কক্সবাজারে ৩০০ চীনা নাগরিকের গোপন ঘাঁটি!

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৪ পিএম

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অবস্থান করছিল ২৫০ থেকে ৩০০ চীনা নাগরিক। উখিয়া, রামু ও কক্সবাজার শহরের অন্তত ছয়টি রিসোর্ট ও হোটেল ভাড়া নিয়ে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল কথিত অনলাইন অপরাধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা। সম্প্রতি জেলা পুলিশের অভিযানে ছয় চীনা নাগরিক গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।


অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে পুরনো মডেলের ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, চক্রটির সদস্যরা অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনা, ভুয়া ট্রেডিং সাইট এবং হ্যাকিংয়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এ ঘটনায় রামু থানায় মামলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করছে পুলিশ।


পার্বত্য এলাকা থেকে কক্সবাজারে


পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইনভিত্তিক প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে চক্রটির সদস্যরা প্রথমে চট্টগ্রামের পার্বত্য এলাকায় ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বেশি থাকায় পরে কক্সবাজারকে তুলনামূলক নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, উখিয়া, রামু ও কক্সবাজার শহরের ছয়টি রিসোর্টে ভাগ হয়ে অবস্থান করছিল চীনা নাগরিকদের বিভিন্ন দল।


উখিয়ার তিনটি রিসোর্ট- অর্কিড ব্লু, ড্রিম হলিডে ও ইলিয়াস ব্রাদার্স; রামুর মেরিনা বিচ রিসোর্ট এবং কক্সবাজার শহরের সি প্যালেস ও ফ্যালকন রিসোর্টে তাদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে।


চার লাখে ভাড়া, চীনাদের কাছে ছয় লাখে


ইলিয়াস ব্রাদার্স রিসোর্টটি প্রথমে শাহজাহান ও আকতার কামাল নামের দুই বাংলাদেশি মাসিক চার লাখ টাকায় মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নেন। পরে সেটি চীনা নাগরিকদের কাছে মাসিক ছয় লাখ টাকা চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।


রিসোর্টটির বৈদ্যুতিক কাজের দায়িত্বে থাকা গিয়াস উদ্দিন বলেন, তিনি মাসিক ৬০ হাজার টাকা বেতনে সেখানে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর ভাষ্য, সেখানে অবস্থানকারী প্রায় প্রত্যেক চীনা নাগরিকের কাছে দুটি আইফোন ও একটি ল্যাপটপ থাকত। তবে তারা কী ধরনের কাজ করত, সে বিষয়ে কর্মীদের কোনো ধারণা ছিল না। ভবনের কয়েকটি নির্দিষ্ট কক্ষে প্রবেশও নিষিদ্ধ ছিল বলে জানান তিনি।


গিয়াসের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের প্রতিটি কক্ষ সাউন্ডপ্রুফ করা হয়েছিল। বাইরে থেকে যাতে কোনো শব্দ ভেতরে এবং ভেতরের শব্দ বাইরে না যায়, সে জন্য নেওয়া হয়েছিল বিশেষ ব্যবস্থা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য স্থাপন করা হয়েছিল দুটি বড় জেনারেটর। তাঁর ধারণা, সেখানে হ্যাকিংসহ অনলাইনভিত্তিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো।


রিসোর্টের দরজা বন্ধ, পাহারায় নিরাপত্তাকর্মী 


পুলিশের অভিযানের পর মেরিন ড্রাইভের কয়েকটি রিসোর্টে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক বন্ধ। ভেতরে চীনা নাগরিকদের দেখভালের জন্য নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।


ইলিয়াস ব্রাদার্স রিসোর্টের ম্যানেজার পাভেল আহমদ বলেন, তিনি শাহজাহান ও আকতার কামালের নিয়োজিত কর্মী। হোটেলের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় তাঁকেই দেখাশোনা করতে হয়। অন্য রিসোর্টেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশের অভিযান চলাকালে ইলিয়াস ব্রাদার্স রিসোর্টের কয়েকজন বাউন্ডারি টপকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।


চীনা নাগরিকরা নিজেদের খাবার নিজেরাই তৈরি করত। এ জন্য চীন থেকে বাবুর্চি আনা হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তারা সাধারণত রিসোর্টের বাইরে খুব একটা বের হতো না।


স্থানীয় ইন্টারনেট নয়, ব্যবহার করত স্টারলিংক


পুলিশের মামলার তথ্য অনুযায়ী, চীনা নাগরিকরা দেশীয় প্রচলিত ইন্টারনেট সংযোগের পরিবর্তে স্টারলিংক ব্যবহার করত। রিসোর্টগুলোতে সাউন্ডপ্রুফ ব্যবস্থা ও বিশেষ নিরাপত্তার পাশাপাশি নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

রিসোর্টে কর্মরত গিয়াস উদ্দিন বলেন, অন্যান্য ইন্টারনেট সার্ভিসের গতি কম হওয়ায় চীনা নাগরিকরা স্টারলিংক ব্যবহার করত বলে তিনি জানতেন।


স্থানীয় তিনজনের সঙ্গে যোগাযোগ


চীনা নাগরিকদের স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার জন্য কয়েকজন বাংলাদেশি যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের অনুসন্ধানে তথ্য এসেছে। তাঁদের মধ্যে রামুর হিমছড়ি এলাকার মোহাম্মদ শাহজাহান, আকতার কামাল ও মেরিনা রিসোর্টের মালিক আবু সোয়েব ক্যাসনের নাম এসেছে।


চীনা নাগরিকরা ইংরেজি ভাষায় খুব একটা কথা বলতে পারতেন না। ফলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলা ও চীনা ভাষা অনুবাদকারী মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হতো বলে জানা গেছে।


তিন বছরের চুক্তিতে রিসোর্ট!


মেরিনা রিসোর্টটি চীনা নাগরিকদের কাছে তিন বছরের চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। দীর্ঘ তিন বছরের জন্য এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক কেন রিসোর্টটি ভাড়া নিয়েছিল-এ প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। 


কয়েক দিন আগে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছিল, তাদের রিসোর্টটি আগামী তিন বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে।


রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা কি ছিল টার্গেট?


স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, চীনা চক্রটির সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।


তবে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্যাম্পের সব রোহিঙ্গা নয়-বাড়তি আয়ের আশায় অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


এ বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে চক্রটির যোগাযোগের বিষয়টি তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।


নির্মাণকাজে এসেছিল-দাবি কতটা সত্য?


আটক চীনা নাগরিকদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন বলে দাবি করেছেন।


কিন্তু পুলিশের প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজারে বর্তমানে এমন বড় কোনো নির্মাণকাজ চলমান নেই যেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ চীনা নাগরিকের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে তাঁদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।


দূতাবাসের সহযোগিতা, তদন্ত অব্যাহত


কক্সবাজার জেলা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন রিসোর্টে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। চীনা নাগরিকদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য যাচাইয়ের পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের আগে চীন দূতাবাসের সহযোগিতাও নেওয়া হয়েছিল।


কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান বলেন, জেলা পুলিশ অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। আন্তর্জাতিক একটি চক্রের কর্মকাণ্ড শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করায় পুলিশ প্রশংসার দাবি রাখে।


কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টগুলোতে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। চীনা নাগরিকরা অবৈধভাবে অবস্থান করছে- বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ ঘটনায় রামু থানায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


তদন্তে এখন বেরিয়ে আসার অপেক্ষায়-কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক দীর্ঘদিন কক্সবাজারের বিভিন্ন রিসোর্টে অবস্থান করলেন, তাঁদের অনলাইন কার্যক্রমের পরিধি কতটা বিস্তৃত এবং দেশের বাইরে থাকা কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল কি না তা জানাযায়নি।


রামু থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে ফজলুল হক বলেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার, বান্দরবানসহ  সারা দেশে  ক্যসিনো জুয়ার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই চক্রকে ধরতে ইতিপূর্বে একাধিক অভিযান চালিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কক্সবাজারের রামু থেকে এক সাথে ৬ চীনা নাগরিককে আটকের পর তাদের নেট ওয়ার্কের বিস্তর তথ্য হাতে প্রশাসনের কাছে। তবে সব কিছু এখনই প্রকাশ করা সম্ভব না।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ পিএম

সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র । এর মধ্যে ভিডিও কলে এক ছাত্রকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে তার বাবার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। 


এ ঘটনায় দুজনের অভিভাবক নগরের শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্র হলো তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম)। ১৫ বছর বয়সী দুজনই সিলেটের খাদিম পাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায হিফজ বিভাগে পড়ে। তামিম দক্ষিণসুরমা বড়াইকান্দি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে। 


ছাত্রদের অভিভাবক, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের ফাঁকে ওই দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সাঈদের বাবার মুঠোফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরহীন অ্যাকাউন্ট থেকে নাঈমকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছে দুই ছাত্রের অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। 


এ বিষয়ে জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় ওই ছাত্র দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে তামিম আরও দুবার মাদ্রাসা থেকে না বলেই বাসায় চলে গিয়েছিল। পরে তার বাবা এসে দিয়ে গিয়েছিলেন। এবার সাঈদ ও তামিম দুজনই একসঙ্গে ফজরের নামাজের ফাঁকে বের হয়ে যায় বলে জেনেছি। বিষয়টি তাদের মা-বাবাকে জানাই।


’সাঈদের বাবা বেবুল আহমদ জানান, ‘মাদ্রাসা থেকে বাসায় গেছে কি না, এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার হুজুর কল দিয়েছিলেন। আমরা জানাই যে সে (নাঈম) আসেনি। সিলেটের বিভিন্ন জায়গায়ও খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আমার ইমোতে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। ইমোর অ্যাকাউন্টে কোনো নম্বর দেখা যাচ্ছিল না। তখন একের পর এক কল দিচ্ছিলাম, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে রিসিভ করা হয়নি।’


বেবলু আহমদ জানান, ‘পরে সন্ধ্যার পর ভিডিও কলে আমার ছেলেকে হাত-পা বেঁধে রাখা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়; ভিডিও পাঠিয়েছে। পরে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলে । নয়তো আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’ তবে কে বা কারা অর্থ দাবি করছে, তা তিনি জানেন না।


