নানা ধরনের মসলা
কোরবানির ঈদের আর বাকি দুই দিন। এই সময়ে কোরবানির পশু কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে।
অন্যদিকে মসলার বাজারেও ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। বিভিন্ন ধরনের মসলা পণ্যের মধ্যে বর্তমানে ছোট এলাচ, আদা, লবঙ্গ, দারুচিনি, বাদাম, দেশি পেঁয়াজ, শুকনা মরিচের দাম বাড়তি রয়েছে।
মসলার পাশাপাশি বাজারে আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগির ডিম, বিভিন্ন ধরনের মাছ, খাসির মাংস, শসা ও টমেটো। চিনিগুঁড়া বা পোলাও চালের দাম আগে থেকেই বাড়তি। তবে সেমাই, নুডলসের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
মসলার আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, ইরান, তুরস্ক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল থেকে বেশির ভাগ মসলা আমদানি হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে মসলা আমদানির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামও কমবেশি বেড়েছে। এসব কারণে বর্তমানে দেশে আমদানি করা বিভিন্ন মসলার দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে। মসলার বাজারে সবচেয়ে দামি পণ্য ছোট এলাচ। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ছোট এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায়।
গত এক মাসের মধ্যে এলাচের দাম সেভাবে বাড়েনি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার এলাচের দাম কেজিতে ৪০০-৬০০ টাকা বেশি রয়েছে।
বাজারে পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫৫ টাকায়। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, গত এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
যদিও গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এখন পেঁয়াজের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ কম। টিসিবির হিসাবের চেয়ে কিছুটা বেশি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বর্তমানে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকায়। গত এক মাসের মধ্যে পণ্যটির দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। দেড় মাসের মধ্যে শুকনা মরিচের দাম কেজিতে ১০০ টাকার ওপরে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৬০ টাকায়। এ ছাড়া লবঙ্গের দাম কেজিতে ৫০-১০০ টাকা বেড়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে বড় প্রভাব পড়েছে আলু বোখারা ও পেস্তাবাদামের দামে। পণ্য দুটির বেশির ভাগ আমদানি হয় ইরান থেকে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি কেজি আলু বোখারার দাম ছিল ৫০০ টাকার আশপাশে। বর্তমানে এই দাম বেড়ে ১ হাজার ২৫০ টাকা হয়েছে।
অন্যদিকে পেস্তাবাদামের দাম কেজিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা হয়েছে। এ ছাড়া কাঠবাদামের দামও কেজিতে ১০০ টাকার মতো বেড়েছে।
অন্যান্য মসলার মধ্যে জিরা ৫০০-৬০০ টাকা, কিশমিশ ৭৫০-৮৫০ টাকা, তেজপাতা ১৪০-২০০ টাকা, দারুচিনি ৪৫০-৫২০ টাকা, জয়ফল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, জয়ত্রী ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় জিরা, রসুন, ধনে ও তেজপাতার দাম কম রয়েছে।
ঈদের আগে মসলা বেচাকেনা কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বিক্রেতা আবদুল হালিম বলেন, ঈদের পাঁচ-ছয় দিন আগে থেকে মসলার বিক্রি বেড়েছে। মোটামুটি ভালো বেচাকেনা চলছে। তবে বাজারে কোরবানির গরু বেচাকেনা বেশি হলে মসলার চাহিদাও বাড়তে থাকে।
সেমাই, চিনির দাম স্থিতিশীল
ঈদের সময় বাসাবাড়িতে কমবেশি সেমাই, পায়েস, পোলাও রান্না হয়। এসব পণ্যের মধ্যে সেমাই, চিনি, দুধের দাম গতকাল পর্যন্ত মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম ওজনের মোড়কজাত সেমাই বিক্রি হয়। প্রতি প্যাকেটের দাম ৪৫-৫০ টাকা। একই পরিমাণ খোলা সেমাই ৩০-৩৫ টাকায় কেনা যায়।
বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০০ টাকা ও মোড়কজাত চিনি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গুঁড়া দুধ বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৯০০ টাকায়।
চলতি বছরের শুরু থেকে চিনিগুঁড়া বা পোলাও চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। দফায় দফায় দাম বাড়তে বাড়তে তা কেজিপ্রতি ১৪০-১৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। বর্তমানেও এ দামে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য অন্যান্য চালের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল।
ডিম, মাছ, টমেটো, মরিচের দাম বাড়তি
কোরবানির ঈদের সময় সাধারণত ব্রয়লার মুরগি, মুরগির ডিম ও মাছের চাহিদা কমে যায়। তবে চাহিদা কম থাকলেও সরবরাহ ঘাটতি থাকায় এসব পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে। বর্তমানে ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহে এ দাম আরও ১০ টাকা বেশি ছিল। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকা কেজি দরে। গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও বাড়ছে। যেমন গতকাল সোমবার রাজধানীতে ২ কেজি আকারের রুই মাছ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
