ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৩ পিএম

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে মসজিদের কাছে বোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের সময় পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে এ হামলা হয়। খবর আলজাজিরার।


কোহাটের জেলা সদর হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার পর হাসপাতালে ১৬টি মরদেহ এবং ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে নেওয়া হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশপ্রধান জুলফিকার হামিদ জানান, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি পুরোনো পুলিশ লাইনসের ফটকে ধাক্কা দেওয়ার পর বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে গোলাগুলিও শুরু হয়।


পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের বন্দুকযুদ্ধের সময় স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছেও আরেকটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানান তিনি।


আইজি হামিদ বলেন, পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এখন পর্যন্ত তিন হামলাকারী নিহত হয়েছেন। তবে হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।


পুলিশপ্রধান বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশ ‘লোহার দেয়ালের মতো’ দাঁড়িয়ে আছে। এ ধরনের হামলা পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে দিতে পারবে না।


তিনি আরও বলেন, নিহতদের রক্ত বৃথা যাবে না। হামলাকারী ও তাদের সহযোগীদের এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।


এদিকে বিস্ফোরণে মসজিদের বাইরের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি দেয়ালও ধসে পড়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে। হামলার পর কোহাট-হাঙ্গু সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


আহতদের চিকিৎসায় কোহাটের জেলা সদর হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে অন্তত ২৫ জন আহতকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে।


কেন্দ্রীয় পুলিশ কার্যালয় জানিয়েছে, কোহাটের আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে ঘটনার প্রতিবেদন চেয়েছেন আইজি হামিদ। বিস্ফোরণের ধরন ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।


জুমার নামাজের সময় পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে এ হামলার ঘটনায় কোহাটজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।


সূত্র : আলজাজিরা ও জিউ নিউজ



সর্বশেষ সব খবর

ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৪ পিএম

স্থগিত থাকা ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা রুটে আবার নিয়মিত ফ্লাইট চালু করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। শনিবার (৭ নভেম্বর) থেকে এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ রুটে স্থগিত রাখা হয় বিমানের ফ্লাইট। 


মঙ্গলবার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব এ বিমান সংস্থার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৭ নভেম্বর থেকে এ রুটে প্রতিদিন দিনের বেলায় ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচিতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে। 


আপাতত চালু হচ্ছে না ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট 

অন্যদিকে, ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট আপাতত চালু হচ্ছে না। বিমানের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, রিয়াদগামী যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য অংশ বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাতায়াত করায় এ রুটে বর্তমানে পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা নেই। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


টিকিট ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৭ পিএম

সৌদি আরব থেকে ৩৮০ লিটার জমজমের পানি পাচারের চেষ্টার দায়ে এক ব্যক্তিকে ৩ হাজার ৮০০ সৌদি রিয়াল (এক লাখ ২৫ হাজার ৭০০ বাংলাদেশি টাকা) জরিমানা করেছেন দেশটির শুল্ক কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে পানির পুরো চালান।


সোমবার (২ নভেম্বর) খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত দ্বিতীয় প্রাথমিক শুল্ক কমিটির এক রায়ে এ আদেশ দেওয়া হয়।


সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে কিং ফাহদ কজওয়ে শুল্ক চেকপোস্টে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এর পেছনের ডিকিতে লুকিয়ে রাখা ৩৮০ লিটার জমজমের পানি উদ্ধার করেন শুল্ক কর্মকর্তারা।


শুল্ক কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সৌদি আরবের বিধি অনুযায়ী জমজমের পানি দেশটির বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। যথাযথ ঘোষণা ছাড়াই এসব পানি বহনের চেষ্টা করায় ঘটনাটিকে শুল্ক পণ্য পাচার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।


রায়ে ওই ব্যক্তিকে জব্দ পানির সমমূল্য ৩ হাজার ৮০০ রিয়াল জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা পানির চালান বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।


এ ঘটনায় সরকারি কৌঁসুলির পক্ষ থেকে জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ড এবং জব্দ করা পণ্য বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির আগে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড না থাকায় কারাদণ্ডের আবেদন নাকচ করেন কমিটি। তাদের মতে, আরোপিত অন্যান্য শাস্তিই এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট।


উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর অভিন্ন শুল্ক আইনের ১৪২, ১৪৪ ও ১৪৫ নম্বর ধারার আওতায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। এসব ধারায় শুল্ক পণ্য পাচারের সংজ্ঞা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের শাস্তির বিধান উল্লেখ রয়েছে।


সূত্র: খালিজ টাইমস


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৪ পিএম

ইসলামি বক্তা ও ধর্মপ্রচারক ডা. জাকির নায়েককে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে মালয়েশিয়া। তাকে দিল্লির হাতে তুলে দেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল।নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ১৯৯২ সালের প্রত্যর্পণ আইন বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে লিখিত জবাবে জানিয়েছেন, জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণ না করার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে। নতুন করে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদনও পায়নি তারা।


পার্লামেন্ট সদস্য দাতুক ড. আহমাদ মারজুক শারির প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য দেন। তিনি বলেন, ভারতের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক আবেদন কবে এসেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্য-প্রমাণ মালয়েশিয়ার আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্ত পূরণ করে কি না এসব বিষয়েও স্পষ্ট করেছেন।


ভারত প্রথমবার ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায়। এরপর ২০২০ সালের ২৯ মে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় নয়াদিল্লি।গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকে এ বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল বলে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিরোধী দলের নেতারা ব্যাখ্যা দাবি করেন। পাসের মহাসচিব দাতুক সেরি তাকিউদ্দিন হাসান জানতে চান, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে এবং কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না। একই সঙ্গে ভারতের দেওয়া তথ্য-প্রমাণ মালয়েশিয়ার প্রত্যর্পণ আইনের শর্ত পূরণ করে কি না, তাও স্পষ্ট করার দাবি তোলেন তিনি।


অর্থপাচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগে ভারত জাকির নায়েককে ফেরত চায়। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে ভারতের অবস্থান এবং মালয়েশিয়ার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে মনে করা হয়।


সর্বশেষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, জাকির নায়েককে ভারতের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

সর্বশেষ সব খবর

টমাস ন্যাস্টের ব্যঙ্গচিত্র যেখানে গাধা চরিত্রে একজন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যানকে দেখা যাচ্ছে (বামে) আরেকটি কার্টনে রিপাবলিকান পার্টিকে হাতির রূপে দেখানো হয় (ডানে ওপরে) এবং হাতি ও গাধার লড়াই (প্রতীকী ছবি)

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৫৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টি নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে 'হাতি' ও 'গাধা' ব্যবহার করে আসছে। কেন রিপাবলিকানদের প্রতীক হাতি? ডেমোক্র্যাটরাই বা কেন গাধাকে বেছে নিল দলের প্রতীক হিসেবে? এ প্রশ্নের জবাব পেতে আমাদের বেশ পেছনে যেতে হবে। প্রতিবার যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন এলেই রাজনৈতিক কার্টুন, ভোটের প্রচারের ব্যাজ, ইন্টারনেটের মিম কিংবা ফ্যাশন বাজারেও দেখা যায় গাধা ও হাতির ছবি। এর অন্যথা হওয়ার যেন উপায় নেই।


দেশটির প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পরিচায়ক এ দুই প্রাণী দেশটির রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সান্তা ক্লজ কিংবা আঙ্কেল স্যামের মতই এরা সবার কাছে পরিচিত। তবে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই হয়ত জেনে অবাক হবেন, এই দুটি রাজনৈতিক প্রতীকই জনপ্রিয় হয়েছিল একজন স্বাধীনচেতা কার্টুনিস্টের হাত ধরে। তিনিই এগুলোকে আধুনিক রূপ দিয়েছিলেন। 


শুধু তাই নয়, আধুনিক সান্তা ক্লজ এবং আঙ্কেল স্যামের রূপকারও তিনি। তার নাম টমাস নাস্ট। ১৮৬২ থেকে ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত ‘হার্পারস উইকলি’ পত্রিকায় কাজ করার সময় তিনি হয়ে ওঠেন আমেরিকার প্রথম প্রভাবশালী রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট।একই সঙ্গে তিনি ছিলেন দেশটির অন্যতম তীক্ষ্ণধী ব্যঙ্গচিত্রশিল্পী।


চিত্রশিল্পী টমাস নাস্টের ব্যঙ্গচিত্রে সূচনা


কাঠের ব্লকে খোদাই করে তৈরি করা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত চিত্রকর্মের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন নাস্ট। গৃহযুদ্ধ, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার নানা অসংগতি, অভিবাসন এবং সবচেয়ে বেশি আলোচিত নিউ ইয়র্কের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠী ‘ট্যামানি হল’ নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছেন তিনি।


ইতিহাসবিদদের মতে, ১৮৪০ ও ১৮৫০-এর দশকে নিউ ইয়র্ক শহরে বেড়ে ওঠার সময় শৈশবে প্রচণ্ড নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন নাস্ট। তার পুরো কর্মজীবনে দুটি বিষয় বারবার ফিরে এসেছে। একদিকে সব ধরনের ক্ষমতাবান ও নিপীড়কের প্রতি তার তীব্র বিদ্রূপ, অন্যদিকে নিপীড়নের শিকার মানুষের প্রতি সহমর্মিতা।


নাস্টের ১৮৭৪ সালে আঁকা তার বিখ্যাত একটি কার্টুনের নাম ‘ওয়ার্স দ্যান স্লেভারি’ (দাসত্বের চেয়েও ভয়াবহ)। এতে দেখা যায়, নিরস্ত্র একটি কৃষ্ণাঙ্গ পরিবার হাস্যোজ্জ্বল কু ক্লাক্স ক্ল্যানের (কেকেকে) এক সদস্যের সামনে ভয়ে জড়সড় হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ‘দে আর সোয়ালোয়িং ইচ আদার’ (তারা একে অন্যকে গিলে খাচ্ছে) শিরোনামের আরেকটি কার্টুনে নিউ ইয়র্কের রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে কেকেকের আঁতাতকে তীব্র ব্যঙ্গ করেছেন নাস্ট। সেখানে কোনো নিপীড়িত মানুষ নেই। বরং অস্বাভাবিকভাবে স্থূলকায় ও বিস্ফারিত চোখের দুই ব্যক্তিকে এমনভাবে আঁকা হয়েছে, যেন তারা নিজেদেরই গিলে খাচ্ছে।


মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম সিসিএনএন লিখেছে, বর্তমানে ‘সম্পাদকীয় কার্টুন’ বলতে সাধারণত অল্প কয়েকটি রেখায় আঁকা সহজবোধ্য ছবি বোঝায়, যা খবর পড়ার সময় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দেখে নেওয়া যায়। কিন্তু নাস্টের কার্টুন ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত। ঘনবিন্যস্ত, অত্যন্ত বিস্তারিত এবং নানা পরিচিতি-চিহ্নে ভরা এসব কার্টুন ছিল একেকটি সংবাদ। শুধু ছবি নয়, প্রতিটি কার্টুন ছিল এক একটি যুক্তি বা বক্তব্য, যা বিভিন্ন দিক থেকে আলোচনা করার জন্য তৈরি করা হতো। এর একটি উদাহরণ ১৮৭৪ সালে আঁকা ‘থার্ড টার্ম প্যানিক’ (তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে আতঙ্ক)। রিপাবলিকান পার্টির প্রতীক হিসেবে হাতির পরিচিতি জনপ্রিয় করার কৃতিত্ব প্রায়ই এই কার্টুনকে দেওয়া হয়।


কীভাবে ‘হাতি’ হলো রিপাবলিকানরা


ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উত্থানের ফলে বিলুপ্ত হয়ে যায় ডেমোক্র্যাটিক-রিপাবলিকান পার্টি। 'হুইগ পার্টি' নামের আরেকটি দল জাতীয় রাজনীতিতে তাদের জায়গা নেয়। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বিরোধিতা করা এই দলের সদস্য ছিলেন আব্রাহাম লিংকন। তবে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে দাসপ্রথা বিলুপ্তির প্রশ্নে বিভক্ত হয়ে যায় এই পার্টি। 


লিংকন এবং দাসপ্রথা-বিরোধী হুইগরা মিলে গড়েন নতুন একটি রাজনৈতিক দল—রিপাবলিকান পার্টি। ১৮৭৪ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক মাস আগে নিউ ইয়র্ক হেরাল্ড পত্রিকা একটি গুজব ছড়ায়। তখন পত্রিকাটি ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তারা প্রচার করে, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস এস গ্র্যান্ট ১৮৭৬ সালে তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবছেন।


মার্কিন সংবিধানে ২২তম সংশোধনী যুক্ত হওয়ার আগের ঘটনা এটি। ফলে তখন প্রেসিডেন্টের তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পথে আইনি বাধা ছিল না। তবে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ভালো চোখে দেখা হত না। নাস্ট ছিলেন আব্রাহাম লিংকনের দল রিপাবলিকান পার্টির একনিষ্ঠ সমর্থক। তার কার্টুনে তিনি নিউ ইয়র্ক হেরাল্ডকে দেখান সিংহের চামড়া পরা একটি গাধা হিসেবে। গ্র্যান্টের স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা নিয়ে নানা গল্প ছড়িয়ে অন্য প্রাণীদের ভয় দেখাচ্ছে সেই গাধা।


ওই কার্টুনে থাকা প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে বিশালদেহী, কিছুটা বোকাসোকা চেহারার একটি হাতি। তার গায়ে লেখা ‘দ্য রিপাবলিকান ভোট’। দেখে মনে হয়, হাতিটি যেন যে কোনো মুহূর্তে পাহাড়ের কিনারা থেকে নিচে পড়ে যাবে। অবশ্য মানুষের সঙ্গে প্রাণীর তুলনা করে ব্যঙ্গ করার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। সিংহের চামড়া পরা গাধার গল্পটি প্রাচীন গ্রিক কথাসাহিত্যিক ঈশপের সময় থেকেই প্রচলিত। আর রিপাবলিকানদের হাতি হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রেও নাস্ট প্রথম শিল্পী নন। তারও অন্তত এক দশক আগে থেকেই বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে রিপাবলিকান পার্টির প্রচারে ‘সি দ্য এলিফ্যান্ট’ স্লোগান ব্যবহার করা হতো। এটি ছিল গৃহযুদ্ধের সময়কার একটি কথ্য অভিব্যক্তি, যার মোটামুটি অর্থ ছিল ‘সাহসের সঙ্গে লড়াই করা’।


‘গাধা’ যেভাবে হলো ডেমোক্র্যাটরা 


চিত্রশিল্পী নাস্ট তার কার্টুনে বহুবার ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে গাধা হিসেবে চিত্রিত করেছেন। যদিও ‘থার্ড টার্ম প্যানিক’ কার্টুনে প্রাণীটি আসলে গাধা নয়, শিয়ালের রূপ নিয়েছিল। তবে এই দলটির সঙ্গে গাধার সম্পর্ক আরও পুরোনো। নাস্টের আঁকার অন্তত অর্ধশতাব্দী আগে, প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের আমল থেকেই ডেমোক্র্যাটদের গাধা হিসেবে চিত্রিত করা হত।


যুক্তরাষ্ট্রে ১৮২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জ্যাকসনকে তার বিরোধীরা অপমান করে ‘জ্যাকঅ্যাস’ বা গাধা বলে ডাকত, যা তিনি পরে নিজেই নিজের প্রচারের কৌশল হিসেবে লুফে নেন। নাস্টের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে তিনি একটি বিশৃঙ্খল চিড়িয়াখানা বা সার্কাস হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। নিউ ইয়র্কে বার্নাম অ্যান্ড বেইলি সার্কাসের যাত্রা শুরুর তিন বছর পর তার এই ভাবনার প্রকাশ ঘটে। সেরা ব্যঙ্গশিল্পীদের মত নাস্ট প্রতিপক্ষের পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক শিবিরকেও বিদ্রূপ করতেন সমান উৎসাহ নিয়ে।


তিনি রিপাবলিকান পার্টিকে এমন একটি দুর্বল ও আতঙ্কিত প্রাণী হিসেবে এঁকেছেন, যা প্রায়ই দিশাহারা হয়ে ভুল পথে এগিয়ে যায়। তার বিশাল আকৃতিও এখানে কোনো সুবিধা নয়, বরং দুর্বলতার কারণ। নাস্টের আঁকা গাধার অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না। ১৮৭৯ সালের একটি কার্টুনে দেখা যায়, একগুঁয়ে গাধাটি লেজ ধরে ঝুলে রয়েছে। নিচে ‘আর্থিক বিশৃঙ্খলা’ নামের অতল গহ্বর। যে কোনো মুহূর্তে সেখানে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা। আসলে, তার বেশিরভাগ কার্টুনেই হাতি এবং গাধাকে চরম বিশৃঙ্খলার একেবারে দ্বারপ্রান্তে দেখানো হত, যা উনিশ শতকের শেষভাগে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্বের বেশ নিখুঁত একটি মূল্যায়ন ছিল। নাস্টের সেই বিখ্যাত কার্টুন, যেখানে সিংহের চামড়া গায়ে জড়ানো একটি গাধাকে হাতিসহ অন্য প্রাণীদের ভয় দেখাতে দেখা যাচ্ছে। ছবি: লাইব্রেরি অব কংগ্রেস


ভাগ্যের নির্মম পরিহাস থেকে জন্ম নিলো প্রতীক


১৮৮০-এর দশকে নাস্ট ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভীতিকর কার্টুনশিল্পী। ডান ও বাম—দুই রাজনৈতিক শিবিরের দুর্নীতিবাজ ও প্রতারকদের কাছে তিনি ছিলেন এক আতঙ্কের নাম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, নিজের কার্টুনের মতই এক ঘটনায় সর্বস্ব হারান তিনি। ‘পঞ্জি স্কিম’ বা বিনিয়োগ প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তার সব অর্থ শেষ হয়ে যায়। অথচ জীবনের পুরোটা সময় তিনি এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেই মানুষকে সতর্ক করে এসেছিলেন। ১৮৯০ সালে তিনি বড়দিনের ইলাস্ট্রেশনের একটি বই প্রকাশ করে নিজের ভাগ্য ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ততদিনে তিনি তার সৃজনশীল ধারার অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছিলেন।


জীবনের শেষ দশকটি তার কেটেছে অসুস্থতা ও আর্থিক দুরবস্থায়। নিজের সেরা কাজগুলো যে অনেক আগেই করে ফেলেছেন, সেই উপলব্ধিও তাকে কষ্ট দিত। তবে নাস্টের সেই অসাধারণ উদ্ভাবনী ক্ষমতার কল্যাণে হাতি এবং গাধা আজও মার্কিন রাজনীতির মঞ্চে সগৌরবে বেঁচে আছে। রিপাবলিকান পার্টি হাতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছে। ডেমোক্র্যাটরা আনুষ্ঠানিকভাবে গাধাকে স্বীকৃতি না দিলেও, তাদের যে কোনো সমাবেশে গেলে গাধার ছবি বা প্রতীকের দেখা মিলবেই।


সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আমেরিকার প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তাদের এই প্রতীকগুলোকে এত উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করেছে, অথচ নাস্টের মূল কার্টুনে এই দুই প্রাণীকে খুব একটা ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। হয়তো কোনো দলই ব্যাজ আর ব্যাগে এই প্রতীক ছাপানোর আগে এর পেছনের ইতিহাস যাচাই করার প্রয়োজন মনে করেনি! অথবা তারা নাস্টের বিদ্রূপের বিষয়টি জানত। আর নিজেদের নিয়ে সেই ঠাট্টায় যোগ দেওয়াকেই যথাযথ জবাব বলে মনে করেছে।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একদিকে হুমকি-পাল্টা হুমকি চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে আলোচনা ও বার্তা আদান-প্রদান চলছে। একে অপরকে নানা শর্তের বিনিময়ে আশ্বাস দিয়েও চলেছে। 


ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি গতকাল সোমবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘বৈধ’ দাবিগুলো মেনে নিলে দুদিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া সম্ভব।


তেহরানে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বাঘায়ি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো পরোক্ষ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে এখনও সেপ্টেম্বরে তেহরানের প্রস্তাব করা সাত দিনের পরিকল্পনাটি বহাল রয়েছে। তবে সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ইরান পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সময়সীমা কমিয়ে দুদিন করেছে।


তিনি বলেন, ‘আমরা জানিয়েছি, ইরানের দাবিগুলো পূরণ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আলোচনা শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।’ তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে পরবর্তী প্রক্রিয়া কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর।


বাঘায়ি বলেন, ইরান তাঁর দাবিগুলো ‘স্পষ্ট, যুক্তিসংগত ও যৌক্তিকভাবে’ তুলে ধরেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করে এবং তেহরানের ‘বৈধ’ দাবিগুলো মেনে না নেয়, তাহলে কোনো সমঝোতা হবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিও খুলে দেওয়া বা সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।


চীনা বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবর বলছে, যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তসংবলিত সাত দিনের পরিকল্পনাটি গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছিল ইরান। এরপর প্রস্তাবটি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে যৌথ হামলা চালায়। জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে দেশটি।


নতুন যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে: তেহরান


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দেওয়ার পর রোববার ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।


মিডল ইস্ট আইয়ের খবর বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন করে বোমা হামলা শুরুর হুমকি বারবার সামনে আসছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ‘ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধ আগের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সেই যুদ্ধ কখন শেষ হবে বা কী শর্তে শেষ হবে, তা নির্ধারণের অবস্থানে থাকবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।’


ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বাকি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে দ্রুত হামলা চালানো সম্ভব। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আকরামিনিয়া এ মন্তব্য করেন।


৩১ অক্টোবর ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এখনও একটি বা দুটি স্থাপনার কাজ বাকি আছে। তবে সেগুলোতে হামলা চালাতে আমাদের ১০ মিনিটই যথেষ্ট।’


এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তিনি বিশেষভাবে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা উল্লেখ করেন। এটি ইরানের একটি সন্দেহভাজন ভূগর্ভের পারমাণবিক স্থাপনা। ১ নভেম্বর আইওয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশেও তিনি এ স্থাপনায় হামলার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেন।


মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ৩১ অক্টোবর এক ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলা চালানোর জন্য চাপ দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প আলোচনার জন্য আরও সময় দেওয়ার পক্ষে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


পারমাণবিক হামলা হতে পারে


এদিকে, মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন গত রোববার গভীর রাতে দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত কয়েক দিনের মধ্যেই নিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।


তার অভিযোগ, মধ্য ইরানের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার অনুমোদন দিতে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন নেতানিয়াহু। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৪০ পিএম

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আট মাস ধরে চলা সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া এবং এ অঞ্চলে তেল সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের আশঙ্কায় মঙ্গলবার এশিয়ার লেনদেনের শুরুতে তেলের দাম বাড়ে।


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৪৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৯৩ ডলারে ওঠে।


এর আগে সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮ দশমিক ৬৬ ডলার বা ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৭৭ ডলারে স্থির হয়েছিল।


যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েকজন কর্মকর্তা হামলাকে প্রতিরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা যাতে ইরান না পায়, সে উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে।


কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, হামলার খবর তেলের দামে ঝুঁকির প্রিমিয়াম আবার যুক্ত করেছে। বাজার যখন কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে শুরু করেছিল, তখন নতুন করে সামরিক তৎপরতার খবর পরিস্থিতির চিত্র বদলে দিয়েছে।


এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে তেহরান। কাতারের মধ্যস্থতায় কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের আলোচনা হলেও প্রস্তাব পরিবর্তন হয়েছে, তবে কোনো সমঝোতা হয়নি।


সোমবার ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর হুমকি বাস্তবায়ন করবেন কিনা, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।


গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সংঘাতের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।


ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা ভোটারদের ওপর চাপ তৈরি করছে। সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপরও চাপ বাড়ছে। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আবার বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় অক্টোবরের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।


সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ সব খবর