ছবি : সংগৃহীত
এক সময় আশঙ্কা করা হতো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পরে এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। বাস্তাবে রূপ নেয় আশঙ্কা। শুরু হয় হামলা পাল্টা হামলা। এক্ষেত্রে এখন কোনো অংশে পিছিয়ে নেই ইরানও।
প্রথম দিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলার ক্ষেত্রে ইরান কিছুটা সংযত থাকলেও পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে। তেহরানের দাবি, তারা মূলত অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
তবে এরই মধ্যে ইরানের হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আর চুপ থাকতে চাইছে না। কোনো কোনো দেশ সামরিক পদক্ষেপের কথাও বিবেচনা করছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব ইরাক ও ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
একই সঙ্গে ইরানকে মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে ইরান ও ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতায় সৌদি আরবের জন্য হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের নৌপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এখন ইরান ও সৌদি আরব এক ধরনের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধেও বাড়ছে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখনও চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় নিয়মিত পাল্টাপাল্টি হামলা হচ্ছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানও জবাব দিচ্ছে।
এই সংঘাত এখন আরও বড় আকারে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। কারণ উপসাগরীয় দেশগুলো যেকোনো মূল্যে নিরাপদ বাণিজ্যপথ ফিরিয়ে আনতে চায়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের নৌপথ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু ইরান এ বিষয়ে কোনোভাবেই রাজি হচ্ছে না। তেহরানের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় ইরানে হামলার জন্য যেসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হবে, সেসব দেশকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
এত দিন সৌদি আরব সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলতে চাইলেও পরিস্থিতির কারণে এখন দেশটিকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। তাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব সামরিকভাবে কতটা শক্তিশালী? ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে গেলে দেশটি কি টিকে থাকতে পারবে? কিংবা ইরান-সমর্থিত হুথিদের মোকাবিলাই বা কতটা সম্ভব?
সামরিক শক্তিতে ইরান এগিয়ে
২০২৬ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের (জিএফপি) তথ্য অনুযায়ী, সামরিক শক্তিতে সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইরান। বিশ্বের ১৪৫টি দেশের সামরিক শক্তির তালিকায় ইরানের অবস্থান ১৬তম। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েলের পরেই ইরানের অবস্থান।
অন্যদিকে সৌদি আরবের অবস্থান ২৫তম। অর্থাৎ জিএফপি-এর হিসাবে সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতায় সৌদি আরবের চেয়ে ইরান এগিয়ে। তবে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ চলার কারণে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংঘাতে ইরানের সামরিক শক্তি ঠিক কতটা ক্ষয় হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
জিএফপি-এর পাওয়ারইনডেক্স অনুযায়ী, ইরানের স্কোর ০ দশমিক ৩১৯৯। সৌদি আরবের স্কোর ০ দশমিক ৪৪৭৩। এই সূচকে স্কোর যত শূন্যের কাছাকাছি, সামরিক শক্তির অবস্থান তত শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সামরিক জনবলে বড় ব্যবধান
ইরানের মোট জনসংখ্যা ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৭। দেশটিতে সামরিক বাহিনীতে কাজ করার মতো জনশক্তি রয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৫ জন। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৬ শতাংশ সামরিক দায়িত্ব পালনের উপযোগী।
অন্যদিকে সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যা ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩১ জন। দেশটিতে সামরিক বাহিনীতে কাজ করার মতো জনশক্তি প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ৩ হাজার ১০৪ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৫২ শতাংশ।
সামরিক বয়সে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যাতেও ইরান এগিয়ে। দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ১৪ লাখ ১৪ হাজার মানুষ সামরিক বয়সে পৌঁছান। সৌদি আরবে এই সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ২১ হাজার।
সক্রিয় সেনাসদস্যেও ইরান অনেক এগিয়ে
ইরানের মোট সামরিক সদস্য প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে সক্রিয় সামরিক সদস্য ৬ লাখ ১০ হাজার এবং রিজার্ভ সদস্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার।
অন্যদিকে সৌদি আরবের মোট সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৯৭ হাজার। এর মধ্যে সক্রিয় সদস্য ২ লাখ ৪৭ হাজার। GFP-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের কোনো রিজার্ভ সদস্য নেই। অর্থাৎ সক্রিয় সামরিক সদস্যের সংখ্যাতেও ইরান সৌদি আরবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে।
স্থলবাহিনীতেও বড় ব্যবধান
ইরানের সেনাবাহিনীতে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সদস্য রয়েছে। দেশটির বিমানবাহিনীতে প্রায় ৩৭ হাজার এবং নৌবাহিনীতে প্রায় ২০ হাজার সদস্য রয়েছেন।
অন্যদিকে সৌদি আরবের সেনাবাহিনীতে প্রায় ৭৫ হাজার সদস্য রয়েছে। বিমানবাহিনীতে প্রায় ৩০ হাজার এবং নৌবাহিনীতে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ সদস্য রয়েছেন। অর্থাৎ স্থলবাহিনীর জনবলে ইরান সৌদি আরবের তুলনায় অনেক এগিয়ে।
আধাসামরিক বাহিনীতেও ইরান এগিয়ে
আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যসংখ্যাতেও ইরানের অবস্থান শক্তিশালী। ইরানে এই বাহিনীর সদস্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার। সৌদি আরবে আধাসামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার। ফলে সামরিক ও আধাসামরিক জনবলের ক্ষেত্রেও ইরানের পরিমাণ সৌদি আরবের চেয়ে বেশি।
তিন দিক থেকে নিরাপত্তা হুমকি সৌদি আরবের
বর্তমানে সৌদি আরবকে একসঙ্গে তিনটি দিক থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একদিকে ইরান, অন্যদিকে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং ইরাকের সশস্ত্র মিলিশিয়ারা।
সম্প্রতি হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরাক থেকে ড্রোন হামলা এবং ইরানের নতুন হুমকির পর সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে পূর্ব ইরাকে বিমান হামলা চালায়।
এ ছাড়া একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্চ মাসের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী ইরানের ভেতরেও গোপন প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল। তবে এই হামলার বিষয়ে সৌদি আরব বা ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।
বাণিজ্যপথ রক্ষায় সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট
বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে এই জোট গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ করবে।
