• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সংরক্ষিত বনভূমি যেন দখলদারদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে চকরিয়া উপজেলার  ফাঁসিয়াখালী, ফুলছড়ি  রেঞ্জের আওতাধীন ডুলাহাজারা, খুটাখালী, মেধাকচ্ছপিয়া, বনবিটে সরকারি বনভূমি দখল করে একের পর এক গড়ে উঠছে বসতঘর, দোকানপাট,পাহাড় কাটা, বালিউত্তোলন শিক্ষাপ্রতিষ্টান, মসজিদ  মুরগির খামারসহ নানা ধরনের অবৈধ স্থাপনা।


এসব বনবিট কার্যালয়ের অদূরেই প্রকাশ্যে বনভূমি দখলের এমন কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর প্রতিরোধ না থাকায় স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খোদ, রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তারা মাসোহারা নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে যাচ্ছে। 


স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী,ফুলছড়ি রেঞ্জ কার্যালয়ের প্বার্শবর্তী মেধা কচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, মালুমঘাট খ্রীস্ট্রান মেমোরিয়াল হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা এখন ব্যাপক লুটতরাজ চলছে। পাশে ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন মাদারট্রি গর্জন বাগান ও সামাজিক বনায়ন এলাকার বনভূমিতে বেশ কিছুদিন ধরে দখলদারিত্ব চলছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে বনভূমির বিভিন্ন অংশ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন বসতি, মুরগির খামার ও ব্যবসায়িক স্থাপনা। ফলে ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে সংরক্ষিত বনভূমি।




অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি শক্তিশালী দখলদার সিন্ডিকেট বন বিভাগের জমি দখলে সক্রিয় রয়েছে। বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীরবতার সুযোগে তারা দিনের পর দিন নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ করছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।


উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরও একই স্থানে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণের ঘটনায় বনভূমি রক্ষায় বন বিভাগের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডুলাহাজারা বনবিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিন বনভূমি জবরদখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। 


তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা জবরদখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি। কিন্তু দখলবাজ চক্রের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকির আশঙ্কা থাকায় সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে সাহস পাচ্ছি না।


এ বিষয়ে চকরিয়া পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)'র সভাপতি একেএম বেলাল উদ্দিন  বলেন, সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা না হলে ধীরে ধীরে সরকারি বনভূমি সংকুচিত হবে। এর ফলে বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জানতে চাইলে ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) কামরুল হাসান বলেন, ডুলাহাজারা বনবিটের ওই এলাকায় ইতোমধ্যে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা ও মুরগির খামার উচ্ছেদ করা হয়েছে। 


অভিযুক্ত দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। রেঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা খসরুল আমিন বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের পরও জড়িত দখলদাররা সেখানে পুনরায় মুরগির খামারসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে। এ অবস্থায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে সেখানে কঠোর অভিযান পরিচালনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


এদিকে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সোয়াজাইননা নতুন পাহাড় এলাকায় পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সৌদি প্রবাসী মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। তিনি মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণেরও অভিযোগ রয়েছে। 


অন্যদিকে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের নতুন মসজিদ, রিংভং ও ছগিরশাহকাটা এলাকায় মৃত আস্কর আলীর ছেলে আমির হামজার বিরুদ্ধেও বাড়িঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।


স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা করে স্থাপনা উচ্ছেদ করলেই হবে না; উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে বনভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নেপথ্যের প্রভাবশালী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। 


তাদের আশঙ্কা, এখনই বনভূমি দখল বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে ডুলাহাজারার সংরক্ষিত বনাঞ্চল আরও সংকুচিত হবে। এতে বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।


বিতর্কিত ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা কুদ্দুসর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে বনভূমি বিক্রি করে কোটি টাকার বানিজ্যের অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একাধিক অভিযোগে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে নানা অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হলে ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার আস্থাভাজন হওয়ায় গত এক বছরের বেশী সময় ধরে তিনি এখনো স্বপদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

 

স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি প্রতিমাসে বালিখেকো বনভূমি দখলদার ও দেশের একমাত্র সর্ববৃহৎ মাদার ট্রি গর্জন গাছ ও ভূমি বিক্রি করে অন্তত  ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি আখের গুছিয়ে এখন বদলীর তকবির করে দ্রুত সরে ছিটকে পড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এমন কি এক মহিলার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে ৪০ শতক বনভূমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন এই এই রেঞ্জ কর্মকর্তা। তাও আবার মেধা কচ্ছপিয়ার জাতীয় উদ্যানের মাদার ট্রি গর্জন বাগানের ভেতরে। এই গর্জন বাগানের ভিতরে রীতিমতো বাজার বসিয়ে দিয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা কুদ্দুস। তার এসব অপকর্ম নিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হোসেনের কাছে স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা অসংখ্যবার লিখিত এবং  মৌখিক অভিযোগ দিলে ও অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।


