারহানুর রহমান রবিন। বর্তমানে প্রেস ক্লাবটির সদস্য সংখ্যা ২৮ জন। উপদেষ্টা হিসেবে মোমিনপুর মাজার শরীফ দাখিল মাদ্রারাসার সুপার এএসএম মোকাররেবুর রহমান রয়েছেন। বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে পাশে থেকেই পরামর্শ সহযোগিতা করে থাকেন।
নির্বাচনেও ব্যতিক্রমী গণতান্ত্রিক চর্চা
লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতি। কোনো মনোনয়ন বা সমঝোতার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে একজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁর নেতৃত্বেই নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একই পদে পরপর দুইবার নির্বাচিত হলে তৃতীয়বার ওই পদে প্রার্থী হতে পারেন না। ফলে নেতৃত্বে পরিবর্তনের সুযোগ যেমন থাকে, তেমনি সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার পথও তৈরি হয়।
নির্বাচনকে ঘিরে প্রেস ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রার্থীদের পোস্টার দেখা যায়। নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের আশপাশও পোস্টার ও স্টিকারে ছেয়ে যায়। ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় লালপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন ও লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।
অনেকের কাছেই প্রেস ক্লাবের এই নির্বাচনকে ঘিরে আয়োজন জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনের আবহ তৈরি করে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আমন্ত্রণ জানানো হয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পল্লী বিদ্যুতের উপপরিচালক, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের।
প্রশাসনের সহযোগিতা, নির্বাচনে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি
লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের বিভিন্ন নির্বাচনে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করেছেন। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উম্মে বানীন দ্যুতি ও মো. মেহেদী হাসানের সহযোগিতার কথা সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মরণ হয়ে থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বও বিভিন্ন সময়ে পালন করেছেন প্রশাসন ও শিক্ষাঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। গত নির্বাচন কমিশনে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. সাদ শিবলী দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সাবেক সমবায় কর্মকর্তা মো. আদম আলী, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মৃত্তিকার সভাপতি মুনজুর রহমান মিঠু দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ পাপ্পুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রেস ক্লাবের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উপস্থিত হয়েছেন।
শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়, মানুষের পাশেও
সাংবাদিকদের পেশাগত সংগঠন হলেও লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের কর্মকাণ্ড শুধু সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছে সংগঠনটি।
বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারির সময় মানুষের মধ্যে মাস্ক বিতরণ, অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা, অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে প্রেস ক্লাবের সদস্যরা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছের চারাও বিতরণ করা হয়। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের আগ্রহ সৃষ্টি করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
১৬ বছরের পথচলায় নতুন প্রত্যাশা
একটি উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে ১৬ বছর ধরে পথচলা নিঃসন্দেহে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধ্যায়। এই সময়ে নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে, সদস্য বেড়েছে, বদলেছে সময় ও বাস্তবতা। কিন্তু সংগঠনের মূল চেতনা—সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাগত মর্যাদা এবং মানুষের পাশে থাকা—অটুট রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের এই পথচলায় গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব নির্বাচন যেমন সংগঠনের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত, তেমনি দুর্যোগ ও সামাজিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে।
সাংবাদিকতা শুধু খবর প্রকাশের কাজ নয়—সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের সংকট ও সম্ভাবনার কথাও সামনে আনা। সেই সাংবাদিকতার সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয় ঘটিয়ে আগামী দিনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্যদের।
১৬ বছরের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাব—সাংবাদিকদের সংগঠন থেকে মানুষের আস্থার একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠার প্রত্যাশায়।
ডিজিটাল মিটার পুনঃস্থাপনের দাবি
রংপুর নগরীর যে সকল বাসা-বাড়িতে ডিজিটাল মিটার অপসারণ করে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে অবিলম্বে সে সকল বাসা-বাড়ি থেকে প্রিপেইড মিটার অপসারণ করে পুনরায় ডিজিটাল মিটার সংযোগ দিতে হবে। প্রিপেইড মিটারের দুঃসহ বোঝা জনগণ আর বহন করতে করতে পারছে না।
