অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন
ইতালির ভেনিসে হামলার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ভেনিস শাখার কর্মী ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ দাবি করা একদল যুবক তাকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, একদল যুবক বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। এ সময় তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে তারা। হামলাকারীরা নিজেদের ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ দাবি করে।
এ ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে বিস্তারিত জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি ভাই এসে আমাকে ফিজিক্যালি হ্যারাস করেছে। আমার শরীরে পানি, কোক ছুড়ে মেরেছে। এতে আমি একদম ভিজে যাই। তারা আমার শরীরে হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে। আমার কানের পাশে আঘাত করেছে।’
এ ছাড়া তার ভাইয়ের স্ত্রীকেও আঘাত করা হয়েছে বলে ভিডিও বার্তায় জানান বাঁধন।
তাকে দমানো এত সহজ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘তারা বলেছে, আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।’
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন।
ফের আইনি জটিলতায় পড়েছেন বলিউডের নন্দিত নির্মাতা অনুরাগ কশ্যপ। ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে নিয়ে তার মন্তব্যের বিরুদ্ধে করা মামলায় এবার পরিচালকের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ভারতের সুরাটের একটি আদালত। সুরাটের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট জে ভি চৌহান এই পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবী কমলেশ রাওয়াল জানিয়েছেন, আদালতে হাজির হওয়ার জন্য অনুরাগকে একাধিকবার নোটিস পাঠানো হয়েছিল। এমনকি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও তাকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার কথা জানানো হয়। তবে কোনো নোটিসেরই জবাব দেননি পরিচালক। ফলে এই নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ২৪ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি আছে।মামলার সূত্রপাত চলতি বছরের মে মাসে। আইনজীবী কমলেশ রাওয়ালের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুরাগের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯২, ৩৫২ ও ৩৫২(২) ধারায় মামলা করার নির্দেশ দেন আদালত। এসব ধারায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ ও শত্রুতা উসকে দেওয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করে শান্তিভঙ্গের পরিস্থিতি তৈরি করা এবং মিথ্যা গুজব ছড়ানোর মতো অভিযোগের বিষয় রয়েছে। কমলেশ রাওয়াল কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের আইনি উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন।
অভিযোগের সূত্র ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল অনুরাগের করা একটি পোস্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় সম্পর্কে পরিচালকের মন্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন আদিত্য নামের এক ব্যক্তি। এর জবাবে অনুরাগ তাকে প্রশ্ন করেন, ব্রাহ্মণ হয়ে তিনি কী অর্জন করেছেন? এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক তৈরি হয়। পরে পরিচালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন কমলেশ রাওয়াল।অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, শুরুতে অনুরাগের উপস্থিতিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় একাধিকবার সমন পাঠানো হয়। তাতেও সাড়া না মেলায় সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন আদালত। এরপরও পরিচালক উপস্থিত না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে জামিন পাওয়ার সুযোগ থাকে। এখন এই মামলায় অনুরাগ কশ্যপের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা দেখার অপেক্ষা। আগামী ২৪ ডিসেম্বর আদালতে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
