• প্রকাশ : সোমবার ১৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:১২ এএম

আইনি দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে জাপানকে ‘গুপ্তচরদের আস্তানা’ বানিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে টোকিও হয়েছে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরির প্রধান উৎস। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।   


টাইমসে রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সামরিক ও বেসামরিক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সংগ্রহ ও গোয়েন্দা তথ্য জোগাড়ের জন্য জাপানের ভূখণ্ড ব্যবহার করছে রাশিয়া। এক্ষেত্রে দেশটির ‘গুপ্তচরবৃত্তি সংক্রান্ত দুর্বল আইন’-এর সুযোগ কাজে লাগানো হচ্ছে।  


প্রতিবেদনে ইউক্রেন সরকারের একটি হিসাবের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলোর ৯০ শতাংশেই জাপানি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়। দেশটিতে রাশিয়ার এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন মাক্সিম ভ্লাদিমিরোভিচ ফিলচেনকভ নামের এক রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তিনি রুশ বিমান সংস্থা এরোফ্লট-এর টোকিও কার্যালয়ে ছদ্মবেশে কর্মরত আছেন।


নিউইয়র্ক টাইমস আরও লিখেছে, রাশিয়ায় সরাসরি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। এ কারণে জাপান থেকে সংগৃহীত যন্ত্রাংশগুলো মস্কোয় পাঠাতে ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো তৃতীয় দেশ এবং মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কাজ করছে যন্ত্রাংশ সংগ্রহকারী একটি নেটওয়ার্ক।


টাইমসের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সোমবার বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন জাপান সরকারের প্রধান মুখপাত্র মিনোরু কিহারা। প্রতিবেদনের বিষয়ে সরাসরি কিছু উল্লেখ না করে তিনি বলেন, বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা আরও কার্যকরভাবে প্রতিহত করা প্রয়োজন। 


কিহারা বলেন, ‘আমরা স্বীকার করছি যে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এগুলো প্রতিরোধ করার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।’


জাপান সরকারের এই মুখপাত্র বলেন, টোকিওকে আরও বেশি কঠোরতার সঙ্গে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিচ্ছিন্ন বা খণ্ড খণ্ড গোয়েন্দা কার্যক্রমগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে পার্লামেন্টে একটি আইন অনুমোদন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি নতুন জাতীয় সংস্থা গঠনের পথ সুগম হয়েছে।


গুপ্তচরদের গন্তব্য জাপান


নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি জাপানি গণমাধ্যম ‘দ্য জাপান টাইমস’ও প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ সেনা অভিযানের পরপরই, পশ্চিমা নেতারা তাদের দেশ থেকে শত শত রুশ গুপ্তচরকে বহিষ্কার করেন। একই সঙ্গে ক্রেমলিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোম্পানিগুলো কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।


মূলত ক্রেমলিনের জন্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং মাইক্রোচিপ, ট্রান্সমিটার ও অস্ত্র তৈরির যন্ত্রপাতির মতো সরঞ্জাম কেনা কঠিন করে তোলার লক্ষ্যেই ওই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। 


কর্মকর্তারা বলছেন, এরপর থেকে বহিষ্কৃত সেই গুপ্তচরদের বেশ কয়েকজনকে এমন একটি দেশে দেখা গেছে, যা তাদের ধারণাতেও ছিল না। সেই দেশটি হলো- জাপান।


টোকিওতে এই গুপ্তচরদের কার্যক্রমের মূলে আছে রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপন ইউনিট। এটি ‘২০তম ডিরেক্টরেট’ নামে পরিচিত। পাঁচটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, এই ইউনিটের কর্মকর্তারা কূটনীতিক বা ব্যবসায়ী সেজে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রযুক্তি কেনা এবং সেগুলো রাশিয়ায় পাচার করার কাজ করছেন।


ধ্বংসস্তূপ থেকে অনুসন্ধান শুরু


গত মে মাসে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি ভবনে আঘাত হানে রাশিয়ার ‘কেএইচ-১০১’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হন। 


এরপর কিয়েভের তদন্তকারীরা ভবনটির ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান শুরু করেন। পরে এ সংক্রান্ত একটি মূল্যায়নে উল্লেখ করেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি পরিচালনায় জাপানি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছিল। 


ওই ঘটনার পর ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশের সঙ্গে জাপানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন নিউইয়র্ক টাইমস। এ কাজে গোপন সরকারি নথি, কর্পোরেট রেকর্ড এবং তিনটি মহাদেশের বেশ কয়েকজন গোয়েন্দা ও সরকারি কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। জনসমক্ষে গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশের অনুমতি না থাকায় অধিকাংশ কর্মকর্তাই নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।


নথিপত্র ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জাপানের কাছে একটি প্রমাণপত্র পেশ করেছেন। এতেও রুশ অস্ত্রে জাপানি প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা আছে। জাপান সরকার ইউক্রেনের প্রতি জোরালো সমর্থন প্রকাশ করলেও, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ধীরগতি দেখিয়েছে।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ীদের তৈরি করা কিছু বাধ্যবাধকতার কারণে জাপানের গোয়েন্দা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল। ফলে দেশটি বহু আগে থেকেই গুপ্তচরদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। এমনকি জাপানের নিজস্ব কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাও নেই। 


টোকিওতে এক গুপ্তচরের আগমন


ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ২ বছর পর ২০২৪ সালে উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রাংশের ঘাটতিতে পড়ে রাশিয়া। ওই সময় ড্রোন ব্যবহার করে রণক্ষেত্রে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল ইউক্রেন। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে টোকিওতে যাওয়ার দায়িত্ব পান মাক্সিম ভ্লাদিমিরোভিচ ফিলচেনকভ। ফিলচেনকভ রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। 


ব্যবসায়িক রেকর্ড ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, ফিলচেনকভ জাপান থেকে রাশিয়ায় পণ্য পরিবহনকারী লজিস্টিকস কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে শুরু করেন। 


সোভিয়েত আমল থেকেই জিআরইউর গুপ্তচরেরা পশ্চিমা প্রযুক্তির সন্ধানে রুশ বিমান সংস্থা ‘এরোফ্লট’-এর চাকরিকে ছদ্মবেশ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। জাপানে বিমান সংস্থাটির কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এর অংশীদার এখনও সক্রিয়। তাদেরই একটি প্রতিষ্ঠান ‘প্রোকো এয়ার’। শ্রীলঙ্কা ও উজবেকিস্তানের মতো দেশে যাতায়াত করা বিমান সংস্থাগুলোর কার্গো স্পেস ভাড়া নেওয়ার কাজ করে প্রোকো। 


এরপর এসব দেশ থেকে কার্গো স্থানান্তর করা হয় এরোফ্লটে। যা পরে রাশিয়ায় নেওয়া হয়।


এই প্রক্রিয়াটি এখনও বৈধ। কারণ অংশীদারত্বের কারণে কিছু পণ্য এখনও রাশিয়ায় পাঠানোর অনুমতি আছে। আর সে কাজ করায় প্রোকো এয়ার নিজেদেরকে ‘জাপান ও রাশিয়ার মধ্যকার সেতু’ হিসেবে বিজ্ঞাপন প্রচার করে। এই প্রক্রিয়ায় ফিলচেনকভের সঙ্গে পরিচিত হওয়া মিকি নামে এক জাপানি নাগরিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে টাইমস। 


তবে তিনি নিষিদ্ধ কোনো পণ্য রাশিয়ায় পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এসব পণ্যের বেশিরভাগই চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অল্প কিছু প্রসাধন সামগ্রী।


প্রমাণ হিসেবে মিকি সাম্প্রতিক একটি এয়ার বিলের কপি দেখিয়েছেন। যেখানে কালো কালিতে ‘আর-ফার্ম’ শব্দটি অস্পষ্ট করা। মস্কোর ওষুধ কোম্পানি আর-ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সেই রেপিক প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ। তিনি বিভিন্ন সময় পুতিনের যুদ্ধপ্রচেষ্টায় সহায়তার কথা বলেছেন। 


কিয়েভের চিঠি


বিদেশি সরকারগুলো বারবার জাপানকে সতর্ক করেছে যে তাদের প্রযুক্তি রাশিয়ায় পাচার করা হচ্ছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ইউক্রেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত আটটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠায়। বার্তাগুলোতে রুশ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামাদিতে জাপানি যন্ত্রাংশের উপস্থিতির তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়।


ইউক্রেনের এক কর্মকর্তার মতে, চিঠিগুলোতে উদ্ধার হওয়া ডজন খানেক জাপানি যন্ত্রাংশের তালিকা ও ছবি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সার্কিট বোর্ড, ট্রান্সমিটার ও সেমিকন্ডাক্টর ছিল। টাইমস-এর সাংবাদিকরা তেমন একটি চিঠি পর্যালোচনা করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রেও জাপানি যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে।


জাপানের সবচেয়ে বড় কিছু কোম্পানি- যেমন নিপ্পন ইলেকট্রিক করপোরেশন, প্যানাসনিক, তোশিবা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা যন্ত্রাংশ উদ্ধারের তালিকাও জাপানের কাছে হস্তান্তর করেছে ইউক্রেন। 


তবে এ সব নথিতে কোম্পানিগুলোর পক্ষে জেনেশুনে রাশিয়ায় পণ্য পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো তৃতীয় কোনো দেশ থেকে পুনর্বিক্রি করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সবকটিই কোনো ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছে। 


নিপ্পন জানিয়েছে, ইউক্রেন যেসব ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ শনাক্ত করেছে সেগুলো বেশ পুরোনো এবং কোম্পানিটি অনেক বছর আগে সেগুলো বিক্রি বন্ধ করেছে। রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফিলচেনকভের মন্তব্য জানতেও তাঁর টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ইমেইলে বার্তা পাঠায় টাইমস। তবে কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৩০ পিএম

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চললেও জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর আলজাজিরার।


বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার কাছে দুর্গম সোরাঞ্জ এলাকার একটি কয়লাখনিতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে মিথেন গ্যাস জমে বিস্ফোরণটি ঘটেছে।


প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, এখন পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খনির ভেতরে আরও তিনটি মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারের কাজ চলছে।


তিনি বলেন, দুর্ঘটনার ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পরও উদ্ধারকর্মীরা আটকে পড়া শ্রমিকদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জীবিত কাউকে উদ্ধার করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।


এর আগে বেলুচিস্তানের প্রধান খনি পরিদর্শক মুহাম্মদ আতিফ জানান, বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে মোট ৩৬ জন শ্রমিক ছিলেন।


এদিকে জ্যেষ্ঠ খনি কর্মকর্তা আবদুল গনি বেলুচ জানান, শক্তিশালী বিস্ফোরণে পাশাপাশি থাকা দুটি কয়লাখনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


সূত্র: আলজাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ পিএম

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আর নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিবদমান অঞ্চলে জারি করা হয়েছে কারফিউ। খবর আলজাজিরার।


মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন শাহ। তিনি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে অস্থিরতার কালো মেঘ দূর করতে হবে।


কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ভারত সীমান্তবর্তী সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দুদের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রায় উচ্চ স্বরে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা নিয়ে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ শুরু হয়।


পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি চালালে দুই ব্যক্তি নিহত হন বলে জানান পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে । পরে বৃহস্পতিবার কারফিউ চলাকালেও পাশের সিরাহা জেলায় বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়।


নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে সুনসারি ও আশপাশের জেলাগুলোতে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।


প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, সরকার, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যম সবার প্রতি তার আহ্বান, ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখে শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব এবং জাতীয় ঐক্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।


তিনি ঘটনার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বলেন, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।


পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে জননিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু হলেও, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।


সূত্র: আল জাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

লেখিকা তসলিমা নাসরিন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩০ পিএম

দীর্ঘ ১৯ বছর পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ফিরলেন আলোচিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর লেখিকাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে স্বাগত জানান তার অনুরাগী এবং বেশ কিছু সংগঠনের প্রতিনিধিরা।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সেক্যুলার মিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য নামের দুটি সংগঠনের আমন্ত্রণে কলকাতায় ফিরেছেন লেখিকা। ওই দুই সংগঠনের নেতৃত্ব ওসমান মল্লিক এবং মোহিত রায় ছাড়াও এনসিপি দলের পক্ষে শিউলি সাহা এবং তসলিমার অনুরাগীদের একাংশ তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।


শনিবার রবীন্দ্র সদনে তসলিমাকে সংবর্ধনা জানানোর অনুষ্ঠান রয়েছে। পরদিন রোববার পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমিতে একটি অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা।


এর আগে ২০০৭ সালে তার আত্মজীবনী বই ‘দ্বিখণ্ডিত’-কে কেন্দ্র করে কলকাতায় তীব্র বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তাকে রাতারাতি শহর ছাড়তে বাধ্য করেছিল।


জানা গেছে, ২০০৭ সালের নভেম্বরে তীব্র আন্দোলনের মুখে কড়া নিরাপত্তায় তসলিমা নাসরিনকে তড়িঘড়ি করে রাজস্থানের জয়পুরে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে একটি হোটেলে তিনি অত্যন্ত গোপনে অবস্থান করেন। তবে খবর জানাজানি হতেই স্থানীয় কট্টরপন্থি সংগঠনগুলো বিক্ষোভ শুরু করে, যার ফলে তিনি মাত্র কয়েকদিন পরই জয়পুর ছাড়তে বাধ্য হন। অত্যন্ত গোপনীয়তায় তাকে নয়াদিল্লিতে এনে একটি সরকারি সেফ হাউসে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল। এই সময়টা কার্যত তার জন্য গৃহবন্দিত্বের মতো ছিল, যেখানে বাইরের কারও সঙ্গে তার যোগাযোগ করার অনুমতি ছিল না।


পরে প্রবল বিতর্ক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে ২০০৮ সালের ১৯ মার্চ তিনি ভারত ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। ভারত ছেড়ে তিনি প্রথমে তার নাগরিকত্ব থাকা সুইডেনে চলে যান। এরপর নিরাপত্তা ও সাহিত্যিক কাজের সুবিধার্থে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছুকাল অবস্থান করেন।


২০০৯ সালের প্রথম দিকে প্যারিস শহর কর্তৃপক্ষ তাকে বিশেষ আবাসনের সুযোগ দিলে তিনি ফ্রান্সে চলে যান। ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের একটি বড় অংশ তিনি প্যারিসে বসবাস করেন এবং সেখানে বসেই ইউরোপের বিভিন্ন সাহিত্য সভায় যোগ দেন।


পশ্চিমবঙ্গে ফেরার তীব্র ইচ্ছা থেকে তিনি ২০১১ সালে আবারও ভারতে ফিরে আসেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারগুলোর অনীহার কারণে কলকাতায় তার ঢোকার অনুমতি মেলেনি। তবে ভারত সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ও রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে নয়াদিল্লিতেই পরবর্তীতে নিজের স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তোলেন। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে একের পর এক মুক্তমনা ও ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগাররা হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে ভারতে তার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুক্তচিন্তা বিষয়ক সংগঠন ‘সেন্টার ফর ইনকোয়ারি’-এর সহায়তায় তিনি জীবন রক্ষার্থে জরুরি ভিত্তিতে আমেরিকায় চলে যান এবং সেখানে বেশ কিছু মাস কাটান।


উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর ইউরোপ-আমেরিকায় থাকলেও, তসলিমা সবসময়ই বাংলা সংস্কৃতির টানে কলকাতার কাছাকাছি থাকতে চেয়েছেন। কিন্তু ২০০৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারগুলোর অনীহার কারণে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার পথ বন্ধ ছিল।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৫১ পিএম

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকার অনুরোধ নয়াদিল্লির ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে’। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে এ কথা জানানো হয়েছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সংসদীয় কমিটি তাঁদের প্রতিবেদন লোকসভায় উপস্থাপন করে। প্রতিবেদনে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। এ কমিটির চেয়ারপারসন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর।


‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যমান আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে।


শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাঁকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ যে অনুরোধ করেছে, সে বিষয়টি জানার পর বিষয়টি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিল পার্লামেন্টারি কমিটি।


ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এর পর থেকে তিনি সেখানেই রয়েছেন। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটে। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।


এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পরও দিল্লিকে একই অনুরোধ জানানো হয়েছে।


‘ভারত থেকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ পাননি শেখ হাসিনা’


ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন, নানা বিবৃতিও আসছে তাঁর নামে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে তিনি সাক্ষাৎকারও দিচ্ছেন। 


তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি বলেছে, ‘চরম সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার ভারতের মানবিক ঐতিহ্য ও সভ্যতাগত মূল্যবোধের অংশ’ হিসেবে শেখ হাসিনাকে সেখানে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।


এতে আরও বলা হয়, ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে, কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।


অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার যে নীতি ভারত অনুসরণ করে আসছে, তা উল্লেখ করেছে সংসদীয় কমিটি।


পাশাপাশি সুপারিশ করেছে, সে বিষয়ে ভারত সরকার যেন নীতিনিষ্ঠ ও মানবিক অবস্থান বজায় রাখে। একই সঙ্গে যথাযথ সংবেদনশীলতা ও ভারতের আন্তর্জাতিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:১১ পিএম

গাজায় নিরস্ত্রীকরণের রূপরেখা সম্বলিত একটি সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সমঝোতাকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথে ‘একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।


কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে তারা। চুক্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে নিরস্ত্রীকরণের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা রোডম্যাপ প্রস্তুত করতে হবে। তবে ‘আন্তর্জাতিক যাচাইকরণ সংস্থা’ এবং সব পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।


হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আলজাজিরাকে বলেন, “এই আলোচনা অত্যন্ত কঠিন ও জটিল ছিল। আমরা সম্ভাব্য সেরা এবং বাস্তবায়নযোগ্য একটি ফর্মুলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি।”


তবে হামাদ স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলে হামাস এই চুক্তির কোনো অংশই বাস্তবায়ন করবে না। গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে পুনর্গঠনের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া।


আলজাজিরা লিখেছে, এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


ট্রাম্প এই চুক্তিকে গাজার শাসনভার তদারকির জন্য তার গঠিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের একটি ‘বড় সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরেছেন।


বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “অবশেষে গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকারের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সরকার ফিলিস্তিনি জনগণকে সহায়তার জন্য বোর্ড অব পিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।”


তিনি আরও লেখেন, “একই সময়ে ইসরায়েল তার কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা পাবে এবং গাজা আর কখনও সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।”


চুক্তিতে যা আছে


আলজাজিরা লিখেছে, তাদের হাতে আসা চুক্তির অনুলিপি অনুযায়ী, গাজায় একটি ‘ন্যাশনাল কমিটি’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ প্রবেশের মধ্য দিয়ে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।


ন্যাশনাল কমিটি অস্ত্র ‘তালিকাভুক্ত ও মজুদ’ করার প্রক্রিয়া তদারকি করবে। আন্তর্জাতিক যাচাইকরণ কমিটি এই প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে এবং ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো তাতে অংশ নেবে। নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।


চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বা ফিলিস্তিন-বহির্ভূত কোনো সংস্থার কাছে অস্ত্র হস্তান্তর করা হবে না এবং গাজায় একমাত্র ন্যাশনাল কমিটিই এসব অস্ত্রের নিয়ন্ত্রক হবে।


আলজাজিরা লিখেছে, বোর্ড অব পিসের একজন কর্মকর্তা তাদের নিশ্চিত করেছে যে, গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব নিতে যাওয়া ন্যাশনাল কমিটির কাছেই হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠন অস্ত্র সমর্পণ করবে।


ওই কর্মকর্তা জানান, শুরুতে পুলিশের হাতে থাকা অস্ত্রগুলো হস্তান্তর করা হবে, এরপর পর্যায়ক্রমে ভারী অস্ত্রগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। এই পরিকল্পনার আওতায় গাজায় সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। তবে প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নে বেশ কিছুটা সময় লাগবে।


