ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১১ পিএম

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় থানার ওসি কক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়ার জেরে থানা ফটক ও পাশের ট্রাফিক পুলিশ বক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে একদল কর্মী-সমর্থক এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ।


এ ঘটনায় গতকাল সোমবার রাতে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুক্তাগাছা থানায় প্রথমে কথাকাটাকাটি ও পরে রাত ১০টার দিকে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম আরিফ রব্বানী টুটুল। তিনি মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পৌরসভার ঈশ্বরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আরিফ রব্বানী টুটুল থানায় গিয়ে ওসির কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করেন। এ সময় অন ডিউটি কনস্টেবল বকুল মিয়া তাঁকে জানান, ভেতরে কর্মকর্তা একটি জরুরি বৈঠক করছেন এবং তাঁকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরিফ রব্বানী টুটুল কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের সঙ্গে উচ্চবাচ্য শুরু করেন। হট্টগোল শুনে ওসি কামরুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ওসির সঙ্গেও বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ওই বিএনপি নেতা। পরে উপস্থিত যুবদলের কয়েকজন কর্মী আরিফ রব্বানী টুটুলকে বুঝিয়ে থানার বাইরে নিয়ে যান।


পরে রাত ১০টার দিকে আরিফ রব্বানী টুটুলের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় থানা চত্বরে আসেন। তারা থানার প্রধান ফটক এবং পাশের একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা চালিয়ে জানালার কাচ ভাঙচুর করেন ও লোহার রড বাঁকা করে ফেলেন। খবর পেয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা ফটকের দিকে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে সরে যান।


এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার দিকে একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রসহ থানার দিকে আসতে দেখে আমি ওয়্যারলেসে খবর পাঠাই। তারা থানার গেট ও ট্রাফিক বক্সে আঘাত হেনে ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হামলায় অংশগ্রহণকারীদের নাম পরিচয় শনাক্ত করে মামলা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি, তবে অভিযান চলছে।


হামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে মামলার প্রধান আসামি মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ রব্বানী টুটুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। এই মামলায় দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে তাঁর ছেলে উপলকে। 


মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, শুনেছি আরিফ রব্বানী টুটুল একটি অভিযোগ দিতে থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে বাগ্‌বিতণ্ডার খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু লোক জড়ো হয়। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।


ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, থানায় হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। যদি দলীয় কেউ এতে জড়িত থাকে, তবে সাংগঠনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওসির কক্ষে প্রবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১৩ এএম

ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের দুধ খেয়ে অর্ধশত শিক্ষার্থী হাসপাতালে ।


জানা যায় যে,দুপুরের টিফিনে মিড-ডে মিলের খাবারের সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল প্যাকেটজাত দুধ। দুধ খাওয়ার পরপরই একে একে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়। কেউ কেউ বিদ্যালয়েই বমি করে। পরে অভিভাবকদের খবর দেওয়া হলে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।


ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সোমবার এদিন দুপুরের এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


বিদ্যালয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুরে শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের খাবারের সঙ্গে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের সরবরাহ করা প্যাকেটজাত দুধ দেওয়া হয়। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ওই দুধ পান করার পর কয়েকজনের পেটব্যথা শুরু হয়। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী বমি করতে শুরু করে।


অসুস্থ শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানায়, দুধের স্বাদ তিতা ছিল। দুধ খাওয়ার পরই তাদের পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়। পরে বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানানো হয়।


পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, দুধ খাওয়ার পর থেকেই আমাদের পেটব্যথা শুরু হয়। অনেকেই স্কুলেই বমি করেছে। দুধটি তিতা লাগছিল এবং নষ্ট হয়ে গেছে মনে হচ্ছিল।


আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা দুধের স্বাদ ভালো না লাগার কথা স্যার ও ম্যামকে বলেছিলাম। এরপরও দুধ খেতে বলা হয়। দুধ খাওয়ার পর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে।


পরে বিদ্যালয় থেকে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়। অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে এসে তাদের সন্তানদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, বাচ্চাদের নষ্ট দুধ দেওয়া হয়েছে, যে কারণেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।


বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার নিশাত রায় বলেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত অর্ধশত শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই বমি করেছে, অনেকের পেটের পীড়া হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের সেবা দিচ্ছেন।


মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন বলেন, বাচ্চারা দুধ খাওয়ার সময় জানায় যে স্বাদ টক লাগছে। পরে প্যাকেট খুলে দেখি দুধ নষ্ট হয়ে দইয়ের মতো হয়ে গেছে। তবে নিষেধ করার আগেই অনেকে দুধ খেয়ে ফেলে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে মোট ১২৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছুটি হয়ে যাওয়ায় তারা রক্ষা পেয়েছে। দুপুরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই দুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরাও এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।


​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাফি চৌধুরী বলেন, প্যাকেটের গায়ে দুধের মেয়াদ ঠিকই ছিল, তবে ভেতরের দুধ যে নষ্ট হয়ে গেছে, তা বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না। দুধ খেয়ে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।


তবে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় খাবার বিতরণের দায়িত্বে থাকা আবু হেলাল বলেন, ওই বিদ্যালয়ে আমরা ১২২টি প্যাকেট দুধ সরবরাহ করেছি। পরে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। কী কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সরবরাহ করা দুধ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 


এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে স্থানীয় প্রশাসনসহ আমরা সার্বিক তদারকি করছি। 



  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৩ এএম

মসজিদের ভেতর সোফা, চেয়ার ও টেবিল বসিয়ে রাজনৈতিক দলীয় কর্মসূচি পালনের অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা ভিপি আইনুল হক, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা দুলাল খান এবং তাড়াশ উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা শামসুল হকের বিরুদ্ধে।




স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র মসজিদ প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক ব্যানার টানিয়ে, সোফা ও চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে এই দলীয় সভা আয়োজন করা হয়। একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ের ভেতরে এ ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় সাধারণ মুসল্লিরা জানান, মসজিদ হচ্ছে আল্লাহর ঘর এবং এবাদত-বন্দেগির পবিত্র স্থান। সেখানে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ও অনুচিত। দলীয় কার্যালয়ের মতো সোফা-চেয়ার বসিয়ে সভা করায় মসজিদের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে ক্ষোভ জানান তারা।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকলকে রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে মসজিদকে দূরে রাখার দাবি জানিয়েছেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩৭ এএম

নোয়াখালী সদর উপজেলায় অটোরিকশায় চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. বোরহান উদ্দিন ওরফে রিপন (২৮) নামের এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।


সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব চর উরিয়া গ্রামের খলিল মিয়ার দরজার হোরন মিয়ার রিকশা গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।


নিহত রিপন ওই গ্রামের মো. মিলনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন।  


পুলিশ জানায়, সারাদিন অটোরিকশা চালানোর পর রাতে গ্যারেজে ফিরে রিপন নিজের অটোরিকশায় চার্জ দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুত্বর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।  


সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউচারউজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিষয় :


অধ্যক্ষের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ মানববন্ধন

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ পিএম

ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ছাত্র শিক্ষকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। আজ সোমবার বেলা ১১ টায় নাজিউর রহমান কলেজের সামনে ভোলা- ইলিশা সড়ক প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করা হয়। এসময় পরাণগঞ্জ কবি মোজাম্মেল হক মহিলা কলেজ, হালিমা খাতুন গার্লস স্কুল, পরাণগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পরাণগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। 


এসময় বক্তারা বলেন, গতকাল রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোলার মনপুরা উপজেলা মসজিদে এশার নামাজ আদায় করতে গেলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন এর উপর হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা।


অতিদ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হব বলে জানিয়েছেন বক্তারা। 


এসময় বক্তব্য রাখেন, নাজিউর রহমান কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ হেলাল উদ্দিন, কামাল হোসেন শাহীন, জুন্নু রায়হান, কাচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট মো: ইউছুফ, কাচিয়া ইউনিয়ন বিজেপির সহ সভাপতি আলমগীর মেম্বার, পরাণগঞ্জ কবি মোজাম্মেল হক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, হালিমা খাতুন গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক টিপু সুলতান, পরাণগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ বেলায়েত হোসেন, ছাত্রনেতা মাহি, সুমন, মনজু প্রমূখ।


