কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত সন্দেহে আটকের পর সদর দক্ষিণ মডেল থানা প্রাঙ্গণে স্বজনদের অপেক্ষা
১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। জেলার ১৮টি থানা পুলিশ একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। এ পর্যন্ত ৬২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার পর পুলিশ একযোগে অভিযান শুরু করে, চলে রাত দেড়টা পর্যন্ত। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও আছে। তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সের কিশোরদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। যেসব এলাকায় ‘বখাটেদের’ উৎপাত এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আটক কিশোরদের আগের কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা যাচাই করেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭৫ জন, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ৪৬, বুড়িচং থানায় ৫০, মনোহরগঞ্জ থানায় ৪১, দাউদকান্দি থানায় ৫৯ ও লাকসাম থানায় ৩৫ জন আছে। অন্য থানায় আটক ব্যক্তিদের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ারের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা শিক্ষার্থী, সেটিও দেখা হচ্ছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পেলে তাদের আজ বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে। অন্যদের সতর্ক করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হতে পারে।
থানায় অভিভাবকদের ভিড়
অভিযান শুরুর পর গতকাল রাত আটটা থেকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা, সদর দক্ষিণ মডেল থানাসহ বিভিন্ন থানার সামনে অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। কিশোরদের আটকের খবর পেয়ে থানায় ছুটে আসেন তাঁরা। গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের অনেকে থানার বাইরে অপেক্ষা করেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে নগরের ঈদগাহ মাঠ থেকে আটক করা হয়। সেখানে আটক ব্যক্তিদের একজন নগরের একটি পরিচিত বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা প্রবাসে থাকেন। মা পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে নগরের নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকায় থাকেন। ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে তিনি থানায় ছুটে আসেন।
ওই নারী বলেন, ‘আমার ছেলে সন্ধ্যার পর প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল। রাত সাড়ে নয়টার দিকে খবর পাই, তাকে থানায় আটক করা হয়েছে। পরে ছেলের স্কুলের পরিচয়পত্র নিয়ে এসেছি। পুলিশ বলেছে, কোনো অপরাধ না করলে যাচাই করে ছেড়ে দেবে। তারা কয়েকজন নাকি সেখানে আড্ডা দিচ্ছিল। এখন থেকে ছেলের দিকে বাড়তি খেয়াল রাখব। কারণ, আমি চাই না আমার ছেলেটা নষ্ট হয়ে যাক।’
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা এলাকায় আটক কিশোরদের বেশির ভাগকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশ ও কোটবাড়ি এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও আছে। তার বাবা কোটবাড়ি এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে ওই ব্যক্তি মধ্যরাত পর্যন্ত সদর দক্ষিণ থানার সামনে অপেক্ষা করছিলেন।
তিনি বলেন, ‘কোটবাড়িতে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে আমার ছেলে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিল। আমার ছেলে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত নয়। সে এ বছর এসএসসি পাস করেছে। পুলিশ তাকেও ধরে নিয়ে এসেছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের এ অভিযান ইতিবাচক। তবে অভিযানের নামে শিক্ষার্থীসহ ভালো ছেলেদের সবাইকে এভাবে ধরে নিয়ে এলে সমস্যার সমাধান হবে না।’
কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কুমিল্লায় নতুন নয়। তবে গত শুক্রবার রাতে ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ পর্যন্ত এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুজন কিশোর। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর ১৯ বছর বয়সী তরুণকে হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
অপ্রতিম হত্যার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। এর মধ্যে বুধবার কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার, দলগুলোর তৎপরতা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে।
আইনশৃঙ্খলা ও জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে উপজেলার বৈরাগীরচর বাজারে আইনশৃঙ্খলা ও জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল চারটার দিকে দৌলতপুর থানা-পুলিশের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, কিশোর অপরাধ, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপত্তা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং গুজব প্রতিরোধসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন, দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃত্ব, অভিভাবক, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানানো এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব।
সভায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আলোচনা শেষে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সভায় বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে—মাদক নয়, খেলাধুলা; সন্ত্রাস নয়, শান্তি; অপরাধ নয়, সামাজিক সম্প্রীতি। পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ দৌলতপুর গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা
সন্তান না হওয়ার স্ত্রীকে ডিভোর্স। ছবি: সংগৃহীত
আটক যুবদল নেতা মো. মাসুদক। ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ৫০ পিস ইয়াবাসহ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে আটক যুবদল নেতা মো. মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা যুবদল। তিনি উপজেলার ৮ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদা। তিনি বলেন, মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনার পর দিন শনিবার রাতে মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে শাহেদা বেগম (৩৫), দেলোয়ার হোসেন (৩০) ও মো. মাসুদকে (৩১) গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. জাফর (৪৫) নামে আরও একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।
সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন সৈকত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাসুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন ও সদস্য সচিব নুরুল হুদা এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
খাইরুল ইসলাম
কলাপাড়ায় মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেয়ে বাবার সঙ্গে অভিমান করে এক সন্তানের জনক খাইরুল ইসলাম (২৬) আত্মহত্যা করেছেন।
রবিবার (৮ নভেম্বর) শেষ বিকেলে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাইনতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খাইরুল ইসলাম ওই গ্রামের আলমগীর হাওলাদারের ছেলে। নিহতের বাবা আলমগীর হাওলাদার জানান, খাইরুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন।
মাদক সেবনের কারণে তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং তাঁদের মারধর করতেন। তাঁর দেড় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে তাঁর স্ত্রী বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
তিনি আরও জানান, স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য খাইরুল প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের চাপ দিতেন এবং বিভিন্ন সময় তাঁদের গালিগালাজ করতেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় মাদক সেবনের জন্য তিনি বাবার কাছে টাকা চান। কিন্তু বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। ওই রাতে খাবার না খেয়ে ঘুমাতে যান। একপর্যায়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।পরে পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ কাজে বাইরে গেলে খাইরুল ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। বাড়িতে ফিরে দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। পরে ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়ালঘর থেকে দড়ি এনে তিনি আত্মহত্যা করেন এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইলিয়াস তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
পাটের গুদামে লাগা আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা । ছবি: সংগৃহীত
বাবার সঙ্গে ব্যবসার টাকার হিসাব নিয়ে মনোমালিন্যের জেরে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাবার পাটের গুদামে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। আগুনে গুদামঘরসহ সেখানে থাকা প্রায় ৩২০ মণ পাটের বড় অংশ পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন গুদাম মালিক।
রোববার (৮ নভেম্বর ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামশা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাসেল মোল্লা ওই এলাকার সামেজুদ্দিন মোল্লার ছেলে। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার আগে সকালে রাসেল মোল্লাকে গুদামের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এসময় উত্তেজিত অবস্থায় তাকে গুদামের টিন ও দরজা ভাঙচুর করতে দেখা যায় বলে দাবি তাদের। এরই এক পর্যায়ে গুদামে আগুন লাগিয়ে তিনি চলে যান বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আগুন ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তা নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে সিংগাইর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুদাম মালিক সামেজুদ্দিন মোল্লা বলেন, ব্যবসার টাকার সঠিক হিসাব নিয়ে আমার ছেলের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। এতে সে উত্তেজিত হয়ে গুদামে আগুন লাগিয়ে দেয়। গুদামে আমার প্রায় ৩২০ মণ পাট ছিল। যার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
তিনি আরও বলেন, আগুনে গুদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং সেখানে থাকা পাটের বড় অংশ পুড়ে গেছে।
সিংগাইর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তিনি আরও বলেন, আগুনে গুদামঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। গুদামে থাকা পাটের প্রায় ৮০ শতাংশও পুড়ে গেছে।