প্রতীকী ছবি।
চলতি বছর (২০২৫ সাল) বিশ্ব ইতিহাসে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ বছর হতে যাচ্ছে। সম্ভবত ২০২৪ সাল উষ্ণতার রেকর্ডটি এযাবৎকালে সর্বোচ্চ হওয়ার স্থান ধরে রাখবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের (সিথ্রিএস) বিজ্ঞানীরা গতকাল মঙ্গলবার এমন আভাস দিয়েছেন। গত মাসে অনুষ্ঠিত কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে উল্লেখজনক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। এর মধ্য দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ুবিষয়ক উদ্যোগ কমিয়ে আনতে চাইছে এবং কয়েকটি দেশ কার্বন ডাই–অক্সাইডের নিঃসরণ কমানোর বিধিমালা দুর্বল করার চেষ্টায় আছে।
সিথ্রিএস মাসিক বুলেটিনে বলেছে, সম্ভবত চলতি বছরও বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার শিল্পপূর্ব যুগের (১৮৫০–১৯০০) তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো টানা তিন বছর এমন প্রবণতা দেখা যাবে।
সিথ্রিএসের জলবায়ু কৌশলবিষয়ক প্রধান সামান্থা বার্জেস বলেন, এ মাইলফলকগুলো বিমূর্ত কিছু নয়। এগুলোর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে যে কত দ্রুত জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে।
চলতি বছরও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়া চরমভাবাপন্ন থাকতে দেখা গেছে। গত মাসে ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড় কালমায়েগির কারণে ২০০–এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনে গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এমন আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
গত বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সাল ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর। প্রাকৃতিক কারণে বছর বছর তাপমাত্রা কিছুটা ওঠানামা করলেও বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখছেন। তাঁরা নিশ্চিত করেছেন যে এ উষ্ণতার প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো থেকে তৈরি হওয়া গ্রিনহাউস গ্যাস।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রার নথিভুক্তি শুরু করার পর থেকে করা হিসাব অনুসারে, বিশ্বে গত ১০টি বছরই ছিল সবচেয়ে উষ্ণ।
২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমার মধ্যে রাখার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল। এতে উষ্ণতা বৃদ্ধির সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাবগুলো এড়ানো যায়।
জাতিসংঘ চলতি বছর বলেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্যটি আর বাস্তবে পূরণ করা সম্ভব নয়। দেশগুলোকে দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ, যেন এ লক্ষ্য কিছুটা অতিক্রম করলেও ক্ষতি সীমিত রাখা যায়।
ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ও সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের আকাশে বৃহস্পতিবার রাতভর ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। খবর এএফপির।
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে তভার অঞ্চলে হামলার সময় একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রের সামনের অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ জানিয়েছেন, তার অঞ্চলে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হয়েছে। সেখানে ৯২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগে এবং কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রাশিয়ার অভিযোগ, গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ইউক্রেন দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ও সংযুক্ত ক্রিমিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়ে আসছে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা এখনো স্থবির। এদিকে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে চলেছে, যার ফলে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও বাড়ছে।
ছবি : সংগৃহীত
ফিলিপাইনের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। বুধবার (৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, সারাঙ্গানি দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬২ কিলোমিটার গভীরে। এ ঘটনার পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। এ ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, কম্পনটি বেশ শক্তিশালী ছিল। মানুষ চিৎকার করতে করতে নিরাপদ স্থানে ছুটে যায়। তবে সবাই নিরাপদে আছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক মূল্যায়নে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না।
গত ৮ জুনও ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সে সময় বহু ভবন ধসে পড়ে, ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়।
দুই মাসের ব্যবধানে নতুন এই ভূমিকম্প দেশটির ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: খালিজ টাইমস
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করেছেন বলে ছড়িয়ে পড়া একটি গুজব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, তিনি তার দপ্তরে আছেন এবং কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তার প্রশাসনের সঙ্গে ইসলামি বিপ্লবের নেতাদের নেতাদের মতবিরোধ হয়েছে, এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তার প্রশাসনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, তার প্রশাসন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে পুরো সমন্বয় বজায় রেখেছে।
সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের আগেই এর অংশবিশেষ ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) এ প্রকাশ করা হয়।
তাতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় বজায় রাখছি।”
তার পদত্যাগের বিষয়ে ওঠা গুঞ্জনকে তিনি ‘পুরোপুরি গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমি যদি কখনো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেই, আমি নিজেই তা ঘোষণা করবো। কিন্তু আমি পদত্যাগ করবো না, আমি নিজের অবস্থানে অটল থাকবো।”
পেজেশকিয়ান জানান, কিছু মানুষ এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করছে যে তার প্রশাসন ও ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি এসব মন্তব্য করলেন। এর আগে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের তথ্য ও জনসংযোগ উপকর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহদি তাবাতাবায়ী এসব প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে বাতিল করেছিলেন।
এসব গুজব ছড়ানোর জন্য রাজনৈতিক কট্টরপন্থিদের দায়ী করেছেন তিনি; বলেছেন, “ইরানের শত্রুদের স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য দুর্বল করতে এসব গুজব ছড়ানো হয়েছে।”
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার পোর্ট ডিকসনের তামান লিঙ্গিতে গতকাল সোমবার নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বিভাগীয় কমিশনার (ডিসিপি) আলজাফনি আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
নেগ্রি সেম্বিলানের পুলিশপ্রধান বলেছেন, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল সোয়া চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে।
