ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ভালুকাবাসী
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজজুড়ে পল্লী বিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর ঘন ঘন লোডশেডিং এবং আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনের ব্যস্ত সময় থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিল্পকারখানার শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিকাজ এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। উপজেলার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দিনে ও রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোথাও স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেকের দাবি, দিনে পাঁচ থেকে আটবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। কোনো এলাকায় ৩০ মিনিট, কোথাও এক থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও এরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাটানোর অভিযোগও করেছেন অনেক গ্রাহক।
সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনলাইনভিত্তিক কাজ, মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চলমান তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটার, রাউটার, আইপিএসসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন গ্রাহকরা।
হবিরবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রাজ্জাক মিয়া বলেন, "দিনে কয়েকবার করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে আমাদের সন্তানরা। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারে না। আবার বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আতঙ্কও রয়েছে।"
ভরাডোবা ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন, "বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন আমাদের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। অনলাইনে লেনদেন, বিকাশ-নগদ সেবা, কম্পিউটারভিত্তিক কাজ সবকিছুই বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এতে ব্যবসায় যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি গ্রাহকদেরও ভোগান্তি বাড়ছে।"
ভালুকা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক বিপিডিবি গ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "গত শুক্রবার রাতে অন্তত ২০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। ছোট শিশুদের নিয়ে পুরো পরিবারকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা, কিন্তু শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না।"
দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ভালুকার অসংখ্য তৈরি পোশাক কারখানা, টেক্সটাইল, ডাইং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানও অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানকে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সময়মতো উৎপাদন শেষ করতে না পারায় সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি খাতেও। সেচনির্ভর জমিতে নির্ধারিত সময়ে পানি সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় কৃষকদের অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক কৃষক জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না। ফলে কৃষিকাজের সময়সূচি ব্যাহত হচ্ছে এবং উৎপাদন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সূত্রে জানা গেছে, তাদের মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৪ লাখ ৮৫ হাজার, বাণিজ্যিক প্রায় ২৫ হাজার ৫০০, শিল্প ৫ হাজার ২০০ এবং সেচ গ্রাহক ৪ হাজার ১০০। সমিতির আওতায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৯০ মেগাওয়াট, অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২১০ থেকে ২১৫ মেগাওয়াট।
এর মধ্যে শুধু ভালুকা ও গফরগাঁও উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ মিলছে মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই ব্যাপক লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে বিপিডিবি ভালুকা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ আবাসিক এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য শ্রেণির গ্রাহক। ভালুকা এলাকায় বিপিডিবির বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াট।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার আকমল হোসেন বলেন, "ভালুকায় চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।"
বিপিডিবি ভালুকা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, "চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণেই লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ সংকট, বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কিংবা কারিগরি ত্রুটি যে কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকুক না কেন, এর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান জরুরি। তাদের মতে, বিদ্যুৎ এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কৃষি ও অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং নাগরিক জীবনের অন্যতম মৌলিক সেবা।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান ঘন ঘন লোডশেডিং ও অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ শুধু জনদুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বিদ্যমান সংকট দ্রুত চিহ্নিত করে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শুধু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই কমবে না, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন এবং কৃষিসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ফিরে পাবে স্বাভাবিক গতি।
নোয়াখালীর সেনবাগে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান, একটি কার্তুজ ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. জাবেদ হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণপুর এলাকার কালা মিয়ার বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার জাবেদ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণপুর গ্রামের মো.সিরাজ উদ্দিন মিন্টুর ছেলে।
পুলিশ জানায়, নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে সেনবাগ থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে জাবেদ হোসেনের বসতঘরের শয়নকক্ষে তোষকের নিচ থেকে একটি দেশীয় তৈরি লোহা ও কাঠ সংযুক্ত পাইপগান, একটি কার্তুজ এবং দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পরে অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগে জাবেদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ আরও পেয়ার জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সেনবাগ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় পুলিশের অভিযানে ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে ১ হাজার ৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত তেল ও মবিলের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন। এর আগে, শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে ফেরির পন্টুনে অভিযান চালিয়ে তেল গুলো জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. জাকের উদ্দিন (৩৫) উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের তালুকদার