প্রতীকী ছবি
দেশের সামগ্রিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫৯৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৬৪-তে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে মৃত্যু হলো ৬৭ জনের। এটা চলতি বছর এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর চেয়েও বেশি।
সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৩২ জন ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৩ জন। ঢাকার বাইরে বরিশালে ১৫৯, চট্টগ্রামে ১৬৫, খুলনায় ২৯০, ময়মনসিংহে ৮২, রাজশাহীতে ১৩৭, রংপুরে ৬৫ ও সিলেটে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন এক হাজার ৫৬৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৫৫ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ হাজার ৯৪১ জন।
এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ৬০টি নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে সোমবার ভর্তি ছিলেন ১৮৭ জন। শয্যা না পেয়ে অনেকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই চিত্র রাজধানীর আরও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে। এর মধ্যেই দেশে ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রেকর্ড হয়েছে। দুদিন আগে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন। চলতি বছর এক দিনে এটাই সর্বোচ্চ হাসপাতালে ভর্তি।
অক্টোবরে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদরা। মঙ্গলবার মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যাগুলোর পাশাপাশি মেঝে ও বারান্দাতে রোগীদের চিকিৎসা চলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি শয্যায় একাধিক রোগীকে রাখতে হচ্ছে। এতে রোগীদের পর্যবেক্ষণ, ওষুধ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালটির উপপরিচালক ডা. নূরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত শয্যা, চিকিৎসক ও নার্স প্রয়োজন।
শয্যা না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন রোগী ও স্বজনরা। রাজধানীর মাতুয়াইলের বাসিন্দা নুরজাহান বেগমের ২০ বছর বয়সী নাতনি জাহিন এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডেঙ্গুতে ভুগছেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা করেন স্বজনরা। তিন-চারটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ঘুরে শয্যা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় জাহিনকে। শয্যা না থাকায় মেঝেতেই চলছে তাঁর চিকিৎসা। নুরজাহান বলেন, অনেক হাসপাতালে ঘুরেছেন, কোথাও শয্যা পাননি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৭৩৩ জনের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯১, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৩৮৮, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭০, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৩, খুলনা বিভাগে ৩০২, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৪৫, রংপুর বিভাগে ৮৬ ও সিলেট বিভাগে সাতজন রয়েছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৫৩ হাজার ৫৭০ জনের মধ্যে ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১ হাজার ২৮২ জন। দেশে চলতি বছর ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়েছিল গত আগস্ট মাসে। ওই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬। আগস্টে মারা গেছেন ৪৩ জন। চলতি বছর ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তির হার দ্রুত বাড়ছে। এতে সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীর চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক হাসপাতালে নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সমকালকে বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় শয্যা বা সুযোগ-সুবিধার সংকট হলে প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সক্ষমতা অনুযায়ী হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। শুধু রাজধানীতে নয়; ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন এলাকাগুলোতে উপজেলা পর্যায়েও চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমিয়ে স্থানীয় পর্যায়েই ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্য বিভাগের লক্ষ্য।
অক্টোবরে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সেমিনারে তিনি বলেন, তাদের পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিভিন্ন সময় পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এডিস মশা রাতেও কামড়ায়।
শীতে কিউলেক্স মশা বেশি দেখা গেলেও এডিস মশা তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। এ কারণে মানুষ এডিস মশাকে অবহেলা করে। তাই মশার আচরণ সম্পর্কে মানুষকে জানতে হবে। বাংলাদেশকে ‘মশার দেশ’ উল্লেখ করে অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, দেশের ঘাড়ে ডেঙ্গু চেপে বসেছে। দেশে ১২৬ প্রজাতির মশা আছে। এর মধ্যে সাত থেকে আট প্রজাতির মশার কলোনি রয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই সহজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো রোগ। এ রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও বাস্তবে তা কঠিন।
‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান
চলচ্চিত্রকে সমাজ ও মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান। আজ বুধবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) অডিটোরিয়ামে ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সময় সিনেমা যে বার্তা দিতো, তা আমরা হয়তো চোখ দিয়ে দেখতাম কিন্তু তা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে যেত। প্রতিটি সিনেমায় নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বার্তা থাকা উচিত। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনসহ গুণী নির্মাতাদের প্রতিটি সিনেমায় সামাজিক ও মানবিক বার্তা ছিল।’ আগামী দিনে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সবাই মিলে আগামীতে এমন কাজ করতে, যাতে আমাদের চলচ্চিত্রগুলো আবার কথা বলে।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের বাস্তবতা বদলেছে। বর্তমানে বহু তরুণ মাদকের ভয়াবহতায় জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের জন্য বিশাল ক্ষতি। এর পাশাপাশি সমাজে নানাবিধ বৈষম্য রয়েছে। এই সংকট থেকে সমাজকে পথ দেখাতে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাতারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।’
চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘আমরা সবাই একসাথে কাজ করলে বাংলাদেশের সিনেমাকে আবারো তার পুরোনো ও গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘অতীতের সোনালি দিনগুলোর তুলনায় আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি যে পর্যায়ে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, তা হয়তো হয়ে ওঠেনি। তাই শুধু এফডিসিকেন্দ্রিক নয়, বরং পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত ও উন্নত করা যায়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।’
চলচ্চিত্র অঙ্গনের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় করে বিএফডিসির উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র খাতের স্বকীয়তা ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘আমরা সম্ভবত সেই শেষ প্রজন্ম, যারা বাংলা সিনেমার সেরা সময়গুলোর মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। চলচ্চিত্র খাতের বর্তমান সংকট কাটাতে এবং এর আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করবে।’ অনুষ্ঠানে বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুভূতি প্রকাশ করে কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ছোটবেলায় প্রতিদিন এফডিসিতে রেকর্ডিং করতাম। এখান থেকে হাজার হাজার কালজয়ী গান সৃষ্টি হয়েছে। চলচ্চিত্র পরিচালকদের কারণেই আমি আজ সাবিনা ইয়াসমিন হতে পেরেছি।’
চলচ্চিত্র শিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য গুণী ব্যক্তিত্ব ও নির্মাতাদের অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এ জে মিন্টু, প্রযোজক ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, চলচ্চিত্র পরিচালক ড. মতিন রহমান ও মশিউদ্দীন শাকের।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহিন সুমন। এছাড়া সমিতির মহাসচিব শাহিন কবির টুটুল, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি-সহ অনুষ্ঠানে দেশবরণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন
দেশে আরও ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ৩টি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। জ্বালানি খাতে সরকারের নানা উদ্যোগের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস–সংকটের স্থায়ী সমাধানে মধ্য মেয়াদে দেশজুড়ে ১৫০টি নতুন কূপ খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরও ১৫০টি কূপ খননের কার্যক্রম শুরু হবে। এলএনজির সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান দুটি টার্মিনালের সঙ্গে আরও তিনটি টার্মিনাল যোগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর জন্য এক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া গেছে এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মাহদী আমিন। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি দেশের প্রধান ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস সরবরাহের সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি দ্রুততম সময়ে বাস্তবতার নিরিখে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর গ্যাসের প্রবাহ অনেকটাই বেড়েছে। গ্যাসের দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়, বিশেষ করে আশপাশের যেকোনো দেশের তুলনায় ডিজেলের দাম বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত কম বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই খাতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণের ওপর চাপ না পড়ে।
ফ্যাসিবাদী সংগঠনের নেতাদের বিচার তরান্বিত
মাহদী আমিন বলেন, গত এক মাসে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অসাধারণ অগ্রগতি দেখেছি। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের প্রতি সুবিচার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় ফ্যাসিবাদী সংগঠনের গণহত্যাকারীদের সাত জনের বিরুদ্ধে আদালতের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে গত মঙ্গলবার রায় দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনের সমস্ত স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে এ বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বৃত্তি করে প্রাপ্ত অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোন বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার এবং আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করার আদেশ দিয়েছে আদালত।
মুডিস রেটিং এ ‘সুখবর’
বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে আবার ‘স্থিতিশীল’ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিস রেটিংস। এ ঘটনাকে ‘সুখবর’ উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিসের রেটিংয়ে বাংলাদেশ একটা লম্বা সময় পর নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরত এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য সারা বিশ্বে একটা স্থিতিশীল রাষ্ট্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদা বাড়বে। এছাড়া ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট অর্থাৎ নারী-যুবকদের ক্ষমতায়নের জন্য যে কর্মসংস্থান প্রয়োজন, সেটিও একটি ইতিবাচক ধারায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে কিংবা গত মাসে এই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে মূল্যস্ফীতি ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমে এসেছে। খাদ্যপণ্য ও দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির যে হার, সেটা কমে এসেছে।
