• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৬ পিএম

জেন-জি বিক্ষোভ সামলাতে রাজধানী জাকার্তায় সাড়ে ৯ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।


জাকার্তা শহর পুলিশের মুখপাত্র বুদি হেরমান্তো সাংবাদিকদের জানান, অন্তত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর একাধিক স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন। ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ সাম্প্রতিক দাবানল, শেয়ার বাজারের পতন এবং রূপিয়ার অবমূল্যায়নসহ জাতীয় অর্থনীতির ভঙ্গুরতার বিরুদ্ধে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। 


এছাড়া পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস রাজধানীর এক স্মৃতিসৌধে ব্যানার টাঙিয়ে জলবায়ু সংকট মোকাবেলা ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবি জানিয়েছে। দেশটির সাবেক জেনারেল প্রাবোও সুবিয়ান্তো ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তিনি নির্বাচিত হলেও তার জনতুষ্টিবাদী বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ফলে জনগণ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারাচ্ছেন তিনি।


সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিং (এসএমআরসি)-এর জরিপ অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে তার জনপ্রিয়তার হার ৮১.২ শতাংশ থাকলেও চলতি মাসে তা ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৪.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এর আগে ২০২৫ সালে একজন মোটরবাইক চালক পুলিশি হামলায় নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং পরবর্তীতে গত আগস্টেও ব্যাপক বিক্ষোভ থেকে শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।




যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার মাল্টিরোল ড্রোন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম

হরমুজ প্রণালির উপরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে বলে দাবি আইআরজিসির।


ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক বিবৃতির বরাতে ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোররাতে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে।


বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, তাদের মহাকাশ বাহিনীর পরিচালিত একটি নতুন, অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে হরমুজ প্রণালির উপরে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনীর’ ড্রোনটিকে শনাক্ত করার পর ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে এই বাধা প্রধান ও ধ্বংস করার ঘটনাটি ঘটেছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।


মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা পরিষেবার এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত আকাশযান ও ড্রোনের সংখ্যা অন্তত ৮১টি, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার।


বিরল এই দাপ্তরিক তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো বিমানগুলোর মধ্যে এফ-৩৫এ লাইটনিং টু ষ্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ জঙ্গিবিমান এবং এমকিউ-৯ রিপারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ছিল।


এই প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার মাল্টিরোল ড্রোন হারিয়েছে। এই এমকিউ-৯ রিপারের প্রতিটির মূল্য তিন কোটি থেকে পাঁচ কোটি ডলার।


এখন আইআরজিসির আরেকটি ড্রোন ধ্বংসের দাবি সত্য হলে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো এমকিউ-৯ রিপার মাল্টিরোল ড্রোনের সংখ্যা ৪৬টি হবে।


চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ এখন হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন জাহাজে দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে।


যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ প্রায় কার্যকরভাবে বন্ধ করে রেখেছে। এর পাল্টা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে মার্কিন নৌবাহিনী।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১০ পিএম

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসেব অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। তবে রমজান ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখ সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে।


সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাদ্যম গালফ নিউজ এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, হিজরি বর্ষপঞ্জি চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় প্রতিবছর রমজান ১০ থেকে ১২ দিন এগিয়ে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের রমজান আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১০-১১ দিন আগে শুরু হতে পারে।


জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) রমজান শুরু হতে পারে। ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখা গেলে সেই রাতেই প্রথম তারাবি এবং পরদিন থেকে রোজা শুরু হবে। তবে চূড়ান্ত তারিখ চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভর করবে।


রমজান ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে এবং শাওয়ালের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১০ মার্চ (বুধবার) ঈদুল ফিতর হতে পারে।


ইসলামী বর্ষপঞ্জির নবম মাস রমজান মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এ মাসেই মহানবী (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল শুরু হয়। রমজানে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ধূমপান থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করেন এবং নামাজ, তিলাওয়াত, দান-সদকা ও আত্মসংযমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।


২০২৭ সালের রমজানকে সামনে রেখে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মুসলিম দেশগুলো মসজিদ ও জনসেবামূলক কাজের প্রস্তুতি নেবে। পাশাপাশি, ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ঘোষণা করবে।


জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা অনুযায়ী ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ হলেও, এর চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের ওপরই নির্ভর করে—যেটি মূলত চাঁদ দেখার বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। চলমান সংঘাত নতুন করে শুরু করা থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরত রাখার চেষ্টা হিসেবে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে তেহরান। 


গত এক মাসে ইরানের সামরিক কমান্ডাররা ধারাবাহিকভাবে নানা বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের দাবি, নতুন ধরনের বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা শুরু করলে এসব অস্ত্র দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে।


সংঘাত আবার শুরু হলে হামলার লক্ষ্যবস্তু আরও বিস্তৃত করার হুমকি দিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল বিচ্ছিন্ন করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) তথ্যকেন্দ্রে হামলা এবং আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস স্থাপনায় আঘাত হানার মতো পদক্ষেপ। গত মাসের শেষ দিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়নি। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছে।’ 


বিশ্ব অবাক হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে এমন নতুন লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেখানে এখনও হামলা চালানো হয়নি।’


এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে কোনো ‘ভুল হিসাব’ করলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি গত রোববার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই হুঁশিয়ারি দেন।


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কারাবন্দি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন তিনি।


যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইরান সফরে তেহরানে পৌঁছেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাহরাইন থেকে তেহরানে পৌঁছান তিনি। সফরে তার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।


এদিকে, কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা ফোরামে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে তার দেশ।


হরমুজ প্রণালির কাছে একটি টাগবোটে (জাহাজ টানার কাজে ব্যবহৃত নৌযান) অজ্ঞাতনামা দুটি বস্তু আঘাত হেনেছে। গত রোববার ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছে দক্ষিণ দিকে চলাচলকারী টাগবোটটি অজ্ঞাতনামা দুটি বস্তুর আঘাতের শিকার হয়েছে বলে খবর দিয়েছে।


এদিকে হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের শর্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছে ইরান। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাত দিনের সীমিত যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব তেহরান দিয়েছিল, তা এখনও আলোচনার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। রোববার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি এ কথা বলেন। খবর সিএনএন ও সিবিএস নিউজের।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০০ পিএম

ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সহিংসতা ও প্রতিবাদের মূল কারণ হিসেবে আবারও অভিবাসনকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি ইউরোপ এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে সীমান্ত কঠোরভাবে বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ৮০ বছর বয়সী রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে তার মূল কারণ অভিবাসন, অন্য কিছু নয়। তিনি বহু আগে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে সীমান্ত বন্ধের পরামর্শ দিয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে জানান এবং মন্তব্য করেন, খুব শিগগিরই প্যারিস একটি মুসলিমদের শহরে পরিণত হতে চলেছে।


গত সপ্তাহে ফ্রান্সে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলন চরম সহিংসতায় রূপ নেয়। ট্রাম্পের মতে পুরো বিশ্বের মানুষকে ফ্রান্সে অবাধে ঢুকতে দেওয়ার ভুলেই আজ এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।


ইউরোপ যদি দ্রুত সীমান্ত বন্ধ না করে এবং প্রতিবাদকারীদের মতো অপরাধীদের বের করে না দেয় তবে মহাদেশটির ভবিষ্যৎ সমাপ্ত হয়ে যাবে বলে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি জারি করেন।


সূত্র: এনডিটিভি


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্ট। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সোমবার (১৯ অক্টোবর) রয়টার্স/ইপসোস জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। চার দিনব্যাপী চালানো এই জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় ১ শতাংশ কমেছে। তার দুই মেয়াদের যেকোনো সময়ের তুলনায় এই সমর্থন সর্বনিম্ন।


জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আজ কংগ্রেস নির্বাচন হলে তারা কোন দলকে ভোট দেবেন। এ প্রশ্নে নিবন্ধিত ভোটারদের ৪৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৫ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থাৎ, ডেমোক্র্যাটরা ১২ শতাংশীয় পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।


দুই সপ্তাহ আগে একই জরিপে ডেমোক্র্যাটরা ৪৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকানরা ৩৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। সে সময় ব্যবধান ছিল ৭ শতাংশ।


নতুন এই জরিপের ফল ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আশা জোরদার করতে পারে। এই দুই কক্ষের যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে তার রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।


জরিপ অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন কমার পেছনে নারী ভোটারদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জরিপে ৫০ শতাংশ নারী ভোটার ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন জানিয়েছেন, বিপরীতে রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩২ শতাংশ। পুরুষ ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন, তবে ব্যবধান তুলনামূলক কম।


গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে থাকে। যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যার চাপ পড়েছে সাধারণ মানুষের বাজেটে।


অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের ওপর অসন্তোষ বাড়ছে। জরিপে অংশ নেয়া ৬৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে রিপাবলিকান রয়েছেন ৩৭ শতাংশ।


অর্থনীতি পরিচালনায় কোন দল বেশি দক্ষ—এমন প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৪০ শতাংশ ভোটার। রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন ৩৩ শতাংশ।


অনলাইনে পরিচালিত এ জরিপে মোট ১ হাজার ৬৭৯ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। তাদের মধ্যে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ১ হাজার ২৭৯ জন। 


 সূত্র: রয়টার্স


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪২ এএম

সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাটের ঘটনায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। সেন্ট্রাল প্যারিসের কিছু জায়গাসহ দেশটির আরও কয়েক শহরে রাতে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া রাজধানী প্যারিসের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মানুষের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।


প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্লাস দে লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় কারফিউ থাকবে। এ ছাড়া শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার আরও কয়েকটি স্থানে অনুমতি ছাড়া জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।


তরুণদের চলাচল ও জনসমাগম সীমিত করতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শহর নিস -এ বিশেষ কারফিউ জারি করা হয়েছে। এছাড়া মার্সেই, বোর্দো ও লিওঁসহ বিভিন্ন শহর এবং উত্তরের লিল ও অন্যান্য শহরে আংশিক কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। 


সোমবার এই আদেশ জারি করেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তিনি জানান, ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ‘বিশৃঙ্খলা তৈরি’ করার জন্য ‘অতি-বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো’ এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সোমবার জরুরি বৈঠক শেষে লেকর্নু বলেন, ‘শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমি সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ 


এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ স্বীকার করেন, কয়েকটি শহরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সহিংস বিক্ষোভে ২ হাজারের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীতে জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষার মান নিয়ে গত মাসে এই অসন্তোষ শুরু হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলার পরে দ্রুত তা রূপ নেয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমানোর আন্দোলনে।


বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের আর ছয় মাস বাকি। এর মধ্যেই ভয়াবহ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে দেশটিতে। 


আন্দোলন চলতি সপ্তাহে সহিংস হয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ নানা ঘটনা দেখা যায়। ফ্রান্সজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এরই মধ্যে এসব ঘটনায় আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 


ফ্রান্সে জরুরি অবস্থা জারি হলে জনশৃঙ্খলা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষমতার বাইরে গিয়ে সাময়িক কিছু বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। এর মধ্যে কারফিউ জারি, মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করার মতো ব্যবস্থা রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টেলিভিশন দেখে ফরাসিরা মনে করছেন, সর্বত্র বিশৃঙ্খলা চলছে। সৌভাগ্যক্রমে, বাস্তবতা এমন নয়। শহরাঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় মূলত অস্থিরতা চলছে।’ বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী সের্ঝ পাপাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সহিংসতায় অন্তত তিন হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিলসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন লেকর্নু।


এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দেন। সপ্তাহ শেষে কয়েকটি শহরে পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে মাখোঁ তাঁর পদত্যাগের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। মাখোঁর দপ্তর সোমবার জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগের প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর পরিবর্তে মাখোঁ তাঁকে সড়কের ব্যারিকেড ও লুটপাট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও আগাম পরিস্থিতি আঁচ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ছিল বলে মাখোঁ উল্লেখ করেছেন। সে বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর পাশে দাঁড়িয়ে সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ বলেন, লুটপাট ও ভাঙচুর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ সোমবার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।


তিনি আরও বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্যদের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।’ আগামী বসন্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ‘উগ্র বামপন্থি আন্দোলন’ দেশজুড়ে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন লেকর্নু। তিনি বলেন, ‘এমন একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে, যাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়সূচি এবং নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যও সক্রিয় করা হতে পারে।’