এক সপ্তাহ আগে এই আকারের রুইয়ের কেজি ছিল ৩৬০-৩৭০ টাকা। এভাবে অন্যান্য মাছের দামও ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও খাসির মাংসের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে।
বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম অবশ্য কমতির দিকে। গতকাল বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকার মধ্যে।
তবে শসা, গাজর, কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম কিছুটা বেড়েছে। এর মধ্যে মরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০-১০০ টাকা হয়েছে। প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। টমেটো বিক্রি হয় ১০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ৮০ টাকা ছিল।
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা আল-নাহিয়ান বলেন, ঈদের সময় সবজির চাহিদা কিছুটা কম থাকে। তবে এ সময় সালাদের জন্য শসা, গাজর, কাঁচা মরিচ ও টমেটোর চাহিদা বাড়ে। তাই এসব পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
প্রতি বছর বাজেটের পর দেশে ব্যবসা করা কোম্পানিগুলো নতুন প্যাকেট তৈরিতে এক ধরনের শুভংকরের ফাঁকি দেয়। জাতীয় বাজেটে নির্ধারিত সিগারেটের নতুন মূল্যস্তর অনুযায়ী প্যাকেট তৈরিতে সময়ক্ষেপণ করে। এই সময় বাজারে পুরোনো সিগারেট বাড়তি দামে বিক্রি হয়। এতে সরকার বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারায়।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন মূল্যস্তর নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও দেশের দুই বৃহৎ সিগারেট কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড ও জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনালের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। দেশের আইন অনুযায়ী, সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে দেওয়া সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নেই। কিন্তু কোম্পানি দুটির সিগারেটের ক্ষেত্রে বাজারে তা পরিপালন হচ্ছে না। যার প্রমাণ পেয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, সিগারেটের ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন মূল্যস্তর নির্ধারণ করেছে এনবিআর। আর সিগারেট বিক্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না বলেও আইন পাস হয়েছে। কিন্তু বাজেটের দুই মাস পরও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর সিগারেট বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিন যার প্রমাণ পেয়েছেন ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সাধারণত সিগারেট বিপণনের সময় সর্বশেষ খুচরা মূল্যের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।
সংসদে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, খুচরা মূল্যের অধিক দামে কোনো পর্যায়েই সিগারেট বিক্রি করা যাবে না বলেও ভ্যাট গোয়েন্দার চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বিগত অর্থবছরের মুদ্রিত প্যাকেট ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো নতুন মূল্যস্তরের দামে বিক্রি করছে। যা আইনের পরিপন্থি বলেও জানিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংস্থাটির মহাপরিচালক বাড়তি দামে বিক্রির কারণে সরকারের ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকি হচ্ছে জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট, এলটিইউকে (ভ্যাট) চিঠি দিয়েছেন। কারণ এলটিইউ ভ্যাটের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ পিএলসি এবং জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ভ্যাট বাস্তবায়ন ও ভ্যাট পলিসির সদস্যকে অনুলিপি দিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যাট পলিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মো. আজিজুর রহমান বলেন, সিগারেট কোম্পানির রাজস্ব সংক্রান্ত একটি চিঠি ভ্যাট গোয়েন্দা থেকে এলটিইউ ভ্যাটকে দেওয়া হয়েছে। এই চিঠির অনুলিপি ভ্যাট পলিসিকেও দেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। আগামী সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান এনবিআরের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সূত্র আরও জানায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্তরে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে এনবিআর। বাজেটের দুই মাস পরও বাড়তি দামে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এবং জেটিআইর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট বাজারে বিক্রি হওয়ায় সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