আরেক ছাত্র তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার জানান, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসা থেকে এর আগেও দুবার বের হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিল। আবারও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আল্লাহ জানেন, আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না।’


শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, ‘ওই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা জিডি করেছে। আমরা সারা দেশে দুই ছাত্রের ছবি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’


ইমোতে অর্থ দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ইমোতে যে নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটা যাচাই করে দেখা হয়েছে, তা এক বছর ধরে বন্ধ। অনেক সময় নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে কিছু প্রতারক চক্র এমন সুযোগ নেয়। আর ইমোতে কয়েক সেকেন্ডের যে ভিডিও পাঠানো হয়েছে, তা অস্পষ্ট। তবে আমরা খোঁজ করছি।’

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।


শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে টেক্সটাইল-রুবি গেট হয়ে দুই নম্বর গেইট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পলিটেকনিক্যাল মোড়ে এসে শেষ হয়।


চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল, মোহাম্মদ রুবেল, মো.মাহমুদ, আইন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো.রিয়াজ, পাহাড়তলী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রকি, মো.ইয়াছিন আফ্রিদি,পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ বকুল, মো.আহাদ, মো.সামি, মো.মহসিন,কলেজ ছাত্রদলের সংগঠক মো.তানভীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ পিএম

অবৈধভাবে রাসায়নিক সার বিক্রি করার অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোতাহার হোসেন নামে এক সার ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে আটক ২১ বস্তা সার সরকারি মুল্যে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এনএম ইসফাকুল কবীর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ আদেশ দেন।


পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামানিক জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে আব্দুল খালেক এর বাড়িতে ৭ বস্তা টিএসপি ও ১৪ বস্তা এমওপি সার সহ সার ব্যবসায়ী মোতাহার এবং গৃহকর্তা খালেককে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক করে স্থানীয়রা। পরে থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ সার সহ ঐ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইনের ২০০৬ এর ১২(৩) ধারা মোতাবেক সার সাব-ডিলার মোতাহারকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং আটক করা ২১ বস্তা সার বাজেয়াপ্ত করে প্রকাশ্যে জাবরহাট ইউনিয়নের কৃষগনের মাঝে সরকারি দামে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।


আটক করা সার রবিবার প্রকাশ্যে বিক্রি করার ব্যবস্থা করবেন কৃষি বিভাগ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝালকাঠির নলছিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।


১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:হাবিবুর রহমান,নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন,উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো:ওবায়দুল ইসলাম,উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা:আবু সালেহ মো:ইফাদ ইশতিয়াক,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট,বিডি ক্লিন বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা।


আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।ঝোপঝাড় পরিস্কার,ড্রেন,নালা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রেখে সকলে মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।


আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে ফেরত আসে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ পিএম

জলবায়ু ন্যায়বিচার, জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যৎ এবং দ্রুত ও ন্যায্য অর্থায়নকৃত জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে । বৈশ্বিক কর্মসূচি গ্লোবাল উইক অফ অ্যাকশন এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে  এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবাদি সংগঠন  ও নদী রক্ষা আন্দোলন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ ও আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


এতে  বক্তব্য রাখেন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা'র কলাপাড়ার সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য রফিকুল ইসলাম মিরাজ, পরিবেশ সংগঠক সাইফুল্লাহ মাহমুদ, পরিবেশ সংগঠক আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠনের সাবেক সভাপতি  নজরুল ইসলাম প্রমুখ। 


বক্তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং কপ থার্টি ওয়ান (COP31)-এর প্রাক্কালে আয়োজিত এই বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমরা দাবি জানাচ্ছি—জীবাশ্ম জ্বালানির অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের জন্য দ্রুত ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়ন করতে হবে।


এছাড়া বক্তারা কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট আশুগঞ্জ বিদুৎ কেন্দ্র কে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র দু'টির অভ্যন্তরের বিপুল পরিমাণ খালি জায়গা রয়েছে। যেখানে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে সৌরসিষ্টেম চালু করার দাবি জানান। 


কয়লা দূষণ বন্ধে সমাজিক আন্দোলনে সকল শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।  পরিবেশ  দূষণ বন্ধে কয়লা দূষণ বন্ধের কোন বিকল্প নেই। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৬ পিএম

নাটোরের লালপুরে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুই আরোহী হৃদয় (২০) ও মনি (২২) আহত হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালপুর-গোপালপুর সড়কের শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ট্রাককে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাক, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হন।


খবর পেয়ে লালপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুল্লাহ লালপুরের উত্তর লালপুর গ্রামের শহীদুজ্জামান লাকির ছেলে।


আহত হৃদয় ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত হৃদয় চকদৈবকী  গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ও মনি একই গ্রামের নাজির উদ্দিনের ছেলে।


ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প:প::কর্মকর্তা ডাক্তার মঞ্জুর রহমান।

সর্বশেষ সব খবর