কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা খালিদ হোসেন

  • প্রকাশ : শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১০:০২ এএম

গাজীপুরের কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা খালিদ হোসেনকে ঘিরে একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া অডিওতে এক নারীর সঙ্গে তার কথোপকথনের কিছু অংশকে আপত্তিকর বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। 


অডিও ক্লিপে শোনা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এক নারী কথোপকথনকারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সুরে কথা বলছেন এবং এক পর্যায়ে ‘এক কেজি ভালোবাসা’ চাওয়ার মতো মন্তব্য করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই অংশটিকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে।


ভাইরাল হওয়া কথোপকথনের একটি অংশে শোনা যায় ওসি: মায়া কি কাটছে


নারী: স্যার, মায়া কি এত সহজে কাটা যায়


ওসি: আহারে! জেদ তোমার এভাবে বেশি বলতেছে। বিশ্বাস করতেছে না এরপরও মায়া? এ কোন ধরনের মায়া নারী ভালোবাসা তো এমনই অদ্ভুত হয়, না 


ওসি: তাই নাকি দেখি ভালোবাসা কত থাকে আমরাও একটু চাইবো না অন্তত আমাদের এক কেজি দিও


স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, আইনগত সহায়তার জন্য থানায় যোগাযোগ করা কোনো নারীর সঙ্গে এ ধরনের ব্যক্তিগত আলাপ পুলিশের পেশাগত নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাশিমপুর থানার ওসি মোল্লা খালিদ হোসেন। তিনি বলেন মামলার একটি ঘটনা নিয়ে তার সঙ্গে দুই-চারটি কথা বলেছি। তদন্তের স্বার্থেই কিছু বিষয় বের করার চেষ্টা করেছি। কথোপকথনের কিছু অংশ কেটে-ছেঁটে এডিট করে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ছড়ানো হয়েছে। 


আমি এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথা বলিনি। এ বিষয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 


তবে সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি। কারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আচরণ জনআস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।


এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর হবে।



সর্বশেষ সব খবর

গহিন বনে বিশালাকৃতির কাঠবিড়ালি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের গহিন অরণ্যে দেখা মিলেছে বিরল ও বিশালাকৃতির এক কাঠবিড়ালির।প্রাণিবিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম ‘মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেল’। 


স্থানীয়ভাবে এটি ‘কালো কাঠবিড়ালি’ বা ‘রাতুফা বাইকালার’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি বনের গভীরে বিরল এই প্রাণীটির কয়েকটি ছবি তুলেছেন শৌখিন বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী শাহেদ আহমেদ। এরপর থেকেই বন্যপ্রাণীপ্রেমী ও গবেষকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। 


বাংলাদেশে সাধারণত যেসব কাঠবিড়ালি দেখা যায়, সেগুলোর তুলনায় এটি আকারে অনেক বড়। এটি মূলত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ কাঠবিড়ালি প্রজাতি। আলোকচিত্রীর ক্যামেরায় ধরা পড়া প্রাণীটির বর্ণনা দিতে গিয়ে বন কর্মকর্তারা জানান, একটি পূর্ণবয়স্ক মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলের মাথা থেকে শরীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর ঝোপালো লেজটি শরীরের সমান লম্বা হয়, অর্থাৎ পুরো দৈর্ঘ্য এক মিটারেরও বেশি হতে পারে। এর ওজনও হয় নজরকাড়া, প্রায় দুই কেজি পর্যন্ত। বন্যপ্রাণী গবেষকদের মতে, এই কাঠবিড়ালির শরীরের গঠন ও বর্ণ একে অন্য প্রজাতির চেয়ে আলাদা করেছে। এর মাথা, পিঠ, কান এবং দীর্ঘ লেজ সাধারণত গাঢ় কালো বা লালচে-মেরুন বর্ণের হয়। তবে শরীরের নিচের অংশটি বেশ হালকা বা সাদাটে। বিশাল আকৃতি ও লম্বা লেজ নিয়ে যখন এটি উঁচু গাছের মগডালে বিচরণ করে, তখন দূর থেকেও একে সহজে চেনা যায়।


বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেল মূলত গহিন ও প্রাচীন বনের ওপর নির্ভরশীল। এরা সাধারণত মাটিতে নামে না বললেই চলে; বরং বড় বড় গাছের মগডালে ও ডালপালায় সময় কাটাতে পছন্দ করে। উঁচু গাছে লতাপাতা ও ডাল দিয়ে এরা বড় আকৃতির বাসা তৈরি করে। বুনো ফল, নানা রকম বীজ, বাদাম ও গাছের কচি পাতা এদের প্রধান খাবার। তবে বর্তমানে বন উজাড়, পুরোনো বৃক্ষ নিধন ও মানুষের অনুপ্রবেশের কারণে এদের আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসছে। 


রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের কালেঙ্গা বিট কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, এই অভয়ারণ্যে মালয়ান জায়ান্ট স্কুইরেলের উপস্থিতি আমাদের বনের জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি খবর। এটি প্রমাণ করে যে, এই বনটি এখনো বিরল বন্যপ্রাণীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় মানুষেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। 


হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দেব মনে করেন, গহিন বন ও প্রাচীন বৃক্ষ রক্ষা করা না গেলে এই প্রজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, জায়ান্ট স্কুইরেল পুরোপুরি বৃক্ষনির্ভর প্রাণী। বড় ও পুরোনো গাছ কমে গেলে এদের খাদ্য ও নিরাপদ আবাসের সংকট তৈরি হয়। তাই রেমা-কালেঙ্গার প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে বড় গাছগুলো সংরক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। 


বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, রেমা-কালেঙ্গায় এই বিরল প্রজাতির দেখা পাওয়া আনন্দের। তবে শুধু দেখা পাওয়াটাই যথেষ্ট নয়, এদের টিকিয়ে রাখা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। অবৈধ শিকার বন্ধ এবং বনের গহিনে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ভবিষ্যতে এই প্রজাতির সংখ্যা আরও বাড়বে। বনকে জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে আলোকচিত্রীর তোলা সেই বিশালাকৃতির কাঠবিড়ালির ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সাড়া ফেলেছে। 


প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করছেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি নজরদারি বাড়লে রেমা-কালেঙ্গা হতে পারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিরল বন্যপ্রাণী দেখার অন্যতম গন্তব্য।

সর্বশেষ সব খবর

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০০ পিএম

‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যে নীলফামারীর ডিমলায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।


আজমঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিমলা উপজেলা প্রশাসন ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যৌথ আয়োজনে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।


পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান।




অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মীর হাসান আল বান্না, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায়, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপিকা সেতারা সুলতানা, গোলাম রব্বানী প্রধান, জামায়াতে ইসলামী ডিমলা উপজেলা আমির অধ্যাপক মাওলানা মজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ধাপগুলোর অন্যতম প্রধান ধাপ হলো সাক্ষরতা অর্জন। এটি একটি মৌলিক মানবিক অধিকার এবং সব শিক্ষার ভিত্তি। সাক্ষরতার উপযুক্ত ব্যবহার ব্যক্তির জ্ঞানার্জনের দ্বার উন্মুক্ত করে। একই সঙ্গে জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও কৌশল অর্জনে সহায়তা করে। এর ফলে ব্যক্তি সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে পারে, যা উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান সরকার সাক্ষরতার হার বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করছে। ডিজিটাল সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। উপজেলার প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষকে সচেতন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।’


উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়। ১৯৬৫ সালের ৮ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে বিশ্ব সাক্ষরতা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৬৭ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি নিয়মিতভাবে পালিত হয়ে আসছে। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়ে আসছে।


২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের ৬০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘Literacy for people, the planet and prosperity’, যার বাংলা ভাবার্থ ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:২৮ পিএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৫০ পিচ ইয়াবা সহ মাহাবুব প্যাদা (৪৮) কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার শেষ বিকেলে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ছোনাউটা গ্রামের কাচা রাস্তার ওপর থেকে তাকে গ্রেফতার করাহয়। গ্রেফতার কৃত আসামি মাহবুব আমতলী উপজেলার পূজাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মো.আ.রব প্যাদার পুত্র।


পুলিশ সূত্রে যানাযায়, মোঃ মাহাবুব প্যাদা (৪৮), এর নিকট হইতে ৫০ (পঞ্চাশ) পিচ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার পরবর্তী তাকে গ্রেফতার করাহয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) এর সারনীর ১০(ক)/৪১ অনুযায়ী কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 


কলাপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো নজরুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে চলবে।গ্রেপ্তারকৃত মাহবুবকে আজ মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:২২ পিএম

বাংলাদেশ পুলিশের চলমান অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে মো. দুলাল মিয়া (৪০) নামে এক সন্দিগ্ধ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি পিস্তল ও ছয়টি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশ সুপার পিরোজপুর মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এবং মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে।


মঠবাড়িয়া থানার মামলা নং-১৪, তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৬; জিআর-২৪৭/২৬, দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারার মামলার সন্দিগ্ধ আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের খায়ের ঘটিচোরা গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মো. দুলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর তার হেফাজতে থাকা আলামত উদ্ধারে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার হাঁসের ঘরের উপরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি বাজারের ব্যাগের ভেতর থেকে একটি পিস্তল (ম্যাগাজিন ছাড়া) ও ছয়টি ককটেল সদৃশ বস্তু জব্দ করা হয়।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মো. দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি জেলার একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ সব খবর

ওসি কামরুল ইসলাম

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৮ পিএম

(৮৮ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী ২৩ মামলা; নিখোঁজ শিশু উদ্ধারসহ একাধিক অভিযানে সাফল্য) 

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই মাদক, জুয়া ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে সাফল্যের দাবি করেছে থানা পুলিশ। ৩০ এপ্রিল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৮৮ জন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী ২৩টি মামলা এবং ১০৫ জনকে মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় সাজা দেওয়ার তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।


দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকপ্রবণ হিসেবে পরিচিত পাড়া-টঙ্গী এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।


থানা পুলিশের দাবি, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে সন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে।


এদিকে অপরাধ দমনের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক ও চ্যালেঞ্জিং অভিযানেও সাফল্য দেখিয়েছে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ। হারিয়ে যাওয়া শিশুদের দ্রুত উদ্ধার, নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে উদ্ধার, কুমিল্লা থেকে আসামি গ্রেপ্তার, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তকরণ এবং রাফি হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার মতো ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা আলোচনায় এসেছে।


সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে থানা পুলিশ। কোনো অপরাধ বা জরুরি পরিস্থিতির খবর পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, প্রয়োজনের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অভিযোগ বা তথ্য পেলে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন।


সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মাদক, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।


মুক্তাগাছাকে আরও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে থানা পুলিশ।

সর্বশেষ সব খবর

পাইকগাছার খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণিত হলেও চাকরিতে বহাল শিক্ষক


দীপক চন্দ্র সরকার

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৮ পিএম

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রমাণ মিলেছে। তিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেরও নাগরিক। পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের তদন্তে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরপরও তিনি বহাল তবিয়তে আছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিরুদ্ধে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, অভিযুক্ত দীপক চন্দ্রের বিষয়ে জানতে ভারতীয় হাইকমিশনে পত্র পাঠাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক প্রফেসর মো. সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুনানিতে অভিযুক্ত দীপক চন্দ্র সরকার, অভিযোগকারী প্রকাশ চন্দ্র সরকারসহ মাউশির বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


শুনানি শেষে মাউশি উপপরিচালক (মাধ্যমিক) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত শিক্ষক ও অভিযোগকারীর বক্তব্য শুনেছি। প্রত্যেকেই নিজেদের স্বপক্ষে কথা বলেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক ভারতীয় নাগরিক কি না তা জানতে ভারতীয় হাইকমিশনে চিঠি দেবো। তাদের উত্তর পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিচালক বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষকের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের তদন্তে প্রমাণিত। তার এমপিও চলমান থাকার সুযোগ নেই। তবে আনুষ্ঠানিকতার জন্য মাউশি ভারতীয় হাইকমিশনে পত্র পাঠাবে।’ গত ফেব্রুয়ারিতে খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়।চিঠিতে বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিত্বসহ প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ আনেন স্থানীয় প্রকাশ চন্দ্র সরকার। অভিযোগ আমলে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতের নাগরিকত্বের প্রমাণ মিলেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারীক কর্তৃক প্রকাশিত ভোটার তালিকার সূত্র উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সরকারি অর্থায়ন হওয়ায় বিদেশি নাগরিক এমপিওভুক্ত পদে বহাল থাকার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ ও বিতর্কিত বিষয়।


উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মাউশি কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে পাঠানো এ পত্রে বলা হয়, পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব আছে। বিষয়টি গুরুতর ও স্পর্শকাতর হওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মতামত জানতে চাওয়া হয়।এরপর অভিযোগকারী প্রকাশ চন্দ্র সরকার ও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারকে শুনানিতে ডাকে মাউশি অধিদপ্তর।


সোমবার বিকেলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালকের কক্ষে এ শুনানি হয়।


শুনানি শেষে অভিযোগকারী প্রকাশ চন্দ্র সরকার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র ভারতের নাগরিক ও ভোটার। বিদ্যালয়ে দেদার নিয়োগে বাণিজ্য করেছেন তিনি। নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা ভারতে পাচার করে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বড়শুল এলাকায় তিনি অট্টালিকা তৈরি করেছেন।’


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বাঁচাতে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এ শিক্ষকের অবিলম্বে এমপিও বাতিলের দাবি জানান তিনি। 


এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমি ভারতের নাগরিক নই। জাল-জালিয়াতি করে আমাকে নিয়ে অভিযোগকারী বিভিন্ন ডকুমেন্ট তৈরি করেছেন।’


উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের তদন্তে ভারতের নাগরিকত্বের প্রমাণিত হওয়া প্রসঙ্গে দীপক চন্দ্র বলেন, ‘এ তদন্ত প্রতিবেদন সঠিক হয়নি।’

সর্বশেষ সব খবর