সাত ভাগে জনকল্যাণ উদ্যোগ
সাত ভাগে বিভক্ত করে সরকার জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এগুলো হচ্ছে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন, গণমানুষের সার্বিক কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন, নারীর অগ্রযাত্রা, সর্বজনীন কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীল শিল্পায়ন, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক।
বর্তমান সরকার প্রথাগত শাসনপদ্ধতির বেড়াজাল ভেঙে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে চায় দাবি করে মাহদী আমিন বলেন, আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দায়বদ্ধতা ও পরিকল্পনার পরিচয় দিয়ে চলেছেন, তা আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হচ্ছে। তরুণ সমাজের ক্ষমতায়ন থেকে শুরু করে কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, যুগোপযোগী যোগাযোগব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার যে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পদযাত্রা।
প্রবাসী আয় বাড়ছে
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও বিশ্ববাজারের তীব্র চাপের মধ্যেও সরকারের সফল মুদ্রানীতিতে ৬ মাসে দেশে প্রবাসী আয় ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রতিবছর ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বৈধ উপায়ে ইতালিতে অভিবাসনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশ কর্মীদের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কৃষি ও আধুনিক মৎস্য আহরণ খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার চেয়ে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত রেখে সারের সরবরাহ ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা মাহদী আমিন।
১৬ বছরের ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুনভাবে পুনর্গঠন শুরু
১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বাংলাদেশকে সরকার নতুনভাবে পুনর্গঠন করছে বলে মন্তব্য করে মাহদী আমিন বলেন, মাত্র সাত মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলা দুরূহ। তবে সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা দৃশ্যমান। বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও জবাবদিহির মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈদেশিক ঋণের চাপ সফলভাবে মোকাবিলা করা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিভিন্ন ধরনের অতিপ্রয়োজনীয় সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা, আধুনিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। এ ছাড়া প্রতিটি পদক্ষেপে সরকারের দেশপ্রেম ও জনকল্যাণমুখী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে। এই সাফল্যগুলো আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল, স্বাবলম্বী ও মেধাভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রূপান্তরের যে সুদৃঢ় পথযাত্রা, সেটি আরও বিকশিত করবে। দল, মত, পথ ও ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সরকারের মূল লক্ষ্য সবার আগে বাংলাদেশ।
স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ
মাহদী আমিন বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাকি আটটি বিভাগীয় শহরে ১৫ তলা বিশিষ্ট সর্বাধুনিক বিশেষায়িত পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা, বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিতে নবনির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল আধুনিক আন্তর্জাতিক কর্পোরেট ব্যবস্থাপনা মডেলে পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তৃণমূলের কিডনি রোগীদের জীবন বাঁচাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সুলভে আধুনিক ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বগুড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যাকে ১৮‘শতে উন্নীতকরণের বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উন্নত চিকিৎসায় রংপুর মেডিকেল কলেজ চত্বরে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি সেন্টারের নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন, দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবা ও রোগীদের তথ্য একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করতে ন্যাশনাল ই হেলথ প্লাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা, তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কমিউনিটি ক্লিনিকে জরুরি ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ পুনর্বহাল, সংক্রামক ব্যাধি নির্মূলে বিগত পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সারাদেশে মোট ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার শিশুকে সফলভাবে হাম রুবেলের টিকা প্রদান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের নিজস্ব প্রযুক্তিতে ভ্যাকসিন তৈরির কারখানা স্থাপনের জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শুরু, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় তীব্র সংকট নিরসনে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিশুদ্ধ সুপ্রিয় পানি সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণ, ডেঙ্গুর প্রকোপ রুখতে হাসপাতালে বিশেষ ওয়ার্ডে প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সমন্বিত তিন মাসের দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর নীতিমালার ফলে বিগত ছয় মাসে সরকারের গুদামে অতিরিক্ত দেড় লক্ষে খাদ্যশস্য মজুদ বৃদ্ধির কথা বলেন মাহদী আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ২১২ দিন চলছে। সরকারের অনেক কাজের ইতিবাচক ফল এরই মধ্যে জনগণ পেয়েছে। কিছু কাজের ফল পেতে সময় লাগবে। ধৈর্য ধরলে ভালো ফল পাবে দেশের জনগণ। তিনি আরও বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। জনজীবনে স্বস্তি, শাস্তি, নিরাপত্তা বিধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক, তা জনগণ অনুভব করতে শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পিচ রাইটার এএসএম মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, আশরোফা ইমদাদ, মিডিয়া সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম, চিকিৎসক আ ন ম মনোয়ারুল কাদির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এহসান মাহমুদ
সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬-এর ধারা ১২(২) অনুযায়ী তাকে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। এই নিয়োগের অন্যতম শর্ত হিসেবে তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে। উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
নবনিযুক্ত মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ তার নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তির পর বলেন, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। এর গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে এ দেশের মানুষের নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র, সম-অধিকার ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে শিক্ষা জুলাই থেকে পাওয়া গেছে, তা সামনে রেখেই তিনি কাজ করতে চান। সবার সম্মিলিত সংযোগ ও সক্রিয়তায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, চর্চা ও গবেষণার পাশাপাশি এই জাদুঘরকে একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠে রূপ দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মাদারীপুরে জন্মগ্রহণকারী এহসান মাহমুদের পৈতৃক নিবাস বরিশালের মুলাদীতে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রিধারী এই সাংবাদিক তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে দৈনিক সমকাল, দেশ রূপান্তর, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা, মানবজমিন এবং নেত্র নিউজসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সৃজনশীল সাহিত্যেও তার উজ্জ্বল উপস্থিতি রয়েছে। তার প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো উপন্যাস ‘একাত্তরের লালমিয়া’ ও ‘কোকিল অসময়ে ডাকিয়াছিল’, এবং কবিতার বই ‘আদিবাসী প্রেমিকার মুখ’। এছাড়া প্রবন্ধ ও রাজনীতি বিষয়েও তার প্রকাশনা রয়েছে।
প্রতীকী ছবি
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩২০ শিশু। বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৯৪৪ শিশুর। হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ৪৪ শিশু মারা গেছে। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৩৯। এই সময়ে ১ হাজার ১৪১ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৭৯ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ২৮২। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
পবিত্র নগরী মক্কা আল-মুকাররমাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার খবরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র মক্কা আল-মুকাররমা এবং সৌদি আরবের অন্যান্য পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদার প্রতি বাংলাদেশের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। এসব পবিত্র স্থান সুরক্ষায় সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলেছে, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সব সময় পূর্ণাঙ্গভাবে সম্মান ও নিশ্চিত করতে হবে।
হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে ফেইসবুকে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্যের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীকে তলব করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় সশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। প্রসিকিউশনের এক আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বুধবার এ আদেশ দেয় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২।
যে দুই আইনজীবীকে তলব করা হয়েছে, তারা হলেন-হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।
আদেশের পর ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, “গতকাল ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ওই দুজন আইনজীবী ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তারা ট্রাইব্যুনালকে অবমাননা করে বক্তব্য দিয়েছেন।”
মঙ্গলবার দুপুরে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর পরপরই হাসানুজ্জামান তুষার রায়ের সংবাদ প্রতিবেদন ফেইসবুকে শেয়ার করে লেখেন, “অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ, মিথ্যা-বানোয়াট, ভিত্তিহীন রায়ের তীব্র নিন্দা জানাই, প্রতিবাদ জানাই এবং ঘৃণ্যভাবে এই রায় প্রত্যাখান করি। রাজপথেই হবে সবকিছুর ফয়সালা। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।”
ওই পোস্টে সেদিন বিকালে আইনজীবী মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী মন্তব্য করেন, “ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই ফরমায়েশি রায় প্রত্যাখান করছি। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।”
অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল এ দুজনের বিরুদ্ধে আবেদন করার কারণ ব্যাখ্যা করে কৌঁসুলি তামীম বলেন, “তারা আইনজীবী, তারা আইন জানেন। আদালতের বিরুদ্ধে কী বলা যায় বা যায় না তা উনারা জানেন।
“একজন আইনজীবী যখন আদালত সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য করেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তখন সাধারণ মানুষের কাছে মনে হতে পারে যে এটি বৈধ। এই বিভ্রান্তি এড়াতেই আদালতের কাছে পিটিশনটি আনা হয়েছে।”
১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১(৪) ধারার কথা মনে করিয়ে দিয়ে গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, সংশ্লিষ্ট কাউকে হুমকি বা আদালত অবমাননাকর কোনো কাজ করলে এক বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।