সাগর-রুনি
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা অন্য একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা তদন্ত পরিচালনা করতে গিয়ে ভিন্ন মামলার সিডিআর পর্যালোচনায় হঠাৎ করেই সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার ঘটনা নিয়ে সাবেক মেজর মোজাফফর হোসেনের বিষয়ে কিছুটা ক্লু পেয়েছিলাম। এরকমই সাগর-রুনির ব্যাপারেও ক্লু পেয়েছি। তবে এর নাম পরিচয় এখনই প্রকাশ করতে পারছি না।’
'তবে এটুকু বলতে পারি একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, তার সাথে সাগর-রুনির এই ঘটনার সাথে কানেকশন পাওয়া যায়। আমরা সেগুলো যাচাই বাচাই করে দেখছি। তার ওপর আমাদের নজরদারি রয়েছে। আরও তদন্ত হওয়ার পরে আরও অথেনটিক কোনো কিছু পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তথ্যটা দিয়ে সহায়তা করা হবে।’
তিনি বলেন, এটা একটা ইনডিভিজ্যুয়াল মার্ডার কেস। এই মামলাটি সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে বিচার হবে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি দম্পতি খুন হন। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান আটজনের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
ডিবি, র্যাবের হাত ঘুরে বর্তমানে মামলাটি তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ ২৭ আগষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ফের ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য় করেন ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম। বর্তমানে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের বিদায় জানাতে আসেন স্বজনরা
সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দর বন্ধ থাকার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীসহ বিভিন্ন যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছতে বিকল্প আকাশ পথ ব্যবহার করছেন। শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদির রিয়াদ ও দাম্মামগামী বেশ কয়েকজন যাত্রী এমন কথা জানিয়েছেন।
বিমানবন্দরে রাসেল নামে এই যাত্রী জানান, তার আরও দুই সপ্তাহ ছুটি আছে। কিন্ত সৌদির রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার কারণে তার কফিল (মালিক) বলেছেন, ছুটি শেষ না করেই বিকল্প পথে দ্রুত কর্মস্থলে আসার জন্য।
তিনি বলেন, ‘আমার টিকিট কাটা ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রিয়াদগামী একটি ফ্লাইটের। কিন্ত এ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার কারণে সৌদির কর্মস্থলের মালিকের কথায় ওই টিকিট পরিবর্তন করে একই এয়ারলাইন্সের মদিনাগামী ফ্লাইটের টিকিট সংগ্রহ করেছি।’
শুক্রবার এ রুটে সৌদির গন্তব্য পৌঁছতে কুমিল্লার মুরাদনগর থানা এলাকায় থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আসেন তিনি। বিমানবন্দরে ছেলেকে বিদায় জানাতে আসা রাসেলের বাবা মো. আলী আহমেদও একই তথ্য জানান। রাসেলের মতো এমন অনেকেই টিকেট পরিবর্তন করে বিকল্প পথে তারা গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ১০ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে এসব বিমানবন্দরগামী ১০৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে আটকা পড়েছেন ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী।
এ ব্যাপারে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ জানান, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৪৪টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।
এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে ৬৩টি। এর মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারের ২২টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার চারটি ফ্লাইট রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া এবং বিমানবন্দরগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রমে না ফেরা পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, সৌহার্দ্য সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। ধর্ম যার যার-রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার-নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাণীতে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণীতে বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্মমতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন এবং ভক্তদের কল্যাণ সাধন করে শত্রুর বিনাশ ও সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের এই আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।
দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ প্রতিটি গোষ্ঠী-গোত্র-সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে যার যার ধর্ম পালন করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব পালন করছে, করবে, এটিই বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য।
এভাবে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পরিস্ফুটিত হয়ে ওঠে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের বিভিন্ন ধর্ম-গোত্র-সম্প্রদায়ের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভ্রাতৃত্ব।
সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা। সুতরাং যার যার ধর্মীয় বিধান এবং সংস্কৃতি অনুশীলনের পাশাপাশি মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ বহাল ও বজায় রাখা সবার জন্যই জরুরি।
তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর এবার বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ।
দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সৌহার্দ্য সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। ধর্ম যার যার-রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার-নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই ও বোনেরা, আপনারা উৎসাহ-উদ্দীপনা সহকারে, নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সারা দেশে উৎসব আনন্দ উদযাপন করুন, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘প্রেসিডেন্ট জিয়া রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বইয়ের প্রচ্ছদ
দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের লাইব্রেরিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা তিনটি বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বইগুলো কিনে লাইব্রেরিতে রাখতে বলা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব খন্দকার রবিউল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তরের প্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা তিনটি বই হলো ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
নির্দেশনায় বলা হয়, ‘জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশিত বইগুলোর এক সেট করে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’
চিঠির সূত্র হিসেবে জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা, ১১/১ বাংলাবাজার, ইসলামী টাওয়ার, ঢাকার ২৩ আগস্ট তারিখের একটি পত্রের উল্লেখ রয়েছে।
নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং নিমিউ অ্যান্ড টিসিকেও চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বইগুলো কেনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলেও এ জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাজেট, বরাদ্দ বা ক্রয়প্রক্রিয়ার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতীকী ছবি
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৮১ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ জনে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়। ফেব্রুয়ারিতেও মারা যান দুজন। এরপর মে মাসে একজন, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৯০ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৩৩৫ জনের মৃত্যু হলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ১৮১ জনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২৫ জন। এ ছাড়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২১৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ঢাকার বাইরে বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে চট্টগ্রামে, ২৪২ জন। এ ছাড়া খুলনায় ১৪০, বরিশালে ১২৭, রাজশাহীতে ৯৯, ময়মনসিংহে ৯২ এবং রংপুরে ৭১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জন।
ছবি : সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।
দুর্গোৎসব চলাকালে সীমান্ত ও দুর্গম এলাকা এবং উপকূলীয় ও নদীবেষ্টিত অঞ্চলের মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই দুই বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার পৃথক প্রেস ব্রিফিংয়ে দুই বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এসব তথ্য ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।
ঢাকায় বিজিবি সদরদপ্তরে বাহিনীটির পরিচালক (অপারেশনস) লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে প্রায় ২ হাজার ৭৮৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদস্যরা কাজ করবে।
এর মধ্যে, প্রায় ১ হাজার ৪২৫টি মণ্ডপ সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে, ১ হাজার ১১৯টি ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ১৮৩টি দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরেও বিজিবির উপস্থিতি থাকবে।
লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ জানান, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করে স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছেন। সদরদপ্তরে স্থাপিত বিশেষ মনিটরিং সেল এবং 'শারদীয় সুরক্ষা' অ্যাপের মাধ্যমে বিজিবি সদস্যরা নিজেদের মধ্যে তথ্য শেয়ার ও সমন্বয় রক্ষা করবেন।
এদিকে, দেশের উপকূলীয় ও নদীবেষ্টিত এলাকার ৬১৫টি মন্দির ও পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে কোস্টগার্ড।
ঢাকার মিরপুরে মন্দির পরিদর্শনের পর কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মইনুল হাসান ব্রিফিংয়ে জানান, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা, বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং ঢাকার নদীবেষ্টিত অঞ্চলের মণ্ডপগুলোতে কোস্টগার্ডের সদস্যরা কাজ করছেন।
প্রতিমা বিসর্জনের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে কোস্টগার্ডের বিশেষ ডাইভিং টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৬ জনে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ৫ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২১০ জন রোগী এসেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৪৮০ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন, সিলেটে ১৩৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭৭ জন, বরিশালে ১০৮ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন, খুলনায় ১০৭ জন এবং রংপুরে ৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার ২ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪০ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৯৭২ জন।