স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে ছোট্ট একটি ঢোপঘরকে অবলম্বন করে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন মাতুয়ারা বেওয়া। নিজের বলতে তেমন কিছু নেই। লালপুরের বিলমাড়ীয়া-ভেল্লাবাড়ীয়া সড়কের চকবাদকয়া মোড়ে ছোট্ট সেই ঘরটিতে পথচারীদের কাছে চা-বিস্কুট বিক্রি করেই চলছে তাঁর সংসার।
দোকানটি এতটাই ছোট যে, সেখানে বসে চা খাওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। ফলে অনেক পথচারী চা-বিস্কুট কিনে দাঁড়িয়েই খেয়ে নেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতির মধ্যেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন মাতুয়ারা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর এই কষ্টের কথা জানতে পেরে দোকানের পাশে পথচারীদের বসার জায়গা তৈরিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব আনেজ উদ্দিন।
বসার স্থান তৈরির জন্য তিনি ঢেউটিন, সিমেন্টের তৈরি খুঁটি এবং নগদ অর্থ সহায়তা করেন। এতে দোকানের পাশে পথচারীদের বসার জন্য একটি ছোট পরিসরের ব্যবস্থা তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন মাতুয়ারা।
সহায়তা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি মাওলানা রাকিবুল ইসলামসহ স্থানীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। মাতুয়ারার জীবনের গল্পটি কেবল একটি ছোট চায়ের দোকানের গল্প নয়। স্বামীকে হারানোর পর জীবিকার তাগিদে একা হাতে সংসার সামলানোর সংগ্রামের গল্প এটি। প্রতিদিনের মতো দোকানের সামনে বসে থাকা, চা তৈরি করা, বিস্কুট বিক্রি আর দিন শেষে সামান্য আয় নিয়ে ঘরে ফেরা—এই নিয়েই তাঁর জীবন।
চকবাদকয়া মোড় দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। তাঁদের অনেকের কাছে হয়তো এটি সড়কের পাশে থাকা একটি সাধারণ চায়ের দোকান। কিন্তু মাতুয়ারার কাছে এই ছোট্ট ঢোপঘরই তাঁর জীবিকার অবলম্বন, স্বাবলম্বী হয়ে বেঁচে থাকার একমাত্র চেষ্টা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দোকানের পাশে বসার জায়গা তৈরি হলে পথচারীদের যেমন সুবিধা হবে, তেমনি মাতুয়ারার ছোট ব্যবসাটিও কিছুটা গতি পেতে পারে। আর স্বামীর মৃত্যুর পর একা হয়ে পড়া একজন নারীর জীবনে সামান্য এই সহযোগিতাও হয়ে উঠতে পারে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা।
জীবন কখনো কখনো বড় কোনো পরিবর্তনের জন্য বড় আয়োজনের অপেক্ষা করে না। কারও পাশে দাঁড়ানোর ছোট্ট একটি উদ্যোগও একজন মানুষের কঠিন দিনগুলোকে কিছুটা সহজ করে দিতে পারে। চকবাদকয়া মোড়ের ছোট্ট চায়ের দোকানটি যেন সেই মানবিকতারই একটি নীরব গল্প বলে যাচ্ছে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের অবদান স্মরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা সিলেটে উচ্চশিক্ষা ও কৃষিশিক্ষার নতুন দিগন্ত খুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় এম. সাইফুর রহমানের অবদান এ অঞ্চলের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে। শিক্ষার প্রসারে তাঁর আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কৃষির উন্নয়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সমন্বিত কৃষিনীতি থাকলে দেশের সমৃদ্ধি আরও দ্রুত ও টেকসই হবে। কৃষি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়নে উৎপাদন, বাজার, প্রযুক্তি ও কৃষকের জীবনমানকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের পতিত জমি চিহ্নিত করে চাষের আওতায় আনতে হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি আরও বলেন, উর্বর কৃষিজমি রক্ষা করা জরুরি। উন্নয়ন পরিকল্পনায় পতিত বা কম উৎপাদন শীল জমি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কার্যকর ভূমি ব্যবহার নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।
কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে রিজভী বলেন, হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে প্রকৃত কৃষকেরা সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
এর আগে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। বেলুন ও সাদা পায়রা উড্ডয়ন করা হয়। কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজনও ছিল। পরে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সংসদ সদস্য মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা ও মোহাম্মদ আব্দুল মালিক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদারসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের মূল ভিত্তি। কৃষির আধুনিকায়ন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনেও গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
টিউবওয়েল বসানোর সময় মাটি থেকে গ্যাসের সঙ্গে বের হচ্ছে আগুন। ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সুন্দলপুর সাউথ-১ নামে আরেকটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। কূপটির দুটি জোনে মোট ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (২ নভেম্বর) উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপে অগ্নি প্রজ্বালনের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কূপটি থেকে প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থায়নে এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই কূপটির খননকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক উদ্যোগে এবং বাপেক্স পরিচালিত ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কূপটির খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
সংস্থা সূত্রে আরও জানা যায়, বাপেক্সের বিজয়-১০ রিগ ব্যবহার করে গত ৮ জুলাই খননকাজ শুরু করা হয়। প্রায় ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন শেষে কূপটির দুটি জোনে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, কূপটির এই দুটি জোনে মোট ৯ হাজার ৭৬৯ কোটি ঘনফুট বা ৯৭.৬৯ বিসিএফ গ্যাসের মজুত রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করলে এই গ্যাসের আনুমানিক মূল্য ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এই কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই কূপটি থেকে আগামী ২০ বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুল হাসান গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কূপটিতে তেল বা অন্য কোনও পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা জানতে আগামী ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ ও ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) পরীক্ষা করা হবে।
অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল আবেদীন বর্ষণ।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদেরকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
এধরনের গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ বার বার প্রমাণিত হলেও শিক্ষকদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার পক্ষ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নিরুৎসাহীত করে আসছেন। কিন্তু মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বপ্রণোদিত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগে অভিভাবকমহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর পিতা ও মাতা অভিযোগ করেন যে, গত কয়েক মাস ধরে শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম তার মেয়েকে ব্যাড টাচ করে আসছে। বার বার তারা বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানালেও তিনি কোনই ব্যবস্থা নেননি। স্থানীয় ইউপি মেম্বারদের সহযোগিতায় এব্যাপারে তিন দফা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ওই শিক্ষককে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখনও তিনি পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও একই অভিযোগ করেছেন। তারা এনিয়ে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনও করেছেন। সবশেষ কমপক্ষে দশজন শিক্ষার্থী মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে তার সাথে দেখা করে এবিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ইউএনও সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেন।
সোমবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে হৈ চৈ করলে তাদের গায়ে হাত দিয়ে থামাতেন। এব্যাপারে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে স্থানীয় অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে তাকে অন্যত্র বদলী করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল আবেদীন বর্ষণ বলেন, পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেয়া থেকে ওই শিক্ষককে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও অন্য দুজন শিক্ষক ছুটিতে থাকায় জাহাঙ্গীর আলমকে ক্লাস নিতে হয়েছে। তাকে বদলীর জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানানো হলে এখন তাকে বদলী করা যাবেনা বলে শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়ে দেন।
বিকেলে বিষয়টি জানতে গেলে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা এস, এম, আবু রায়হান বলেন, কাগজে কলমে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছেন। তিনিই এবিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন। তবে রোববার ইউএনওর তদন্তের সময় তাঁর সাথে উত্তরগ্রাম ক্লাস্টারের সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা পবিত্র কুমারও গিয়েছিলেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে স্বাভাবিক বদলী করা সম্ভব নয় একথা বলেছেন তিনি।
সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা পবিত্র কুমার বলেন, স্থানীয় অভিভাবক ও অভিযুক্ত শিক্ষকের মধ্যে আপস হয়েছে। এসংক্রান্ত একটি আপসনামা তাদেরকে দেয়া হয়েছে।
এসময় শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকেন। স্বরসতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাপদক বাণী ইসরাইল সাংবাদিকদের জুতা পায়ে ওই কার্যালয়ে প্রবেশে বিরুপ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা অফিসারকে লিখিত অভিযোগ না দেয়া ও অভিযোগকারিদের সাথে আপসের পর আর কোন কিছু করা উচিৎ নয়।
জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ বলেন, দু'সপ্তাহ আগে উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তার অফিসে এসে সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদেরকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ দেন। অফিশিয়াল তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
