ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৮ পিএম

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন। আবেদন করেও আসন পায়নি ১৪ হাজার ৪১৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেও নির্বাচিত হয়নি।


আজ বুধবার রাতে প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফলাফল জানা যাবে। এবার সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে এবার বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১১টি কলেজে ভর্তির জন্য কোনো শিক্ষার্থী আবেদনই করেনি। আর ৪১৬টি কলেজে আবেদন করা হলেও কোনো আসন বরাদ্দ করা হয়নি। এবার ভর্তিযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৮ হাজার ১৮০টি।


একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যে ২ সেপ্টেম্বর আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল, গত রোববার তা শেষ হয়। সব কার্যক্রম শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।ভর্তির জন্য এবার মোট আবেদন করেছিল ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন শিক্ষার্থী।


এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।




নোবিপ্রবিতে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া পার্টনারশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থিত প্রধান অতিথি এবং বিষেষ অতিথিগন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৩ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘ব্রিজিং দ্যা গ্যাপ: স্ট্রেন্থনিং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া পার্টনারশিপস’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, দেশে এবারই প্রথম জিডিপির ২ শতাংশ বাজেট শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করেছে সরকার। এটি আগে ছিলো ১.৫ শতাংশ এবং এটিকে আমরা আগামী চার বছরে ধীরে ধীরে ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চাই। কিন্তু এই বাজেটটি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয়, তাহলে মূলত যে জায়গাটিতে আমাদের হাত দিতে হবে তা হলো- দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জ্ঞান এবং দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরীর বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। এতে করে আপনারা দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট পাবেন। তিনি আরও বলেন আমাদের এ আয়োজনটির উদ্দেশ্য মূলত চারটি। প্রথমত, শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা, দ্বিতীয়ত, শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদানে যুক্ত করা, তৃতীয়ত, কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম প্রণয়নে শিল্পের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া এবং চতুর্থত, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে তৈরি জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি করা।


সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সংযোগ স্থাপন করা গেলে গবেষণার ফলাফল সমাজ ও অর্থনীতিতে আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারবে। একই সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব সমস্যাকে গবেষণার বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে নতুন প্রযুক্তি পণ্য ও সেবা উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। এই সেমিনারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। এছাড়াও আজকের আলোচনা ও মতামতগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে একটি শক্তিশালী, টেকসই ও ফলপ্রসু অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস।


সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন ও আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুন নবী। সেমিনারে মডারেটর হিসেবে ছিলেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক জি এম রাকিবুল ইসলাম।


প্রসঙ্গত, সেমিনারে ইন্ডাস্ট্রি, ফার্মাসিউটিক্যালস ও ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ নোবিপ্রবির সঙ্গে তাদের প্রতিষ্ঠানের  এমওইউ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ এমওইউর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের চাকরি এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি করা, ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ, পারস্পারিক চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কাজ করা এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের ল্যাব পারস্পারিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি। এর মূল লক্ষ্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের কর্মযোগ্যতা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নোবিপ্রবিতে স্নাতক শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৬ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শাহজাহান (এমপি)। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এরপর নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ নবীন শিক্ষার্থীদের উষ্ণ অভিনন্দন জ্ঞাপন করে বলেন, দীর্ঘদিনের অধ্যাবসায়, ত্যাগ এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে তোমরা এখানে আসার সুযোগ পেয়েছো। বিশ্ববিদ্যালয় তোমাদের শুধু ডিগ্রি প্রদান করবে না, এখানে তোমরা শিখবে কিভাবে ভিন্নমতকে সম্মান জানাতে হয় এবং দেশের সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে হয়। সময়ের বরপুত্র হয়ে তোমাদের নিজের ভবিষ্যৎ নিজেকেই গড়ে তুলতে হবে। এখানে অনেক বাস্তবতা ও নতুন অভিজ্ঞতা আসবে, কিন্তু জ্ঞান অর্জন থেকে কখনও দূরে সরে আসবে না। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদান করছে। যার বাস্তব প্রয়োগ আমরা এবারের বাজেটে দেখেছি। তোমরা জ্ঞান এবং সৃজনশীলতা দিয়ে বাংলাদেশকে আলোকিত করবে, যেনো তোমাদের দ্যুতি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে শিক্ষকদের আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে হবে এবং ব্যাপকভাবে গবেষণাতে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে, যেনো তা মানুষের কল্যাণে কাজে আসে। একই সঙ্গে শিক্ষকতাকে শুধূমাত্র ক্লাসরুমে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে হবে। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাদামাটা জীবনযাপনের কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের তা অনুসরণের আহ্বান জানান এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এ স্লোগানকে পাথেয় করে জুলাইয়ের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান (এমপি) বলেন, আজকের এই দিনে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি বাংলাদেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। যিনি অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আজকের এই মূহুর্তটি অত্যন্ত আনন্দঘন, কারণ স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে তোমরা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গণে পা রেখেছো। এ সময় সংসদ সদস্য আরও বলেন, আমরা এ অঞ্চলে সমুদ্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট গড়ে তুলবো যেখানে এমন সব গবেষক তৈরী হবে যারা সমুদ্রের অবারিত সম্পদকে আবিষ্কারের পাশাপাশি আহরণের পথ দেখিয়ে দেবে। সোনাপুরের দক্ষিণে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। ১০০ একরের এই ক্যাম্পাসের পাশাপাশি আরও একশত থেকে দেড়শত একরের ক্যাম্পাস গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অল্প দিনের মধ্যেই ক্যাম্পাসের সামনের রাস্তাকে চার লেন করার কাজ শুরু করা হবে এবং সোনাপুর রেলওয়েকে আরও দক্ষিণে সম্প্রসারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় নতুন একটি রেল স্টেশন করা হবে। আর এই কাজগুলো করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে তোমাদের শিক্ষার্থীদেরকেই। সেই দিন বেশি দূরে নয় যেদিন বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরবে।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে তোমরা যারা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি অগ্রসরমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছ তাদের আন্তরিক অভিনন্দন। নোবিপ্রবি বর্তমানে র‌্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে। যা নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে নানা ধরনের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে কর্মসংস্থান, মানব সম্পদ উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাদেরকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। অনেক বাধা বিপত্তির পরও শিক্ষাখাতের বাজেট দুই শতাংশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হবে। এ সময় তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করলে হবে না, তাদের চাকরি দেওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবিত ধারণা ও প্রযুক্তি শিল্পে প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করতে হবে। তরুণদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী কাজে যুক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় সহায়তার জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও ৮০০ কোটি টাকার তহবিলের উদ্যোগ রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নে ইউজিসির তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।


অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, নবীন শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে নোবিপ্রবিকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান অর্জনের জায়গা নয়; এটি মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। শিক্ষার পরিবেশকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখার পাশাপাশি নীতি-নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল কর্মকা-ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুন্ন রাখবে। উপাচার্য আরও বলেন, নোবিপ্রবিতে বর্তমানে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে বেশকিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একাডেমিক ভবন-৩-এর নির্মাণকাজ শিগগিরই শুরু হবে। পাঁচটি আবাসিক হলে ওয়াই-ফাই সংযোগের কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকট নিরসনে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরিবহন সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু বাস সংযোজন করা হয়েছে এবং আরও কিছু বাস যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন ৪টি হল নির্মাণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভাষা ইনস্টিটিউট ও সমুদ্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণ করে ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক জনাব মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন। অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন নোবিপ্রবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মহিনুজ্জামান, আবদুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জনাব মাহবুব আলমগীর আলো, নোয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব ইসহাক খন্দকার। নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের নুছরাত শরীফ সাবিহা ও বিবিএ বিভাগের নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ইউসূফ শেখ ও জান্নাতুল ফেরদৌস ইরা। নবীন বরণে অন্যান্যের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৯ পিএম

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা মেধায় কোনো অংশে কম নয়। আমাদের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আমরা যদি এআই প্রশিক্ষিত না করতে পারি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে। নিজের ভবিষ্যৎ নিজেকেই গড়তে হবে।’


‎আজ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।


‎শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করছে। আগামী বছর থেকে সারা দেশে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ১ কোটি ১২ লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। পুষ্টির ঘাটতি পূরণে দেওয়া হচ্ছে মিড ডে মিল।


‎২০২৮ সালের মধ্যে যুগোপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য জিমনেসিয়াম তৈরির বিষয়েও জোর দেন শিক্ষামন্ত্রী।


‎‎নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রিয় নবীনরা; তোমাদের দিকে দেশ তাকিয়ে আছে। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে তোমাদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। এই ফিফথ (পঞ্চম) জেনারেশন অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে যদি যেতে হয়, ন্যানোটেকনোলজিতে যেতে হয়, রোবটিক্স দিয়ে যদি কাজ করতে হয়, এআই দিয়ে কাজ করতে হবে।’


অনুষ্ঠানে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন—উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, জবির ট্রেজারারসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ,শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১৮ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১তম আবর্তন) নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ২ হাজার ১০০ জন নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নেওয়া হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। নবীন শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে মেধা, দক্ষতা ও জ্ঞানকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু পাঠ্যবিষয় আত্মস্থ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। বর্তমান বিশ্বে কারিগরি শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবটিক্স, ন্যানোটেকনোলজি ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতি একই সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।


মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। এই মেধাবী তরুণদের যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে তারা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়েও নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারবে।


নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদেরই গড়ে তুলতে হবে। শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের উৎকৃষ্ট মানবসম্পদ হিসেবে প্রস্তুত করতে হবে। একই সঙ্গে খেলাধুলা, বিতর্ক, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের বহুমাত্রিক দক্ষতা বিকশিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত ও যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করতে হবে।


নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ পরিচালনা করবে। তাই নিজেদের যোগ্যতা ও মেধাকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ, দক্ষ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ মোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব।


এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার, মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিসুর রহমান তালুকদার খোকন প্রত্যাশা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে জবি ছাত্রদল সব সময় পাশে থাকবে।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ তোমাদের হাতেই গড়ে উঠবে। তাই তোমাদের শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করতে হবে। সত্যিকারের দেশপ্রেম যদি কেউ শিখিয়ে গিয়ে থাকেন, তাহলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তা শিখিয়েছেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা, রণাঙ্গনে নিজে নেতৃত্ব প্রদান এবং তাঁর শাহাদাতের মধ্য দিয়েও দেশপ্রেমের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দলের বিভিন্ন ধরনের স্লোগান আমরা দেখতে পাই—কারও মঞ্জিল ভারত, কারও মঞ্জিল পাকিস্তান, আবার কারও মঞ্জিল চীন। কিন্তু আমাদের মঞ্জিল একটাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমার ঠিকানা এই দেশ, এই মাটি।’ আমরা এই দেশকে ভালোবেসে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। শহিদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে কাজ করেছেন। এজন্য আমাদের স্লোগান হবে—‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।’


উপাচার্য আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু বিগত ১৭-১৮ বছর ফ্যাসিবাদের করাল থাবার কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা আজ নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি যেসব ক্ষেত্রে অবহেলিত ও বঞ্চিত হয়েছে, সেসব সমস্যার সমাধানে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গঠনের পর দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস ধরে তিনি প্রতিনিয়ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমাধানে তিনি সচেষ্ট রয়েছেন। এ নিয়ে কেউ যেন ‘ক্রেডিট রাজনীতি’ না করেন, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, এই সংগঠন অত্যন্ত ভাগ্যবান, কারণ এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর সততা, দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা ও ব্যক্তিত্ব যেকোনো সংগঠনের জন্য গৌরব ও আদর্শের বিষয়। তিনি বলেন, বেগম জিয়া যার হাত ধরে এই সংগঠন বিকশিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে অবিসংবাদিতভাবে সকলের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। এমন একটি সংগঠনের নেত্রী ছিলেন, সকল নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করেও তিনি দেশ ও দলের নেতাকর্মীদের ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তিনি আরো বলেন, এই সংগঠন গর্ব করতে পারে যে, এর সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শুধু স্বপ্ন দেখেন না, স্বপ্ন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।


অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।


অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নবীনবরণ অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিকেলে রয়েছে কনসার্টের আয়োজন।


  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৪ পিএম

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও পরামর্শ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাঁধন বুটেক্স ইউনিটের উদ্যোগে এবং ইস্পাহানি ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালের সহযোগিতায় এই ক্যাম্প সেবার আয়োজন করা হয়।


বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ ক্যাম্প সেবা চলমান থাকে। আয়োজিত এ ক্যাম্পে  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চোখ পরীক্ষা, চোখের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়। চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন ইস্পাহানি ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিকেল টিম।


চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চক্ষু সমস্যার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পে অংশগ্রহণের জন্য আগে থেকেই রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিলো এবং নির্ধারিত সংখ্যক রেজিস্ট্রেশনকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।


ক্যাম্প পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় চক্ষু পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, "প্রথমেই বাঁধন বুটেক্স ইউনিটকে এমন একটি সুন্দর ও জনকল্যাণমূলক আয়োজনের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করা থেকে শুরু করে আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও শিক্ষাজীবনে সুস্থ চোখের গুরুত্ব অপরিসীম। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে তাদের চোখ পরীক্ষা করিয়ে চোখের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবে।"



বাঁধন বুটেক্স ইউনিটের সভাপতি পিয়াল আহমেদ বলেন, "বাঁধন বুটেক্স ইউনিটের উদ্যোগে ‘বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও পরামর্শ ক্যাম্প-২০২৬’ আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চোখের যত্ন ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে সবার কাছে প্রাথমিক চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।"


ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিহাব উদ্দিন মারুফ বলেন, "বাঁধন সবসময় মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। তারই ধারাবাহিকতায় এ চক্ষু ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। ক্যাম্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে চিকিৎসকবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক, বাঁধনের কর্মীবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।"


নোবিপ্রবিতে সায়েন্স ক্লাবের ওয়েবসাইট উদ্বোধন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৮ এএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নোবিপ্রবি সায়েন্স ক্লাবের ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নোবিপ্রবি উপাচার্য দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ সময় উপাচার্য নোবিপ্রবি সায়েন্স ক্লাবের নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট তৈরির জন্য সংগঠনের সদস্যদের অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন এবং এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ক্লাবের বিজ্ঞানভিত্তিক নানা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও নোবিপ্রবি সায়েন্স ক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। এ সময় অন্যান্যের মাঝে নোবিপ্রবি সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি সুবাহ তাসনিয়া ও সাধারণ সম্পাদক সাদমান রাকিনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ক্লাবের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, উদ্বোধনকৃত nstusc.org ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে নোবিপ্রবি সায়েন্স ক্লাবের সকল তথ্য, নিউজ এবং কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে। ওয়েবসাইট তৈরিতে সহযোগিতা করেছে নোবিপ্রবি সিএসটিই বিভাগের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালতি সফটওয়্যার স্টার্টআপ nanitex।