নতুন করে আর কোনো বাসা-বাড়িতে শোষণ ও হয়রানির যন্ত্র প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা চলবে না। জনগণের অভিযোগ ও অসন্তোষ আমলে নিয়ে সরকারকে এই প্রিপেইড মিটার বাতিলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুবা জনগণের এই ক্ষোভ গণবিস্ফোরণে রুপ নেবে।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আদালত চত্বরে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ কথাগুলো বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সামগ্রিক বিষয়ে আলোকপাত করে বক্তৃতা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব এডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য আব্দুল জব্বার সরকার, এবিএম মসিউর রহমান, বিজয় প্রসাদ তপু, মাহাবুব আলম, সবুজ রায়, সানজিদা আক্তার, কনক রহমান, রেদোয়ান ফেরদৌস প্রমুখ।
বিগত ২২ জুলাই ২০২৬ ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বাদী হয়ে জেলা প্রশাসকসহ নেসকোর ৬ কর্মকর্তাকে বিবাদী করে নগরীর বাসা-বাড়ীতে প্রিপেইড মিটার প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম অবৈধ এবং বেআইনি মর্মে ঘোষণামুলক মোকদ্দমা করেন।
আজ রোববার অত্র মোকদ্দমার শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু বিবাদীগণের বরাবরে সমন জারি না হওয়ার কারণে দিনান্তর হয়। পরবর্তীতে আদালত চত্বরে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ আদালত চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আদালতের সমন জারির দায়িত্বে নিয়োজিত জারি কারকের কর্তব্য কাজে অবহেলার সমালোচনা করে জনগুরুত্বপূর্ণ মোকদ্দমায় এহেন গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ, সংবাদ সম্মেলন থেকে গণবিরোধী প্রিপেইড মিটার বাতিল, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ, বিদ্যুৎ এর দাম কমানো, বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণের তৎপরতা বন্ধ এবং গ্রাহকদের নামে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ, উল্লেখিত দাবিতে আগামীতে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের গণস্বাক্ষরসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিসহ ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
পটুয়াখালীর মহিপুর থানার আলীপুর মৎস্যবন্দর থেকে মাছ ধরতে গিয়ে গভীর সমুদ্রে ১৫ জেলেসহ এমবি মায়ের দোয়া-৬ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। তবে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারের সহায়তায় ওই ট্রলারে থাকা ১৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ট্রলারটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার গভীর বঙ্গোপসাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ট্রলারটির মাঝি মূসা জানান, সকালে আলীপুর বন্দর থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে তারা সাগরে রওনা হন। কিছুদূর যাওয়ার পর সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ঝাপটায় ট্রলারটির তলা/কাঠামো ফেটে যায়। এতে ট্রলারে পানি ঢুকে সেটি ডুবতে শুরু করে। পরে কিছুক্ষণ সাগরে ভেসে থাকার পর কাছাকাছি থাকা অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে ১৫ জেলেকে উদ্ধার করে।
ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান বলেন, ট্রলারটি মাছ ধরার জন্য সাগরে পাঠানো হয়েছিল। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর জেলেদের উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পেরেছি। ট্রলারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, গভীর সমুদ্রে ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ট্রলারটির এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ট্রলারটি উদ্ধারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উপনির্বাচনে মির্জা ফয়সল আমিনের মনোনয়নপত্র দাখিল
ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই ও বিএনপির দলীয় প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের কাছে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
এর আগে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশ নেন ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সাংবাদিকদের মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, উন্নয়নের ধারা শতভাগ অব্যাহত থাকবে। কারণ যে সরকার এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ক্ষমতায় আছে, সেই সরকারি দলের একজন প্রার্থী হিসেবে আমি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। অতএব উন্নয়নের ধারাবাহিকতা কোনোভাবেই ব্যাহত হওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনকে নিয়ে আমার প্রত্যাশা মূলত, আমার একটা স্বপ্ন আছে, আমাদের সকলেরই একটা স্বপ্ন আছে, সেই স্বপ্নগুলো আমরা পূরণ করতে চাই। আমরা দেখতে চাই ঠাকুরগাঁও একটা অসাধারণ সুন্দর, আবাসযোগ্য জনপদের ভূমি হয়ে প্রস্ফুলিত হবে।
মির্জা ফয়সল আমিন আরও বলেন, ‘এখানে মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে, এখানে বেকারদের কর্মসংস্থান হবে এখানে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ বা বৈষম্য থাকবে না। আমি সেই স্বপ্ন দেখি এবং সেই স্বপ্নের জন্য যে কাজগুলো করা দরকার সেই কাজগুলোই আমরা করতে চাই।’
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৮ অক্টোবর। আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমানে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) অনুমোদন ছাড়াই গভীর নলকূপের বরিং স্থাপনের স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের অনুমোদন ছাড়াই গভীর নলকূপে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের বদি মাঝাপাড় গ্ৰামের মমিনুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, রনচন্ডী ইউনিয়নের বদি মাঝাপাড়া গ্ৰামের আনারুল ইসলামের ছেলে কামরুজ্জামান বিটিশ তার চাষাবাদী জমির এলাকায় বিএডিসির অনুমোদন ছাড়াই গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপ ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই এলাকায় পাশাপাশি ৪ থেকে ৫টি অগভীর নলকূপ ইতোমধ্যে চালু রয়েছে, যেগুলো বিএডিসি কর্তৃক অনুমোদিত।