এ ছাড়া এনবিআরের আদেশ অনুযায়ী, পূর্বের সর্বোচ্চ মূল্যে মুদ্রিত সিগারেটের প্যাকেটে সিল দ্বারা নতুন সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য মুদ্রণ করার বিধান রয়েছে। এই সিলও ব্যবহার করছে না ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। আগের বছরে মুদ্রিত প্যাকেট নতুন বছরে তার চেয়ে বেশি দামে বাজারজাত করছে কোম্পানিটি। বাড়তি দামে সিগারেট বাজারজাতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলেও ভ্যাট গোয়েন্দার চিঠিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের মনোনীত পিআর প্রতিষ্ঠান অ্যাবস্ট্রাক্ট স্ট্র্যাটেজির তারিন ফাহিমা এই প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি জানতে চান। পরে আইন অমান্য করে সিগারেট বাজারজাতের বিষয়টি উল্লেখ করে খুদে বার্তা পাঠানো হলে তিনি বিষয়টি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর এই সংক্রান্ত বক্তব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেবেন বলেও জানান। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বাজারে শুধু ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে না। একইভাবে বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনালের উৎপাদিত সিগারেটও। তবে প্রতিষ্ঠানটি নতুন অর্থবছরে নতুন মূল্যস্তর অনুযায়ী প্যাকেট মুদ্রণ করলেও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। এতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ভ্যাট গোয়েন্দার কর্মকর্তারা।
বাড়তি দামে জেটিআইর সিগারেট বিক্রির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মোর্শেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে বিষয়টি উল্লেখ করে তার মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার বলেন, নতুন আইন অনুযায়ী পুরোনো মুদ্রিত সিগারেট বাজারজাত করলেও সিলের মাধ্যমে নতুন মূল্য থাকতে হবে। কিন্তু ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এই আইন পরিপালন করছে না। গত অর্থবছরের মুদ্রিত প্যাকেট নতুন অর্থবছরে বাড়তি মূল্যে বাজারজাত করছে। পুরোনো প্যাকেট নতুন দামে বিক্রি হওয়ায় সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ভ্যাট আদায় করতে এলটিইউ ভ্যাটকে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
সার্বিক বিষয়ে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, সিগারেটের প্যাকেটে সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) উল্লেখ থাকার পরও এর চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করা শুধু ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণাই নয়, এটি সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ-দুই ক্ষেত্রেই গুরুতর সমস্যা তৈরি করছে। ২০২৩ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন জারি করে এমআরপির বেশি দামে সিগারেট বিক্রি না করার নির্দেশনা দিলেও বাজারে এর কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক ব্যুরোর গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু গত অর্থবছরেই এমআরপির বেশি দামে সিগারেট বিক্রির কারণে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারিয়েছে। এর অর্থ হলো, বিদ্যমান আইন ও রাজস্ব নীতিমালা যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় সরকার একদিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে তামাক কোম্পানিগুলো বাজারে নিজেদের মতো করে মূল্য নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিগারেটের দাম কার্যকরভাবে বাড়ানো এবং সরকারের নির্ধারিত মূল্য কাঠামো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা তামাক ব্যবহার কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়। কারণ, তামাক ব্যবহার হৃদরোগ, ক্যানসার, শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি। বিশেষ করে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে সিগারেটের সহজলভ্যতা ও ক্রয়ক্ষমতা তামাক ব্যবহারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অথচ বাজারে যদি কোম্পানিগুলো বা তাদের বিক্রয় নেটওয়ার্ক ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে এবং একই সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে তামাক নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই রাজস্ব সুরক্ষা এবং তামাকের ক্ষতিকর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর স্বার্থে এমআরপি বাস্তবায়নে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সয়াবিন তেল
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এত দিন বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৯৯ টাকা। এখন নতুন দাম হয়েছে ২০৪ টাকা। আজ বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান এ তথ্য জানান।