রোববার ওই শিক্ষক একটি আপসনামা দাখিল করে। কিন্তু এ ধরনের ফৌজদারি অপরাধের বিষয় আপসযোগ্য না হওয়ায় তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান। এবিষয়ে তিনি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর পত্র প্রেরণ করবেন।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় গ্রাহকদের রক্ষিত কোটি কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রতারিত গ্রাহকদের আমানতের সম্পূর্ণ টাকা অবিলম্বে ফেরতের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে ব্যাংকটির শ্রীনগর শাখার সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে শত শত ভুক্তভোগী গ্রাহক অংশ নেন। এ সময় তারা তাদের কষ্টার্জিত আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। গ্রাহকদের কান্নাকাটি ও আহাজারিতে ব্যাংকের আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের টাকা আত্মসাৎ হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আমরা পাওনা টাকা ফেরত পাইনি। অগ্রণী ব্যাংকের এই শাখা থেকে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুজনের মতো গ্রাহক স্ট্রোক করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন গ্রাহক চরম মানসিক আঘাত ও অসুস্থতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ সময় তারা ব্যাংক তুই টাকা দে, না হয় জীবন নে স্লোগানে ফেটে পড়েন।
জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকটির ক্যাশিয়ার শরীফুজ্জামান সোহাগ ও ব্যাংক ম্যানেজারসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ব্যাংকটির কয়েকজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও মামলার পরও গ্রাহকদের আটকে থাকা আমানত ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন শত শত সাধারণ মানুষ।
প্রতিবাদ সভা থেকে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি গ্রাহকের গচ্ছিত টাকা ফেরত দেওয়ার জোরালো দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুশিয়ারি দেন তারা।
শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেকে দক্ষ প্রকাশিতজনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, 'দক্ষ নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারলে চাকরি আপনার পেছনে দৌড়াবে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এআইসহ (AI) নানা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোর কাজ নিজের আয়ত্ত করতে পারলে শুধু স্বাবলম্বী হওয়াই নয়, সমাজের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি হিসেবেও নিজেকে পরিচয় দেওয়া যাবে।'
তিনি আরও বলেন, 'অনার্স-মাস্টার্স করেও অনেকে সম্মানজনক চাকরি পাচ্ছেন না। নিরুপায় হয়ে একাডেমিক শিক্ষার বাছবিচার না করে যেকোনো চাকরি নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সে জন্য একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজের জীবনকে গড়ে তুলুন।'
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে সিলেট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।‘
দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সিলেট জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সিলেটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
সিলেট সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (উত্তর) দেবাশীষ দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুদ রানা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুর রউফ শাহ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইনসাফ ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ সোসাইটির সভাপতি জাতীয় যুব পুরস্কার প্রাপ্ত যুব উদ্যোক্তা ও সংগঠক মো. নজরুল ইসলাম, আদর্শ সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন রাজু, তাছনিম টেইলারিং হাউজের পরিচালক জেলি বেগম, বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্যাডেট ফোরামের ইয়ুথ ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার আলম।
উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেস ক্সিরাবের পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো.মুহিবুর রহমান, সিলেট যুব উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আফিকুর রহমান আফিক, আদর্শ যুব সমাজকল্যাণ সংস্থা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল সামায়ুন,সোশ্যাল ইকোনমিক সোসাইটির সভাপতি ফাহিমা আহাদ কুমকুম, মোঃ শাহ আলম, কয়ছর আহমদ কাওছার, মোঃ নিজাম উদ্দিন, শারমিন কবির, আলী আহসান হাবিব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মিসবাউল ইসলাম এবং গীতা পাঠ করেন তপন চন্দ্র দাস।
আলোচনা সভার শেষে যুব ঋণের চেক বিতরণ, জেলা পর্যায়ে সফল আত্মকর্মী ও যুব সংগঠকদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট বিতরণ করা হয় এবং বিকেলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, আল ইসলাহ উত্তর বালুচরের শায়ান বুটিক হাউসের স্বত্বাধিকারী কাজী লিপা রহমানকে এক লাখ টাকার চেক এবং খাদিমগরের বাহুবল এলাকার ধ্রুব টেইলার্স অ্যান্ড ফেব্রিকসের স্বত্বাধিকারী মনি দেবনাথকে এক লাখ টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।
এছাড়া ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় বানিজ্যিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করায় মোছাম্মত রোজিনা বেগমকে পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সফল উদ্যোক্তা ও সমাজ কর্মীদের মধ্যে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।