ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ পিএম

ডারউইনে রীতিমতো আগুন ঝরালেন বাংলাদেশি পেসাররা। হাসান মাহমুদ-এবাদত হোসেনদের তোপের মুখে দাঁড়াতেই পারেনি অজিরা। হাসান একাই শিকার করেছেন ৬ উইকেট। টাইগার পেসারদের এমন পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে দুইশ রানও করতে পারল না অস্ট্রেলিয়া। ডারউইন টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেছেন স্টিভেন স্মিথ। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ৫৫ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছেন হাসান।


ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে নতুন বলের বাড়তি সুবিধা কাজে লাগান তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। বিশেষ করে হাসান দুর্দান্ত ছিলেন। দুই দিকেই সুইংয়ের সঙ্গে বাড়তি বাউন্সও আদায় করে নেন এই পেসার। তার করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ তুলেছিলেন ট্রাভিস হেড। তবে বল পড়ে নিরাপদ জায়গায়। ফলে সেই যাত্রায় বেঁচে যান এই ওপেনার।


নিয়মিত ভালো লাইন-লেংথে বোলিং করার পুরস্কার পেতে কিছুটা সময় লেগেছে বাংলাদেশের। প্রথম ব্রেকথ্রু পেতে অপেক্ষা করতে হয় ১২তম ওভার পর্যন্ত। চতুর্থ বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে করেন হাসান। সেখানে ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটকিপার লিটনের গ্লাভসে জমা পড়ে বল। ২৩ রান করে এই ওপেনার ফিরলে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।


নিজের ফিরতি ওভারে আবারো আঘাত হানেন হাসান। এবার তার শিকার আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। ১৪ তম ওভারে চতুর্থ বলে গুড লেংথ থেকে ইন সুইং করা বল ব্যাটের ভেতরের দিকের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ফেরার আগে হেড করেন ২২ রান।


১৭তম ওভারে এবাদত হোসেনের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ তামিম সেটা রাখতে পারেননি। জায়গায় দাঁড়িয়েও বল হাতে জমাতে না পারায় মাথায় হাত দেয় পুরো বাংলাদেশ! তবে নিজের প্রথম শিকার ধরতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি এবাদতকে। ফিরতি ওভারেই মার্নাস ল্যাবুশেনকে ফেরান এই পেসার।


১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে গুড লেংথে করেছিলেন এবাদত। সেখানে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে আউট সাইড এজে বল যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত আর কোনো ভুল করেননি। ২০ বল খেলে মাত্র এক রান করতে পেরেছেন ল্যাবুশেন।


দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অজিদের উদ্ধার করতে কাউন্টার অ্যাটাক বেছে নেন ক্যামেরুন গ্রিন। তাসকিনের করা ২২তম ওভারের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে গ্রিনের সেই আক্রমণাত্মক মনোভাবের সুযোগ নিতে ফাঁদ পাতে বাংলাদেশ। আর তাতেই পা দেন এই অজি ব্যাটার। ওভারের শেষ বলটি গুড লেংথে করেছিলেন তাসকিন। সেখানে অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকের হাতে ধরা পড়েন গ্রিন। সাজঘরে ফেরার আগে ১৩ বলে ১৩ রান করেন তিনি। তাতে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে যায় অজিরা।


লাঞ্চের পর বাংলাদেশি পেসারদের সাবলীল ভাবেই খেলছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। এই সময়ে দ্রুত রানও তুলছিলেন এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাতে বড় জুটি গড়ার পথে হাঁটছিল অজিরা। ভয়ঙ্কর হতে যাওয়া সেই জুটি ভেঙেছেন এবাদত হোসেন।


৩৭তম ওভারের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে কিছুটা ভেতরে ঢুকেছিল। সেখানে পাঞ্চ করতে চেয়েছিলেন ক্যারি। কিন্তু ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল চলে যায় স্টাম্পে। ১৯ রান করে ক্যারি ফেরায় ভাঙে ৫৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি।


ক্যারি ফেরার পর উইকেটে আসা বো ওয়েবস্টারকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ১০ বলে ১২ রান করা ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করেন এই পেসার। এরপর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককেও দ্রুত ফেরায় বাংলাদেশ। দুজনের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। ফলে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারায় অজিরা।