অভিযোগকারী আরও জানান, গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য বগুড়া থেকে পাইপ ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে একটি টাওয়ার নির্মাণের কাজ চলমান।
অভিযোগকারী মমিনুর রহমান বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনুমোদন না দেওয়া বা কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), পানি উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বশীলদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কামরুজ্জামান বিটিশের কাছে অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অনুমোদন না পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন কার অনুমতি নেব, আমার অনুমতির প্রয়োজন নেই।”
এবিষয়ে নীলফামারী জোনাল অফিসের সহকারী প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান বলেন, নিয়মের বহির্ভূত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একটি বিদায় যে কতটা গৌরবের, কতটা ভালোবাসার এবং কতটা আবেগঘন হতে পারে, তার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত দেখল চুয়াডাঙ্গাবাসী। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী সিনিয়র শিক্ষক হাফিজুর রহমান দীর্ঘ ১৯ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে এক রাজকীয় ও অভূতপূর্ব বিদায় সংবর্ধনা পেলেন। তাঁর এই বিদায়লগ্নে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা চুয়াডাঙ্গার ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অনন্য মিছিল যে শিক্ষক দুই দশক ধরে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনের প্রথম পাঠের আলো জ্বেলেছেন, তাঁর বিদায়ের ক্ষণটিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে কোনো কমতি রাখেনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদায়ের শেষ দিনে প্রিয় শিক্ষককে শুধু মুখের কথায় বিদায় জানানো হয়নি; বরং চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সরকারি গাড়িটিকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। সেই সুসজ্জিত গাড়িতে চড়ে, পাশে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে নিজের শেষ কর্মস্থল ত্যাগ করেন শিক্ষক হাফিজুর রহমান।
প্রিয় শিক্ষককে তাঁর নিজ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তৈরি হয় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এক রাজকীয় শোভাযাত্রা। অশ্রুসিক্ত চোখে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ হেঁটে ও গাড়ির বহর নিয়ে এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। ফুল আর ভালোবাসায় মোড়ানো এই বিদায়যাত্রা সাধারণ পথচারীদেরও গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
শিক্ষা অফিসারের অনন্য মানবিকতা শিক্ষকের প্রতি এই অসামান্য সম্মান প্রদর্শনের মূল কাণ্ডারি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনিসুর রহমান। তিনি নিজেই তাঁর ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি দিয়ে বিদায়ী শিক্ষক ও তাঁর পরিবারকে সসম্মানে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে মহানুভবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এক প্রতিক্রিয়ায় জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনিসুর রহমান বলেন, "একজন শিক্ষককে এভাবে সম্মান জানানো বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই ধরনের আয়োজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতাকে উজ্জ্বল ভাবে মেলে ধরে । এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষকদের প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল হতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।"
কর্মজীবনের সমাপ্তি, সম্পর্কের নয় টানা ১৯ বছর ধরে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করা শিক্ষক হাফিজুর রহমানের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মজীবনের সমাপ্তি ঘটলেও, শিক্ষার্থীদের হৃদয় থেকে তাঁর স্থান যে কখনো মুছে যাবে না, এই বিদায় বেলাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। গাড়ি আর পায়ে হাঁটা পথের সেই এক কিলোমিটারের আবেগঘন পথচলা কেবল একটি বিদায়যাত্রা ছিল না; তা ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর চিরন্তন ভালোবাসা, গভীর শ্রদ্ধা আর অমলিন কৃতজ্ঞতার এক অনন্য মহাকাব্য।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ১৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি ও পাঞ্জাবির একটি চালান জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভাণ্ডারিয়া-কাঁঠালিয়া সড়কের আমান উল্লাহ কলেজের সামনে অভিযান চালায় ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ। এ সময় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে আনা বিভিন্ন ধরনের শাড়ি ও পাঞ্জাবি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা কাপড়ের আনুমানিক মূল্য ১৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানার কাকডাঙ্গা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ আলী শিকদারের ছেলে মো. বাকি বিল্লাহ সিকদার (৫৫), বরিশালের মুলাদী থানার গাছুয়া ইউনিয়নের চর কালেখা গ্রামের সেলিম বেপারীর ছেলে মো. শামীম বেপারী (৪৫) এবং শরীয়তপুরের ডামুডা থানার কুলকুড়ি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাচ্চু সরদারের ছেলে মো. সিয়াম সরদার (১৯)।
পুলিশ জানায়, চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে আটক তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।