কক্সবাজারের মহেশখালীর, বড় মহেশখালীর ফকিরা ঘোনায় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে চোর সন্দেহে ফয়সাল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে রাতে পুলিশ প্রহরায় ফয়সালের লাশ দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ১৫ সেপটেম্বর ভোররাত তিনটার দিকে স্থানীয় কেফায়েত উল্লাহ বাড়ির টাইলস চুরির অভিযোগে ফয়সালকে আটক করে বাড়িতে বেঁধে রেখে সূর্যদোয় পর্যন্ত বেদড়ক মারধর করে।
সকালে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলী আকবরের নেতৃত্বে একদল কিশোরের হাতে তুলে দিলে তারা অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালায়। দৃশ্যটি দেখতে জড়োহয় শত শত নারী পুরুষ ও শিশু।
পরে ওই কিশোরদের একটি দল তাকে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য আকবরের নির্দেশে প্রায় দীর্ঘ ৭ ঘন্টা ধরে তাকে বেদড়ক মারধর ও বুকে পিঠে ইট দিয়ে শারিরিক ভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। ইউপি সদস্য আলীআকবর বলেন, সকাল ১০ টার দিকে সে মারা যায়।
নির্যাতনের একপর্যায়ে ফয়সাল মৃত্যু হলে তাকে মহেশখালী উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে মহেশখালী থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এরপর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্ত শেষে রাত ৯ টায় ফকিরাঘোনায় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সচেতন মহলের প্রশ্ন ঘটনাস্থল থেকে মহেশখালী থানার দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। স্থানীয়রা জানান পুলিশের ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়ে এবং সরাসরি পুলিশকে জানানো সত্বে ও পুলিশ ফয়সলকে জীবিত উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। দিনের আলোতে এত বড় হত্যাকান্ড সংঘটিত হলেও পুলিশ কেন ফয়সালকে বাঁচাতে পারেনি এ দায়কি পুলিশ এড়াতে পারে? এমন প্রশ্ন স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের। তাদের বক্তব্য হচ্ছে ধরে নিলাম ফয়সাল চোর তবুওতো তার বেঁচে থাকার অধিকার আছে। তাকেতো জীবিত অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করা যেত।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুস সুলতান বলেন, পুলিশ যখনই খবর পেয়েছে ততক্ষণে ফয়সালের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল থেকে তার লাশ গ্রহন করেছে। এতে পুলিশের কোন গাফিলতির সুযোগ নেই।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনম শরাফত উল্লাহ বাবুল বলেন, তার ইউনিয়নের বাদশাহর ছেলে ফয়সাল একজন চোর এটা সত্য তাই বলে তাকে হত্যা করতে হবে এমন কোন কারণ নেই। কেফায়েত উল্লাহ তাকে বাড়িতে কেন বেঁধে রাখবে। কেন আইন হাতে তুলে নেবে। তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসতে পারতো বা থানায় সোপর্দ করতে পারতো তা না করে এভাবে নির্যাতন করে হত্যা করবে কেন।
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী আকবর বলেন তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ তাই গনপিঠুনিতে সে মারা গেছে। অথচ ঘটনাটি ঘটেছে ৩ নং ওয়ার্ডে। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদশাহ মিয়া বলেন, আমি গায়ে জ্বর নিয়ে তিনদিন ধরে বিছানায় শুয়ে আছি আমাকে কেউ একটি বারের জন্য কেউ কিছু বলেননি। দুপুরে আমি যখন বিষয়টি জানতে পারি তখন ফয়সালের লাশ কক্সবাজারে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আমি রাত ৯ টার দিকে তার জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। এর বাইরে আমার কিছু জানানেই।
তবে ফয়সাল সত্যিই কোনো চুরির ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চুরির অভিযোগ থাকলেও কোনো ব্যক্তিকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আটকে রাখা, মারধর বা নির্যাতন করার আইনগত অধিকার কারও নেই বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন ব্যক্তিকে ৭ ঘণ্টা ধরে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করার ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, চৌকিদার ও এলাকার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নজরে এলে তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারতেন বলেও দাবি তাদের।
এদিকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যারা সরাসরি মারধর ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, তাদের পাশাপাশি ঘটনার সময় উপস্থিত থেকে সহযোগিতা বা বাধা না দেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের মতে, চুরি বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করাই নিয়ম। সন্দেহের বশে কাউকে গণপিটুনি বা নির্যাতন করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফয়সালের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত গ্রহনের প্রক্রিয়া চলছে।
নীলফামারী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোছাদ্দেকুল আলম
নীলফামারীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পে কেয়ারটেকার নিয়োগে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ভুয়া ঠিকানা ও জাল সনদের অভিযোগ আনা হলেও তিনটি তদন্ত কমিটি তাঁর পক্ষে সন্তোষজনক প্রতিবেদন দেয়। এরপরও তিন লাখ টাকা ঘুষের দাবিতে তাঁর যোগদান আটকে রেখেছেন উপপরিচালক মোছাদ্দেকুল আলম।
২০২৪ সালের ১৫ মার্চ নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের কেয়ারটেকার পদে উত্তীর্ণ হন জলঢাকার খারিজা গোলনার এলাকার হাফেজ আব্দুল আলিম শেখ। ১৭ এপ্রিল জলঢাকা সাধারণ রিসোর্স সেন্টারের কেয়ারটেকার পদে নিয়োগপত্র পেয়ে ২২ এপ্রিল তিনি জেলা কার্যালয়ে যোগ দেন। তবে ঠিকানা ও সনদ জালের অভিযোগ তুলে তাঁর যোগদান স্থগিত করেন উপ-পরিচালক মোছাদ্দেকুল আলম।
পরে জেলা পুলিশ সুপার, জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি) এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মশিউর রহমান পৃথক তিনটি তদন্ত করেন। ২০২৪ সালের ১ ও ২ অক্টোবর জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, আলিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
আলিমের অভিযোগ, তদন্তে সত্যতা না মিললেও জেলা প্রশাসন ও ঢাকা কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের দেওয়ার কথা বলে উপ-পরিচালক মোছাদ্দেকুল তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। দুই ধাপে এক লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাঁকে কর্মস্থলে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি।
টাকা লেনদেনের এই অভিযোগের সত্যতা মেলে একটি ফোনালাপেও। মুঠোফোনের ওই কথোপকথনে উপ-পরিচালক মোছাদ্দেকুল আলমকে বলতে শোনা যায়, এই টাকা তো দেওয়া লাগবে ডিসি অফিস ও হেড অফিসে। এই ৩০ হাজার টাকায় কিচ্ছু হবে না। টাকা বেশি দেওয়া লাগবে।
জবাবে আলিম বলেন, ‘স্যার, আপাতত আরও ৩০ হাজার নিয়ে যাইতেছি আর ২০ হাজার পরে দেব। আমার চাকরিটা করে দেন স্যার, আপনার হাত পা ধরি স্যার। আমার ছাগল-টাগল ছিল, ওগুলো বিক্রি করি আমি ৩০ হাজার টাকা জোগাড় করছি। আর অফিসের মাহমুদ ভাইকে দিয়েছি, ১০ হাজার দিয়েছি আপনাকে দেওয়ার জন্য। একপর্যায়ে বিষয়টি ফাঁস হলে নিয়োগ বাতিলের ভয় দেখিয়ে গোপনে টাকা পরিশোধের তাগাদাও দেন মোছাদ্দেকুল আলম।
নিয়োগ পেয়ে টাকা দিয়েও চাকরি না পেয়ে প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আলিম। আদালত বিষয়টি ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও প্রায় ১১ মাস পর ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুল ইসলামের সই করা এক স্মারকে আলিমের নিয়োগ আবারও জাল সনদের অভিযোগে বাতিল করা হয়। অথচ এসব অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি।
এদিকে সরকারি বাড়িভাড়া ভাতা নেওয়ার পরও জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ের অতিথি কক্ষ দীর্ঘ সময় ধরে দখল করে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সেখানে সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এসি, ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক চুলা চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি খরচে একাধিকবার হজ পালনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-পরিচালক মোছাদ্দেকুল আলম বলেন, গত বছর হজে যাওয়ার সময় আলিম তাঁর হাতে ২৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তবে তাঁর দাবি, ওই টাকা তাঁকে জোর করে দেওয়া হয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বাতিল করায় এতে তাঁর কোনো দায় নেই বলে দাবি করেন তিনি। মডেল মসজিদ কক্ষ দখলের বিষয়ে তাঁর ভাষ্য, তিনি মাঝেমধ্যে সেখানে থাকেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নিয়োগ প্রার্থীর কাছে টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি ।
তবে প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুলের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
শফিকুল আজিম ওরফে সুমন
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় শফিকুল আজিম ওরফে সুমন (৪৬) নামে এক স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উপজেলার জয়নাল আবেদীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন হাজী সফি মঞ্জিলের সামনের চৌমুহনী- মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন উপজেলার উত্তর কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ছিলেন এবং উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ঘাটলা গ্রামের ওয়ালী বেপারী বাড়িরে মাস্টার আবুল খায়েরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিকেলে সুমন চৌমুনহী পৌরসভার চৌরাস্তা এলাকা থেকে মোটরসাইকেল যোগে জেলা শহর মাইজদীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। যাত্রা পথে তিনি জয়নাল আবেদীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন হাজী সফি মঞ্জিলের সামনের চৌমুহনী- মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে পৌঁছলে অজ্ঞাত বেপরোয়া গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুত্বর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শামসুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এখন ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়া, আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে সহায়তার জন্য নোয়াখালীর হাতিয়ায় ৩০ জন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাতিয়ার দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার প্রশিক্ষণকক্ষে প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শেষ হয়। ইভিসিআর প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে চর ঈশ্বর ইউনিয়ন, চর কিং ইউনিয়ন ও হাতিয়া পৌরসভার ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।
দুই দিনের প্রশিক্ষণে দুর্যোগ প্রস্তুতি, আগাম সতর্কবার্তা, আগাম পদক্ষেপ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র, অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। দুর্যোগের সময় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং কীভাবে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, সে বিষয়েও স্বেচ্ছাসেবকদের ধারণা দেওয়া হয়।
এছাড়াও স্ফিয়ার কী, স্ফিয়ারের মানবিকতার ঘোষণাপত্র, সুরক্ষা নীতিমালা ও মানবিকতার মূলমান বিষয়ে আলোচনা করা হয়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার বিষয়ে আহত বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধারের বিভিন্ন কৌশলও শেখানো হয়।
বিশেষভাবে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ অধিক ঝুঁকিতে থাকা মানুষের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রশিক্ষণে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সাইক্লোন শেল্টার ম্যানেজমেন্ট কমিটির ভূমিকা এবং দুর্যোগের আগে, দুর্যোগকালীন ও পরবর্তী সময়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আয়োজকেরা জানান, দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরাই অনেক ক্ষেত্রে মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকে কাজ করেন। তাই দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাঁদের জ্ঞান ও সক্ষমতা বাড়ানো এ প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য।
স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের সহযোগিতায় নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইভিসিআর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-প্রান।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে দুই হাত ও পায়ে মোট ২৮টি আঙুল নিয়ে এক কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলছেন, এটি কোনো সমস্যা নয়, জন্মগত একটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য, যা বিভিন্ন কারণেই হতে পারে।
উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের পুরাতন বন্দর মালিপাড়া গ্রামের আরিফ ও লিজা দম্পতির ঘরে শিশুটির জন্ম হয়।
গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পৌর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির জন্ম হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ শিশুটিকে একনজর দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করছেন।
জানা গেছে, গত রোববার দুপুরে লিজা অসুস্থ হলে তাঁকে পৌর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে ওই দিন বিকেলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নবজাতকের জন্ম দেন। নবজাতকটি ওই দম্পতির প্রথম সন্তান।
শিশুটির প্রতি হাত-পায়ে সাতটি করে আঙুল রয়েছে। এ ছাড়া শিশুটির ঠোঁটও কাটা রয়েছে। প্রতিটি আঙুলেই রয়েছে নখ। তবে জন্মের দুই দিন পর বাম হাতের একটি আঙুল ঝরে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন জানান, তাঁদের এলাকায় এ ধরনের শিশুর জন্ম এর আগে হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটির জন্মের পর তার হাত-পায়ের অতিরিক্ত আঙুল দেখে তাঁরা বিস্মিত হয়েছিলেন। তাঁরা এ নিয়ে সন্তুষ্ট রয়েছেন।
নবজাতকটির বাবা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের প্রথম সন্তান। সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছা, আমরা সন্তুষ্ট।’