চা বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন স্মিথ। তাতে হিতে বিপরীত হয়। হাসানের খাটো লেংথের বল এগিয়ে এসে পুল করার চেষ্টা করলে টপ এজ হয়ে বল সোজা উপরে উঠে যায়। ৭১ রান করা স্মিথকে ফিরিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন হাসান। এরপর নাথান লায়নকেও ফেরান এই পেসার। তাতে ইনিংসে ৬ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তিনি। 


 




জাভি হার্নান্দেজ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৮ পিএম

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষেই একের পর এক নতুন কোচ পাচ্ছে দলগুলো। জার্মানিতে ইয়ুর্গেন ক্লপ, ফ্রান্সে জিনেদিন জিদান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন কদিন আগেই। সেই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলেন জাভি হার্নান্দেজ। নেদারল্যান্ডসের কোচ হয়ে মনে করালেন ৪৮ বছরের পুরোনো এক ঘটনা।


জাভিকে গতকাল চার বছরের চুক্তিতে নিয়েছে রয়্যাল ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএনভিবি)। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের কোচের দায়িত্বে থাকছেন তিনি। দীর্ঘ ৪৮ বছর পর ডাচ ফুটবল দল পেল কোনো বিদেশি কোচ। ১৯৭৮ সালে অস্ট্রিয়ান কোচ আর্নস্ট হ্যাপেল দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনিই প্রথম নন-ডাচ কোচ হিসেবে নেদারল্যান্ডসের দায়িত্ব নিচ্ছেন জাভি।


জাভি মূলত রোনাল্ড কোমানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর নেদারল্যান্ডসের কোচের দায়িত্ব ছাড়েন কোমান। কোচ হওয়ার পর জাভি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। বার্সেলোনার একাডেমিতে বেড়ে ওঠা একজন খেলোয়াড় হিসেবে, যেখানে ইয়োহান ক্রুইফ ও রিনাস মিশেলসের মতো ব্যক্তিত্বদের দর্শনের গভীর প্রভাব ছিল। নেদারল্যান্ডসের ফুটবলের সঙ্গে এক ধরনের টান অনুভব করি।’


খেলোয়াড় হিসেবে জাভির ক্যাবিনেট শিরোপায় টইটুম্বুর। বার্সেলোনার হয়ে আটবার লা লিগা, চারবার চ্যাম্পিয়নস লিগ, ছয়বার স্প্যানিশ সুপার কাপ, তিনটি কোপা দেল রে, দুইবার করে সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি। স্পেনের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ জিতেছেন নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েই। ২০০৮ ও ২০১২ সালে ইউরোও জেতেন তিনি। এ ছাড়া কাতারের ক্লাব আল সাদের জার্সিতেও চারবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পান জাভি।


আল সাদ-বার্সেলোনাকেও কোচ হিসেবে শিরোপা জেতানো জাভি নেদারল্যান্ডসের কোচ হতে পেরে গর্ব অনুভব করছেন। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার বলেন, ‘আপনি বলতে পারেন, আমি আংশিকভাবে ডাচ ফুটবলেরই সন্তান। লুইস ফন গাল—যাঁর অধীনে বার্সেলোনায় আমার অভিষেক হয়েছিল—এবং ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের মতো অন্যান্য গ্রেট কোচরাও একজন খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে আমাকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।’


নেদারল্যান্ডসের কোচ হওয়ার সঙ্গে তিন বছরের আগের এক ঘটনারও মিল করিয়েছেন জাভি। ২০২১ সালে জাভি বার্সেলোনার কোচ হয়েছিলেন রোনাল্ড কোমানের পরিবর্তেই। তাঁর অধীনেই বার্সা ২০২২-২৩ মৌসুমে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছিল।


এবার ডাচ কোচ হয়ে চার বছর পর কোচিং ক্যারিয়ারে ফিরেছেন জাভি। ২০২৪ সালে বার্সেলোনার কোচের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন তিনি। নেদারল্যান্ডের কোচ হিসেবে তাঁর প্রথম ম্যাচ ২৪ সেপ্টেম্বর। সেদিন বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে নেদারল্যান্ডস-জার্মানি ম্যাচ। এই ম্যাচে ডাচরা স্বাগতিক।




শমিত

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৯ পিএম

বর্তমানে আমেরিকান ফুটবলের তৃতীয় স্তরে খেলা এই ক্লাবেই শমিতের যোগদানের খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। যদিও এখন পর্যন্ত শমিত বা ক্লাব কর্তৃপক্ষ কেউই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। 