এর আগে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকেরা বৈঠক করেন।
বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে, পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। এসব কারণ দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল আরও বেশি (লিটারে ১০ টাকা) দাম বাড়ানোর। তিনি বলেন, বাজারে বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। সম্প্রতি বেড়েছে চিনির দাম।
নতুন করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়বে কি না-এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে।’
বাংলাদেশ ও মিয়ানমার পতাকা
যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধজনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ডলার- কারণে দেশটির ব্যবসায়ীরা সরাসরি মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন না। সে জন্য তাঁরা তৃতীয় কোনো দেশ থেকে পরিশোধ করতে চান বাংলাদেশি পণ্যের দাম।
এদিকে মিয়ানমারে রপ্তানি হওয়া পণ্যের দাম তৃতীয় কোনো দেশ থেকে আনার অনুমতি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আবেদন করেছে একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান।
এ নিয়ে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আবেদনটি অনুমোদন করা হবে। জানা গেছে, ‘এ ওয়ান ফিশ অ্যান্ড মেরিন ফুড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গত জুলাই মাসে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে রপ্তানির অর্থ আনার অনুমতি চেয়ে এনবিআরে আবেদন করে। আবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে সিমেন্ট, আলু ও ওষুধ আমদানি করতে আগ্রহী; কিন্তু সেখানে যুদ্ধপরিস্থিতিতে নিরাপত্তাঝুঁকি ও ডলার-সংকট থাকায় তাঁরা সরাসরি অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন না। তাই সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড কিংবা দুবাই থেকে বাংলাদেশি পণ্যের দাম পরিশোধ করতে চান।
বাংলাদেশের পণ্য টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়েই মিয়ানমারে রপ্তানি হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে মিয়ানমারের অনেক সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগও নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ ওয়ান ফিশ অ্যান্ড মেরিন ফুডের মালিক এম ডি আলম বলেন, মিয়ানমারে সিমেন্ট কারখানা কম। তাই সেখানে সিমেন্টের চাহিদা অনেক; কিন্তু প্রয়োজনীয় এনওসি ও অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এতে রপ্তানির সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, দেশি আলু ও বিভিন্ন ধরনের এনার্জি ড্রিংকস রপ্তানিরও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
কীভাবে মিলবে অনুমোদন
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা এ ওয়ান ফিশ অ্যান্ড মেরিন ফুডের তৃতীয় দেশ থেকে রপ্তানি আয় আনার আবেদনটি প্রথমে নিজেরা পর্যালোচনা করেছেন। এরপর ব্যাংক খাতের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। যেহেতু মূল লক্ষ্য রপ্তানি সহজ করা, সেহেতু অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শিগগির জানানো হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তৃতীয় দেশ থেকে রপ্তানি আয় আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো বাধা নেই। তাই বৈদেশিক মুদ্রা আয় সহজ করতে আবেদনের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রজ্ঞাপনেও এ ধরনের সুযোগের বিধান রয়েছে। ২০১৮ সালে বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগ থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে ভিন্ন কোনো দেশ থেকেও রপ্তানি মূল্য পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে অনুমোদনের বিষয়টি এখন (রোববার) পর্যন্ত টেকনাফ শুল্ক স্টেশনে পৌঁছায়নি। ফলে রপ্তানির অপেক্ষায় রয়েছেন এ ওয়ান ফিশ অ্যান্ড মেরিন ফুডের মালিক এম ডি আলম।
তিনি বলেন, ‘বিদেশি মুদ্রা আয়ের এমন সুযোগের জন্যও ঘুরতে হয়, অপেক্ষা করতে হয়।’
এদিকে মিয়ানমারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পণ্য। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে সিমেন্ট ও আলুর পাশাপাশি ছিল ইয়ার্ন ও পাটপণ্য।
ব্যবসা কমেছে, জেগেছে নতুন আশা
মিয়ানমারের সঙ্গে পণ্য রপ্তানি-আমদানিতে যুক্ত রয়েছেন শতাধিক ব্যবসায়ী। চীন থেকে মিয়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডরকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা।
সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় চীন এই করিডর গঠনের প্রস্তাব দেওয়ায় এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা ভাবছেন।
বাংলাদেশ–মিয়ানমার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি এস এম নুরুল হক বলেন, রোহিঙ্গা আগমনের পর দুই দেশের বাণিজ্য আগের তুলনায় কমে প্রায় ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হলে ব্যবসা আবার গতি পাবে। নতুন করিডর হলে সরাসরি চীন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের সঙ্গেও পণ্য বিনিময় করা যাবে। লিড টাইম ১০ দিন থেকে ১ দিনে নেমে আসবে।