আলজাফনি বলেন, লিঙ্গিতের এক বাড়িতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি দল মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছেন—এক ফোন কলে এমন তথ্য পাওয়ার পর পুলিশের একটি দলকে সেই বাড়িতে পাঠানো হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৪০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিসিপি আলজাফনি বলেন, নিজেদের মধ্যে মারামারিতে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য রেম্বাউ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত এবং সন্দেহভাজন বাংলাদেশি ব্যক্তি একটি বাগানে কাজ করতেন। তাঁরা সবাই একই বাড়িতে বসবাস করতেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আজ মঙ্গলবার রিমান্ডের জন্য পোর্ট ডিকেসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হচ্ছে।
ডিসিপি আলজাফনি বলেন, নিহত দুই ব্যক্তির মরদেহ সুয়া মাঙ্গিস এস্টেটে এবং তৃতীয়জনের মরদেহ তাঁদের বাসার কাছে পাওয়া গেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী খুনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
আলজাফনি আরও বলেন, ‘আমরা এই হত্যাকাণ্ডের কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে তদন্ত করছি। আশা করি, সাধারণ জনগণ এই ঘটনা নিয়ে সাধারণ জনগণ কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর মন্তব্য বা যাচাই ছাড়া কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকবেন।
ডিসিপি আলজাফনি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য নিকটস্থ থানাতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
মালয়েশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইট টাইমসে আলজাফনির বরাত দিয়ে এক খবরে বলা হয়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের কারণে তিন বাংলাদেশি পুরুষের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি কয়েকটি স্থানে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তার করা সন্দেহভাজন ব্যক্তির আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।
ছবি : সংগৃহীত
পারস্পরিক শুল্কের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা জোরপূর্বক শ্রম শুল্কও মামলার মুখে পড়েছে। এই শুল্কের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশটির ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন ২৫ অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার মামলাটি করা হয় নিউইয়র্কের ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে। এতে বিচারকদের কাছে শুল্ক বাস্তবায়ন স্থগিত, বেআইনি ঘোষণা এবং সরকারকে অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসে গত বছরের এপ্রিলে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। যা আদালতের এক রায়ে বাতিল হয়েছে। নতুন কৌশল হিসেবে গত ২৪ জুলাই জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির কথা বলে ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ১০ ও সাড়ে ১২ শতাংশ করে শুল্ক আরোপ হয়। যা ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর শুল্ক আরোপ হয়েছে ১০ শতাংশ। এটি আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের একটি ধারা প্রয়োগ করে। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি করলে সেই দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবে। তবে মামলার নথিতে বলা হয়েছে, নতুন শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন।
আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের যে কথিত সমস্যা আছে, সেটির সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের (ইউএসটিআর) আরোপ করা একচেটিয়া বৈশ্বিক শুল্কের কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক নেই।
ইউএসটিআরের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে। চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও ফিলিপাইনের ওপর আরোপ হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক।
জোরপূর্বক শ্রম শুল্কের এই নতুন চ্যালেঞ্জের জবাব দিয়েছে হোয়াইট হাউস। সোমবার মুখপাত্র কুশ দেশাই এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারের পদক্ষেপটি আইনসিদ্ধ। মার্কিন বাণিজ্যের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ানো অযৌক্তিক কাজ, নীতি ও চর্চা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র বৈধ ক্ষমতা ব্যবহার করছে।
মামলার সঙ্গে যুক্ত ২৫টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৩টির গভর্নর ডেমোক্র্যাট। বাকি দুটি রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন। আদালতে দেওয়া নথিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারায় তদন্তটি ছিল অজুহাতমূলক ও বেআইনি প্রচেষ্টা। নথিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের নমুনাও তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘তদন্তগুলো তাড়াহুড়ো করে শুরু করা হয়েছিল এবং শুরুতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল।’
নথিতে আরও বলা হয়েছে, শুল্ক ব্যবস্থাটি স্বেচ্ছাচারী, অযৌক্তিক এবং আইনের পরিপন্থী। আবেদনকারী রাজ্যগুলো সব ধরনের জোরপূর্বক শ্রমের বিরোধী এবং সারা বিশ্বে শ্রমিকদের সুরক্ষার পক্ষে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রমকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বেআইনি শুল্ক পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে পারে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার তিনি এমন দাবি করেন।
প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে এও বলেন, এটিই ইরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন।’ বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।
গতকাল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করে। তবে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মুহূর্তেও আমাদের মধ্যে কথাবার্তা চলছে।’
‘একটি ভালো চুক্তিতে সই করার জন্য এটিই তাদের শেষ সুযোগ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের চূড়ান্ত বিনাশের আগে শেষ সুযোগ দিতে চাই।’
এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। ট্রাম্পের মতে, ‘বলতে গেলে এটি আগামীকালের মধ্যেই’ সম্ভব হতে পারে।
এ ছাড়া ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও আলোচনা চলছে, যা সম্পন্ন হতে ‘কিছুটা সময় লাগতে পারে’ বলে তিনি জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতর্কিত হামলার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধে জড়িয়ে আছে। যদিও গত কয়েক মাসের দফায় দফায় কূটনৈতিক আলোচনার ফলে বিভিন্ন সময়ে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থেকেছে।
দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ইরান এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদও অক্ষত রয়েছে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, হামলার শিকার হওয়ার পর জাহাজটি থেকে সংকেত পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু এখনো জানানো হয়নি।