তবে নেট দুনিয়ায় এই সম্ভাব্য ট্রান্সফার নিয়ে উত্তেজনার কমতি নেই। শমিতের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথচলাটা বেশ বৈচিত্র্যময়। ক্যারিয়ারের শুরুতে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডার জাতীয় দলের জার্সিতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। 


তবে গত বছর বাবা-মায়ের মাতৃভূমির টানে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এই মিডফিল্ডার। লাল-সবুজের জার্সিতে সুযোগ পাওয়ার পর খুব দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন তিনি।


২০২৫ সালের জুনে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশের হয়ে তার অভিষেক হয়। অভিষেকের চার মাসের মাথায় হংকংয়ের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে লাল-সবুজের জার্সিতে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি আদায় করে নেন তিনি। দেশের জার্সিতে খেলার পর থেকেই তার ক্যারিয়ার এবং পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি নজর কেড়েছে।


গত জানুয়ারিতে দীর্ঘ তিন বছরের বর্ণিল সম্পর্কের পর ক্যাভালরি এফসি ছাড়েন শমিত। তারপর থেকেই ফ্রি এজেন্ট বা মুক্ত খেলোয়াড় হিসেবে নতুন ক্লাবের সন্ধানে ছিলেন তিনি। 


নিউ ইয়র্ক কসমসের মতো ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত ক্লাবে যদি তার এই যাত্রা সত্যি হয়, তবে তা শুধু শমিতের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেই নয়, বরং সামগ্রিক অর্থে বাংলাদেশি ফুটবলের ভাবমূর্তির জন্যও এক দারুণ প্রাপ্তি হবে।


পেলের স্মৃতিধন্য আঙিনায় লাল-সবুজের জার্সির এই কান্ডারী শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখান কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।


রোনালদো ও জর্জিনা

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৮ পিএম

বিয়ের ফুল ফুটল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ কিংবদন্তি এখন বিবাহিত। কয়েক দিন ধরেই রোনালদোর বিয়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। গতকাল মঙ্গলবার সেটাই সত্যি হলো। পর্তুগালের সৈকত শহর কাসকাইসে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ে করেছেন রোনালদো। বাগ্‌দানের ঘোষণা দেওয়ার ঠিক এক বছর পর তাঁরা বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন।


রোনালদোর বিয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর প্রতিনিধিরা। এর মধ্য দিয়ে জর্জিনা ও রোনালদোর দীর্ঘ এক দশকের প্রেম পূর্ণতা পেল। রোনালদোর জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা ব্রান্সউইক গ্রুপ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ‘ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া’ এই অনুষ্ঠানে দম্পতির পাঁচ সন্তান উপস্থিত ছিল।


বাংলাদেশ সময় গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করেন রোনালদো। জর্জিনার হাতের ওপর তাঁর হাত, দুজনের অনামিকায় আংটি। ক্যাপশনে ‘সি’ ও ‘জি’ দুটি শব্দের মাঝে ভালোবাসার একটি ইমো। সমর্থকেরা তাতেই যা বোঝার বুঝে নেন।


রোনালদোর বাগ্‌দত্তা হওয়ার খবর গত বছর ১১ আগস্ট ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে জানান জর্জিনা। অনামিকায় বেশ বড়সড় একটি আংটি পরে রোনালদোর হাতের ওপর হাত রাখার ছবি পোস্ট করেন। ঠিক এক বছরের মাথায় উল্টে গেল হাতের ওপর হাত রাখার ছবিটি—এখন জর্জিনার হাতের ওপর রোনালদোর ভরসা ও ভালোবাসামাখা হাতখানি। আইনগতভাবে দুজনে এখন স্বামী-স্ত্রী।


পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমগুলোয় গুঞ্জন ছিল, লিসবনের বাইরে সিনত্রা বা আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দ্বীপ মাদেইরায় রোনালদোর জন্মশহরে এ বিয়ে হতে পারে। মাদেইরার ফুনশালের এক গির্জায় বিয়ে হচ্ছে—এমন খবর চাউর হওয়ার পর সেই গির্জার সামনে শত শত মানুষ ভিড় করেন। কিন্তু পরে দেখা গেল বর-কনে এলেও তাঁরা রোনালদো ও জর্জিনা নন!


গির্জাটির কর্তৃপক্ষ আগেই এএফপিকে জানিয়েছিল, রোনালদোর বিয়ের অনুষ্ঠান সেখানে নির্ধারিত নেই। তবে এমন একটি আয়োজন করতে পারা তাদের জন্য ‘সম্মানের’ হতো বলেও জানায় তারা। শেষ পর্যন্ত লিসবন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে সৈকত শহর কাসকাইসকে বিয়ের ভেন্যু হিসেবে বেছে নিলেন রোনালদো-জর্জিনা। সেখানে তাঁদের একটি ভিলা রয়েছে।


৩২ বছর বয়সী জর্জিনার জন্ম আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে। ২০১৬ সালে মাদ্রিদে গুচির একটি শোরুমে জর্জিনা বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করার সময় দুজনের মধ্যে পরিচয় থেকে প্রণয়ের সূত্রপাত। জর্জিনার ভাষায় সেটি ছিল ‘প্রথম দেখাতেই প্রেম’।


২০২৫ সালে ভোগ অ্যারাবিয়া সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জর্জিনা জানান, রোনালদোর সান্নিধ্যে আসার পর তাঁর মনে হয়েছিল, ‘আমরা একে অপরকে চিরকাল ধরে চিনি।’ ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ফিফার বর্ষসেরা ‘দ্য বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে দুজন একসঙ্গে জনসমক্ষে হাজির হন প্রথমবারের মতো। সে বছরই মে মাসে ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে জর্জিনার সঙ্গে মন দেওয়া-নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান রোনালদো।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জুটির অনুসারীর সংখ্যা ৭৫ কোটির বেশি। ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে তাঁরা বিশ্বের অন্যতম পরিচিত তারকা জুটি। ফ্যাশন ব্র্যান্ড, হোটেল চেইনসহ বিভিন্ন খাতে তাঁদের বিনিয়োগের পোর্টফোলিও রয়েছে।


রোনালদোর বড় ছেলের নাম ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। ২০১০ সালে জন্ম নেওয়া জুনিয়রের মায়ের পরিচয় পর্তুগিজ কিংবদন্তি কখনো প্রকাশ করেননি। ২০১৭ সালের জুনে সারোগেটের মাধ্যমে ইভা মারিয়া ও মাতেওয়ের বাবা হন আল নাসরের এই তারকা। পাঁচ মাস পর তাঁর প্রেমিকা জর্জিনার কোল আলো করে জন্ম নেয় অ্যালানা মার্টিনা। ২০২২ সালে জর্জিনার গর্ভেই জন্মায় দুই যমজ সন্তান বেলা ও অ্যাঞ্জেল। তবে জন্মের কিছুক্ষণ পরেই মারা যায় অ্যাঞ্জেল।


পেশাদার ক্যারিয়ারে ৯৭৬ গোল করেছেন রোনালদো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাসের হয়ে মাঠ মাতানোর পর এখন খেলছেন সৌদি প্রো লিগের দল আল নাসরে। এই পথে জিতেছেন পাঁচটি ব্যালন ডি’অর। পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পাশাপাশি ইতালি, স্পেন ও ইংল্যান্ডে জিতেছেন লিগ শিরোপা। পর্তুগালের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও গোলের রেকর্ডও রোনালদোর।












মেসি ও তার বাবা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:০২ পিএম

লিওনেল মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি আর নেই, এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে বেশ কিছু গণমাধ্যমে। যেখানে বেশিরভাগই সূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়েকে। সংবাদ মাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসি শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে রোজারিও শহরের একটি ক্লিনিকে মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।


তবে খবরটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। লিওনেল মেসি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে হোর্হে মেসির মৃত্যুর বিষয়ে কোনো বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ইনফোবায়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী খবরটি সামনে এলেও, এটিকে এখনই নিশ্চিত মৃত্যু সংবাদ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালেও হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া সেই গুঞ্জনের পর মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছিল। ফলে হোর্হে মেসিকে ঘিরে নতুন করে একই ধরনের খবর সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে সংশয়।


বিশ্বকাপে মেসিকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল


এবার অবশ্য আর্জেন্টিনার অন্যতম পরিচিত সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ে হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর রোজারিওর একটি ক্লিনিকে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মেসি পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।


লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে হোর্হের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ছেলের এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মেসি যখন কিশোর বয়সে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে খেলতেন, তখন তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হোর্হে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।


পরবর্তীতে মেসির ইউরোপযাত্রার সময়ও ছেলের সঙ্গে বার্সেলোনায় যান হোর্হে। মেসির ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের নানা সিদ্ধান্ত ও পেশাগত দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান ব্যক্তি।


হোর্হে মেসি ও সেলিয়া কুচিত্তিনির চার সন্তানের মধ্যে লিওনেল ছাড়াও রয়েছেন রদ্রিগো, মাতিয়াস ও মারিয়া সোল। ছেলের বিশ্বজোড়া খ্যাতির আড়ালে থাকা হোর্হে খুব বেশি গণমাধ্যমে আসতেন না। বিভিন্ন সময়ে দেয়া অল্প কিছু সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে করা পোস্টের মাধ্যমেই তাকে দেখা গেছে।


বিশ্বকাপের সময়ও মেসির পরিবারের সদস্যদের প্রায়ই গ্যালারিতে দেখা গেছে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে মেসির পরিবারের উপস্থিতি নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা চোখে পড়ে। স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানদের দেখা গেলেও জর্জের উপস্থিতি তেমনভাবে সামনে আসেনি।


এমন পরিস্থিতিতেই নতুন করে তার মৃত্যুর খবর সামনে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তবে আগেরবারও একই ধরনের গুজব ছড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবারও সতর্ক থাকা জরুরি। আপাতত হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবরের সূত্র হিসেবে রয়েছে ইনফোবায়ের প্রতিবেদন। মেসি পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কোনো নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে নিশ্চিত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত নয়।


লিওনেল মেসি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৯ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু মেসি নয়, ওই সময় আর্জেন্টিনা দলসহ বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়, ফিফার কর্মকর্তা, রেফারি ও পুলিশ সদস্যদেরও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীকে একাধিক হুমকিমূলক ই-মেইল ও বার্তা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের একটি গোপন প্রতিবেদনের কিছু অংশ ফাঁস হয়েছে। 


স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘ইনফরমেসিয়ন.ইএস’ ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে বিশ্বকাপজুড়ে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কা এবং বিভিন্ন হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনা দলসহ কয়েকটি দলের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।


টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া পুলিশের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বড় হামলার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচকে ঘিরে। এক ব্যক্তি ফোন করে হুমকি দিয়ে দাবি করেন, তিনি ও আরও দুজন ঘরে তৈরি বোমা এবং এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল মেসিসহ আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। পাশাপাশি জর্ডান দলের সদস্য এবং পুলিশকেও হামলার হুমকি দেওয়া হয়। তবে মেসিকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।


আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ঘিরেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি দাবি করেন, শরীরে চারটি বোমা বেঁধে তিনি আটলান্টার স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন এবং বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মেসিকে হত্যা করবেন। একই দিন অজ্ঞাতপরিচয় আরেক ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে দাবি করেন, স্টেডিয়ামের ভেতরে তিনটি ময়লার স্থানে বোমা রাখা হয়েছে।


নিরাপত্তা বাহিনী কোনো হুমতিকেই হালকাভাবে নেয়নি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ ও এফবিআইকে তদন্তে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কো-অপারেশনের (আইপিসিসি) সহায়তাও নেওয়া হয়। ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ হুমকিই ছিল মেসিকে কেন্দ্র করে। তবে আর্জেন্টিনা দল, অন্যান্য দলের খেলোয়াড়, ফিফা কর্মকর্তা, রেফারি ও পুলিশ সদস্যদেরও হুমকির তালিকায় রাখা হয়েছিল।


মেসির পাশাপাশি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছিল। ফিফার এক কর্মী জানান, সন্দেহজনক এক ব্যক্তি রোনাল্ডো কখন, কোথায় থাকবেন—এমন তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। যদিও ওই ব্যক্তি সরাসরি কোনো হুমকি দেননি, বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়।


বিশ্বকাপের বিভিন্ন ভেন্যুতে রোনাল্ডোর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করা কয়েকজনকেও নিরাপত্তার কারণে দূরে রাখা হয়। হিউস্টন, টরন্টো ও মায়ামিতে এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি এক পর্যায়ে সন্দেহজনক এক ব্যক্তি পর্তুগাল দলের হোটেলেও ঢুকে পড়েন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ঘটনাটি কোথায় ঘটেছিল, তা ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।


বিশ্বকাপ চলাকালে ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছিল। একাধিকবার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাঁর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