মিয়ানমারে পণ্য পাঠিয়ে অন্য দেশ থেকে তার দাম পাওয়ার বিষয়ে এস এম নুরুল হক বলেন, মিয়ানমারের অনেক ধনী ব্যবসায়ী থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। তাই তাঁরা সেসব দেশ থেকে বিল পরিশোধ করতে পারেন। আন্তর্জাতিক নিয়মে এটি সম্ভব। যুদ্ধের কারণে মিয়ানমারে ডলার-সংকটের পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে গেছে। আগে সেখানে সোনালী ব্যাংকের একটি শাখা ছিল, এখন সেটিও নেই। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ মিয়ানমারের বাজারে বেশ জনপ্রিয়।
কক্সবাজার চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবু মুর্শেদ বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সিমেন্ট রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছুটা কঠোরতা রয়েছে। কারণ, এসব সিমেন্ট দিয়ে আরাকান আর্মি বাংকার তৈরি করতে পারে, এমন আশঙ্কা আছে।
স্বর্ণের দাম ফের ঊর্ধ্বগতি
চলতি আগস্ট মাসে স্বর্ণের দাম ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। এতে ইঙ্গিত মিলছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে মূল্যবান ধাতুটি আবারও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
ফলে ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে থাকা স্বর্ণের বাজারে আরও দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর স্বর্ণের দাম জানুয়ারিতে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৫ ডলার থেকে জুনে ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়। তেলের দাম বাড়ার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নগদ অর্থ বা তারল্য ধরে রাখার দিকে ঝুঁকেছিলেন।
একই সময়ে কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে সহায়তা করতে তাদের রিজার্ভ ব্যবহার করেছিল। স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন স্বর্ণের ওপর থেকে অবশেষে হ্যান্ডব্রেকটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।’
চলতি মাসে স্বর্ণের দাম দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ স্তর অতিক্রম করেছে। এর পেছনে সহায়তা করেছে তেলের দাম কমে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল মুদ্রাস্ফীতির তথ্য। এসব কারণে ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশাও কমেছে।
এইচএসবিসির প্রধান মূল্যবান ধাতু বিশ্লেষক জেমস স্টিল বলেন, ‘যদি তেল আবার প্রধান আকর্ষণ না হয়ে ওঠে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে এবং তেলের দাম না বাড়ে, তাহলে স্বর্ণের দাম বাড়ার পথটিই সবচেয়ে সহজ হবে।’
গত দুই সপ্তাহে স্বর্ণের দামে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। স্টিলের মতে, এতে বোঝা যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সার্বভৌম সম্পদ তহবিলগুলো স্বর্ণ কিনতে সক্রিয় ছিল। তবে তিনি এটিকে নিশ্চিত তথ্য নয়, বরং একটি অনুমান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
স্বর্ণের বড় বারের প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদাও এর দাম বাড়ার আরেকটি সম্ভাব্য কারণ। চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন বাণিজ্যকেন্দ্রে স্বর্ণের প্রিমিয়াম নতুন করে কেনার আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত সপ্তাহে চীনে স্বর্ণের প্রিমিয়াম ছিল প্রতি আউন্স ১.৫০ ডলার।
স্টিল বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি আসলে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আগে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর যে অবস্থান ছিল, তা পুনর্গঠন করা।’
তবে স্বর্ণের দাম বাড়ার পথে কিছু বাধাও রয়েছে। ইরান যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা, গহনা ও মুদ্রার চাহিদা কমে যাওয়া এবং সুদের হারের প্রতি সংবেদনশীল স্বর্ণ-সমর্থিত এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) বিনিয়োগের প্রবাহ কম থাকায় বুলিয়নের ঊর্ধ্বগতি সীমিত হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের প্রথমার্ধে স্বর্ণ-সমর্থিত ইটিএফগুলোতে মাত্র ৭ বিলিয়ন ডলার নতুন বিনিয়োগ এসেছে। অথচ এসব তহবিলের ব্যবস্থাপনায় থাকা মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৮২ বিলিয়ন ডলার।
স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার পথে প্রযুক্তিগত কিছু সংকেতও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। রিলেটিভ স্ট্রেংথ ইনডেক্স (আরএসআই) বলছে, স্বর্ণের দাম স্বল্পমেয়াদে ‘ওভারবট’ বা অতিরিক্ত কেনার পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। একই সময়ে ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ, যা বর্তমানে ৪ হাজার ৫০৪ ডলারে রয়েছে, স্বর্ণের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ স্তর হিসেবে কাজ করছে।
ছবি : সংগৃহীত
স্পট মার্কেটের তুলনায় কম দামে ২ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনছে সরকার। ওমানভিত্তিক ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার দরে দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে বাজারদরের তুলনায় সরকারের প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) অনলাইনে অনুষ্ঠিত জরুরি সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬ মাসে সরবরাহের জন্য জেকেএমভিত্তিক এলএনজির প্রযোজ্য মূল্য ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১৬ দশমিক ৮০৮ মার্কিন ডলার। তবে ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির সঙ্গে দরকষাকষির মাধ্যমে দুই কার্গোর জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১৭-১৮ আগস্ট এবং ২২-২৩ আগস্ট দুই কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির মূল প্রস্তাব ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১৩ মার্কিন ডলার। তবে এলএনজির বাজারে অস্থিরতা, স্পট মার্কেটে তুলনামূলক বেশি দাম, অন্য উৎস থেকে কার্গো সংগ্রহে সময়ের স্বল্পতা এবং অর্থ সাশ্রয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মূল্যায়ন কমিটি দরকষাকষি করে নতুন দাম নির্ধারণ করে।
জ্বালানি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ১১ আগস্ট স্পট মার্কেটে জেকেএমভিত্তিক এলএনজির দাম ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ২১ দশমিক ২৮৯ মার্কিন ডলার। এই বাজারদরের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫০ ডলার দরে দুই কার্গো কেনায় সরকারের আনুমানিক ৩ কোটি ৭ দশমিক ৫ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, একই বৈঠকে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় আরও পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ২৩-২৪ আগস্টের জন্য একটি কার্গো এবং ৪-৫ সেপ্টেম্বরের জন্য আরেকটি কার্গো কিনতে বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডকে সরবরাহকারী হিসেবে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিপি সিঙ্গাপুর থেকে ২৩-২৪ আগস্টের কার্গোটি প্রতি এমএমবিটিইউ ২১ দশমিক ৮৭৮ মার্কিন ডলার দরে কিনতে এআইটিসহ মোট ৯২৭ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার ৮৩৩ টাকা ৯২ পয়সা এবং ৪-৫ সেপ্টেম্বরের কার্গোটি প্রতি এমএমবিটিইউ ২১ দশমিক ৭৭৮ মার্কিন ডলার দরে কিনতে এআইটিসহ ৯২৩ কোটি ২৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৯ টাকা ৯২ পয়সা ব্যয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে এসব এলএনজি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে সরাসরি ক্রয়ের জন্য দরকষাকষির সুযোগও রয়েছে। সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট ক্রয়বিধির বিধান অনুসরণ করে এ ধরনের ক্রয়প্রক্রিয়ায় নেগোসিয়েশনের সুযোগ রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মত ইউরোপের বাজারেও পোশাক রপ্তানি কমছে বাংলাদেশের। চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ৮৬৪ কোটি ৪৮ লাখ ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা। এ অঙ্ক আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম।
ইইউতে প্রতিযোগী অন্য কোনো দেশের রপ্তানি এতটা কমেনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছে তুরস্কের। ভারত ও পাকিস্তানের কমেছে যথাক্রমে ১২ দশমিক ৪৯ ও ১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ভিয়েতনামের উল্টো শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশের রপ্তানি সবচেয়ে বেশি কমে যাওয়ার চিত্রটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অফিসের (ইউরোস্ট্যাট) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
শনিবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে চীন, বাংলাদেশ, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ৪ হাজার ১১০ কোটি ১৭ লাখ ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে ইইউর ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। আমদানির এ পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ কম।
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক; মোট রপ্তানির আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে। একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা আসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে। পোশাক রপ্তানি থেকে মোট যে আয় আসে, তার ২০ শতাংশের মত আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। অন্যদিকে জোটগতভাবে ইউরোপের বাজারগুলো থেকে ৬০ শতাংশের বেশি।
ইইউর বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সব সময়ই চীনের আধিপত্য। চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে দেশটি ১ হাজার ১৮২ কোটি ২৬ লাখ ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ কম।
এ বাজারে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ ৮৬৪ কোটি ৪৮ লাখ ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি করেছিল ১ হাজার ৩৪ কোটি ৪৪ লাখ ইউরোর তৈরি পোশাক। এ হিসাব বলছে, রপ্তানি কমেছে ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
এদিকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ ৪০০ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম।
২০২৫ সালের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪২৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার।
এই ছয় মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। কম্বোডিয়ার বেড়েছে সবচেয়ে বেশি ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ার বেড়েছে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) গত ৬ অগাস্ট এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি সবচেয়ে বেশি কমার কারণ হিসেবে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান শনিবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সামগ্রিকভাবেই রপ্তানি অবস্থা ভালো না। গত অর্থবছরে আমাদের পোশাক রপ্তানি ২ শতাংশের মত কমেছে। বিশ্ব পরিস্থিতি অনুকলে নয়; অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও ভালো নয়। গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নানা সমস্যা। এ অবস্থায় আগামী দিনগুলো কেমন যাবে বুঝতে পারছি না।
“তিন কারণে ইইউতে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমছে। এক. বাজারটিতে ভোক্তা পর্যায়ে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমেছে। দুই. চীন ইইউতে আগ্রাসী বিপণন করে ক্রয়াদেশ নিচ্ছে। তিন. ভারতের সঙ্গে এফটিএ হওয়ায় ইইউ অনেক ক্রেতা দেশটিতে ক্রয়াদেশ সরাচ্ছে।”
সুবিধাজনক অবস্থানে ভিয়েতনাম
চীন ও বাংলাদেশের পর ইইউতে শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক হলো তুরস্ক, ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া। এরমধ্যে তুরস্ক গত জানুয়ারি-জুন সময়ে ৩৭৪ কোটি ৭৩ লাখ ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। তাদের রপ্তানি কমেছে ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এরপর ভারত ২৩৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে; তাদের রপ্তানি কমেছে ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
শীর্ষ ১০ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকের মধ্যে ভিয়েতনামের রপ্তানি সবচেয়ে কম কমেছে, শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ। ইইউর বাজারে চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশটি রপ্তানি করেছে ২০৬ কোটি ৫২ ইউরোর তৈরি পোশাক।
এছাড়া কম্বোডিয়ার ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ, মরক্কোর ৬ দশমিক ৬৫, শ্রীলঙ্কার ১১ দশমিক ২১ এবং ইন্দোনেশিয়ার তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ।
ইউতে দামে পিছিয়ে বাংলাদেশ
চীন ইইউর বাজারে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি অর্থের তৈরি পোশাক রপ্তানি করলেও পরিমাণের দিক থেকে দেশটি পিছিয়ে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে চীন ৫৯ কোটি ৬২ লাখ কেজি তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। আর বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৬২ কোটি ৩০ লাখ কেজি তৈরি পোশাক, যা গত বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ২২ শতাংশ কম। পরিমাণের দিক থেকে চীনের কমেছে ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
ইইউতে চীনের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে মূলত তৈরি পোশাকের দামে। চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে চীন প্রতি কেজি তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে ১৯ দশমিক ৮৩ ইউরোতে। অপরদিকে বাংলাদেশ প্রতি কেজি রপ্তানি করেছে ১৩ দশমিক ৮৮ ইউরোতে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কম। চীনের দাম কমেছে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
যদিও তুরস্ক, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার রপ্তানি করা প্রতি কেজি তৈরি পোশাকের দাম বেড়েছে। ভারতের কমেছে ২ দশমিক ৩১ শতাংশ।
এ প্রসঙ্গে ফজলে শামীম এহসান বলেন, “চীন যখন ইইউতে আগ্রাসী বিপণন শুরু করল, তখন তাদের রাষ্ট্র সহায়তা করেছে। ব্যাংকগুলোর খারাপ অবস্থা থাকায় সহায়তা না পেয়ে অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে কিংবা তাদের রপ্তানি বন্ধ হয়েছে। তাছাড়া ব্যবসার খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে ক্রেতাদের চীনাদের কম দাম অফার করার সুযোগ ছিল না।”