প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৯ এএম

আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। তিনি জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তার সম্মানে আয়োজিত হবে নাগরিক সংবর্ধনা। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে দুদিনের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী। 


সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ৮ থেকে ১০ দিনের হবে বলে সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফলে দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মিলনায়তনে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ও সভাপতির আসন যেন সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল এক কূটনৈতিক দৃশ্যপট প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সরকারপ্রধানের সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফরসূচি ও অন্যান্য কর্মসূচি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানা গেছে।


এদিকে দীর্ঘ দুই দশক বিরতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে অভাবনীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। 


২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। আবারও দীর্ঘদিন পর তার যুক্তরাষ্ট্র সফরকে স্মৃতিময় করে রাখতে এবং দলীয় প্রধান তথা দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে এক বিশাল নাগরিক সংবর্ধনা সভার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 


বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে অনলাইনে বিশেষ ভার্চুয়াল যৌথ প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করেছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অসংখ্য নেতাকর্মী দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জড়ো হবেন নিউইয়র্কে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গতকাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো শিডিউল চূড়ান্ত হয়নি। সফরসূচি চূড়ান্ত করা নিয়ে কার্যক্রম চলছে।


উল্লেখ্য যে, সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ওই দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানি, পণ্য আমদানি-রপ্তানি, করিডোর স্থাপনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমওইউ এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। 


এরপর কয়েকটি দেশ সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের আগে প্রধানমন্ত্রী আপাতত অন্য কোনো দেশ সফরে যাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সময়সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে কূটনৈতিক ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বহর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সূচি নির্ধারিত রয়েছে। অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি তিনি সফরকালে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের মূল মিলনায়তনে তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তার বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক ভাষণ তুলে ধরবেন।


ব্যাপক প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর দলীয় চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র আগমন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ২৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানফ্রান্সিসকোতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। 


এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সানফ্রান্সিসকো থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।


বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা অতীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন পর যুক্তরাষ্ট্র আসবেন এটা আমাদের জন্য খুশির খবর। আশা করি তাকে ঘিরে সব কর্মসূচি সফল হবে এবং আমরা তাকে সংবর্ধনা দেব।


বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিউইয়র্কে আসবেন। তাকে বরণ করতে আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ফলপ্রসূ হবে।


বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, প্রায় বিশ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র আসবেন, এটি আমাদের জন্য খুশির খবর। এবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ জয় বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক। বিশ্ব রাজনীতির এ জটিল সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব করা বাংলাদেশের জন্য বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে এক বিশাল সুযোগ তৈরি করবে।


ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে আমরা আনন্দিত এবং আশাবাদী। ইনশাআল্লাহ তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে।


নিজেদের দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতারা


এদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কোনো কমিটি নেই। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা-ক্ষোভ ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। পদপদবি না পেয়েও অনেক নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ এবং কমিটি না থাকায় অনেকেই পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন। অথচ বছর দুই আগেও শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো। 


সর্বশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতারা। সে সময় নিউইয়র্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হেনস্তার ঘটনায় বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতায় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়।


যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা জানান, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হলেও আজ তাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। এদিকে প্রায় দেড় বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে কোনো কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। গত বছরের ১৭ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে তোলপাড় হয়। যদিও নেতাকর্মীদের দাবি, এখানে দলীয় শৃঙ্খলা কিংবা কোনো ধরনের নিয়ম ভঙ্গের মতো কিছু ঘটেনি। নেতাকর্মীরা শুধু চলমান কর্মসূচি দলীয় ব্যানারে পালন করছেন।


সংশ্লিষ্টরা জানান, শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনে বহির্বিশ্বে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল নজিরবিহীন। গত ১৫ বছর অনেকেই বাংলাদেশে আসতে পারেননি। অনেকের পরিবার মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। 


সর্বশেষ ২০০৫ ও ২০১১ সালে আব্দুল লতিফ (সম্রাট) ও জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে কমিটি দেওয়া হয়, যা ২০১১ সালে ভেঙে দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের পর তারেক রহমান কয়েকবার কমিটি গঠনের ব্যাপারে আলোচনা ও লন্ডনে বৈঠক করলেও, তা আলোর মুখ দেখেনি। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক গেলে তার কাছে দ্রুত কমিটি গঠনসহ অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয়ে দাবি-দাওয়া জানাবেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


একই সঙ্গে সরকারপ্রধান ও সভাপতির আসন: ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ও নতুন সমীকরণ


আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভাষণকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি অভূতপূর্ব দৃশ্যপট তৈরি হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন প্রধান পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের নতুন পথচলা, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সংকট সমাধানে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন-তখন জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির আসনে বসে সেই সভা পরিচালনা করবেন বাংলাদেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। 


বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে একই দেশের সরকারপ্রধান মূল মঞ্চে ভাষণে আর তারই ক্যাবিনেটের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বসভার সর্বোচ্চ আসনে থেকে সেই অধিবেশন নিয়ন্ত্রণ করছেন-এমন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ আধুনিক বিশ্ব কূটনীতিতে অত্যন্ত বিরল।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও শাসনব্যবস্থার ভিন্নতা জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ এলে অনেকেই ১৯৮৬ সালের কথা স্মরণ করেন। ওই বছর বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্বের গুরুদায়িত্ব পালন করেছিলেন। 


তবে বিশ্লেষকদের মতে, সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওই সময় বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা বজায় ছিল এবং তৎকালীন শাসন কাঠামোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান ও বিশ্বমঞ্চের সমীকরণটি ভিন্ন ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের পাঁচ দশকের ইতিহাসে প্রথমবার সংসদীয় গণতন্ত্রের অধীনে একই মন্ত্রিসভার শীর্ষ দুই প্রতিনিধি- প্রধান নির্বাহী হিসেবে ‘প্রধানমন্ত্রী’ এবং শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী’-একই সময়ে বিশ্বমঞ্চের ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।


বিশ্লেষকরা বলছেন- অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ


রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ দুই দশক পর তারেক রহমানের নিউইয়র্ক গমন যেমন বিএনপির জন্য রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক, তেমনি জাতিসংঘের মতো মূল বৈশ্বিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্ব একই সঙ্গে ঘটা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে। 


ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে বাংলাদেশের এ ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক উপস্থিতি বিশ্বদরবারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী এবং সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যৌথ উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গৌরবময় ও মর্যাদাপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, জাতিসংঘের এই ৮১তম অধিবেশন বিশ্ব কূটনীতির ইতিহাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিএনপি সরকার গঠনের পর এটা বিরাট সাফল্য।



সর্বশেষ সব খবর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২২ পিএম

ফ্যাসিস্টটের ভাষয়া বলা হচ্ছে, সরকারকে পাঁচ বছরও যেতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।


তিনি বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই। গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। তবে শুধু সরকার নয়, গণমাধ্যম, মালিকপক্ষ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান-সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকাই একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র শুধু নির্বাচননির্ভর কোনো ব্যবস্থা নয়, এটি একটি সংস্কৃতি। তাই টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করতে হবে।


তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা না গেলে গণতন্ত্রও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, সত্য প্রকাশই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কোনো ধরনের সেল্ফ সেন্সরশিপ নয়, সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।


মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে পারলে গণমাধ্যম আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। একই সঙ্গে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যম জনগণের আস্থা অর্জন করবে এবং গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করবে।


সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


তিনি বলেন, সরকার, গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ ও বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরো শক্তিশালী হবে।


সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪৩ পিএম

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১৮ শিশু। শুক্রবার (০৭ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।


সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৬৪ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৭৩৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সে সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৬ হাজার ৭৪০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৮৫৭ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

সেমিনারে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২১ পিএম

টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


তিনি বলেন, "গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। তবে শুধু সরকার নয়, গণমাধ্যম, মালিকপক্ষ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকাই একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।" রাজধানীর হলিডে ইন হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে শুক্রবার তিনি কথা বলছিলেন।


মির্জা ফখরুলের কথায়, গণতন্ত্র কেবল ‘নির্বাচননির্ভর কোনো ব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি সংস্কৃতি’।


টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারে তাগিদ দেন তিনি।। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা না গেলে গণতন্ত্রও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন।


সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সত্য প্রকাশই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। এখানে কোনো ধরনের আত্মসেন্সরশিপ থাকা চলবে না।


এ সময় তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।


গণতন্ত্রকে টেকসই করতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, "মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে পারলে গণমাধ্যম আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যম জনগণের আস্থা অর্জন করবে এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।"


সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"


সরকার, গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ ও বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

সর্বশেষ সব খবর

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় নিসচার ১১তম মহাসমাবেশে ইলিয়াস কাঞ্চন (ছবি-ভিডিও থেকে নেওয়া)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪০ পিএম

‘৩১ বছর আগে ব্যক্তিগত জীবনের গভীর এক বেদনাকে মানুষের জীবনরক্ষার আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলাম। আজ এটি আর ইলিয়াস কাঞ্চনের আন্দোলন নয়, এটি দেশের মানুষের আন্দোলন।’


আবেগঘন কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালায় নিসচার ১১তম মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দোয়া চেয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘মহান আল্লাহ-তাআলা যেন আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং মানুষের পাশে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পাশে আবারও সক্রিয়ভাবে কাজ করার শক্তি দেন।’


তিনি বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় আগে ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোক ও বেদনাকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শক্তিতে পরিণত করেছিলাম। দীর্ঘ এই পথচলায় আন্দোলনটি এখন আর কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়, বরং সারাদেশের মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।


নিসচা প্রতিষ্ঠাতা সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অংশ হওয়ার আহ্বান জানান।


তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরের প্রতিপক্ষ নই। আমরা সবাই মানুষের জীবনরক্ষার সহযোদ্ধা।’


আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, ‘আমার স্বপ্ন আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম। আমি না থাকলেও আপনারা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন।’


বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪১ এএম

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি ভর্তিতে কোনো পরীক্ষা হবে না। এ শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্যান্য সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ‎আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।



বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথম শ্রেণি ছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্য সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হবে।


১৬ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। ওই সময় মন্ত্রী বলেন, ‘বছরের প্রথমে অ্যাডমিশন যেটা হয়, সেখানে আমরা লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আগাম জানিয়ে দিলাম, যেন সবাই সুযোগ পায়। আমরা লটারি সিস্টেম উইথড্র করলাম।’


২০১১ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে ভর্তি চালু করা হয়। ২০১২ সালে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই ব্যবস্থা কার্যকর হয়। তবে সে সময় দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো। 


পরে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি শুরু হয় এবং এর পর থেকে একই পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

সর্বশেষ সব খবর

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৪ এএম

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে। তবে কোন তারিখ পর্যন্ত মতামত জানানো যাবে তা উল্লেখ করা হয়নি।  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সবার মতামত নিয়ে খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত আইন তোলা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদ অধিবেশনে এটি পাস হতে পারে।


আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইন, ২০০৩-এর মাধ্যমে র‌্যাব গঠন করা হয়েছিল। বাহিনীর মূল দায়িত্বে বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও নতুন আইনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্ত করা হবে একাধিক বিধান। খসড়া অনুযায়ি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—অন্যায় আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার বা হয়রানি করা হলে এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক। এসব অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য গঠন করা হবে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি।


তবে এই কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। র‌্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা নানা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন বাহিনীর জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে। খসড়ায় বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীর দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা ও নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, প্রকাশিত খসড়ার ওপর যেসব মতামত আসবে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে। খসড়ায় বলা হয়েছে, এসআরবির নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। বাহিনীর সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যে কোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এই ইউনিট গঠন করা যাবে। প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ সম্পর্কিত আইন সাপেক্ষে কোনো সদস্যকে নির্ধারিত শর্তাধীনে এই ইউনিটের চাকরিতে প্রেষণে নিযুক্ত বা অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।


এতে আরও দেখা যায়, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে এসআরবির সদস্যরা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতার করতে পারবেন। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান চালানোর ক্ষমতা থাকবে বাহিনীর। এছাড়া আদালত, সরকার বা আইজিপির নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত পরিচালনারও সুযোগ রাখা হয়েছে। তদন্ত পরিচালনা করবেন অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণের বাধ্যবাধকতা থাকবে। এই আইনের অধীন সুষ্ঠু তদন্তকাজ পরিচালনার প্রয়োজনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকবে। জব্দ মালামাল আদালতের আদেশ মতে বা সরকারের বিধি মোতাবেক নিষ্পত্তি করতে হবে।

এই বাহিনীর অভিযোগ প্রতিকার কমিটির সভাপতি হবেন- এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক, সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি। কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে, প্রয়োজন হলে আলাদা অনুসন্ধান দল গঠন করতে পারবে এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে। বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি বা অনিয়মের অভিযোগও পর্যালোচনা করতে পারবে। অভিযোগ প্রতিকার কমিটি অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ দিতে পারবে। ইউনিটের কার্যক্রমে বিধিবহির্ভূত প্রভাব, পদোন্নতি, পদায়ন, বিভাগীয় শাস্তি, হয়রানি বা অন্যায় আচরণ সংক্রান্ত ক্ষোভ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিতে পারবে। ইউনিটের আইনানুগ কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা সত্তা বিধিবহির্ভূত ও অযাচিত প্রভাব বিস্তার করলে এবং অনুসন্ধানে প্রমাণিত হলে, ওই ব্যক্তি বা সত্তার বিরুদ্ধে দায়-দায়িত্ব নিরূপণপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করতে পারবে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি।


খসড়া আইনে সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনি অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা জুয়া ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো অপরাধের জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। আইনের খসড়া অনুযায়ী, এসআরবির কোনো সদস্য শৃঙ্খলা লঙ্ঘন অথবা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটন করে পালালে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক তাকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নে সোপর্দ করবেন। পলাতক সদস্যের স্থায়ী অথবা বর্তমান বাসস্থান যে থানায় অবস্থিত, সেই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করবেন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওই অনুরোধ কোনো ম্যাজিস্ট্রেট জারি করা পরোয়ানা হিসেবে গণ্য করে পলাতক সদস্যকে ব্যাটালিয়নে সোপর্দ করবেন।


খসড়ায় বলা হয়েছে, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাবের সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, দায়-দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে। নতুন বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত র্যা বের বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যবিধিও প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ কার্যকর থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর