প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৪ পিএম

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত ও সুন্দরবনের অপার সম্ভাবনা ও মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে কয়েকটি সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও মোংলা সফরে আস‌ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, আগামীকাল সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরবনের উদ্দেশে রওনা হয়ে সকাল ১০টায় আকাশপথে হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করে সেখান থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নামবেন প্রধানমন্ত্রী। 

সড়কপথে স্থানীয় লঞ্চঘাটে গিয়ে নৌপথে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে তাঁর। দুপুর নাগাদ বানৌজা মোংলা জেটিতে পৌঁছে ওয়ার্ডরুমে মধ্যাহ্ন বিরতির পর পৌনে ২টায় সেখানকার সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রশাসনিক সভায় অংশ নিয়ে বিকেলে মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও জেটি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকা ঘুরে দেখার কথা রয়েছে তাঁর। খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিকেল ৫টা নাগাদ ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান জানান, এটি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর হলেও স্থানীয় মানুষ তাকে এক নজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।


সরকারি তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা সফরসঙ্গী হিসেবে থাকার পাশাপাশি স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে সব ধরনের নিরাপত্তা সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু জানান, স্থানীয়ভাবে সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


জেলা প্রশাসক খুলনা- হুরে জান্নাত জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ ইতোমধ্যে চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে।


এ ব্যাপারে খুলনা পুলিশ সুপার ড. ওমর ফারুক সরকার দাকোপের নলিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ সব ধরনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর আগমনে বিশেষ নিরাপত্তা ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে বলে জানান খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ও সুন্দরবন পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা।


সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ, বন্দর ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন, এক সফরে যুক্ত হচ্ছে এই অঞ্চলের প্রকৃতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ তিন ক্ষেত্র। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর খুলনা ও মোংলা অঞ্চলে বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতে নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।



আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন কাউখালীর রেহনুমা কামাল

পাবলিক স্পিকিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয়; টানা দুই বছর SAFA-ICAB প্রতিযোগিতায় সাফল্য


রেহনুমা কামাল

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৮ পিএম

পাবলিক স্পিকিংয়ে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে South Asian Federation of Accountants (SAFA)-ICAB Quiz, Public Speaking & Essay Competition 2026-এর পাবলিক স্পিকিং বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার রেহনুমা কামাল। গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালে ১৪০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে কৃতিত্বপূর্ণ এই অবস্থান অর্জন করেন তিনি। এর ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী প্রতিযোগীদের একজন হিসেবে নেপালে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় Institute of Chartered Accountants of Bangladesh (ICAB)-এর প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন রেহনুমা।


এর আগে ২০২৫ সালের একই প্রতিযোগিতায় পাবলিক স্পিকিং বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১৮ জুলাই বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত SAFA পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়ও ICAB-এর প্রতিনিধিত্ব করেন রেহনুমা। একই প্রতিযোগিতায় পরপর দুই বছর জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থানীয় সাফল্য তাঁর বক্তৃতাদক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের পরিচয় বহন করে।


রেহনুমা কামালের শিক্ষাজীবনও সাফল্যে সমৃদ্ধ। PSC ও JSC পরীক্ষায় জিপিএ-৫সহ উভয়টিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তিসহ ইজিএস শিক্ষা নিকেতন  থেকে এস এস সি পরিক্ষায় ২০২০খ্রি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও ট্যালেন্টপুল বৃত্তিসহ উপজেলায় প্রথম স্থান এবং এইচ এস সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি স্কুলজীবন থেকেই বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রথম পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে নিজের বাগ্মিতা, আত্মবিশ্বাস ও উপস্থাপনা দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।


বর্তমানে রেহনুমা কামাল MMSC Chartered Accountants-এ আর্টিকেলশিপ করছেন। 


২০২৫ DRC Inter-Firm Debate Competition-এ অংশ নেন রেহনুমা। সেটিই ছিল তাঁর প্রথম বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে যুক্তিনির্ভর বক্তব্য উপস্থাপন, নিজের মতামত সুসংগঠিতভাবে প্রকাশ এবং অন্যের বক্তব্য বিশ্লেষণের সুযোগ করে দেয়। একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সহায়তা করে।


রেহনুমার প্রিন্সিপাল চান, তিনি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দ্রুত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করুন। পেশাগত শিক্ষা ও ব্যক্তিগত দক্ষতা বিকাশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়াই তাঁর প্রতি প্রত্যাশা, ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান এবং ২০২৬ সালে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে রেহনুমার সামনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের দক্ষতা তুলে ধরার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। নেপালে অনুষ্ঠিতব্য SAFA-ICAB প্রতিযোগিতায় ICAB-এর প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তাঁর অর্জনের ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন।


রেহনুমা কামালের সাফল্য পেশাগত শিক্ষার পাশাপাশি বক্তৃতা, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরে। শিক্ষাজীবনে বৃত্তি অর্জন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল, বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সির পেশাগত প্রস্তুতি- সব মিলিয়ে তাঁর পথচলা তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।


কাউখালী উপজেলার এই কৃতী তরুণীর অর্জনে স্থানীয় পর্যায়েও আনন্দ ও গর্বের উপলক্ষ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখবেন- এমন প্রত্যাশা তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের।


  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪১ পিএম

রংপুরে চুরি যাওয়া ৮টি মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা হলো, মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য শাহিন মিয়া, শিমুল মণ্ডল, মিলন মিয়া, হাসান মিয়া, রাশেদ প্রধান ও  রাসেল মিয়া। 


আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


তিনি জানান, গত ৫ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টায় রংপুর নগরীর আলহাজ নগর দর্শনা এলাকার আব্দুল ওহাবের বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গোলাম রব্বানী তাজহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 


মামলাটির তদন্তের অংশ হিসেবে তাজহাট থানা পুলিশ রংপুর নগরীরসহ পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর উপজেলা ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৫ জনকে গ্রেফতার করে এবং বাদীর চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলসহ মোট পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে গ্রেফতারকৃতদের তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। 


তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ অক্টোবর রাতে পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেল মিয়া নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরও তিনটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।


তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার রাসেল মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। 


সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বুধবারের মধ্যেই পর্যটন এলাকা ত্যাগ করার অনুরোধ

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৩ পিএম

তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া এবং প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে আবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন।


আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।


পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধ এবং শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে এ সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি।


সেদিন বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক মো. সালমান ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে শর্তসাপেক্ষে অবরোধ স্থগিত করা হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর আবারও অবরোধ পালন করা হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়।


যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা অভিযোগ করেন, জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো আগের অবস্থানে রয়েছেন।


শতাধিক সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতার কারণে জুমচাষীরা নিজেদের জমিতে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কার করতে যেতে পারছেন না।


বিবৃতিতে আরো অভিযোগ করা হয়, সেনাবাহিনীর অভিযান কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের হয়রানি করা হচ্ছে।


নেতারা বলেন, এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষা এবং সশস্ত্র সদস্যদের তৎপরতা বন্ধে তাঁদের কথিত অবস্থান থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।


এদিকে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বুধবারের মধ্যেই পর্যটন এলাকা ত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি। বিবৃতিতে বলা হয়, অবরোধ চলাকালে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী যান এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। 


জালালাবাদ থানার এএসআই (নি.) উদয়ন ফারুক। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৭ পিএম

পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব ছেড়ে পুলিশের পোশাক পরেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার ঘটনায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানার এএসআই (নি.) উদয়ন ফারুককে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।


গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি উত্তর) সাইফুল ইসলাম।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে সিলেট নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আখালিয়া নতুনবাজারস্থ ব্রাহ্মণশাসন সার্বজনীন পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন জালালাবাদ থানার এএসআই উদয়ন ফারুক। এ সময় পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার দায়িত্ব ছেড়ে পুলিশের ইউনিফর্ম পরেই গান পরিবেশন করেন তিনি। তার গান গাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) সাইফুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য জালালাবাদ থানার সহকারী কমিশনারকে (এসি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:০৩ পিএম

নাটোরের লালপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। উপজেলার ৪৬টি পূজামণ্ডপে পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসাহ ও ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।


এবার লালপুরে গত বছরের তুলনায় পাঁচটি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। নতুন পাঁচটি মণ্ডপ হলো-গোপালপুর পৌরসভার শিবপুর, সিরাজীপুর, ঈশ্বরদী ইউনিয়নের শিবনগর, আড়বাব ইউনিয়নের বড় বাহাদিপুর এবং কদিমচিলান ইউনিয়নের ঘাটচিলান।




গোপালপুর পৌরসভায় আটটি, লালপুর ইউনিয়নে ছয়টি, ঈশ্বরদী ইউনিয়নে চারটি, আড়বাব ইউনিয়নে পাঁচটি, চংধুপইল ইউনিয়নে চারটি, বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নে তিনটি, দুয়ারিয়া ইউনিয়নে তিনটি, ওয়ালিয়া ইউনিয়নে ছয়টি, দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নে চারটি, অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়নে একটি এবং কদিমচিলান ইউনিয়নে দুটি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়।


লালপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কুমার কর্মকার বলেন, আমরা সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রতিমার বিসর্জন দেয়া হয়েছে। 


লালপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, “এবারের দুর্গাপূজা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল।”


পূজা উপলক্ষে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।


এছাড়া লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ আবীর হোসেন পূজা মন্ডপ গুলো পরিদর্শন করেছেন।


উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রশাসনের তৎপরতায় পূজা উদযাপন এবং প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।


দুর্গাপূজা

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৯ পিএম

সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় পূজা দুর্গাপূজা। শরৎকালে প্রতিবছর দুর্গাপূজা করবে আশায় বুক বেঁধে রাখে সনাতনী হিন্দুরা দুর্গোৎসব উদযাপন করবে। এবারও তার কোন ব্যতিক্রম হয়নি। সনাতনী হিন্দুদের আশ্বিন মাস এলেই মনে একটি  দুর্গাপূজার আমেজে মন ভরে থাকে। এক বছর অপেক্ষার পর ১৬ অক্টোবর হতে দুর্গোৎসব এ বছর শুরু হয়। আজ ২১ অক্টোবর দেবীর বিসর্জন দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে দুর্গোৎসবের।


কথায় কথায় জানা যায়, সবার মনে একটি প্রশ্ন কেমন হলো এবছর দুর্গোৎসব। বেশ কয়েকজন সনাতনী হিন্দু মন খুলে বলেন, এবছর গত কয়েক বছরের মধ্যে পলাশে দুর্গোৎসব সবচেয়ে সুন্দর ভাবে উদযাপিত হয়েছে। আনন্দ উচ্ছাস নিরাপত্তা শৃঙ্খলা ছিল চোখে পড়ার মত। প্রশাসন ও জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলে সহযোগিতা করেছে একটি সুন্দর সুশৃংখল আনন্দমুখর দুর্গোৎসব উদযাপনের জন্য।


ঘোড়াশালের আনন্দ দেবনাথ বলেন এবার মন ভরে মনের মত, একটি দুর্গাপূজা করলাম। ভিরিন্দার শান্তনু পাল তিনি বলেন এবার দুর্গোৎসব হয়েছে সেই রকম। আতশি পাড়ার সুকুমার ভদ্র বলেন গত কয়েক বছরে দুর্গোৎসব এমন সুন্দর হয়নি। কুড়ায় তলির অপু সেন  জানান, এবার আমরা দুর্গাপূজায় আনন্দ করেছি, মন ভরে মায়ের পূজা করেছি। পাইকসার সরোজ কুমার দেবনাথ বলেন পলাশে এবার মনের মত করে পালন করেছি দুর্গাপূজা। ডাঙ্গার হৃদয় ঘোষ জানান এবার পূজায় আনন্দ করেছি অভূতপূর্ব। 


