কক্সবাজারে ৩০০ চীনা নাগরিকের গোপন ঘাঁটি!

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৪ পিএম

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অবস্থান করছিল ২৫০ থেকে ৩০০ চীনা নাগরিক। উখিয়া, রামু ও কক্সবাজার শহরের অন্তত ছয়টি রিসোর্ট ও হোটেল ভাড়া নিয়ে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল কথিত অনলাইন অপরাধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা। সম্প্রতি জেলা পুলিশের অভিযানে ছয় চীনা নাগরিক গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।


অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে পুরনো মডেলের ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, চক্রটির সদস্যরা অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনা, ভুয়া ট্রেডিং সাইট এবং হ্যাকিংয়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এ ঘটনায় রামু থানায় মামলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করছে পুলিশ।


পার্বত্য এলাকা থেকে কক্সবাজারে


পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইনভিত্তিক প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে চক্রটির সদস্যরা প্রথমে চট্টগ্রামের পার্বত্য এলাকায় ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বেশি থাকায় পরে কক্সবাজারকে তুলনামূলক নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, উখিয়া, রামু ও কক্সবাজার শহরের ছয়টি রিসোর্টে ভাগ হয়ে অবস্থান করছিল চীনা নাগরিকদের বিভিন্ন দল।


উখিয়ার তিনটি রিসোর্ট- অর্কিড ব্লু, ড্রিম হলিডে ও ইলিয়াস ব্রাদার্স; রামুর মেরিনা বিচ রিসোর্ট এবং কক্সবাজার শহরের সি প্যালেস ও ফ্যালকন রিসোর্টে তাদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে।


চার লাখে ভাড়া, চীনাদের কাছে ছয় লাখে


ইলিয়াস ব্রাদার্স রিসোর্টটি প্রথমে শাহজাহান ও আকতার কামাল নামের দুই বাংলাদেশি মাসিক চার লাখ টাকায় মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নেন। পরে সেটি চীনা নাগরিকদের কাছে মাসিক ছয় লাখ টাকা চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।


রিসোর্টটির বৈদ্যুতিক কাজের দায়িত্বে থাকা গিয়াস উদ্দিন বলেন, তিনি মাসিক ৬০ হাজার টাকা বেতনে সেখানে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর ভাষ্য, সেখানে অবস্থানকারী প্রায় প্রত্যেক চীনা নাগরিকের কাছে দুটি আইফোন ও একটি ল্যাপটপ থাকত। তবে তারা কী ধরনের কাজ করত, সে বিষয়ে কর্মীদের কোনো ধারণা ছিল না। ভবনের কয়েকটি নির্দিষ্ট কক্ষে প্রবেশও নিষিদ্ধ ছিল বলে জানান তিনি।


গিয়াসের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের প্রতিটি কক্ষ সাউন্ডপ্রুফ করা হয়েছিল। বাইরে থেকে যাতে কোনো শব্দ ভেতরে এবং ভেতরের শব্দ বাইরে না যায়, সে জন্য নেওয়া হয়েছিল বিশেষ ব্যবস্থা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য স্থাপন করা হয়েছিল দুটি বড় জেনারেটর। তাঁর ধারণা, সেখানে হ্যাকিংসহ অনলাইনভিত্তিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো।


রিসোর্টের দরজা বন্ধ, পাহারায় নিরাপত্তাকর্মী 


পুলিশের অভিযানের পর মেরিন ড্রাইভের কয়েকটি রিসোর্টে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক বন্ধ। ভেতরে চীনা নাগরিকদের দেখভালের জন্য নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।


ইলিয়াস ব্রাদার্স রিসোর্টের ম্যানেজার পাভেল আহমদ বলেন, তিনি শাহজাহান ও আকতার কামালের নিয়োজিত কর্মী। হোটেলের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় তাঁকেই দেখাশোনা করতে হয়। অন্য রিসোর্টেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশের অভিযান চলাকালে ইলিয়াস ব্রাদার্স রিসোর্টের কয়েকজন বাউন্ডারি টপকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।


চীনা নাগরিকরা নিজেদের খাবার নিজেরাই তৈরি করত। এ জন্য চীন থেকে বাবুর্চি আনা হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তারা সাধারণত রিসোর্টের বাইরে খুব একটা বের হতো না।


স্থানীয় ইন্টারনেট নয়, ব্যবহার করত স্টারলিংক


পুলিশের মামলার তথ্য অনুযায়ী, চীনা নাগরিকরা দেশীয় প্রচলিত ইন্টারনেট সংযোগের পরিবর্তে স্টারলিংক ব্যবহার করত। রিসোর্টগুলোতে সাউন্ডপ্রুফ ব্যবস্থা ও বিশেষ নিরাপত্তার পাশাপাশি নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

রিসোর্টে কর্মরত গিয়াস উদ্দিন বলেন, অন্যান্য ইন্টারনেট সার্ভিসের গতি কম হওয়ায় চীনা নাগরিকরা স্টারলিংক ব্যবহার করত বলে তিনি জানতেন।


স্থানীয় তিনজনের সঙ্গে যোগাযোগ


চীনা নাগরিকদের স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার জন্য কয়েকজন বাংলাদেশি যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের অনুসন্ধানে তথ্য এসেছে। তাঁদের মধ্যে রামুর হিমছড়ি এলাকার মোহাম্মদ শাহজাহান, আকতার কামাল ও মেরিনা রিসোর্টের মালিক আবু সোয়েব ক্যাসনের নাম এসেছে।


চীনা নাগরিকরা ইংরেজি ভাষায় খুব একটা কথা বলতে পারতেন না। ফলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলা ও চীনা ভাষা অনুবাদকারী মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হতো বলে জানা গেছে।


তিন বছরের চুক্তিতে রিসোর্ট!


মেরিনা রিসোর্টটি চীনা নাগরিকদের কাছে তিন বছরের চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। দীর্ঘ তিন বছরের জন্য এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক কেন রিসোর্টটি ভাড়া নিয়েছিল-এ প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। 


কয়েক দিন আগে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছিল, তাদের রিসোর্টটি আগামী তিন বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে।


রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা কি ছিল টার্গেট?


স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, চীনা চক্রটির সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।


তবে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্যাম্পের সব রোহিঙ্গা নয়-বাড়তি আয়ের আশায় অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


এ বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে চক্রটির যোগাযোগের বিষয়টি তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।


নির্মাণকাজে এসেছিল-দাবি কতটা সত্য?


আটক চীনা নাগরিকদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন বলে দাবি করেছেন।


কিন্তু পুলিশের প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজারে বর্তমানে এমন বড় কোনো নির্মাণকাজ চলমান নেই যেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ চীনা নাগরিকের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে তাঁদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।


দূতাবাসের সহযোগিতা, তদন্ত অব্যাহত


কক্সবাজার জেলা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন রিসোর্টে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। চীনা নাগরিকদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য যাচাইয়ের পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের আগে চীন দূতাবাসের সহযোগিতাও নেওয়া হয়েছিল।


কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান বলেন, জেলা পুলিশ অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। আন্তর্জাতিক একটি চক্রের কর্মকাণ্ড শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করায় পুলিশ প্রশংসার দাবি রাখে।


কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টগুলোতে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। চীনা নাগরিকরা অবৈধভাবে অবস্থান করছে- বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ ঘটনায় রামু থানায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


তদন্তে এখন বেরিয়ে আসার অপেক্ষায়-কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক দীর্ঘদিন কক্সবাজারের বিভিন্ন রিসোর্টে অবস্থান করলেন, তাঁদের অনলাইন কার্যক্রমের পরিধি কতটা বিস্তৃত এবং দেশের বাইরে থাকা কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল কি না তা জানাযায়নি।


রামু থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে ফজলুল হক বলেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার, বান্দরবানসহ  সারা দেশে  ক্যসিনো জুয়ার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই চক্রকে ধরতে ইতিপূর্বে একাধিক অভিযান চালিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কক্সবাজারের রামু থেকে এক সাথে ৬ চীনা নাগরিককে আটকের পর তাদের নেট ওয়ার্কের বিস্তর তথ্য হাতে প্রশাসনের কাছে। তবে সব কিছু এখনই প্রকাশ করা সম্ভব না।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০২ পিএম

লালপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


মঙ্গলবার ( ৩ নভেম্বর) লালপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ওয়াজেদ আলী মৃধা, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু । 


এসময় উপস্থিত ছিলেন দপ্তর প্রধান গণ, ইউপি চেয়ারম্যান গণ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক।


ইমাম গাজ্জালী (ডিগ্রী) কলেজের একাডেমিক ভবন এবং স্মার্ট ফোন নিষিদ্ধ করে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩০ পিএম

এইচএসসি পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ও একাডেমিক শৃঙ্খলা ফেরাতে স্মার্টফোন বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে চট্টগ্রামের রাউজানের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত পোশাক ও পরিচয়পত্র ছাড়া কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।


গত সোমবার (২ নভেম্বর) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবদুল জব্বার চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়। মঙ্গলবার স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।


কলেজ কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাটন ফোন ছাড়া অন্য কোনো স্মার্টফোন শিক্ষার্থীদের কাছে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত পোশাক ও পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।


কলেজটির চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ৩৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৮২ জন। পাসের হার ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কেউ জিপিএ-৫ পাননি। পাসের হারের দিক থেকে রাউজান উপজেলার ১৩টি কলেজের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ১২তম।


ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের পর শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি ও সামগ্রিক একাডেমিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।


এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল জব্বার চৌধুরী বলেন, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় খারাপ ফলের অন্যতম প্রধান কারণ শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি। অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ না দিয়ে স্মার্টফোন নিয়ে সময় কাটায়। পড়াশোনা, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও আদান-প্রদানে স্মার্টফোনের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও শিক্ষার্থীরা এর অপব্যবহার করছে। এইচএসসি পর্যন্ত, বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।


অধ্যক্ষ আরও বলেন, গত সোমবার একাদশ শ্রেণির ক্লাস থেকে ২৫টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা ফোনগুলোর মালিক শিক্ষার্থীদের কারও কারও কাছে বই নেই বা বই কেনার সামর্থ্য নেই, অথচ তাদের হাতে দামি স্মার্টফোন রয়েছে। তাঁরা শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার চেয়ে মোবাইল ফোনেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। শিক্ষার্থীরা বই নিয়ে নিয়মিত ক্লাসে এলে জব্দ করা ফোনগুলো তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে ফোন জব্দের পর স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা সেগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য তাঁকে ফোন করেছেন বলেও জানান তিনি।


এইচএসসির ফল বিপর্যয়ের আরেকটি কারণ হিসেবে নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মূল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন অধ্যক্ষ। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরই মূল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের চাপের মুখে ছয় বিষয়ে অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থীসহ অনেককে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হয়েছে। এ ধরনের চাপ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মুক্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।


কলেজের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ছাত্রদের নির্ধারিত পোশাক সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট। ছাত্রীদের সাদা থ্রি-কোয়ার্টার অ্যাপ্রোন, সাদা সালোয়ার-কামিজ ও সাদা ওড়না পরতে হবে। তবে বোরকা পরিহিত ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ইউনিফর্মের শর্ত শিথিলযোগ্য রাখা হয়েছে। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ থাকবে না। এ ছাড়া একাদশ শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে বুধবার (৪ নভেম্বর) এসএসসি পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র কলেজ অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কলেজের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের অনেকে। অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের আসক্তি ও অপব্যবহার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সচেতনতা ও অভিভাবকদের তদারকি জরুরি।


তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোন থাকাই মূল সমস্যা নয়, বরং এর ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলাই উদ্বেগের বিষয়। তাই তাদের মধ্যে সচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তির যুগে স্মার্টফোন থেকে পুরোপুরি দূরে না রেখে কোন কাজে, কীভাবে ও কতটুকু ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে যথাযথ শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।


১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজটি রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সামনে অবস্থিত। দীর্ঘদিনের এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ফলাফল শিক্ষার গুণগত মান ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্মার্টফোন নিষিদ্ধ, ইউনিফর্ম ও পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের জবাবদিহি, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক পাঠদান কার্যক্রম নিশ্চিত করাও জরুরি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৩ পিএম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্ৰাম ইউনিয়নে ১ম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করায় ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ১ম স্ত্রী আশরিফা বেগম।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্ৰাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম বুল্লাই পাড়া গ্ৰামের জয়নুল ইসলামের স্ত্রী আশরিফা বেগম ৪ বছর ধরে সংসার করিয়া আসিতেছে। তাদের ঘরে আয়াতুল ইসলাম(০২) একটি সন্তান আছে। এমতাবস্থায় বিগত ১০ অক্টোবর পশ্চিম দলিরাম বানিয়া পাড়া গ্ৰামের স্বপ্না আক্তার  তার সংসারের দুইটি সন্তান রেখে আমার স্বামী জয়নুল ইসলামকে গোপনে বিবাহ করে।


এ ব্যাপারে আশরিফা বেগম বলেন, আমি আমার স্বামীর সাথে যোগাযোগ করলে সেও আমাকে বলে যে আমি স্বপ্নাকে বিয়ে করেছি। তুমি সন্তানকে নিয়ে তুমি তোমার মত করে চলো। আমি আর বাড়িতে যাব না আমাকে ভরনপোষন দিতে অস্বীকার করে এবং আমার দেন মোহরের টাকা দিয়ে দেবে তালাক দিবে এবং আমাকে বাবার বাড়িতে চলে যাওয়া সহ নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমতাবস্থায় আমি আমার সন্তানকে নিয়ে খুবই মানবেতর জীবন যাপন করতেছি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩৪ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটার জন্য এক দুবাই প্রবাসীর বসতভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদীয়া ব্রিকফিল্ডের মালিক মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। জমি দখলে বাধা দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও শ্যালককে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার তিন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধেও ইটভাটার মালিকের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জমি বন্ধক দিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী বিলকায়েছ আরা বেগম ও শ্যালক নূর হোসেন মানিক।  


ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল গোফরানের কেনা বসতভিটার জমিতে ইটভাটা সম্প্রসারণ করতে চান জাকির হোসেন। এ জন্য জমির সীমানায় থাকা টিনের বেড়া ভেঙে দখলের চেষ্টা করছেন তিনি। জমি বিক্রি কিংবা তার কাছে বন্ধক না দিলে পরিবারটিকে এলাকায় বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।


পরিবারটির দাবি, গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাতে জাকিরের লোকজন গোফরানের জমির দক্ষিণ পাশের টিনের বেড়া ভেঙে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গোফরানের স্ত্রী বিলকিস আরা বেগম থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।


তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর রাত ৮টার দিকে এসআই নজরুল প্রবাসীর স্ত্রী ও তার বড় ভাইকে থানায় ডেকে নেন। সেখানে জাকিরের কাছে জমিটি বন্ধক দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তারা তাতে রাজি হননি। এর চার দিন পর, ১৬ অক্টোবর স্বামীর কেনা জমিতে ২১ ফুট বাই ১৬ ফুট আয়তনের টিন ও কাঠ দিয়ে একটি দোচালা ঘর নির্মাণ শুরু করেন বিলকায়েছ আরা বেগম। এ সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই নজরুল, এসআই সুমন ও এসআই আনোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলেন। একই সঙ্গে জাকিরের সঙ্গে সমঝোতা করে জমিটি তার কাছে বন্ধক দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের। অন্যথায় তাদের বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।


পরিবারটির ভাষ্য, পুলিশের কথায় রাজি না হয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই দিন রাতেই জাকিরের লোকজন নির্মাণাধীন দোচালা ঘর ও টিনের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।


এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গত ২৬ অক্টোবর দুবাই দূতাবাসের মাধ্যমে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল গোফরান। অভিযোগটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে জাকিরের লোকজন আবারও ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেঙে ফেলা ঘর ও সীমানাপ্রাচীরের কাঠ ও টিন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।


পরিবারটির আরও অভিযোগ, জাকির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি ও বিধিমালা উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসনের নিরবতায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ‘মোহাম্মদীয়া’ নামের ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে শ্রমিক পরিচয়ে লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।


অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটার মালিক জাকির হোসেন বলেন, ইটভাটার ভেতরে প্রবাসীর ৯ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর আমার মাটির স্তূপ রয়েছে। আমি তাদের বকেয়া টাকা থাকলে নিয়ে যেতে এবং জমিটি বিক্রি করে দিতে বলেছি। কিন্তু তারা আমার কাছে জমি বিক্রি করতে রাজি হননি। পরে তাদের জায়গায় রাখা আমার মাটি ও ইটের খোয়া দিয়ে দিতে বললে তারা বাধা দেন। এরপর তারা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন।


এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী প্রথমে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর এসআই সুমন ও আনোয়ারও সেখানে যান। উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযোগকারী পক্ষ সেখানে ঘর নির্মাণ করতে গেলে ইটভাটার লোকজন বাধা দেন। পরে প্রবাসীর পরিবারসহ দুই পক্ষ বিষয়টি বর্তমান ওসিকে অবহিত করে।


কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে পরে জানানো হবে।



  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩০ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদ নগর ছাত্রদল নেতা রিফাত দেওয়ান ও তাঁর বন্ধু জুম্মনকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। টিভি আনোয়ার ও তাঁর ভাগিনা মঞ্জুর নির্দেশে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। গত সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে এরশাদনগরের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 


সংবাদ সম্মেলনে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী রিফাত দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, গত ২৯ অক্টোবর ফুটবল খেলতে মাঠে যাওয়ার পথে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। একপর্যায়ে তাঁকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। একই ঘটনায় তাঁর বন্ধু জুম্মনও হামলার শিকার হন। হামলার সময় তাঁকে টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম কামুর সঙ্গে চলাফেরা না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন রিফাত। 


তিনি আরও জানান, হামলায় রিফাতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। আহত জুম্মনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় গত ৩০ অক্টোবর টঙ্গী পূর্ব থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম কামু। 


তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ওরফে টিভি আনোয়ার তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন। কামরুল ইসলাম কামু আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক কারণে তাঁকে হামলা-মামলা ও নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে কারাভোগ করতে হয়েছে এবং বাড়িছাড়া থাকতে হয়েছে। এমনকি বাড়িতে থাকতে না পারায় নিজের মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জানাজায়ও অংশ নিতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। 


তিনি আরও অভিযোগ করেন, আনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন। তাঁর ভাগিনা মঞ্জুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন কামরুল ইসলাম। এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মঞ্জু কীভাবে যুবদলের পরিচয় ব্যবহার করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন শেষে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আহতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।


 মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন ছাত্রদল নেতাসহ দুজনের ওপর এমন হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। তাঁরা অবিলম্বে মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩২ পিএম

কাল দিনভর শ্রমিকদের বিক্ষোভের পর আজও স্বাভাবিক হয়নি আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় অনেক কারখানায় কর্মীরা হাজির হলেও কাজ না করে বিক্ষোভ করে শুরু করেন। কিছু কারখানার ভেতরে এবং কিছুক্ষেত্রে কারখানা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ পরিস্থিতিতে অনেক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে। ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে- অনন্ত গার্মেন্টস, ডেকো গার্মেন্টস, নিউ এইজ, আল-মুসলিম, সাদিয়া ফ্যাশন, নীট এশিয়া, হা-মীম গ্রুপ ও শারমিন গ্রুপ। 


আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর বর্তমান পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কিছু কারখানায় শ্রমিকরা এলেও কাজ না করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এমন প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। 


তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আশুলিয়ায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। 


ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ কয়েকটি দাবিতে কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা। রাজধানীর মিরপুর, ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া, গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল এবং নারায়ণগঞ্জে মিছিল, সমাবেশ, সড়ক অবরোধ করেছে শ্রমিকরা। কারখানা ভাঙচুর, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। 


পুলিশ জানায়, গত কয়েক দিনের শ্রমিক বিক্ষোভের জের ধরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ১০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৫টি, গাজীপুরে ৩, সাভার ও আশুলিয়ায় ২টি। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী রয়েছেন।