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এস কে সাদেক আলী বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অতিরিক্ত আঙুল থাকা অবস্থাকে ‘পলিড্যাক্টিলি’ বলা হয়। এটি কোনো সমস্যা নয়, জন্মগত একটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য, যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। শিশুটির অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ছবি : সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার দুই সমর্থকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহত দুজন হলেন আশুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আতাউর রহমান ও সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল বিপ্লব। তবে উপজেলা বিএনপির দাবি, মাদকসংক্রান্ত কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। আতাউর রহমান ও রাসেল বিপ্লব বর্তমানে এমপি রুমিন ফারহানার সমর্থক বলে জানা গেছে।
আশুগঞ্জ উপজেলার খোলাপাড়া গ্রামের আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারের উদ্যোগে উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পাঠাগারের সভাপতি আতাউর রহমান গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠান সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা ও মিলনায়তন বরাদ্দ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, খোলাপাড়া গ্রামের আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারটি ২০১৮ সাল থেকে পল্লিগ্রামে শিক্ষার প্রসারে কাজ করছে। পাঠাগারটি জাতীয় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি বেসরকারি পাঠাগার।
১৮ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের—সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ—সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ইউএনওকেও বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
পাঠাগারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অগ্রগতি জানতে উপজেলা পরিষদে যান আতাউর রহমান ও রাসেল বিপ্লব। ইউএনওর কক্ষের দিকে গিয়ে তাঁরা সেখানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেনকে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলতে দেখেন। পরে তাঁরা কক্ষে না ঢুকে নিচে নেমে উপজেলা পরিষদের বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন।
রাসেল বিপ্লব বলেন, ‘নিচে উপজেলা পরিষদের বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম আমরা। দুপুরে জোহর নামাজের সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান এসে তার লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিজয়ী হওয়ার পর থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে আছে।’
তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মাদকের বিষয় নিয়ে আমাদের ছেলেপেলের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আমি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি।’
ইউএনও মো. জামাল হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদের পেছনের মাঠে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। রুমিন ফারহানা সংসদ সদস্য। তিনি চাইলে অবশ্যই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহের সেবার_ মান ও জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা, সহজলভ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
(১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌর কমিউনিটি সেন্টারে সিটিজেন ভয়েস এ্যান্ড এ্যাকশন (সিডিএ) ওয়ার্কিং গ্রুপের আয়োজনে ও দাতা সংস্থা গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স কানাডা'র অর্থায়নে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, রিয়্যাক্টস-ইন প্রকল্পের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আনিসুর রহমান সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খাইরুল ইসলাম।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার নাদিয়া আকতার, ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ লুতফর রহমান মিঠু,জুলিয়াস আর্থার, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, রিয়্যাক্টস-ইন প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার সহ অন্যরা।
সভাটি কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান উন্নয়নে সামাজিক জবাবদিহিতা প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে আয়োজন করা হয়।
সভায় কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্ধারিত সেবার মানদণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি জনগণ বাস্তবে এসব সেবা কতটুকু পাচ্ছেন, সেবার প্রাপ্যতা, মান, সহজলভ্যতা, কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সিভিএ দলের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন অংশীজন ও জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে সংগৃহীত মতামত উপস্থাপন করেন।