পলাশ বাজার দুর্গাপূজায় দেখতে আসা শিউলি, আরতি, শিলা, অনুরাধা হাসিমুখে বলেন, স্বামী সন্তান নিয়ে বেশ কয়েকটি দুর্গা মন্ডপে আমরা গিয়েছি এবং খুবই আনন্দ খুবই আনন্দ পেয়েছি, যা অতুলনীয়।


বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কুমুদ রঞ্জন দেবনাথ বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এত সুন্দর সুষ্ঠু সুশৃংখল দুর্গোৎসব নিরাপত্তা বহুল দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়নি। 


বিশেষ করে পলাশ বাজার দূর্গা মন্ডপে আসেন পলাশের প্রাণপ্রিয় নেতা এলজিআরডি মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান স্যার ও বিএনপি'র নেতৃবৃন্দ।  মন্ত্রীর আগমনে অত্যন্ত খুশি হয় সনাতনীরা। আবার পূজা পরিদর্শনে আসেন, পলাশের প্রিয় ব্যক্তিত্ব জনপ্রিয় দৈনিক সংবাদের সম্পাদক আলতামাস কবির।পলাশের সুপরিচিত সংবাদ সম্পাদক আলতামাস কবির মহোদয় কে পেয়ে খুশি হন সনাতনীরা। 


এদিকে মন্ত্রী মহোদয়ের হৃদয় কাড়া বক্তব্য সনাতন ধর্মালম্বীদের মন ছুয়ে যায়। তাছাড়া সরকারের সুন্দর উদ্যোগ প্রশাসনের সহযোগিতা, এলাকাবাসীর সহযোগিতা আমাদের মন জয় করেছে। তিনি আরো বলেন, গত কয়েক বছর দুর্গাপূজার সময় বৃষ্টি হয়েছে, এতে পূজার আনন্দ অনেকটা বিঘ্নিত হয়েছিল। এবার কিন্তু আবহাওয়া  ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও নির্মল, কোন বৃষ্টি বাদল হয়নি। তাই পূজার আনন্দ ছিল অভূতপূর্ব। উল্লেখ্য পলাশে এবার গতবার চেয়ে পাঁচটি পূজা বেশি হয়েছে। এবার পলাশে মোট ৪৬ টি দূর্গা মন্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছে।


পলাশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসিত দাস ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দত্ত সার্বক্ষণিক ৪৬টি পূজা মন্ডপে আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা করার জন্য তদারকি করেছেন। সভাপতি অসিত দাস ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দত্ত সংবাদকে বলেন, আমরা গত গত ১০-১২ দিন ধরে সর্বক্ষণ প্রতিটি পূজা মন্ডপের সভাপতির সেক্রেটারি সাথে যোগাযোগ রেখেছি। সুশৃঙ্খল পূজা উদযাপনের জন্য আমরা নরসিংদী জেলা প্রশাসক মহোদয় ও এস পি মহোদয়ের সাথে সভা করেছি। তাছাড়া পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর সাথে সভা করেছি।


সরকারের দেওয়া অনুদান সুষ্ঠুভাবে প্রতিটি মন্ডপে  বিতরণ করা হয়েছে । বিএনপি যুবদল ছাত্রদল স্বেচ্ছা সেবক দলের নেতৃবৃন্দ সর্বদা পাশে ছিল এবং সহযোগিতা করেছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মত।এক কথায় পলাশের সনাতনী হিন্দুরা এবারের পূজায় সর্বোচ্চ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।আজ বিকেলে বিসর্জনের  মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজা প্রাপ্তি ঘটবে।