ছবি : সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এরপর ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম এবং জিএস ও ছাত্রশিবিরের জবি শাখা সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সংঘর্ষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন এবং এক পর্যায়ে তাকে একটি রিকশায় তুলে দিচ্ছেন। এর কিছুক্ষণ পর একইভাবে জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফকেও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হস্তক্ষেপ করে।
এ ঘটনায় জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, ছাত্রশক্তি ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের একাধিক নেতাকর্মী এবং জবি প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক কামরুজ্জামানসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের ঘটনার পর জবি ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তবে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্রদল কিংবা ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের স্পোর্টস স্কলারশিপ প্রদান
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের ১৪ জন শিক্ষার্থীকে ‘স্পোর্টস স্কলারশিপ’ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ৩ টায় শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এ স্কলারশিপ প্রদান করা হয়।
‘স্পোর্টস স্কলারশিপ ২০২৫-২৬’ বর্ষে ৬ টি ইভেন্টে (ছেলে-মেয়ে) ১৪ জনকে মনোনীত করা হয়। প্রতি ইভেন্ট থেকে দুই জন করে স্কলারশিপের জন্য মনোনীত হলেও ফুটবল ও ভলিবল (ছেলে) ইভেন্ট থেকে ৩ জন করে মনোনীত করা হয়েছে।
শারীরিক শিক্ষা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মবিরুল আলমের সঞ্চালনায় এবং ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, বিশেষ অতিথি হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, “আজ যে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে; তা নিষ্ঠা, পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ এবং কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি। কাজের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে যখন মূল্যায়ন করা হয়, তখন সেই স্বীকৃতি আরও বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে। এই পুরস্কার প্রমাণ করে যে আপনারা ধারাবাহিক প্রচেষ্টা করেছেন।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। এটি সুস্থ ও সুন্দর জীবনের অপরিহার্য অংশ। নিয়মিত খেলাধুলা মানুষের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক শক্তি যোগায়। খেলাধুলা আমাদের আনন্দময় রাখে, মানসিক চাপ কমায় এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এটি পড়াশোনায় মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খেলাধুলায় পারদর্শী হলে জব সেক্টরে এগিয়ে থাকা সম্ভব।”
সভাপতির বক্তব্যে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন বলেন, “খেলাধুলা শুধু নেতৃত্বই তৈরী করে না। তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তির মতো ভয়াবহ অভিশাপ থেকে দূরে রাখে। যারা নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তারা অবসর সময়কে ইতিবাচক কাজে ব্যয় করে। এতে খারাপ সঙ্গ, অপরাধ ও মাদকের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়।”
পরিচ্ছন্নতার অভাবে সৌন্দর্য হারাচ্ছে শহীদ মিনার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ভাষা শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এখন অবহেলা ও অপরিচ্ছন্নতার চিত্র বহন করছে। শহীদ মিনারের বেদি, সিঁড়ি ও আশপাশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, অসচেতনতা ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্মৃতিচিহ্ন তার মর্যাদা ও সৌন্দর্য হারাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের মূল বেদিতে ওঠার সিঁড়ি এবং সংলগ্ন হাঁটার পথে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, পলিথিন, ব্যবহৃত ওয়ান-টাইম প্লেট, টিস্যু এবং গাছের শুকনো পাতা ও ডালপালা ছড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া শহীদ মিনারের পেছন ও পাশের ঝোপঝাড়ে জমে আছে অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে স্থানটি যেমন তার নান্দনিকতা হারাচ্ছে, তেমনি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এর পবিত্র পরিবেশও।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিফাতুল ইসলাম শাওয়াল বলেন, "কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর একটি কথা প্রায়ই শুনতাম, 'যে শিক্ষার্থী কুবির শহীদ মিনারে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়নি, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের কিছুই অনুভব করেনি।' সেই ঐতিহ্যবাহী শহীদ মিনারের এমন নোংরা পরিবেশ দেখে সত্যিই খুব কষ্ট হয়। এই পরিস্থিতির জন্য অসচেতন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলাও দায়ী।"
তিনি আরও বলেন, "কুবির এই গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্নটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা যেমন শিক্ষার্থীদের নাগরিক দায়িত্ব, তেমনি প্রশাসনেরও উচিত এর সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।"
একই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইমা সুলতানা রাতুয়া বলেন, "আমাদের ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হলো শহীদ মিনার। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এটি বেশিরভাগ সময়ই অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী ও বহিরাগত দর্শনার্থী যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করেন। প্রশাসনের উচিত অনতিবিলম্বে নিয়মিত তদারকি ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার প্রধান মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, "পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্বল্পতা এবং ময়লা সংগ্রহের জন্য মাত্র একজন কর্মী থাকায় আমরা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পারছি না। তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর হতে দেব না। আমি নিজে বিষয়টি তদারকি করব এবং শহীদ মিনার এলাকায় অতিরিক্ত বড় ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা করব। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমি শহীদ মিনার পরিদর্শন করেছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সোনালী দলের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিষয়টির সত্যতা আজ নিশ্চিত করেছেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ জুলাই ২০২৪-২৫ সময়কালের জন্য সোনালী দলের কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ দুই বছর পরে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটিতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহাম। কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে আছেন মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আছেন অ্যানিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞা।
কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক-১ উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক-২ পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ছাদেকা হক, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. জি. মোস্তফা আমিন, সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এনাটমি অ্যান্ড হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক এবং গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম কাদের খান।
এ ছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. মোখলেছুর রহমান (কৃষি রসায়ন), অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাশেম (এনিমেল সায়েন্স), অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল হাসান ভূঞা (পদার্থ বিজ্ঞান), অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির (কৃষি অর্থনীতি), অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক (গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট), অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান (ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিক্স), অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া (ফিজিওলজি), অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর (মৃত্তিকা বিজ্ঞান) এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রানা সিদ্দিকী (ডেইরি সায়েন্স)।
পদাধিকারবলে সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক (একোয়াকালচার), অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসান (কৃষিতত্ত্ব), অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার (ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিক্স) এবং অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার (কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা)। তবে অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বর্তমানে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় পদটি শূন্য থাকবে বলে কমিটির তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান বলেন, "আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হোক এবং ক্যাম্পাসে একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল পরিবেশ বজায় থাকুক। এ লক্ষ্য অর্জনে সোনালী দলের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত আছি।
আমরা বিশ্বাস করি, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব। সে লক্ষ্যে যে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগের পাশে আমরা থাকব এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।"
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চব্বিশের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাকে ধারণ করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে নোবিপ্রবি ব্লাড ব্রিগেড ও নোয়াখালী ব্লাড ব্যাংক।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি স্বেচ্ছায় রক্তদান করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং রক্তদানে শিক্ষার্থীসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: হাসান উদ্দীন। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই রক্তদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
রক্তদান কর্মসূচির পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়ের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি বয়োজ্যেষ্ঠ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য বিনামূল্যে ব্লাড গ্লুকোজ পরীক্ষা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সমাজে স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ফটোগ্রাফি ক্লাবের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ‘বাংলা দর্পণ সিজন-৭’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ ও ৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আলোকচিত্রী, শিক্ষার্থী এবং আলোকচিত্রপ্রেমীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।
সোমবার (৩ আগস্ট) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, "ফটোগ্রাফি শুধু একটি শিল্পমাধ্যম নয়, এটি সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও প্রকৃতির নান্দনিক দলিল। একজন আলোকচিত্রী একটি ছবির মাধ্যমে মানুষের জীবনসংগ্রাম, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং সমাজের বাস্তবতাকে এমনভাবে তুলে ধরতে পারেন, যা অনেক সময় হাজার শব্দেও প্রকাশ করা সম্ভব হয় না।"
তিনি আরও বলেন, তরুণ আলোকচিত্রীদের উচিত প্রকৃতিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং সমাজের ইতিবাচক ও বাস্তব চিত্র ক্যামেরাবন্দি করা। এতে ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামও বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতেও ফটোগ্রাফি ক্লাবের এমন সৃজনশীল আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং নোবিপ্রবি ফটোগ্রাফি ক্লাবের উপদেষ্টা ও সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সিফাত-ই-মান্নান। প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী আশরাফুল ইসলাম শিমুল।
আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় দেশব্যাপী প্রায় ১,১০০টি আলোকচিত্র জমা পড়ে। সেখান থেকে বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৬৪টি সেরা আলোকচিত্র প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, জীবনসংগ্রাম, ঐতিহ্য, সমসাময়িক বাস্তবতা এবং মানবিক নানা গল্প ফুটে ওঠে নির্বাচিত আলোকচিত্রে।
দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীতে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ‘জুলাই কর্নার’ এবং একটি ফটোবুথ স্থাপন করা হয়, যা ব্যাপক সাড়া ফেলে। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং আলোকচিত্রপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রদর্শনী প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শেষে জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
আয়োজকরা জানান, ‘বাংলা দর্পণ’ কেবল একটি আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা নয়; এটি নতুন প্রজন্মের আলোকচিত্রীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন আরও বৃহত্তর পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য ড. মো. এমতাজ হোসাইনকে সংবর্ধনা প্রদান
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য ড. মো. এমতাজ হোসাইনকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া ইবি শাখা। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপ-উপাচার্য কার্যালয়ে সংবর্ধনা দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া, ইবি শাখার সভাপতি এস এম শামীম, সাবেক সহ-সভাপতি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ, সাইফুল ইসলাম আলিফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মুন্তাকিম, সহ-সভাপতি আহসান হাবীব, শাকিল আহমেদ, সেক্রেটারি খন্দকার আরিফসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী শিক্ষা ও ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে মাননীয় উপ-উপাচার্যের নিকট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন।
দাবিসমূহ হলো : বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ইসলামী বিষয়সমূহ পুনরায় চালু করতে হবে। ইসলামী শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে গঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্রুত তার প্রতিষ্ঠাকালীন মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের দিকে ফিরিয়ে নিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা মাওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামকরণ করতে হবে।