গ্রামের তালুকদার বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে ফেরির পন্টুনে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় শাহেদ উদ্দিন প্রকাশ তেল শাহেদ (২৮), মো. রিয়াজ উদ্দিন (৩২)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জন পালিয়ে যায়। অভিযানে চারটি টিনের বড় ড্রামে ৭২০ লিটার, ৩০টি প্লাস্টিকের জারিকেনে ৯০০ লিটার এবং ৯টি জারিকেনে ১৮০ লিটার ডিজেল। এছাড়া একটি বড় ড্রামে ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেলের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং ২০০ লিটার মবিলের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামির হেফাজত থেকে বৈধ কাগজপত্রবিহীন ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় হাতিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর রাশেদুল ইসলাম (১৯) নামের এক তরুণের কঙ্কাল, পরনের প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত রাশেদুল ফুলপুর উপজেলার কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে। পেশায় তিনি একজন শ্রমিক ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে পুলিশ প্রধান আসামিসহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
তারা হলেন, ফুলপুর উপজেলার কুকাইল গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৪), মো. ছাবেদ আলী ওরফে মিঠুর ছেলে রফিক ওরফে রফিদ (২৮) এবং মৃত আ. রহিমের ছেলে মোজাম্মেল (২৭)।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত রাশেদুল তার বাবার সঙ্গে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। কাজ না থাকায় দেড় মাস ধরে তিনি বাড়িতেই ছিলেন। এ সময় পাশের এলাকার তিন যুবক- জসিম, রফিক ও মোজাম্মেলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকের কাজ করতেন রাশেদুল। ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে জসিম উদ্দিন মুঠোফোনে রাশেদুলকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরদিন ১৩ আগস্ট সকালে রাশেদুলের মুঠোফোন থেকে তার বাবার কাছে একটি কল আসে। এক নারীর কণ্ঠে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফা ফোন ও খুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলে ওই দিনই ফুলপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রাশেদুলের বাবা।
অপহরণের পর প্রধান আসামি জসিম এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২৫ আগস্ট ফুলপুর থানায় জসিমকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য ও ডিজিটাল যোগাযোগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে রোববার দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে প্রধান আসামি জসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে অপর দুই আসামি রফিক ও মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার জসিমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, রোববার রাত সাড় ১০টার দিকে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের ‘গারোর ভিটা’ এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালায় ফুলপুর থানা পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মাথার খুলিসহ শরীরের বিভিন্ন হাড় এবং রাশেদুলের পরিধেয় একটি প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে পরনের পোশাক দেখে কঙ্কালটি রাশেদুলের বলে শনাক্ত করেন তার বাবা শাহজাহান।
এ ব্যাপারে শাহজাহান জানান, কিছুদিন আগে রাশেদুল, রফিক ও মোজাম্মেল একসঙ্গে একটি শসাখেতে কাজ করেছিলেন। কাজের পারিশ্রমিক বাবদ রফিক ৫০০ টাকা পেলেও রাশেদুলকে দেওয়া হয় মাত্র ১০০ টাকা। বাকি টাকা দিয়ে রফিক ইয়াবা কিনে সেবন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এই বিরোধের জের ধরেই তিনজনে মিলে রাশেদুলকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে পরিবারের দাবি।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন জানান, উদ্ধার দেহাবশেষের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ডিএনএ আলামত সংরক্ষণ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য হাড় ও আলামত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা তা জানতে তদন্ত চলবে।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ৫ নম্বর ধাওয়া ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান। সভায় বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, দীর্ঘদিন জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, বাড়ির আশপাশে কোনো পাত্র বা স্থানে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ইউএনও আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, ইমাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। কারও মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাজমুল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, ইউপি সদস্য এম এ কাইয়ুম জামান, মাহমুদুল ইসলাম রুবেল, প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান, ধাওয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী আবদুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ রেজাউল করিম, সাবেক সভাপতি আবদুর রশিদ খান ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. মাসুম বিল্লাহসহ অনেকে।
সভাটি সঞ্চালনা করেন ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা মো. আবদুল জলিল ফকির। সভায় উপস্থিত বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তীব্র স্রোতে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ভিড়তে না পেরে কয়েক কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে গেছে রো-রো ফেরি ‘হামিদুর রহমান’। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ফেরিতে থাকা যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা। ভেসে যাওয়া ফেরিটিতে ৮টি যাত্রীবাহী বাস, ৪টি ট্রাক ও ৩টি প্রাইভেটকার রয়েছে। আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা রো-রো ফেরি ‘হামিদুর রহমান’ মাঝ নদী পার হলে তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে ফেরিটি স্রোতে নিচের দিকে যেতে থাকলে সেখানেই নোঙর করা হয়। এরপর রুটে চলাচলকারী অপর রো-রো ফেরি ‘খানজাহান আলী’ গিয়ে ফেরিটিকে উদ্ধার করে।
তীব্র স্রোতের কারণে মাঝে মধ্যে এ রকম ভাটির দিকে ফেরি ভেসে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে।
কক্সবাজার সদর উপজেলার হাজীপাড়ায় চট্টগ্রাম কোর্টে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা শহিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯০ হাজার পিস ইয়াবা এবং নগদ ৩৬ লাখ ২০ হাজার ৮৫০ টাকাসহ তার শ্যালক মোমেন মেহেদী আশিক, স্ত্রী সাদিয়া ফারহানা এবং এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা, তারা ইয়াবাপাচারের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার তার বোন জামাই এসআই শহিদুল্লার বাড়িতে মাদক সহ অবস্থান করে।
ভোর ৬টা থেকে কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোমেন মন্ডলের নেতৃত্বে সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের হাজীপাড়ায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে মাদক ও টাকা উদ্ধার এবং গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদেরকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন।