ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৯ পিএম

সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান দলের খোলনলচে পাল্টে ফেলার খবর শুনে নাকি অবাক হয়েছিলেন বাবর আজম। তার সেই কথা শুনে অবাক ওয়াসিম আকরাম। পাকিস্তানের অধিনায়ককে খোঁচা মেরে এই কিংবদন্তির অভিমত, এত বড় ঘটনা সম্পর্কে জানা না থাকলে অধিনায়ক হয়ে লাভটা কী!


সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দলের ওই ঘটনায় তোলপাড় পড়ে যায় বিশ্বক্রিকেটে। পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে হাসাহাসি পড়ে যায় চারপাশে। 


লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের পরাজয়ের পর কোচ সারফারাজ আহমেদ, বোলিং কোচ উমার গুল এবং দলের ৭ ক্রিকেটারকে সিরিজের মাঝপথেই দেশে ফিরিয়ে নেয় তার নজিরবিহীনভাবে। সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে কোচের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয় পরের টেস্টের জন্য।


দলের ওই পরিবর্তন নিয়ে অধিনায়ক বাবর পরে বলেন, তিনি নিজেও এটা জানতেন না, তার কাছেও ছিল নতুন খবর। অনেক পরে জেনেছেন তিনি।


বাবরের সেই মন্তব্য নিয়েই এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন ওয়াসিম। ম্যানচেস্টারে একটি অনুষ্ঠানে আরেক কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনিসের পাশে বসে সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক আঙুল তুললেন বর্তমান অধিনায়কের দিকে।


“আমি কাউকে দোষ দিতে চাই না এবং আমি ভুলও হতে পারি। তবে আমার মনে হয়, বাবরের উচিত হয়নি আবার অধিনায়কত্ব নেওয়া। এই সবকিছুই অপ্রয়োজনীয় ছিল। তৃতীয় টেস্টে আমি বার্মিংহামে ছিলাম, যতটা মনে পড়ে, টসের সময় বাবরকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘আপনার সাতজন ক্রিকেটারকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, কোচ ও বোলিং কোচকে ফেরত পাঠাো হয়েছে। আপনি কি মনে করেন?’ 


সে তখন বলেছে, ‘আমার কোনো ধারণা নেই।’ তাহলে তুই কি এখানে ছোলা বেচতে এসেছিস?”


২৫ টেস্ট ও ১০৯ ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়া ওয়াসিমের মতে, অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বাবর। “একজন ক্রিকেটার বা ব্যক্তি হিসেবে কারও নেতা বা অধিনায়ক যদি তার পাশে না থাকে, তাহলে সে শতভাগ দিতে পারে না। আমার মতে, দ্বিতীয় টেস্টের পর তার বলা উচিত ছিল যে, শুধু একজন ক্রিকেটার হিসেবে খেলবে সে।”


তিন বছর পর গত জুলাইয়ে পাকিস্তানের টেস্ট নেতৃত্বে ফেরেন বাবর। এই দফায় তার অধিনায়কত্বে চার টেস্টের তিনটিতে হেরেছে দল।




সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩৩ এএম

ইব্রাহিমের একমাত্র গোলে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ শুরু করল বাংলাদেশ।


ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বিশ্বনাথের কয়েকটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা এবং ভুটানের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি দল।


শুরুর দিকে দুই উইং ব্যবহার করে আক্রমণ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি এবং দূরপাল্লার শটেও গোলের চেষ্টা করতে দেখা যায় স্বাগতিকদের।


প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়েও এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ৬৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা, যেখানে ভুটানের দখলে ছিল ৩৬ শতাংশ। এই সময়ে বাংলাদেশের নেওয়া ১২টি শটের বিপরীতে ভুটান শট নেয় ৪টি। তবে লক্ষ্যে শটের সংখ্যা দুই দলেরই ছিল সমান—দুটি করে।


বিরতির পরও আক্রমণের গতি ধরে রাখে বাংলাদেশ। অবশেষে ৬৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ইব্রাহিমের গোলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায় দল।


গোলের শুরুটা হয় বক্সে করা একটি ক্রস থেকে। সেই বলে হেড নেন শমিত সোম। তার হেডে বল ওপরের দিকে উঠে গেলে গোলমুখের সামনে সুযোগ পেয়ে যান ইব্রাহিম। দারুণভাবে পা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন এই বদলি ফরোয়ার্ড।


এরপর দুই দলই একাধিক আক্রমণের সুযোগ তৈরি করলেও জালের দেখা পায়নি। ফলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।


গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ পরের ম্যাচটি খেলবে ১১ নভেম্বর, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে শ্রীলংকা। এছাড়া আজকের দিনের আরেক ম্যাচে ‘বি’ গ্রুপের খেলায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়েছে ভারত।


বাংলাদেশ-ভুটান ফুটবল ম্যাচ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৬ পিএম

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। একাধিক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের দেখা পেয়েছেন বাংলাদেশ। বদলি নামা ইব্রাহীমের গোলে এগিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ।

ষষ্ঠ মিনিটে ডান দিক থেকে রাকিব ক্রস বাড়ান বক্সে থাকা বিশ্বনাথের দিকে। তবে বিশ্বনাথের কাছে যাওয়ার আগেই বল ক্লিয়ার করেন ভুটানের ডিফেন্ডার। যদিও বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শট নেন জামাল ভুঁইয়া। তবে সেই চেষ্টাও রুখে যায় ভুটান রক্ষণে।

এরপর ম্যাচের ১৮ মিনিটে আবারও ভালো সুযোগ পায় বাংলাদেশ। রাকিবের ক্রস বিশ্বনাথের নেওয়া হেড পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ২৫ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন বিশ্বনাথ। ফাঁকায় থাকা জটলার ভেতর বল পেয়ে তা পোস্টের বাইরে মারেন। 

ম্যাচের ৩৯ মিনিটে আরও একবার বাংলাদেশকে হতাশ করেন বিশ্বনাথ। সামনে ছিলেন শুধু ভুটান গোলকিপার। একটু কোনাকুনি শট, সেটিই লক্ষ্য রাখতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য থেকেই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশ। বিরতি থেকে ফিরেও আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে বাংলাদেশ। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। ডি বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান ইব্রাহিম। এতেই লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। 


ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪২ পিএম

২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে পাকিস্তান ১-০ গোলে ভারতকে হারিয়েছিল। ২২ বছর পর আজ ঢাকায় সাফ ফুটবলে আবার উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। এই ম্যাচে ভারত ৩-২ গোলে পাকিস্তানকে পরাজিত করেছে।


ম্যাচের ১৩ মিনিটে ভারত লিড নেয়। বা প্রান্ত দিয়ে মুহাম্মদ সুহাইল ভাটের উদ্দেশ্যে বল বাড়ান। তিনি আলতো ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান। ছয় মিনিট পর পাকিস্তানি ডিফেন্ডারদের মাঝে দারুণ দক্ষতায় সুহাইল আহমেদ ভাট পুনরায় গোল করেন। ৩০ মিনিটে ম্যাংলেংথাম কিপজেনের গোলে ভারত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। 


চার মিনিট পর পাকিস্তান পেনাল্টি পায়। শায়ক দোস্তর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। এই মিস করায় পাকিস্তান গোল না করেই প্রথমার্ধে ড্রেসিংরুমে ফেরে।


ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায় পেনাল্টি মিসই। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ইনজুরি সময়ে দুই গোল করে পাকিস্তান। রেফারি চার মিনিট ইনজুরি সময় দেন। ঐ চার মিনিটের মধ্যে পাকিস্তান দুই গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন। ৯১ মিনিটে নাজিব উল্লাহ পাকিস্তানের পক্ষে টুর্নামেন্টে প্রথম গোল করেন। দুই মিনিট পরই বক্সের মধ্যে দুর্দান্ত ভলিতে আলমগীর গাজী আরেকটি গোল করেন।


পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে খেলায় ফিরে পেনাল্টি মিসের আফসোস পুড়ছে। ২০০৯ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সাফের স্বাগতিক ছিল। দুই আসরেই ভারত ও পাকিস্তান অংশগ্রহণ করলেও মুখোমুখি হয়নি। ২০০৩ সালের পর আবার ২০২৬ সালে দুই দল ঢাকায় সাফে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ক্রিকেটে হ্যান্ডশেক নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল।


আজ দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে সৌহার্দ্যতা ছিল বেশ। খেলার পর দুই দলের ফুটবলাররা করমর্দন করেছেন। কোনো দলের ফুটবলার মাঠে আহত হলে অন্য দলের ফুটবলাররা এগিয়ে গেছেন সহায়তায়। 


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৯ পিএম

‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’খ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ মানেই উৎসব ও উন্মাদনা। ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৮ তিন আসরেই বাংলাদেশে উৎসবের উপলক্ষ্য এনেছিল সাফ। কিন্তু এবার এর ছিটেফোঁটা নেই। ঘণ্টা খানেক পরই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে সাফের ১৫তম আসরের পর্দা উঠছে। অথচ টুর্নামেন্টটি নেই কোনো আলোচনায়!


সাফে অংশ নিতে আসা প্রতিযোগী দল, সমর্থক, মিডিয়া সবাই ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। এত ভোগান্তির সাফ কেউ আগে দেখেনি। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘আমি নিজে দেশে ও বিদেশে একাধিক সাফ খেলেছি। কোনো সাফই এরকম নিষ্প্রাণ লাগেনি। হামজা (চৌধুরী) বাংলাদেশের হয়ে খেলছে ফুটবলে, নব উন্মাদনায় সাফ ঢাকায় হচ্ছে, একটা বড় উৎসব হতে পারত। এর কিছুই নেই।’


বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থক মেহেদী হাসান সাফের সূচি ও টিকিটের দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সাফের স্বাগতিক, অথচ শুক্র-শনিবার কোনো ম্যাচ নেই। যে দিনগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস ছুটি থাকে। আবার বাংলাদেশের ম্যাচগুলো রাত ৮টায়। এত রাতে ম্যাচ দেখে দর্শকদের বাড়ি ফিরে পরদিন সকালে অফিস-স্কুল-কলেজ যাওয়া কঠিন। এর পাশাপাশি ১০০০ টাকা দামে অতিমূল্যের টিকিট তো আছেই।’


স্বাগতিক দেশ টুর্নামেন্ট সফল করার জন্য নানা আয়োজন ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। বাফুফে স্বাগতিক হলেও সাফ নিয়ে তারা কিছুই করছে না। সব কিছুই সাফের দায়িত্বে। আবার সাফ নিজেও কিছু করছে না। টুর্নামেন্টের স্বত্ব কিনে সব কিছু করছেইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান টিএসএ। তাদের অনেক কিছুতেই লেজেগোবরে অবস্থা!


কিছুক্ষণ পরই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে, অথচ আসরের ট্রফিও উন্মোচন হয়নি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আনার ঘোষণা দিয়েছিল টিএসএ। সেটাও এখনও নিশ্চিত নয়। দুই খেলার মাঝে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কতটুকু কীভাবে হবে সেটিও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। 


সাফকে বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে আসছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো। কিন্তু সাংবাদিকরাই পদে পদে ভোগান্তিতে পড়েছেন। গতকাল ভারতের অনুশীলন কাভার করতে পারেনি বাংলাদেশি মিডিয়া। স্বাগতিক সাংবাদিকদের সঙ্গে অনেকটা অসদচারণই করেছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। গতকাল হোটেলের ছোট একটি কক্ষে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। কার্ড সংগ্রহ করতেও সাংবাদিকদের ঝক্কি পোহাতে হয়।


অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের পর আবার প্রেস বক্সের জন্য আলাদা পাস নিতে মধ্য দুপুরে আসতে হয়েছে সাংবাদিকদের। খেলা শুরু বিকেল সাড়ে ৩টায়। এত আগে পাস বন্টন ও বন্টন সংখ্যা নিয়েও সাংবাদিকদের অসন্তোষ ছিল। এর পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহে বাফুফে ও সাফের ইঁদুর দৌড় খেলা তো রয়েছেই। 


জামাল ভূইয়া। ছবি: বাফুফে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৩ পিএম

জাতীয় ফুটবল দলে দীর্ঘদিন নিয়মিত অধিনায়ক ছিলেন জামাল ভূইয়া। অধিনায়ক থাকলেও গত কয়েক মাসে বেশিরভাগ ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন না, এমনকি অনেক ম্যাচে মাঠেই নামা হতো না। নেতৃত্ব হারানোর পর আজই প্রথম মাঠে নামবেন তিনি। এ ম্যাচের শুরুর একাদশে আছেন জামাল।


গোলরক্ষক পজিশনে মেহেদী হাসান শ্রাবণের ওপর আস্থা রেখেছেন ডুলি। অধিনায়ক তপু বর্মণের সঙ্গে ডিফেন্সে থাকছেন জিদান ইউসুফ। ইন্দোনেশিয়া আসিয়ান কাপে শৃঙ্খলা নিয়ে অভিযোগ উঠা সাদ উদ্দিনের ওপর কোচ ভরসা রেখেছেন। জায়ান আহমেদও রয়েছেন ডিফেন্স লাইনে।


বিশ্বনাথ ঘোষকে ফরোয়ার্ড পজিশনে অনুশীলন করিয়েছেন গত কয়েক দিন। এই ম্যাচে তার পজিশন নিয়ে একটু কৌতুহল রয়েছে। যদিও খেলোয়াড় তালিকায় ডিফেন্ডার হিসেবেই রয়েছেন। তবে কোচ তাকে ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলালে অবাক হওয়ার থাকবে না। আক্রমণভাগে বাংলাদেশের চালিকাশক্তি মূলত সামিত সোম ও রাকিব হোসেন।


বাংলাদেশ একাদশ:


মেহেদী হাসান শ্রাবণ (গোলরক্ষক), জিদান ইফসুফ, তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, জামাল ভূইয়া, জায়ান আহমেদ, তারিক কাজী, সামিত সোম, রাকিব হোসেন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম।


পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩০ পিএম

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সিতে ২৩ বছরের দীর্ঘ পথচলার ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।


পর্তুগালের সাত নম্বর জার্সিকে বিদায় জানিয়ে রোনালদো লিখেছেন, ‘আমাদের জাতীয় দলের সাত নম্বর জার্সিটি তুলে রাখার সময় এসেছে। জার্সিটি কখনোই শুধু আমার ছিল বলে মনে করিনি। তবে ২৩ বছর ধরে এটি পরার, রক্ষা করার এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্টেডিয়ামে বয়ে নিয়ে যাওয়ার সৌভাগ্য ও দায়িত্ব আমার হয়েছে।’




সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না জানিয়ে রোনালদো আরও লিখেছেন, ‘আজ সেই জার্সি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার সময় এসেছে। সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। কারণ কিছু সিদ্ধান্ত শুধু মাথা দিয়ে নেওয়া যায় না, হৃদয়েরও ভূমিকা থাকে।’


২০০৩ সালের আগস্টে পর্তুগাল জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল রোনালদোর। এরপর ২৩ বছরের পথচলায় নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩৪ ম্যাচ খেলার পাশাপাশি করেছেন রেকর্ড ১৪৬ গোল। পুরুষ ফুটবলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও গোলের সংখ্যায় তার ধারেকাছেও নেই কেউ।জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। এ ছাড়া পর্তুগালের হয়ে দুবার উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপাও জিতেছেন তিনি। দীর্ঘ এই যাত্রায় পেয়েছেন অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্য।


বিদায়বার্তায় নিজের ক্যারিয়ারের স্মৃতিও তুলে ধরেছেন রোনালদো। তিনি বলেন, ‘২০০৩ সালের আগস্টে শুরু হওয়া যে যাত্রা আমার জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছে, তার সমাপ্তি ঘটল। জাতীয় দলের হয়ে সবকিছু ফিরে দেখলে শুধু ম্যাচ, গোল, রেকর্ড কিংবা ট্রফি চোখে পড়ে না। মনে পড়ে মানুষগুলোর কথা। বিদেশে থাকা পর্তুগিজদের কথা, যারা ৯০ মিনিটের জন্য হলেও নিজেদের মাতৃভূমির আরও কাছে অনুভব করেছেন। এমন লাখো পর্তুগিজের কথা, যাদের কখনো দেখিনি, অথচ তারা আমার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছেন। কারণ ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, ফুটবল মানুষের গল্প।’


জাতীয় দলের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন রোনালদো। তার ভাষায়, ‘পুরো ক্যারিয়ারে আমি নিজের সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। জিততে চেয়েছি, আরও ভালো হতে চেয়েছি, ইতিহাস গড়তে চেয়েছি। সব সময় নিজের কাছে সর্বোচ্চ প্রত্যাশা রেখেছি। এই জার্সির জন্য আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি।’


আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেমন স্মরণীয় জয় এসেছে, তেমনি আছে হতাশার মুহূর্তও। সেসব স্মৃতিও আড়াল করেননি পর্তুগিজ অধিনায়ক। রোনালদো বলেন, ‘এমন কিছু বিকেল ও রাত ছিল, যা কখনো ভুলব না। এমন কিছু জয় ছিল, যা চিরকাল মনে থাকবে। আবার কিছু পরাজয় আছে, যেগুলো মনে করলেও এখনো কষ্ট হয়। ভুল করেছি, কষ্ট পেয়েছি। কখনো কখনো পর্তুগালের মানুষ যা চেয়েছে, তা দিতে পারিনি। কিন্তু কখনো হাল ছাড়িনি। আর সবচেয়ে বড় কথা, পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব কখনো হারাইনি।’


রোনালদোর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল গত সেপ্টেম্বরে ওয়েলসের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল পর্তুগাল। এরপরের ম্যাচে তাকে বদলি খেলোয়াড়ের তালিকায় রাখা হলেও মাঠে নামানো হয়নি। পরে পর্তুগাল দলের ক্যাম্প আগেভাগে ছেড়ে যাওয়ায় জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়েন তিনি। যদিও তখন দেওয়া দীর্ঘ বিবৃতিতে অবসরের কথা অস্বীকার করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তবে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তই নিলেন রোনালদো।


জাতীয় দলের হয়ে অবসর নিলেও ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এই ঘোষণায় কিছু জানাননি তিনি।