যুদ্ধবিরতি ও বর্তমান পরিস্থিতি


ট্রাম্প এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে গত অক্টোবরে তার মধ্যস্থতায় হওয়া ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির একটি অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস অভিযানে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর ওই ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি হয়েছিল। তবে ইসরায়েল বারবার এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১২ শর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের আরও ভূমি ইসরায়েল দখল করে নিয়েছে। 


গাজায় মানুষ ও পণ্য চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ অব্যাহত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।


ট্রাম্প বলেছেন, নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হওয়ার পর ইসরায়েল গাজা থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করবে এবং তাদের জায়গা নেবে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স, যারা ‘নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর’ সঙ্গে মিলে কাজ করবে।


কায়রোতে আলোচনা ও আন্তর্জাতিক চাপ


যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে মিশর, কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই কায়রোতে অবস্থান করছেন হামাস নেতারা।


আলজাজিরা লিখেছে, হামাসের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার তাদের বলেন, আলোচনা ‘ইতিবাচক’ এবং সামনের দিকে এগোচ্ছে।


মিশরের সম্প্রচারমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি রূপরেখার দ্বিতীয় ধাপের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে মিশর শিগগিরই কায়রোতে আবারও বৈঠকের আয়োজন করবে।


আন্তর্জাতিক বাহিনীর মোতায়েন এবং ন্যাশনাল কমিটির কাজ শুরুর প্রস্তাবটি হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ‘আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে’ বলে আল-কাহেরা নিউজের খবরে বলা হয়। তবে গাজার আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) দাবি করেছে, চুক্তির খবরটি ‘পুরোপুরি সঠিক নয়’। চুক্তির যে খসড়াটি ছড়ানো হচ্ছে, তার শব্দচয়ন নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।


সামরিক বিশ্লেষক নিদাল আবু জাইদ আল-জাজিরাকে বলেছেন, চুক্তিতে ‘নিরস্ত্রীকরণ’ শব্দের বদলে অস্ত্র ‘তালিকাভুক্ত ও মজুদ’ করার যে কথা বলা হয়েছে, তার সূক্ষ্ম সামরিক তাৎপর্য রয়েছে।


তিনি বলেন, “সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে তালিকাভুক্ত ও মজুদের কাজটি একটি তৃতীয় পক্ষ করে থাকে। তবে সেই পক্ষ যে শত্রু বাহিনেই হতে হবে, এমন নয়।


“অন্যদিকে নিরস্ত্রীকরণের কাজটি সাধারণত শত্রু বাহিনেই করে থাকে। আর ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো কখনোই সেই ধরনের নিরস্ত্রীকরণে রাজি হবে না।”

সর্বশেষ সব খবর

সৌদি আরব ও বাংলাদেশের পতাকা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে এই জোট গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।


জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ করবে। এই তিনটি জলপথ ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর হিসেবে বিবেচিত।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ার সময় এই জোট গঠনের ঘোষণা এলো। বিশ্বের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ একসময় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হতো। সেখানে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।


এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের হামলায় বাব আল-মান্দেব-লোহিত সাগর-এডেন উপসাগর রুটও বারবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।


সৌদি আরব জানায়, জোট গঠন উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল।


ইইউর এরই মধ্যে লোহিত সাগরে ‘অ্যাসপিডিস’ নামে একটি নৌ নিরাপত্তা মিশন রয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন জোটটির সঙ্গে সেই মিশনের পার্থক্য কী হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।


জোটে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো-সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস। ফলে জোটে সৌদি আরবসহ মোট সদস্য সংখ্যা ১৪। তবে একই ধরনের নিরাপত্তা স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমান এই জোটে যোগ দেয়নি।


সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও এই জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।


গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ মহড়া


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলো বিশ্বাস করে যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা একটি যৌথ দায়িত্ব। এ কারণে আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসীমান্ত সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


জোটের আওতায় গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য তথ্য বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা, সামরিক মহড়া এবং সমন্বিত সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে কোন দেশ কতটি যুদ্ধজাহাজ, বিমান বা অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম দেবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


সৌদি আরব জোর দিয়ে বলেছে, এই জোটের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি।


সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ সব খবর