জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। সরকার গঠনের পর তার প্রথম জাতিসংঘ সফরে কী অর্জন হলো তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার সময়ই বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি তার সফরের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা সই হয়েছে। যদিও তিনি নিজে এ দুটি চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।
কেউ কেউ বলছেন, এই দুটি ইস্যুতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। যদিও সরকারের দিক থেকে চাপ থাকার দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এছাড়া, তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়েই নিউইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত মিলে সিদ্ধান্ত নেবে। ওদিকে নিউইয়র্কে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণের পাশাপাশি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। "প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে," বলেছেন তিনি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নেওয়ায় এর প্রতি অনেকের বিশেষ নজর ছিল এবং তারেক রহমান দেশের ও বৈশ্বিক ইস্যুগুলোকে তুলে ধরার পাশাপাশি তার সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রত্যাশাকে সামনে আনার চেষ্টা করেছেন।
সফরে যা যা হলো
সরকারের দিক থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। "প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন," নিউইয়র্কে সফরের শেষ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন মাহদী আমিন।
বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, রোহিঙ্গা ও জলবায়ু ইস্যু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কার্যক্রম ও বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন। "অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য রেখেছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি ক্লাইমেট জাস্টিস ইস্যু এসেছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব ও তারা কীভাবে কাজ করতে পারে সেটি বলেছেন," বলছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির। প্রসঙ্গত, 'রোহিঙ্গা সংকট: দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির অবসানে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিসহ টেকসই সমাধানের আহ্বান' শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক যৌথভাবে আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া। এতে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, "এই সংকট পুরো অঞ্চলের জন্যই নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে"।
সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোট সাতটি বক্তব্য দেন। এর মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ ছাড়াও সাইডলাইনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে চারটি, বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে একটি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছেন তিনি। এছাড়া তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সরকারের দিক থেকে বলা হয়েছে। এর বাইরে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন মাহদী আমিন।
বোয়িং, পরমাণু চুক্তি ও শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি কোনো অংশগ্রহণ না থাকলেও তার আমেরিকা সফরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে আরও ১১টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্ছ্বাস অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এ বিষয়ে দেওয়া একটি পোস্টে বলা হয়, "বিশ্বসেরা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের আরও ১১টি কেনার চুক্তিতে পৌঁছানোয় বোয়িং ও বিমানকে অভিনন্দন! যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য এটি আরেকটি দারুণ অর্জন, যেখানে লাভবান হবে দুই দেশই।"
চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, "বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে"। যদিও ইরান যুদ্ধসহ নানা কারণে বাংলাদেশের সরকার যখন অর্থনৈতিক চাপের কথা বলছে তখন নতুন করে বিলিয়ন ডলার খরচ করে বিমান কেনার এ সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরেরই ৩০শে এপ্রিল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। তখন বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার কথা জানানো হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের শেষ পর্যায়ে আসা আরেকটি খবর হলো, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর নাগাদ বিএনপি মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড এই খবর প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ সমঝোতা স্মারকে সই করেন। প্রসঙ্গত, রাশিয়ার সহযোগিতা বাংলাদেশের রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ চলমান আছে।
পাশাপাশি সফর চলাকালেই নিউইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন কর্মকর্তার ব্রিফিংয়ে উঠে এসেছে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গও। 'অন-ব্যাকগ্রাউন্ড' ব্রিফিং হওয়ায় খবরে ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করে তার বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। 'একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি' শিরোনামে এ ব্রিফিং হয়। এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা ছিলেন বলে বাংলাদেশের প্রথম আলো ও বিডিনিউজের খবরে বলা হয়েছে।
খবর অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, "এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। আমরা বুঝতে পারছি যে, বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের বৈরিতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।" "তাই আমরা আশা করছি, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে। আর হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, তা আমরা এখনো নির্দিষ্ট করে জানাইনি।"
সফর নিয়ে বিশ্লেষকরা যা বলছেন
সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলছেন, বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে চব্বিশ উত্তর বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার কথা বলেছেন। "সাধারণ পরিষদের অধিবেশন, সাইডলাইন বৈঠক ও উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যু, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার ও ক্লাইমেট জাস্টিসসহ বাংলাদেশের জন্য দরকারি ইস্যুগুলো তুলে ধরেছেন। আমার মনে হয় তিনি ডোমেস্টিক ও ইন্টারন্যাশনাল অডিয়েন্সকে উভয়কে লক্ষ্য করেই কথা বলেছেন," বলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, "সরকার গঠনের পর এটাই প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের প্রথম সফর। ফলে সব ইস্যুই তিনি কাভার করেছেন। হয়তো নিজে একটি সংবাদ সম্মেলন করলে তাতে সফরের লক্ষ্য কতটা অর্জিত হলো সে সম্পর্কে তার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি আমরা জানতে পারতাম। কিন্তু লক্ষ্য, ইস্যু ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করার যে চেষ্টা ছিল তা ইতিবাচক"।
আরেকজন সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলছেন, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের যে ভাষণ দিয়েছে সেখানে দরকারি বিষয়গুলো এসেছে এবং তিনি পরিবর্তনগুলো তুলে ধরে কী ধরনের সহযোগিতা আশা করছেন সেটি বলেছেন। "দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে বেশ কিছু আলোচনা তিনি করেছেন। আসলে তার মাত্র কয়েক মাস বয়সী সরকারের এক্সপোজারটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেটা হয়েছে বলে আমি মনে করি। এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সেটি সহায়তা করবে," বলেছেন তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে। সেই সাথে তাঁর তৎকালীন ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির ছবিও বইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে নতুন অধ্যায় হিসেবে এটি স্থান পাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম স্মৃতিকথা হিসেবে বহুল আলোচিত এই দলিলটিকে পাঠ্যভুক্ত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বলেন, ‘আগামী বছরের শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঠ্যবইয়ে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির ফলে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম থেকে ভেসে আসা ঐতিহাসিক ‘উই রিভোল্ট’ ও কালুরঘাটের স্বাধীনতার ঘোষণার চাক্ষুষ স্মৃতি নির্মোহভাবে শিখতে পারবে, যা মুক্তিযুদ্ধের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরতে একটি বড় মাইলফলক।
শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের লেখা এই নিবন্ধে ঐতিহাসিক মূল্য আছে। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে। পাঠ্যবইয়ে এটি অন্তর্ভুক্ত করা যৌক্তিক।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, ‘এই নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা জানার সুযোগ পাবে। অতীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে যেভাবে একপাক্ষিক ইতিহাস চর্চা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্মোহ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস তুলে ধরার দৃষ্টিভঙ্গি সেই মানসিকতার অবসান ঘটাবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে সচিবের সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিত অংশে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাথে এই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাত্মক ‘জনযুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২৫শে মার্চের গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিকামী মানুষের জন্য ‘তুর্যধ্বনির মতো’।
এনসিটিবি জানায়, প্রবন্ধটির মূল বর্ণনা শুরুর আগে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ দুটিকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অনিবার্য নাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গদ্যের প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও সম্মুখসমরের আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রবন্ধের মূলকথায় যা আছে-
মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি। সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি। নেতারা যখন উধাও হয়ে গেল— সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ থাকল না, তখন জাতির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আমাকে ঘোষণা করতে হলো... ২৬শে মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে সেই চূড়ান্ত সময়টি এলো। যার জন্য গোটা মাস আমরা রুদ্ধশ্বাস হয়ে প্রতীক্ষা করছিলাম।’
চট্টগ্রামে পাক বাহিনীর ষড়যন্ত্র অনুধাবন ও ১লা মার্চ থেকে শুরু হওয়া সন্দেহজনক গতিবিধির বিবরণ দিয়ে মেজর জিয়া উল্লেখ করেন— ‘১লা মার্চ থেকে ২০তম বেলুচ রেজিমেন্টের রহস্যজনক গতিবিধি থেকে আমরা সুস্পষ্ট আঁচ করতে পারছিলাম কী ঘটতে যাচ্ছে... ১৩ই মার্চ নেতাদের সঙ্গে ইয়াহিয়ার গোলটেবিল বৈঠক শুরু হলো। এর মধ্যেই পাকিস্তানি জেনারেলরা একের পর এক বিমানে আসতে লাগলেন... এ ছিল সর্বাত্মক হামলার এক ভীতিকর পূর্বাভাস... দ্রুত ঘনিয়ে এলো পঁচিশ-ছাব্বিশের সে রাতটি। রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে জেনারেল আনসারীর কাছে রিপোর্ট করার জন্য ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার আমার কাছে নির্দেশ পাঠালেন। নৌ-বাহিনীর একটি ট্রাক পাঠানো হলো আমাকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য...’
নিবন্ধে জিয়াউর রহমান আরও লেখেন, ‘আগ্রাবাদের এক ব্যারিকেডের সামনে ট্রাক থেমে গেল... ঠিক সে সময়ে মেজর খালিকুজ্জামান সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করলেন। অনুচ্চস্বরে বললেন, ওরা ক্যান্টনমেন্টে হামলা শুরু করেছে। শহরেও অভিযান চালিয়েছে। হতাহত হয়েছে বহু নিরীহ মানুষ। যে সময়ের জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম, সে সময় এসে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম, ‘উই রিভোল্ট’। নির্দেশ দিলাম, ষোলশহরে ছুটে যাও। পাকিস্তানি অফিসারদের আটক করো। যুদ্ধের জন্য তৈরি করে রাখো ব্যাটালিয়নের সবাইকে।’
জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘ষোলশহরে এসে মুহূর্তে একটি রাইফেল কেড়ে নিলাম তাদের একজনের কাছ থেকে... ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে এলাম। লে. কর্নেল চৌধুরী এবং ক্যাপ্টেন রফিকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম। সিভিল টেলিফোন সার্ভিসের একজন অপারেটরকে টেলিফোনে পেলাম। তাকে বললাম: ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটালিয়ন স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, এ সংবাদটি যেন সে চট্টগ্রামের ডিসি, কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি আর রাজনৈতিক নেতাদের জানিয়ে দেয়। কারণ টেলিফোনে আমি তাদের কাউকে পাচ্ছিলাম না। টেলিফোন অপারেটর দারুণ আনন্দ প্রকাশ করল আমার কথায় এবং ঐ গভীর রাতেই সবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করল সে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘সেই মুহূর্তটি ছিল জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ব্যাটালিয়নের সব অফিসার আর জোয়ানদের এক জায়গায় একত্র করে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলাম। বললাম, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। তারা এই ঘোষণাটির জন্যই উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিল। সঙ্গে সঙ্গে সবাই উল্লাসধ্বনি করে সাড়া দিল। পর মুহূর্তেই সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাত তখন ২টা ১৫ মিনিট। ২৬শে মার্চ ১৯৭১। জাতির জন্যে অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তটি।’
পটিয়ার পাহাড়ে প্রথম মুক্তাঞ্চল গঠন ও সামরিক কৌশলের বর্ণনা দিয়ে মেজর জিয়া লেখেন— ‘রাত ৪টায় রেললাইন ধরে পটিয়ার পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলাম। পথে ইপিআর-এর একশজন আমাদের সাথে যোগ দিল... ২৬শে মার্চের মধ্যেই তিনশ সদস্যের বাহিনীকে চট্টগ্রাম পাঠানো হলো হানাদারের মোকাবিলার জন্য। প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। সেই প্রথম সম্মুখসমর, পাকিস্তানি শিবিরে তখন আতঙ্ক। তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলো।’
কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার স্মৃতিচারণ করে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘দিনটি ছিল ২৭শে মার্চ... সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রেডিও স্টেশনে এলাম। হাতের কাছে একটি এক্সারসাইজ খাতা পাওয়া গেল। তার একটি পৃষ্ঠায় দ্রুতহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণার কথা লিখলাম— স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার নিয়েছি, সে কথাও লেখা হলো সেই প্রথম ঘোষণায়... বেতার তরঙ্গের সে ঘোষণা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রেডিওতে ধরা পড়ল। আর বিশ্ববাসী সেই প্রথম শুনলো: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ঘোষণা নিয়ে যুদ্ধে নেমেছে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে...২৭শে মার্চ, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ইথারে ঘোষণাটি উচ্চারিত হওয়ার পর মুহূর্তেই বিশ্বমানচিত্রে অঙ্কিত হয়ে গেল ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ কথাটি। ‘সে ছিল সত্যি এক অলৌকিক ব্যাপার!’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, ‘এনসিসিসি সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও নির্মোহ ইতিহাস জানতে পারবে।’
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দলীয় মনোগ্রাম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করবে না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এনসিপি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) এনসিপির প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আনুষ্ঠানিকভাবে পরে তাঁদের প্রার্থিতা ঘোষণা করবে দল।
এনসিপির দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে না গিয়ে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শরিকেরা একমত হয়। এরপর এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের বৈঠকে সিটি করপোরেশনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়।
সূত্র বলছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলটি কিছু সমীক্ষা চালায়। এতে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তথ্য উঠে আসে। আসিফ মাহমুদও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।
এনসিপির সূত্র আরও জানায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার কারণে ওই এলাকায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। দলীয় সমীক্ষাতেও এর প্রতিফলন পাওয়া গেছে। এসব বিবেচনায় তাঁকে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁর ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দলের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে তাঁকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীনকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দল পরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করবে।
এর আগে গত ৩০ মার্চ ঢাকাসহ পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তখন ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন আদীবকে বাদ দিয়ে উত্তরে আসিফ মাহমুদকে এবং দক্ষিণে আসিফের পরিবর্তে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রার্থিতা সামনে রেখে প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু করেছেন দুজন। আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে দক্ষিণের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হয়েছেন।
ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে এনসিপির আসিফ, দক্ষিণে পাটওয়ারী
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকার ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। একইভাবে মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থককেও ওই এলাকার ভোটার হতে হয়। এনসিপির নেতারা বলছেন, মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আসিফ ও নাসীরুদ্দীন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন।
৩০ মার্চ ঢাকার দুই সিটি ছাড়াও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালকে মেয়র পদে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ মেয়র পদে নির্বাচন করবেন। দক্ষিণে তাঁর নির্বাচন করার কথা রয়েছে। তবে দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করেন। অল্প ব্যবধানে তাঁকে হারিয়ে জয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ওই নির্বাচনে অংশ নেননি।
জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক হলো এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি। সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি চলছে।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সূত্র বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের আগ্রহ কম। এনসিপিসহ অন্য শরিকেরাও মনে করে, স্থানীয় নির্বাচনে কার্যকরভাবে জোটগত নির্বাচন করা প্রায় অসম্ভব। অতীতেও স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার নজির নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে ভোট করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে ভোট করলেও রাজনৈতিকভাবে ১১–দলীয় ঐক্য অটুট থাকবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস–সংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালন করবে তারা। এর মধ্যে আরও তিনটি লংমার্চ এবং পরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কর্মসূচি রয়েছে।
এনসিপি ও জামায়াতের সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রার্থী দিলেও শরিকদের প্রার্থীরা যাতে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ান, সে বিষয়ে সমন্বয় থাকবে। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা কিংবা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে ১১–দলীয় ঐক্যের শরিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করবে। কেন্দ্রীয়ভাবেও এসব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নেবে তারা।
জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক হলো এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিকভাবে ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে এগোবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে তাঁরা আলাদাভাবে ভোট করবেন। স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রচারের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি নয়; বরং বিদ্যমান ব্যবস্থা। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁরা সোচ্চার থাকবেন।
বঙ্গভবনে শপথ নেওয়া চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী
মন্ত্রিসভার আকার বেড়েছে। নতুন করে চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তাদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এবং বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।
অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন হুমায়ুন কবির, যিনি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
নতুন ছয় সদস্য যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩ জনে। এর মধ্যে ২৮ জন মন্ত্রী ও ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী। নতুন দায়িত্ব পাওয়া ছয় সদস্যের মধ্যে কে কোন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
জানা গেছে, নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে শিগগির মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। একই সঙ্গে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হতে পারে।
আবদুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত পেতে পারেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। সে ক্ষেত্রে বর্তমান মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করার কথা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। শুরুতে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার আকার ছিল ৫০ সদস্যের। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এরপর ১২ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। একই দিনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
হাফিজ উদ্দিনের পদত্যাগের দিনই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান আহমেদ আযম খান। অন্যদিকে, ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
১ জুন পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এতে এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদ শূন্য হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগদান করছেন না- জানার পরই ভারত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে ঢাকার কাছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সবরকম প্রস্তুতি শুরু করেছে দিল্লি। প্রায় পাঁচ মাস আগেই মোদি ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আটকে না থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব কতটা- সেটা স্পষ্ট করা হয়েছে ভারতের তরফে। এমনকি ভারত সফরে এসে তারেক রহমানকে যাতে খালি হাতে ফিরে যেতে না হয় সেজন্য ‘অভাবনীয়’ কূটনৈতিক উপহারের বার্তা দেয়া হয়েছে বলে ভারতীয় মিডিয়াতে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং দু’দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্পগুলো নিয়ে ভারত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে বাড়বে রেল, সড়ক, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং যোগাযোগ।
রাজনৈতিক পযর্বেক্ষক মহলের মতে, ভারতের ঘোষণা থেকে বোঝা যাচ্ছে- ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনকালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে সব বিধিনিষেধ ভারত আরোপ করেছিল সেসব উঠিয়ে নেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।
