ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক আধিপত্য স্থাপনের মাধ্যমে রংপুরে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী। এরশাদের হাতেগড়া জাতীয় পার্টির দুর্গকে বিলীন করে
এবার একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে ১১ দলীয় জামায়াত
জোট।
শুক্রবার
(১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রংপুর জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক
মোহাম্মদ এনামুল আহসান।
ঘোষিত
ফলাফলে ছয়টি আসনের পাঁচটিতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত ও একটিতে জোটসঙ্গী
এনসিপি।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটির আংশিক)
জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মো. রায়হান সিরাজী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট। দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ জন। গঙ্গাচড়া উপজেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ২৮
হাজার ৪৫৭। এর মধ্যে বৈধ
২ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৫ হাজার ৩১৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬০ দশমিক ৮৯
শতাংশ।
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ)
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট।
বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। দুটি উপজেলার ১৩৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬১
হাজার ৮৩৯। এর মধ্যে বৈধ
২ লাখ ৫৬ হাজার ২০৩
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৫ হাজার ৬৪৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৮ দশমিক ৭৪
শতাংশ।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন)
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগরের সাবেক আমির মাহবুবুর রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী তৃতীয় অবস্থানে থাকেন। দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮ হাজার ২২৪ জন। এখানে ১৬৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২৪
হাজার ৭৯৫। এর মধ্যে বৈধ ৩
লাখ ১৭ হাজার ৫৯২
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৭ হাজার ২০৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৩ দশমিক ৯১
শতাংশ।
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা)
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটসমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিকে ৯ হাজার ৪০২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজর ৫৬৪ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।
পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন। দুই উপজেলার ১৬৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮
হাজার ৩১৪। এর মধ্যে বৈধ
৩ লাখ ৩০ হাজার ৫১
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৮ হাজার ২৬৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৬ দশমিক ৩৫
শতাংশ।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর)
জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ ভোট।
মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জন। এখানে ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব
কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ১৯
হাজার ৪৮৯। এর মধ্যে বৈধ
৩ লাখ ১২ হাজার ৮৪
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৮ হাজার ৪০৫। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৮ দশমিক ৩১
শতাংশ।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ)
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ টি।
এ
আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৫
হাজার ৭৩৫ জন। এখানকার ১১৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭
হাজার ৪২৭। এর মধ্যে বৈধ
২ লাখ ৪১ হাজার ৯৭৫
ভোট ও বাতিলকৃত ভোট
৫ হাজার ৪৫২। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৯ দশমিক ৫৫
শতাংশ।
জেলা
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, রংপুরে ৬টি সংসদীয় আসনে ২৫ লাখ ৯৯
হাজার ২০২ জন ভোটার ৮৭৩টি
ভোট কেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৮৮টি
বুথে ভোটারেরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতি দল ও স্বতন্ত্র
মিলে ৪৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এদিকে,
রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে সরাসরি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং একটি আসনে জোট-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় এ অঞ্চলে নতুন
রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের বার্তা মিলছে। বিএনপির সঙ্গে লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে জয়
আর জাতীয় পার্টি আসনশুন্য অবস্থান আগামীতে রংপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কেউ
কেউ মনে করছেন, এবার রংপুরের জনগণ আবেগের লাঙ্গল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় জামায়াতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপির সঙ্গে। তবে উন্নয়ন বৈষম্য থেকে বের হতে না পারলে আবারো
পিছিয়ে যাবে তিস্তা নদী বেষ্টিত কৃষিনির্ভর রংপুর অঞ্চলের মানুষেরা।
ভোটের
দিন সকাল থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে
কোথাও দেখা যায়নি। মাঠে ছিলেন না জাতীয় পার্টির
কেন্দ্রীয় নেতারাও। অনেকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি বক্তব্য। জিএম কাদের নিজেও বের হননি রংপুরের সেনপাড়ার স্কাই ভিউ নিবাস থেকে। এমনকি গণমাধ্যম কর্মীরা তার বাসার সামনে কয়েক দফায় জড়ো হলেও তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসেননি।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শূন্য কোষাধ্যক্ষ পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন যোগ্য অভ্যন্তরীণ শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজন অভ্যন্তরীণ শিক্ষকই এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সবচেয়ে উপযুক্ত।
আজ রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ বলেন, “অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আবেদন করতে পারেন। তবে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা চাই, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন যোগ্য শিক্ষক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান।”
অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী রিমন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ একজন শিক্ষকই প্রতিষ্ঠানের সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রয়োজন সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। ফলে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁরাই অধিক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।’
শিক্ষার্থীরা বলেন, কোষাধ্যক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বাইরের কোনো শিক্ষককে নিয়োগ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই ইতিবাচক হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন নোবিপ্রবির সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হানিফ মুরাদ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে কোষাধ্যক্ষ পদটি শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি এ পদে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে- এমন আলোচনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁরা আজকের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
শহীদ তুরাবের কবর জিয়ারত ও তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন- জামায়াতের নেতৃবৃন্দ
সিলেটের ইতিহাসে প্রথম পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার নিয়ে চলছে নানা সংশয়ও নানা আশংকা। এ দিকে দফায় দফায় তদন্তের নামে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিচার নিয়ে হতাশা বেড়েছে শহীদ পরিবারে। বিচারের দীর্ধ সুত্রিতা নিয়ে ক্ষুব্ধ সিলেটের সাংবাদিক সমাজও। ২ বছরে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে দেশে। ক্ষমতার মসনদে বসেছে নির্বাচিত সরকার। সেই সরকারের মেয়াদও ৬ মাস হতে চলেছে। কেবল শেষ হয়নি তুরাব হত্যার বিচার। এ মামলায় ২ বছরে অর্জন কেবল ২ জন আসামী গ্রেফতার। প্রকাশ্য পুলিশের গুলির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এখনো তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে আছে সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ব্যস্ততম এলাকা কোর্টপয়েন্টের উত্তর পাশে ডায়বেটিক হাসপালের প্রধান গেইটের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের গুলীতে নিহত হন দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার আবু তাহের মো. তুরাব (এটিএম তুরাব)। এরপর কেটে গেছে ২ বছর। এই সময়ে এসএমপির কোতোয়ালী থানা, পি বি আই হয়ে মামলাটি এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- আইসিটিতে। অপেক্ষা বাড়ছে বিচারের। মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান শহীদ তুরাবের মা, স্বামী হত্যার বিচার দেখতে চান বিয়ের ৩ মাসের মাথায় প্রিয়জনকে হারানো স্ত্রী ও তুরাবের ভাই-বোনেরা।
সেদিন কি ঘটেছিলঃ ১৯ জুলাই বাদ জুমআ সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় ছাত্র-জনতার উপর নৃশংস গণহত্যার প্রতিবাদে মিছিল বের করে বিএনপি। তখন ন্যুনতম কোনো উত্তেজনা ছিলনা। নিত্যদিনের মতো সেদিনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকগণ। পাশেই ছিল পুলিশের সশস্ত্র অবস্থান। হঠাৎই অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তাদের মারমুখী আচরণে বদলে যায় পরিস্থিতি। উত্তপ্ত হয়ে উঠে কোর্ট পয়েন্ট এলাকা। ঐ পুলিশের কিলিং মিশনের টার্গেটে পড়ে যান সাংবাদিক এটিএম তুরাব। পুলিশের ছুঁড়া ৯৮টি ছররা গুলি বিদ্ধ হয় তুরাবের শরীরে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে জরুরী ভিত্তিতে সোবহানী ঘাটস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানেই আইসিইউ-তে থাকা অবস্থায় সাংবাদিক তুরাব সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।
তুরাবের ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক ও সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম তখন জানিয়েছিলেন, তুরাবের শরীরে ৯৮টি ছররা গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুলিতে তার লিভার ও ফুসফুস আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মাথায়ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ কারণেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
মাত্র তিন মাস আগে লন্ডনি কন্যা বিয়ে করেছিলেন সাংবাদিক এটিএম তুরাব। লন্ডন যাওয়ার সব প্রক্রিয়া এগিয়েও রেখেছিলেন। হয়তো কয়েক মাসের মধ্যে তার লন্ডন পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয় তাকে।
এমন ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়ে তার পরিবার। লন্ডনে থাকা সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী তানিয়া ইসলাম বিয়ের তিন মাসের মধ্যে হয়ে যান বিধবা। এখনো কাঁদেন তিনি। কারণ তখন দেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় স্বামীর মরদেহ ও শেষ বিদায়ের দৃশ্য দেখতে পারেননি তিনি। সাংবাদিক তুরাব হত্যার দুই বছর পেরিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে তুরাব হত্যা মামলায় এসএমপির তৎকালীন এডিসি সাদেক কাউসার দস্তগীর ও পুলিশ কনস্টেবল উজ্জল সিংহ কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামী এখনো বাইরে থাকায় ন্যায়বিচার নিয়ে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে সংশয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যার ঘটনায় মৃত্যুর ৫ দিনের মাথায় একই বছরের ২৪ জুলাই সাংবাদিক তুরাবের বড় ভাই আবুল আহসান মো. আজরফ (জাবুর) এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানায় আট থেকে ১০ জন পুলিশকে অভিযুক্ত করে এজাহার দাখিল করেন। কিন্তু কোতোয়ালি থানা পুলিশ সেটিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করে। এরপর সেই বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ১৯ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মোমেনের আদালতে এটিএম তুরাব হত্যার ঘটনায় পুনরায় মামলা দায়ের করেন তার ভাই আবুল আহসান মো. আযরফ (জাবুর)। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
আদালত শুনানি শেষে মামলার এফআইআর করার নির্দেশ দেন। মামলায় ২নং আসামি এসএমপির তৎকালীন উপকমিশনার (ক্রাইম উত্তর) মো. সাদেক দস্তগীর কাউসার, ৩নং আসামি তৎকালীন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ ও ৪নং আসামি হন কোতোয়ালী থানার তৎকালীন সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ কল্লোল গোস্বামী, থানার তৎকালীন ওসি মঈন উদ্দিন, ওসি (তদন্ত) ফজলুর রহমান, থানার এসআই কাজি রিপন সরকার, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আফতাব উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পিযূষ কান্তি দে, যুবলীগ নেতা ও সিসিকের তৎকালীন গণসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর, সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিসিকের ৩২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রুহেল আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস অনিক, নগরের চালিবন্দর নেহার মঞ্জিলের বাসিন্দা শিবলু আহমদ (মো. রুহুল আমিন), এসএমপির কনস্টেবল সেলিম মিয়া, কনস্টেবল আজহার, কনস্টেবল ফিরোজ ও কনস্টেবল উজ্জ্বল। এছাড়া মামলায় ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়।
এদিকে, দীর্ঘ দুই বছরে এই মামলায় দু’জন আসামি গ্রেফতার হলেও বাকিরা এখনো পলাতক। গেল বছর মামলাটি পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কোর্টে স্থানান্তর করা হয়। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তরের পর আইসিটি কোর্টের তদন্ত টীম দফায় দফায় সিলেট সফর করেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেন। গেল বছরের ২০ জুলাই প্রথমবারের মতো তুরাব হত্যা মামলার দুই আসামীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। চাওয়া হয় রিমান্ড।
গত বছরের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে চার্জশীট দাখিল করার কথাও জানিয়েছিলেন আইসিটি কোর্টের তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তাগণ। কিন্তু এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে আরও দুই বছর। সামনে চলে আসছে আরেক আগস্ট। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কোর্টের একটি তদন্ত টীম গত সপ্তাহে সিলেট সফর করে গেছেন। তারা তুরাব হত্যা মামলার সাক্ষীদের সাথে কথাও বলছেন। এব্যাপারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, আমরা তদন্তের কাজে সিলেটে এসেছি। তুরাব হত্যা মামলার বাদি ও সাক্ষীদের সাথে কথা বলেছি। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ে মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।
মামলার বাদী সাংবাদিক তুরাবের বড় ভাই আবুল আহসান মোহাম্মদ আজরফ (জাবুর) হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের গুলিতে আমার ভাইকে হত্যা করা হলো। শত শত ফুটেজ, নিউজ ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী থাকার পরও একের পর এক তদন্তের নামে কালক্ষেপনে আমরা বিচার নিয়ে হতাশ। প্রশাসন এখন পর্যন্ত মাত্র ২ জন আসামীকে গ্রেফতার করতে পেরেছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে কোন তৎপরতা না থাকার বিষয়টি দুঃখনজক। আমরা তুরাব হত্যার বিচার চাই।
এদিকে, চব্বিশের জুলাই গণ আন্দোলনে সিলেটের রাজপথে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের কবর জিয়ারত করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। আজ রোববার (২৬ জুলাই) সকালে বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ফতেহপুর কবরস্থানে গিয়ে তিনি দৈনিক নয়া দিগন্তের তৎকালিন সিলেট ব্যুরো প্রধান ও দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার শহীদ তুরাবের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। জিয়ারত শেষে শহীদ সাংবাদিক তুরাবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ডা. শফিকুর রহমান। এসময় তিনি তুরাবের বড় ভাই আবু আজরফ মো. জাবুরসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শহীদ সাংবাদিক তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই আজ দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, শহীদ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি। শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে তুরাবের মতো সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক তৈরি হবে না। সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা জরুরি। তিনি বলেন, আমরা সাংবাদিক তুরাবের হত্যার বিচারের দাবী জোরদার করবো। এর বিচারের হতেই হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সার্থে তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত। আমরা জানিনা এই সরকার তুরাব হত্যার বিচার করবে কিনা। তবে শেষ বিচারের দিনে অবশ্যই তুরাব ন্যায়বিচার পাবেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় তিনি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন, পরিবারের খোঁজ খবর নেন ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া প্রেস ইউনিটের দ্বিবার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। আজ রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলার একটি রেস্টুরেন্টে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে আগামী দুই বছরের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়।
নির্বাচনে সভাপতি পদে দৈনিক দেশের কণ্ঠ-এর প্রতিনিধি নুরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক আমার দেশ-এর প্রতিনিধি মো. সেলিম উদ্দীন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দৈনিক সকালের সময়-এর প্রতিনিধি বেলাল উদ্দীন নির্বাচিত হয়েছেন।
নবনির্বাচিত কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সুজন নাথ, যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন, অর্থ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজানুর রহমান এবং দপ্তর সম্পাদক নুরুল আমিন।
এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আবু নাঈম মোহাম্মদ মুজিবুল করিম, নাজিম উদ্দীন, কাউছার আলম, খুরশেদ আলম এবং মঈনুদ্দিন।
নির্বাচন শেষে নবনির্বাচিত সভাপতি নুরুল আলম বলেন, “লোহাগাড়ার সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, ঐক্য ও কল্যাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। একটি দায়িত্বশীল, শক্তিশালী ও গতিশীল প্রেস ইউনিট গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।”
সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, “সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।”
সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল উদ্দীন বলেন, “সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সকল সদস্যের সহযোগিতায় লোহাগাড়া প্রেস ইউনিটকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও সেবামুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করব।”
পরে নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান সংগঠনের সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে লোহাগাড়া প্রেস ইউনিট সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংগঠনের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়ের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক দপ্তরি কাম প্রহরীর বিরুদ্ধে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বিশাল আকৃতির শুকনো আমের গাছ টেন্ডার বা নিলাম ছাড়াই কেটে ফেলায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ রোববার(২৬ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে থাকা বিশালাকার গাছটি শ্রমিক লাগিয়ে কেটে ফেলেন ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী আব্দুল লতিফ। তাকে সহযোগিতা করেন স্থানীয় আরোও কয়েকজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মৌখিক নির্দেশে দপ্তরি কাম প্রহরী আব্দুল লতিফ এই গাছটি কেটেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের যেকোনো সম্পদ বা গাছ অপসারণের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি।
গাছ কাটার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। গাছ কাটার কোনো মৌখিক নির্দেশও আমি দেইনি।
এবিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের গাছ কাটার বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি। আপনারা নিউজ করেন সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, টেন্ডার ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার কোনো বিধান নেই। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাধারণ নাগরিকদের ওপর কোনো ধরনের অতিরিক্ত কর বা ট্যাক্স না বাড়িয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৫,১০২ কোটি ৩৫ লাখ ৮ হাজার টাকার একটি জনকল্যাণমুখী ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (২৬ জুলাই, ২০২৬) আয়োজিত বাজেট উপস্থাপন ও সংবাদ সম্মেলনে এই বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করা হয়। নতুন এই বাজেটে সম্ভাব্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২,৪৮০ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সমাপনী স্থিতি ধরা হয়েছে ২,৬২১ কোটি ৮৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয় যে, বর্তমান অর্থবছরে সাধারণ নাগরিকদের ওপর নতুন কোনো ট্যাক্স বা করের বোঝা বাড়ানো হয়নি। হোল্ডিং ট্যাক্স রি-অ্যাসসেসমেন্ট কার্যক্রম শেষে পূর্বের ন্যায় একই কর বহাল রাখা হয়েছে। নগরীর আধুনিকায়ন ও নাগরিক সেবা বৃদ্ধির লক্ষে বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও ড্রেন নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্য খাতের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব অর্থায়ন ও সরকারি অনুদানে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ এবং মেরামতের জন্য প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া ডিপিপি প্রকল্পের আওতায় ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নর্মা ও ফুটপাত নির্মাণের কাজও বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করতে ৩৭টি নতুন যানবাহন ক্রয় এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি মশা তথা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসকরণ, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষা ও খেলাধুলার মান উন্নয়নে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি খেলার মাঠ এবং ৮টি জোনে নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে জানানো হয় যে, একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য আধুনিক নগরী গড়ে তুলতে নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি। শহরটিকে নিজেদের মনে করে সবাই মিলে পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এই বাজেট বাস্তবায়নে সকলের দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
আনন্দঘন পরিবেশে রোটারী ক্লাব অব গাজীপুর সেন্ট্রালের নবম চার্টার্ড ডে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুর শহরের প্রকৌশলী ভবনের হলরুম জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর, ডি৬৪ ও পিডিজি একেএম সামসুল হুদা।
ক্লাবের চার্টার্ড প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান কাজলের সভাপতিত্বে ও ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মোঃ আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা এডভোকেট আব্দুস সালাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট কোঅর্ডিনেটর ডাক্তার আমিরুল ইসলাম, রিপসা টিম মেম্বার রোটারিয়ান জাহাঙ্গীর আলম, অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্ডিনেটর ও আইপিপি জাহাঙ্গীর কবির, পাষ্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান প্রকৌশলী শাহ মামুন সারোয়ার, পাষ্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান জাহাঙ্গীর আলম পিএইচএফ, পাষ্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান এরশাদ হোসেন, রোটারী ক্লাব অব গাজীপুরের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মনির হোসেন, রোটারী ক্লাব অব ভাওয়ালের প্রেসিডেন্ট মনিরুজ্জামান মুন্না, রোটারী ক্লাব ভাওয়াল হেরিটেজের প্রেসিডেন্ট গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কেক কাটা, কুইজ প্রতিযোগিতা, রেফেল ড্র, সার্ভিস প্রজেক্ট গ্রহণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পরে অসহায় দুটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ, দুইজনকে শিক্ষাবৃত্তি, একজন অটিস্টিক শিশুকে চিকিৎসা সহায়তা, আত্মকর্মসংস্থানের জন্য টেইলারিং কাজে আর্থিক সহযোগিতাসহ ৮টি প্রজেক্টের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হয়। রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান জাতীয় সংগীতশিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন।