জনদুর্ভোগ যান চলাচল বন্ধ
মহাসড়কের বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সামনে থেকে থ্রি-হুইলারে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বরিশাল থেকে দূরপাল্লাসহ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার শিমুলতলা এলাকায় থ্রি-হুইলারের মালিক ও চালকদের সঙ্গে লোকাল বাসের শ্রমিকদের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে থ্রি-হুইলারের মালিক ও শ্রমিকরা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ২০টি যাত্রীবাহী বাস আটকে রাখেন বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে বরিশাল বাস মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় বাস মালিক ও শ্রমিকরা নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নথুল্লাবাদ টার্মিনালে আটকা পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বাস মালিক ও শ্রমিকরা জানান, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে যানজট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী থ্রি-হুইলার বন্ধ না করা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বরিশাল থেকে বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
এদিকে, নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও থ্রি-হুইলার গ্রুপের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঢাকার সাভারে সাত বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদরাসার চার শিক্ষক ও ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।আদালতের নির্দেশে, বুধবার (২৬ আগস্ট) সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
শিশুটির বাবা পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সোমবার তিনি বলেন, সাভারের পূর্ব শাহীবাগ এলাকায় অবস্থিত মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় তার সাত বছর বয়সী ছেলে পড়ালেখা করে এবং সেখানেই আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে থাকে।
তিনি বলেন, ছেলে বাড়িতে এলে তাকে মনমরা হয়ে থাকতে দেখা যেত। সে ঠিকমতো কথা বলত না এবং খাবারও খেত না। আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো মাদরাসার পড়ালেখার চাপের কারণে এমনটি করছে। সে মাদরাসায় যেতে চাইতো না। তাই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেইনি।
এই বাবা জানান, পরে মাদরাসার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে, সেখানে শিশু শিক্ষার্থীদের বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে এবং কয়েক দিন আগে এ নিয়ে মাদরাসায় বিচারও হয়েছে। এরপর তিনি ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে যান। গত ১৪ আগস্ট শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে বলাৎকারের শিকার হওয়ার কথা জানায়।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তার ছেলেকে বলাৎকার করে। এরপর তিনি মাদরাসার পরিচালক জিয়া বিন কাশেমের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরদিন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকতে তাকে নির্দেশ এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিচিত এক চিকিৎসকের পরামর্শ নেন তার বাবা। ওই চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা করে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। গত ১৮ আগস্ট শিশুটিকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়ার পরামর্শ দেন। ওই দিনই শিশুটিকে ওসিসিতে নেওয়া হয় এবং সেখানে চারদিন ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগীর বাবা।
শিশুটির বাবা জানান, পরে পরিচিত এক আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলা করা হয়। আদালত শিশুটির জবানবন্দি গ্রহণ করে সাভার মডেল থানাকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর গত ২৬ আগস্ট থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। তবে, এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সামিরুল হাসান বলেন, শিশুটিকে বলাৎকার এবং বলাৎকারে সহায়তার অভিযোগে ছয় শিক্ষার্থী ও চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় পাঁচ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি বলাৎকারের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি চারজনের বিরুদ্ধে বলাৎকারে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, যেহেতু আদালতের নির্দেশে মামলাটি হয়েছে, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, ছেলে বাড়িতে এলে তাকে মনমরা হয়ে থাকতে দেখা যেত। সে ঠিকমতো কথা বলত না এবং খাবারও খেত না। আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো মাদরাসার পড়ালেখার চাপের কারণে এমনটি করছে। সে মাদরাসায় যেতে চাইতো না। তাই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেইনি।
এই বাবা জানান, পরে মাদরাসার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে, সেখানে শিশু শিক্ষার্থীদের বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে এবং কয়েক দিন আগে এ নিয়ে মাদরাসায় বিচারও হয়েছে। এরপর তিনি ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে যান। গত ১৪ আগস্ট শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে বলাৎকারের শিকার হওয়ার কথা জানায়।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তার ছেলেকে বলাৎকার করে। এরপর তিনি মাদরাসার পরিচালক জিয়া বিন কাশেমের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরদিন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকতে তাকে নির্দেশ এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিচিত এক চিকিৎসকের পরামর্শ নেন তার বাবা। ওই চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা করে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। গত ১৮ আগস্ট শিশুটিকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়ার পরামর্শ দেন। ওই দিনই শিশুটিকে ওসিসিতে নেওয়া হয় এবং সেখানে চারদিন ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগীর বাবা।
শিশুটির বাবা জানান, পরে পরিচিত এক আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলা করা হয়। আদালত শিশুটির জবানবন্দি গ্রহণ করে সাভার মডেল থানাকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর গত ২৬ আগস্ট থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। তবে, এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সামিরুল হাসান বলেন, শিশুটিকে বলাৎকার এবং বলাৎকারে সহায়তার অভিযোগে ছয় শিক্ষার্থী ও চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় পাঁচ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি বলাৎকারের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি চারজনের বিরুদ্ধে বলাৎকারে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, যেহেতু আদালতের নির্দেশে মামলাটি হয়েছে, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, বাদী চাইলে সরাসরি থানায় গিয়ে মামলা করতে পারতেন। সরাসরি থানায় মামলা হলে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকত। তবে এখন তারা পালিয়ে গেছে। আমরা তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজনের গলার দুটি সোনার চেইন চুরির অভিযোগে সিনারা বেগম (৫০) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। পরে তার দেহ তল্লাশি করে চেইন না পাওয়া গেলে এক্সরে পরীক্ষায় তার পেটের ভেতরে সোনার চেইন দুটির অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আউটডোরে ডাক্তার দেখানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।
আটক সিনারা বেগম সিলেট জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা বিবি ফাতেমা নামে এক নারীর গলায় থাকা সোনার চেইন দুটি কৌশলে টার্গেট করে একটি চক্র। সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় চক্রের সদস্যরা ধাক্কা দিয়ে তার গলার চেইন দুটি খুলে নেয়। এ সময় চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও সন্দেহ হওয়ায় সিনারা বেগমকে রোগীর স্বজনরা আটক করে তল্লাশি চালায়।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতাল ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ওই নারীকে সুধারাম মডেল থানায় নেওয়া হলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, সোনার চেইন দুটি গিলে ফেলেছেন। এরপর এক্সরে পরীক্ষার মাধ্যমে তার পেটের ভেতরে চেইন দুটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার পেট থেকে সোনার চেইন দুটি বের করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুধারাম মডেল থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত নারী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উদযাপন উপলক্ষে নীলফামারীর ডিমলায় আলোচনা সভা ও দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৬-২০২৭ আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে এ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না, উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায়, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, সদস্য গোলাম রব্বানী প্রধান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রোকনুজ্জামান বকুল এবং ডিমলা থানার ওসি (তদন্ত) দিবাকর অধিকারীসহ অন্যান্য অতিথি।
আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসামান্য সাহিত্যকর্ম, দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও বিদ্রোহী চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন বাঙালির সাংস্কৃতিক ও জাতীয় জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাঁর সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও আদর্শ শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁর সৃষ্টিশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুধীজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন বলেন, মাদক কোনো সমাধান নয়; বরং এটি জীবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ। একটা ছেলে মাদকে জড়ালে শুধু সে নষ্ট হয় না, তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন, তার ভবিষ্যৎ সব শেষ হয়ে যায়। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে পরিবার থেকে শুরু করে সামাজিকভাবে সবাইকে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গাজীপুরের কালীগঞ্জে দক্ষিণ সোম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে “মা সমাবেশ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ” এসব বলেন।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দক্ষিণ সোম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে বিদ্যালয় পরিচালনা এডহক কমিটির জমিদাতা সদস্য মো. আল-আমিন দেওয়ানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেমিন আক্তার। তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবিদা সুলতানা। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইরশাদ মিয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান ও তুমলিয়া ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. হামিদুর রহমান।
উদ্বোধনকালে তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়া বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে ওঠে। তাই বিদ্যালয়ে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি সহ সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান দক্ষিণ সোম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেমিন আক্তার বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেন।
পরিশেষে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, খেলাধুলায় উৎসাহ প্রদান এবং ক্রীড়া কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দক্ষিণ সোম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করা হয়। বিতরণ করা ক্রীড়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট, বল, স্টাম্পসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সরঞ্জাম। এসব সামগ্রী পেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রুস্তম আলী, ডা. মো. ইয়ামিন খান, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. সেলিম রেজা, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, শিক্ষক মন্ডলী, শতাধিক শিক্ষার্থী অভিভাবক সহ স্থাণীয় অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম
বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারি ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামকে সুসময়ে ধানকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান দলটির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বিভিন্ন প্রতিকূল সময়ে দলের পাশে থাকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামের একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছেন তাঁর সমর্থকরা। তাদের মতে, দলের কঠিন সময়ে যারা মাঠে থেকে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন, সুসময়ে তাদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ধানকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের সেবা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তাই আগামী দিনে ধানকাটি ইউনিয়নের নেতৃত্বে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামকে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকরা।
প্রবাসী বন্ধুর বিশ্বাস ভেঙে বেকার যুবক কোটিপতি
কক্সবাজার পর্যটন জোনের শরণ আবাসিক প্রকল্পে অবস্থিত ‘সাগর কান্তা গেস্ট হাউস’-এর ভাড়াটিয়া নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মালিকের স্বাক্ষর জাল করে স্ট্যাম্প ও চুক্তিপত্র তৈরি, বিশ্বাসভঙ্গ, আমানত খেয়ানত এবং গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসী বন্ধুর বিশ্বাস ও সহযোগিতাকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন গেস্ট হাউসটি ভোগদখলে রেখে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নজরুল কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গেস্ট হাউসের মালিক কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর বাসিন্দা ফরিদুল আলম ভাড়াটিয়া নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন।
দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, নজরুল ইসলাম গেস্ট হাউসটি ভাড়া নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধ দেহব্যবসা ও প্রকাশ্যে ইয়াবার বেচাকেনাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এসব কর্মকাণ্ড সাংবাদিকদের নজরে আসার পর বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও স্থানীয় একাধিক দৈনিকে একাধিকবার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
বিষয়টি নজরে আসার পর গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে নজরুলকে গেস্ট হাউস ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তবে ভাড়ার মেয়াদ শেষ না হওয়ার অজুহাতে দখল ছাড়তে আপত্তি জানান ভাড়াটিয়া। ২০২৫ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি গেস্ট হাউসের দখল ছাড়েননি বলে অভিযোগ। বরং লাঠিয়াল ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গেস্ট হাউসটি স্থায়ীভাবে দখলে রাখার চেষ্টা এবং প্রকৃত মালিকের ওপর বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
এরই মধ্যে পূর্বের ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতার অনুরোধে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ছয় মাসের জন্য বিশেষ শর্তে চতুর্থবারের মতো চুক্তি সম্পাদন করা হয়। ওই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়-কোনো অবস্থাতেই বা কোনো অজুহাতে নজরুল ইসলামের সঙ্গে আর নতুন করে চুক্তি করা হবে না। একই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে পূর্বের বকেয়া প্রায় ৬ লাখ টাকা গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলমকে পরিশোধ করার শর্তও দেওয়া হয়।
গেস্ট হাউস মালিক একাধিকবার বকেয়া টাকা পরিশোধ করে গেস্ট হাউসের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ভাড়াটিয়াকে তাগাদা দিলেও নজরুল দখল ছাড়তে নানা তালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভাড়ার মেয়াদ বাড়িয়ে মালিকের স্বাক্ষর জাল করে নতুন স্ট্যাম্প ও চুক্তিপত্র তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এ সময় কতিপয় সন্ত্রাসীকে ব্যবহার করে মালিক ফরিদুল আলমকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করা হয়েছে।
অবশেষে গত ১৩ আগস্ট গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলমের উদ্যোগে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নজরুল ইসলামের কাছে থাকা চুক্তিপত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং সেটি জাল বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। একই বৈঠকে গেস্ট হাউস মালিকের প্রায় ৬ লাখ টাকা পাওনা থাকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে নজরুল ইসলামকে গেস্ট হাউসের দখল ছেড়ে দিতে হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
তবে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে এর আগেই রাতের আঁধারে গেস্ট হাউসের টেলিভিশন, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন মালিকপক্ষ।
এরপর গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজার সদর মডেল থানায় উল্টো গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও ৪ লাখ টাকার একটি চেকসহ তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গেস্ট হাউস থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, এসব ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবে গেস্ট হাউস মালিক ফরিদুল আলম ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেন নজরুল। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়লেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পেরে একপর্যায়ে কৌশলে সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৬-১৭ বছর ধরে প্রবাসী বন্ধু ফরিদুল আলমের মালিকানাধীন গেস্ট হাউসটি নামমাত্র ভাড়ায় ভোগদখল করে আসছেন নজরুল ইসলাম। ২০১৭ সালে বছরে ৫ লাখ টাকা ভাড়ায় প্রথম আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়। এরও প্রায় সাত বছর আগে থেকে গেস্ট হাউসের মালিক বিদেশে অবস্থান করায় বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে নজরুলকে গেস্ট হাউসটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে মালিকপক্ষের দাবি।
প্রথম চুক্তিপত্রে প্রথম বছরের ভাড়া ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী প্রতিটি বছর মূল ভাড়ার সঙ্গে আরও ৫০ হাজার টাকা করে যোগ হওয়ার শর্ত ছিল।
মালিকপক্ষের অভিযোগ, ওই চুক্তিপত্রে থাকা ফরিদুল আলমের স্বাক্ষর নকল করে পরবর্তীতে একাধিক চুক্তিপত্র তৈরি করা হয় এবং এভাবে গেস্ট হাউসের ভাড়ার মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এর মাধ্যমে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘সাগর কান্তা গেস্ট হাউস’কে কেন্দ্র করে পর্যটকদের টার্গেট করে সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণারও অভিযোগ রয়েছে। মালিকপক্ষের দাবি, পতিতা ও হিজড়াদের ভাড়া করে সমুদ্রসৈকতে পাঠানো হতো। সেখানে উঠতি বয়সী পর্যটক ও যুবকদের বিভিন্নভাবে প্রলোভিত করে গেস্ট হাউসে নিয়ে আসা হতো। পরে তাদের রুমে নিয়ে গিয়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবার কোনো কোনো পর্যটককে ইয়াবা দিয়ে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গেস্ট হাউসটিকে একটি অপরাধের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত করে বিপুল অর্থ উপার্জনের কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ মালিকপক্ষের।
তবে নজরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে মালিকপক্ষের অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য এবং অন্যান্য নথিপত্রে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া একটি গেস্ট হাউস পরিচালনার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত ভাড়াটিয়া-মালিকের মধ্যে বিরোধ, চুক্তিপত্র জালিয়াতি, দখল নিয়ে টানাপোড়েন এবং অনৈতিক ব্যবসার অভিযোগে গড়িয়েছে। মালিকপক্ষের দাবি, বেকার যুবক নজরুল ইসলাম ওই গেস্ট হাউসকে ব্যবহার করে অনৈতিক ব্যবসার মাধ্যমে রাতারাতি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।
ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।