এদিকে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেক্সিয়ঁর কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়েছিল। ওই ম্যাচের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন রেফারি ও কর্মকর্তাও হুমকিমূলক ই-মেইল ও বার্তা পেয়েছিলেন বলে ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১৭ পিএম

হামজা চৌধুরীর আগমনের পরই বাংলাদেশের ফুটবলে যোগ হচ্ছেন একের পর এক প্রবাসী ফুটবলার। শমিত সোম, ফাহিমদুল ইসলামরা তো এখন লাল-সবুজের অন্যতম তারকা। 


তাদের দেখে ইউরোপ-আমেরিকাতে থাকা প্রবাসী ফুটবলাররা স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর। এরই মধ্যে বয়সভিত্তিক দলে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার যোগ দিয়েছেন। আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার দেখা যেতে পারে বাংলাদেশ দলে।


সেপ্টেম্বরে ফিফা উইন্ডো এবং সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে প্রবাসী ফুটবলার যোগ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এরই মধ্যে দুজনের খেলানোর ব্যাপারটি অনেকটাই চূড়ান্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী উইঙ্গার ফারহান আলী এবং ফরোয়ার্ড জায়ান হাকিমের ফিফা ও এএফসি থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বাফুফে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে এ দুই প্রবাসীর বাংলাদেশি হওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। 


আরও তিন ফুটবলারের মধ্যে দুজন ইংল্যান্ডের এবং একজন জাপানের বলে গতকাল সমকালকে জানিয়েছেন বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম। তবে কোচ তাদের ট্রায়ালে ডাকেন কিনা, সেটার অপেক্ষায় আছে ফেডারেশন। যে কারণে তিনজনের নাম এখনই প্রকাশ করতে চাইছেন না ফাহাদ করিম, ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে পাঁচ প্রবাসীর মধ্যে কোচ কয়জনকে নেবেন, সেটা তাঁর এখতিয়ার। তবে আমি বলতে পারি, এই পাঁচজন বাফুফের ক্যাম্পে থাকবেন।’


ইউরোপ-আমেরিকার ফুটবলার নিয়ে গত বছর ঢাকায় প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল আয়োজন করেছিল বাফুফে। এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৫০ জন প্রবাসী। ট্রায়াল থেকে খুব বেশি ফুটবলার খুঁজে পায়নি বাফুফে। তাই এবার ভিন্ন পথে হাঁটতে যাচ্ছে তারা। ঢাকায় না করে ইউরোপের কোনো দেশে ট্রায়ালের আয়োজন করতে চান ফাহাদ করিম, ‘আগামী গ্রীষ্মে আমার ইচ্ছা আছে ইউরোপের কোনো দেশে ট্রায়াল করা। সভাপতির সঙ্গে আলাপ করব। এরই মধ্যে কোচের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি, তিনি খুবই আগ্রহী।’ 


প্রবাসীরা যেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে কারণে ইউরোপে ট্রায়াল করার চিন্তা বলে জানান বাফুফের এ সহসভাপতি, ‘আমাদের বেশির ভাগ আবেদন আসছে ইউরোপ থেকে। বাংলাদেশে ট্রায়াল দেওয়ার জন্য আমরা তো তাদের কোনো অর্থ দেব না। কে টিকে, না টিকে, তা তো আমরা বলতে পারব না। আমরা দেখেছি অনেকেই নিজ খরচে আসতে চায় না বা পারে না। অনেকে আবার নিজ খরচে আসে; কিন্তু টিকে না। তখন আমাদের বদনাম করে যে দূর থেকে এলাম নিল না। তাই ইউরোপের লন্ডন বা যেসব জায়গা থেকে বেশি প্রবাসী আসবে, ওই জায়গায় করব যেন তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’


সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সেপ্টেম্বর উইন্ডো কাজে লাগাতে চায় বাফুফে। দুটো বিষয় নিয়ে চিন্তা করছে ফেডারেশন। কিরগিজস্তানে গিয়ে তিন জাতি টুর্নামেন্ট খেলবে অথবা ঢাকায় চার জাতি প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। কোচ থমাস ডুলির চাওয়া ঢাকায় ম্যাচ খেলা। চার জাতি টুর্নামেন্টের জন্য স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও কিরগিজস্তান ও মঙ্গোলিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি একটি দেশ চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে বাফুফে।