কূটনৈতিক মহল মনে করে, হাসিনার প্রত্যর্পণের ইস্যুটি খুবই জটিল ও আইনগত প্রক্রিয়া। ভারতেরও এ ধরনের বহু প্রত্যর্পণের অনুরোধ বিভিন্ন দেশে বছরের পর বছর আটকে রয়েছে। তাই এই ইস্যুটিকে এড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে দ্রুত আলোচনা শুরু করা জরুরি বলে কূটনীতিকদের অভিমত।
ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দেশটিতে সফরে আসুক। সেইসঙ্গে এটাও জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ভারত সফরে এলে সবচেয়ে ভালো। কেননা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর পর বছরভর নানা ভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। ফলে অদূর ভবিষ্যতে সেই সফরের সম্ভাবনা থাকবে না।
শেখ হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশের কড়া মনোভাবের মুখে পড়েছে ভারত। এরপরই ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। এরপরেই ভারতীয় হাইকমিশনার তড়িঘড়ি দিল্লি চলে আসেন। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তাদের বাংলাদেশের মনোভাব জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও বৈঠকে বিস্তারিত জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ফিরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করার জন্য জোরদার চেষ্টা শুরু করবেন বলে জানা গেছে।
ওদিকে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। রিপোর্টে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন। তার এই সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লি- দুই রাজধানীতেই প্রস্তুতি চলছে বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সফরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফরটি দুইদিনের দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সফরের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও ড. আবদুল মঈন খান
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর আলোচনা। কদিন ধরে এক ডজনের বেশি নাম লোকমুখে ঘুরে বেড়ালেও দলীয় ও রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনায় শেষ পর্যন্ত তিনজনের নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। এর মাঝে আজ শনিবার (১ আগস্ট) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদের বিষয়টিও উঠতে পারে।
যে তিন জনের নাম জানা যাচ্ছে
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার তালিকায় যাদের নাম থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে তারা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান এবং দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় সূত্র বলছে, শনিবার (১ আগস্ট) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদের বিষয়টি উঠতে পারে। তবে একাধিক সূত্রের দাবি, বিষয়টি আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে অতীতের মতোই স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্তের ভার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে কেউ কেউ বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রোফাইল এরইমধ্যে উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কোন কোন বিষয় গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে
দলীয় আলোচনা সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল দলীয় রাজনীতি নয়, দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক ভারসাম্য, সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানা মতামত থাকলেও শেষ পর্যন্ত এমন একজনকে বেছে নেওয়ার চিন্তা রয়েছে, যিনি দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য, অভিজ্ঞ এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে বলে বিবেচিত হন।
অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান
এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খানের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা, নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা, আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ, পরিকল্পনা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা-সব মিলিয়ে তার প্রোফাইলকে শক্তিশালী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা করেছেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ
অন্যদিকে, হাফিজ উদ্দিন আহমেদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সাংবিধানিক ও সংসদীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে বলে বলছেন অনেকে।
তবে বিএনপির দায়িত্বশীল কোনো নেতা এখনো রাষ্ট্রপতি পদে কারও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবে বলে সূত্রগুলোর দাবি। এর আগে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানার সুযোগ কম। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর।
সিদ্ধান্ত কী আসতে পারে আজ?
স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হয়েছে। কে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, এ ব্যাপারে আলোচনা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিত এমন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজনীতি বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুল আটটি বিষয়ের কথা বলেন।
তারমতে, রাষ্ট্রপতির পাঁচ বছরের মেয়াদ, সম্ভাব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তার ভূমিকা, রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা, অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সর্বজনস্বীকৃত ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাগত ও কূটনৈতিক যোগ্যতা, বর্তমান সরকার ও দলের সাংগঠনিক বাস্তবতা এবং রাষ্ট্রপতির শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা-সবকিছুই সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সব বিষয় বিবেচনায় নিলে বর্তমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে দু-একজন ছাড়া কাউকে এ পদে বিবেচনা করা দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হবে বলে আমি মনে করি না। তবে ক্ষমতায় বসলে অধিকাংশ মানুষেরই আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে সেটির পরিণতি অধিকাংশ সময়ই খুব ভালো হয়েছে, এমনটি প্রমাণিত নয়। তাই আবেগের চেয়ে যুক্তিকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান বলেন, আমার বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে বেছে নেওয়া উচিত, যার কোনো অগ্রহণযোগ্য ব্যাড রেকর্ড নেই, দুর্নীতির অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রের প্রতি যার দায়বদ্ধতা থাকবে এবং যার মেরুদণ্ড হবে শক্ত।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভাকে অনেক সময় অভিভাবকশূন্য মনে হয়। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, অবসরপ্রাপ্ত কোনো জ্যেষ্ঠ বিচারপতির মতো অভিজ্ঞ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কেউ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকলে সরকার ও রাষ্ট্র-উভয়ই উপকৃত হতে পারে।
মহিউদ্দিন খান আরও বলেন, যদি দলীয়ভাবে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হয়, তাহলে এমন একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে বেছে নেওয়া উচিত, যার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং যার একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে। তবে দুই যুগ আগে সরকারে থাকাকালীন বিএনপি যাদের (বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ইয়াজউদ্দিন আহমদ) রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছিল, নতুন করে এমন কোনো ব্যক্তিত্বকে এ পদে নির্বাচন করা উচিত হবে না।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়ার ইলশা গ্রামে বন্যার পানিতে ভেঙে গেছে মাটির ঘর। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে ভাঙা ঘর দেখে উদ্বিগ্ন রিমা আক্তার
বন্যা ও পাহাড় ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৪৪ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সৃষ্ট এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাত জেলার ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ— এই সাত জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, এসব জেলার ৫৮টি উপজেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। সাত জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বন্যা ও পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে পাহাড় ধস ও বন্যায় ২৩ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। কক্সবাজারে আহত হয়েছেন ২৪ জন। এদিকে বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামে বন্যা ও দেয়াল ধসের ঘটনায় ১১ জন নিহত এবং ১২ জনের আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ঢলের পানিতে ভেসে ও পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন; আহতের সংখ্যা ২। আরেক পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা মৌলভীবাজারে বন্যায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। জেলার ১৬টি উপজেলায় আংশিক ও পূর্ণ জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩০ জন মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
চট্টগ্রামে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি। এরপরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে ১০টি উপজেলার ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন মানুষ বন্যাকবলিত এবং ৩৯ হাজার ৫০৬টি পরিবার পানিবন্দি। অন্যান্য জেলার মধ্যে খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলায় ২৭ হাজার ২২০ জন, রাঙ্গামাটির ৯ উপজেলায় ৩ হাজার ৫২৪ জন, বান্দরবানের ৭টি উপজেলায় ৮ হাজার ৩৫০ জন, মৌলভীবাজারের চার উপজেলায় ৩৮ হাজার ১৭২ জন এবং হবিগঞ্জের তিন উপজেলায় ২৮ হাজার ১৪০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
হঠাৎ উপচে পড়া পানি ও পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি হারিয়ে জীবন বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে হাজারো মানুষ। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি আশ্রয় দিতে মোট ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু মানুষ এখনো নিজের জলমগ্ন ভিটেমাটি আঁকড়ে পড়ে আছেন। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ঠাঁই নেওয়া বিপন্ন মানুষের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি মানবিক সহায়তা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত ৭ জুলাই দেশের ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে মোট ৬ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেছে। এর মধ্যে দুর্গত এই ৭টি জেলায় বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।
বন্যা কবলিত জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৪০ লাখ টাকা নগদ এবং কক্সবাজারে ৪৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রতিটিতে ৪০০ মেট্রিক টন করে চাল এবং ২০ লাখ করে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজারে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা ত্রাণ কার্য (নগদ) হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, চাল ও নগদ টাকা বিতরণ শুরু হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক জায়গাতে সরকারি-বেসরকারি সাহায্য পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ এখন পানি কমার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ কর্মসূচি, জরুরি সাড়াদান সমন্বয় অধিশাখার যুগ্মসচিব সেখ ফরিদ আহমেদ শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, “ওই সব (বন্যাক্রান্ত) জেলাগুলোর সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। ওখানে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে শুরু করে স্থানীয় যারা জনপ্রতিনিধি আছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং আমাদের এনজিও কর্মী যারা আছেন, সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। “আর আমরা মন্ত্রণালয় থেকে আমরা বরাদ্দের যে বিষয়গুলো আছে, এগুলো আমরা সব জায়গায় মোটামুটি জেলাপ্রশাসনের চাহিদামতো বরাদ্দ দিয়ে রেখেছি। এতে কোনো সমস্যা নেই। অর্থাৎ জেলা প্রশাসন এবং আমাদের মিনিস্ট্রি, দুই পক্ষেরই সার্বিক সহযোগিতা আছে। “অন্যান্য যারা জনপ্রতিনিধি আছেন, স্থানীয় এবং যারা সমাজকর্মী যারা আছেন, সবার সার্বিক সহযোগিতায় মোটামুটি উত্তরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।”