এই তিনটি জলপথ ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর হিসেবে বিবেচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ার সময় এই জোট গঠনের ঘোষণা আসে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ একসময় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হতো। সেখানে নৌ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট বা সহযোগিতা করা এবং দেশটিকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া আঞ্চলিক দেশগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।
দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেছেন, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নেয় কিংবা ওয়াশিংটনের জন্য ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তাকেও যুদ্ধের পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এক বক্তব্যে আবদোল্লাহি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘ব্যাপক যুদ্ধংদেহী পথে’ আরও দ্রুত এগোচ্ছে।
ইরানি এই কমান্ডারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির পেছনে রয়েছে পুরো অঞ্চলজুড়ে আধিপত্য বিস্তার এবং নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার একটি ‘বিপজ্জনক কৌশল’।
মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র
আবদোল্লাহি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দেখিয়েছে যে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য মুসলিম দেশগুলোর স্বার্থ ও সম্পদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নিতে তারা পিছপা হবে না।
তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর অর্থ, সম্পদ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও কৌশলগত সম্পদকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক বাহিনীর জন্য ‘প্রতিরক্ষামূলক ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান
ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর এখন বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড এবং চলমান যুদ্ধের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়নের সময় এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি মুসলিম দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বা ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
আবদোল্লাহির ভাষায়, আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত ‘দূরদর্শিতার সঙ্গে’ কাজ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
ইরানের দাবি, বদলে গেছে শক্তির ভারসাম্য
আবদোল্লাহি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাত প্রমাণ করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য আর আগের মতো নেই।
তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে তারা মুসলিম দেশগুলোর ভূখণ্ডের ‘আড়াল’ থেকে যুদ্ধ ও আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করছে এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য আঞ্চলিক সরকারগুলোর ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ইরান এখন স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছে আঞ্চলিক দেশগুলোকে বুঝতে হবে, তারা কার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে এবং সেই অবস্থানের সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে।
‘যুদ্ধের আগুনে পুড়তে হবে’
বক্তব্যের শেষ দিকে আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘প্রতিরক্ষামূলক ঢাল’ হিসেবে নিজেকে ব্যবহার করতে দেয়, তাহলে সেই দেশও যুদ্ধের আগুন থেকে রেহাই পাবে না।
তার সতর্কবার্তা হলো-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমনভাবে অবস্থান নেওয়া যাবে না, যার ফলে কোনো দেশ নিজেই আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ হয়ে পড়ে।
ইরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। ফলে তেহরানের এই কঠোর বার্তা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে?
সামগ্রিক সামরিক শক্তিতে ইরান সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে। ১৪৫টি দেশের মধ্যে ইরানের অবস্থান ১৬তম, যেখানে সৌদি আরবের অবস্থান ২৫তম। সামরিক জনবল, সক্রিয় সেনাসদস্য, রিজার্ভ বাহিনী, স্থলবাহিনী ও আধাসামরিক সদস্যের সংখ্যাতেও ইরানের বড় ব্যবধান রয়েছে।
তবে সামরিক শক্তি শুধু সেনাসদস্যের সংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, অস্ত্রের মান, আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি, সামরিক জোট এবং সরবরাহব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ইরান ও সৌদি আরব সরাসরি সংঘাতে জড়ালে শুধু র্যাংকিং দিয়ে ফলাফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বরং দুই দেশের শক্তির ধরন ও তাদের মিত্রদের ভূমিকা যুদ্ধের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব একদিকে ইরান ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সচল রাখতে সামরিক জোট গড়ে তুলছে। বিপরীতে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে আঞ্চলিক চাপ মোকাবিলার চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতাকারী দেশগুলোকে সরাসরি সতর্ক করছে।
কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাদায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চারজন আদালতে হাজির হলেও অপর একজন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন— রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান।
সিবিএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।
২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত— পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। দ্বিতীয়ত— ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। তৃতীয়ত— অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।
কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তদন্তকারীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।
কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের জানান, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে তাদের সংস্থা কাজ করছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সকল আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি ‘ব্যর্থ পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু লোক দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।
নয়া দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস পুরো ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকেও বছরে এতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয় না, যতবার কংগ্রেস তাদের এই নেতাকে উৎক্ষেপণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, এই দলটি অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু উগ্র মানসিকতার লোক কংগ্রেসকে কবজা করেছে এবং তারা দেশের ধ্বংস চায়। সংসদে হইচই সৃষ্টি করে দলটি অন্যান্য তরুণ ও মেধাবী বিরোধী এমপিদের এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে ধামাচাপা দিচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর করতে এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে নিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।
শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।