  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজের অধ্যক্ষ সুনীল কুমার বণিক এর সভাপতিত্বে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম।


কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজের প্রভাষক অন্তর হোসেন রানা ও নুসরাত জাহান মুনার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারী কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের অধ্যক্ষ আতাউর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান খান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাহিদা খাতুন।




কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ নবীনবরণে নতুন শিক্ষার্থীদের ফুল ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অতিথিরা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষাজীবনে নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য মনোযোগী হয়ে শিক্ষা গ্রহণ এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।


এসআই ফরহাদ মাতুব্বর

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০৫ পিএম

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ফরহাদ মাতুব্বরকে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলার ১৮৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি বর্তমানে কুলাউড়া থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় সেকেন্ড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরই মধ্যে একটি পিকআপ গাড়ি আটকের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। 


প্রতিবেদকের হাতে থাকা সংশ্লিষ্ট এজাহার পর্যালোচনায় দেখা যায়, পল্টন থানায় দায়েরকৃত মামলায় ১নং আসামী দেশ পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ এজাহারনামীয় ১৮৪ নম্বর আসামি হিসেবে এসআই ফরহাদ মাতুব্বর (বিপি নং- ৮৯১৭২০১৮৪৫) এর নাম রয়েছে। এজাহারে ১৪৩/১৪৪/১৪৯/৩৪২/৪২৭/৩৮৪/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩০২/১০৯/১১৪ ধারাসহ অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া হত্যা, ককটেল বিস্ফোরক ঘটানো ও সহায়তা করার অপরাধে এ মমালা রুজু করা হয়। এজাহারে তার কর্মস্থল হিসেবে পল্টন মডেল থানার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মামলার এজাহারে নাম থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পরবর্তীতে কুলাউড়া থানার সেকেন্ড অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


রিমান্ডে এর নামে জুলুম ও নির্যাতন :  ফরহাদ মাতুব্বর পল্টন থানায় উপ-পরিদর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিএনপি‘র অনেক নেতাকর্মীকে রিমান্ডে এর নামে জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ জাযুঘর ভাঙচুরের মামলায় বিএনপি‘র তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স-কে রিমান্ডে এনে হয়রানী ও নির্যাতন করেন।


পিকআপ আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ : অন্যদিকে, গত ৫ সেপ্টেম্বর-২০২৬ কুলাউড়া থানায় একটি পিকআপ ঢাকা মেট্রো- ন- ১২-৪৭০১ গাড়ি আটকের ঘটনায় এসআই ফরহাদ মাতুব্বরের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে।


সূত্রে প্রকাশ- পিকআপটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য এসআই ফরহাদ প্রথমে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।


অভিযোগটি সত্য হলে, একজন মামলার এজাহারনামীয় আসামি পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মামলার বিষয়টি কি কর্তৃপক্ষের জানা ছিল?


প্রশ্ন উঠেছে- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে নাম থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে কুলাউড়া থানার সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্ব দেওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য যাচাই করা হয়েছিল কি না। এছাড়া মামলার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানা থাকলে তাকে গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব দেওয়ার যৌক্তিকতাই বা কী? এমন প্রশ্নও উঠেছে।


যা বললেন এসআই ফরহাদ : অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুলাউড়া থানায় কর্মরত এসআই ফরহাদ মাতুব্বর বলেন, মতিঝিল ও পল্টন থানায় দায়িত্ব পালন করেছি। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় ১৮৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার একটা জরুরি ফোন আসছে। আপনার সাথে পরে কথা বলবো।” 


এরপর তিনি আর কোনো বক্তব্য দেননি।


পুলিশের বক্তব্য : এ বিষয়ে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের মুঠোফোনে বলেন, “উনার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। উনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন- “ঘুষের টাকা লেনদেনের বিষয়টি সত্য হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার আসামির বিষয়টি আমার জানা নেই।”


সব মিলিয়ে, একদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় ১৮৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে নাম, অন্যদিকে দায়িত্ব পালনকালে পিকআপ আটকে ঘুষ দাবির অভিযোগ, দুটি বিষয়ই এখন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বসহকারে তদন্তের দাবি রাখে।