এ ব্যাপারে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হোসেন বলেন,  যে সব বিষয়ে অভিযোগ আসে সেসব বিষয়ে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোন ভূমি দূস্য, বনদূস্য বালুখেকো বনভূমি জবরদখলকারীর সাথে বন বিভাগের কারো সাথে কোন প্রকার আতাঁত কিংবা অবৈধ লেনদেন প্রমান পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। দৃশ্যমান অনিয়ম দূর্নীতি ও বনভূমি দখলে বনবিভাগের পরোক্ষ সহযোগিতা কি বিভাগীয় বনকর্মকর্তা দেখেন না? 


এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার নজরে আসলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।সবশেষে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বন বিভাগের অসহায়ত্বের বিষয়টি অপকটে স্বীকার করেন।




  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৯ পিএম

সুনামগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে পুলিশ হেফাজত থেকে হামলা করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় একই পরিবারের ৫ সদস্যসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।  রবিবার (১ নভেম্বর) সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়ার বাসিন্দা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৬), তার ছেলে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০), দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরীর স্ত্রী শাম্মী আক্তার পলি (৩৮), তাঁর ছেলে দেওয়ান শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল (২০), তার মেয়ে সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা (১৬)। এছাড়া, দিরাই উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে ইফাত আলম রাবিদ (২১), ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে কাওছার আহমদ সোহাগ (২১) এবং গোলাপগঞ্জের বাদেশ্বর গ্রামের ওলিওর রহমান মানিকের ছেলে তাকবির রহমান তানহির (২০)। 


পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেফতার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় আনার কিছু সময় পর তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পরবর্তীতে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রিন্সের পরিবারের লোকজন ও বন্ধুবান্ধবরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাসপাতালে মব সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর হামলা চালান। 


পুলিশের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে প্রিন্সকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি পুলিশ দলকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ ও মারপিট করেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা চালান প্রিন্স। 


এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই (নিঃ) মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটককৃতের সবাইকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ।


বিরল সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় মদ উদ্ধার

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৪ পিএম

দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৫০০ টাকা।


বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ৩১ অক্টোবর দিবাগত রাতে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ধর্মজান বিওপির সদস্যরা বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরাচালানকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে অপরাধী চক্রের কোনো অপতৎপরতাই নজর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

 চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। 


সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কার্যকর নজরদারীর মাধ্যমে দায়ীত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। সীমান্তের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


পদ বাতিল হাওয়া কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ও সাবেক নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৪ পিএম

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ও সাবেক নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুনের সদস্যপদ (রুকনিয়াত) বাতিল করেছে জামায়াতে ইসলামী।


মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে সভা চলাকালে সংঘটিত সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ।


রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কুমিল্লা মহানগরীর তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা আবদুল হালিম।


তিনি জানান, গত ১৪ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে সভা চলাকালে সৃষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে ২৬ অক্টোবর আমিরে জামায়াত ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আলোচনাক্রমে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ও একেএম এমদাদুল হক মামুনের সদস্যপদ (রুকনিয়াত) বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।


এর আগে, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুমিল্লা মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।


ওই ঘটনার দুই দিনের মাথায় ১৬ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি ভেঙে দেয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে মহানগর সংগঠন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমকে।


এ ছাড়া ১৪ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্য ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।


অন্যদিকে, ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর এবি পার্টির কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় দলটি।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৭ পিএম

রাঙামাটির সাজেকের লাঙ্গলমারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গুলিবিনিময় হয়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে অবরোধ শিথিলের দিনেও অন্য একটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের প্রভাবে সাজেক সড়কে বড় যানবাহন চলাচল করেনি।


স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার বিকেলে সাজেকের গঙ্গারামের জুরজুড়ি ছড়ার পাশের লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগের দিন শনিবারও সাজেকের মাচলং এলাকার দুর্গম কলাবুনিয়া ও ভাঙ্গামুড়া এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে গোলাগুলিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দুই সংগঠনই। 


ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, বন্দুকযুদ্ধে ইউপিডিএফের জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। তাদের কোনো সশস্ত্র সংগঠন নেই; তারা গণতান্ত্রিক সংগঠন। সাজেকে চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।


জেএসএসের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার বিভাগের সহসম্পাদক সজীব চাকমাও তার দলের কোনো সশস্ত্র গ্রুপ নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, জেএসএস এ বন্দুকযুদ্ধে জড়িত নয়। ইউপিডিএফের সশস্ত্র তৎপরতার বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।


সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পরিচয় চাকমা বলেন, জুরজুড়ি ছড়া ও লাঙ্গলমারা সীমানা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।


সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে।


এদিকে পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা টানা ১০ দিনের সড়ক অবরোধ রোববার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শিথিল ছিল। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নামে একটি শ্রমিক সংগঠনের ডাকা অবরোধের প্রভাব পড়েছে সাজেকে। এ কারণে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করলেও বড় যানবাহন চলেনি।


গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেকের বিভিন্ন দাবিতে থেমে থেমে সড়ক অবরোধ করে আসছিল সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। শুক্রবার সংগঠন দুটির নেতা বাবুধন চাকমা ও নতুনজয় চাকমা এক বার্তায় রোববারের জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দেন। সাজেকের সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসবের কথা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বার্তায় জানানো হয়। তবে সোমবার থেকে আগের মতো অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ চলবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, খাগড়াছড়িতে একটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে ছোট যানবাহন চললেও বড় যানবাহন চলাচল করেনি।


এর আগে ২৬ অক্টোবর সাজেকের পরিস্থিতি নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উজোবাজারে বৈঠক করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি প্রশাসন মেনে নিলেও বাকি একটি দাবি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। এরপর পরিস্থিতি নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।





নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৪ পিএম

নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করলে সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।


রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে শহরের জেলা পরিষদ এলাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ হুঁশিয়ারি দেন টিপু। জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি মালিক সমিতি এবং শ্রমিক কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


বক্তব্যে আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘ওই যে ফ্যাসিস্টরা কানাঘুষা করছে। নারায়ণগঞ্জে একটা চাপাবাজ, একটা নাটকবাজ গডফাদার আছে। সে ঘোষণা দিয়েছে, আমি ডিসেম্বরে আসতেছি, কামান-টামান, গোলাবারুদ কিছুই আমাকে আটকাতে পারবে না। আরে বেটা, তুই তো বোরখা পরে পালিয়ে গিয়েছিস। তুই তো কাপুরুষ। তুই আবার ঘোষণা দেস। তুই তো বর্ডার এলাকা পার হয়ে আসতে পারবি না। এবার তুই নারায়ণগঞ্জে ঢুকলে তোর হাত-পা ভাঙবে কি না, সেটা দেখিস।’


তিনি আরও বলেন, ‘তোদের পরিবারের কাছে নারায়ণগঞ্জবাসীকে আর জিম্মি করতে দেওয়া হবে না। তুই পাঁচ হাজার কোটি টাকা নারায়ণগঞ্জ থেকে লুটপাট করে নিয়েছিস। রাক্ষসের পেট ভরে না। তারপরও তুই জুলুম করে, হুমকি-ধমকি দিয়ে, সন্ত্রাসী করে আবারও নারায়ণগঞ্জবাসীকে জিম্মি করতে চাস। তোকে বলে দিতে চাই, বহু চাঁদাবাজি করেছিস জীবনে; আল্লাহর কাছে তওবা কর, মাফ চা।’


বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তুই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিস। আর আমেরিকায় চাপাবাজি করছিস। আর নারায়ণগঞ্জে আসবি? কোনো কামান তোকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা সেই সময়ের অপেক্ষায় রইলাম। তুই গেছিস, তোর পোলা গেছে, তোর বউ গেছে, তোর আত্মীয়স্বজন, তোর নেত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। তারপরও তোদের চাপাবাজি থামে না। আপনারা ওই পরিবার সম্পর্কে সতর্ক থাকবেন।’


শাহজাহান খান মিয়া ও তার ছেলে মাহি

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০১ পিএম

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি শাহজাহান খান মিয়ার ছেলে মাহি। 


জানা যায়, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খানের ছেলে মাহি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে এবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।


এদিকে, ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শনিবার (৩১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন শাহজাহান খান। পোস্টে ছেলের একটি ছবি যুক্ত করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। অনেক অনেক ভালোবাসা, দোয়া ও শুভকামনা রইল বাজান।’


প্রসঙ্গত, শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশের সব শিক্ষা বোর্ড একযোগে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাশের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।