সূত্র: আউটলুক ইন্ডিয়া
অমিতাভ বচ্চন
মুম্বাইয়ের জুহুতে নিজ বাসভবন ‘জলসা’র বাইরে প্রতি রোববার ভক্তদের সঙ্গে দেখা করার দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের। গত রোববারও ভক্তদের সামনে এসেছিলেন তিনি, তবে এবার তাকে দেখা গেছে বিশেষ এক বুলেটপ্রুফ কাচের বক্সের ভেতর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক অজ্ঞাতপরিচয় ইমেইলে অমিতাভ বচ্চনের বাসভবনে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। এরপরই মুম্বাই পুলিশের পরামর্শে বাড়তি সুরক্ষা হিসেবে এই স্বচ্ছ বুলেটপ্রুফ কাচের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়।
কাচের বাক্সের ভেতরে দাঁড়িয়েই হাত নেড়ে অনুরাগীদের অভিবাদন জানান তিনি। আর পুরো সময়টায় তার পাশে ছায়ার মতো ছিলেন ছেলে অভিষেক বচ্চন। নিরাপত্তারক্ষীরা কড়া নজরদারি চালাচ্ছিলেন সেখানে।
কেন এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা? জানা গেছে, সম্প্রতি মুম্বাইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়েসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে একটি হুমকিমূলক ই-মেইল এসেছে। ওই মেইলে মেয়রের কার্যালয়, গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জের কনসার্ট, অমিতাভ বচ্চনের বাসভবন জলসা ও বেশ কিছু স্কুলে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়।
৩১ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে এই হামলা হতে পারে বলে উল্লেখ থাকায় মুম্বাই পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। সম্প্রতি জুহুতে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।
সেই ঘটনার তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অমিতাভ বচ্চনসহ বলিউডের বেশ কয়েকজন শীর্ষ তারকার বাড়ির বাইরে আগে থেকেই রেকি করেছিল অভিযুক্তরা।
এমন আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে তাই অমিতাভ বচ্চনের বাড়ি ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। বসানো হয়েছে ব্যারিকেড ও বুলেটপ্রুফ কাচের বিশেষ আবরণ।
তবে এত সব বাধা ও হুমকির মুখেও থেমে থাকেনি অমিতাভের রোববারের ঐতিহ্য। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থেকেও ভক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের এই আত্মিক যোগাযোগ ঠিকই বজায় রেখেছেন বর্ষীয়ান এই মেগাস্টার।
কোয়েল মল্লিক
একটি চিঠির জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা, প্রিয় মানুষের কণ্ঠ শুনতে এসটিডি বুথে ছুটে যাওয়া, ক্যাসেটে পছন্দের গান রেকর্ড করে উপহার দেওয়া-নব্বইয়ের দশকের প্রেমে এমন ছোট ছোট মুহূর্তই ছিল আনন্দের বড় উপলক্ষ। যোগাযোগের মাধ্যম সীমিত হলেও অনুভূতি প্রকাশে ছিল না কোনো কমতি। সেই সময়ের প্রেম, আবেগ আর স্মৃতির ঝাঁপি খুলে এবার টেলিভিশনের পর্দায় আসছে নতুন ধারাবাহিক ‘ডিয়ার ৯০’স’। তবে শুধু নস্টালজিয়া নয়, এই ধারাবাহিকের বড় আকর্ষণ অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। প্রথমবারের মতো টেলিভিশনের ধারাবাহিকে দেখা যাবে তাকে।
আগামী ২৩ নভেম্বর থেকে সোনি আটে প্রচারিত হবে ধারাবাহিকটি। নব্বইয়ের দশককে গল্পের পটভূমি করে সাজানো হয়েছে এর কাহিনি। সে সময়ের প্রেম, বন্ধুত্ব, স্বপ্ন, অপেক্ষা আর সম্পর্কের নানা সমীকরণ উঠে আসবে এতে। স্মার্টফোন কিংবা সামাজিক মাধ্যমের যুগে দাঁড়িয়ে অতীতের সেই দিনগুলো যেন অন্য এক পৃথিবী। যেখানে একটি চিঠি হাতে পাওয়া কিংবা প্রিয় মানুষের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলার সুযোগও হয়ে উঠত বিশেষ স্মৃতি। ‘ডিয়ার ৯০’স’ সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের অনুভূতিগুলোই নতুন করে সামনে আনতে চায়।
সম্প্রতি প্রকাশিত ধারাবাহিকটির প্রোমোতেও রয়েছে নব্বইয়ের দশকের আবহ। গোলাপি শাড়িতে কোয়েল মল্লিককে দেখা গেছে হাসিমুখে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণা করতে। পেছনে বাজছে সেই সময়ের জনপ্রিয় প্রেমের গান। নতুন এই কাজ নিয়ে উচ্ছ্বসিত কোয়েল মল্লিক।
তাঁর মতে, নব্বইয়ের দশকের প্রেমে ছিল এক ধরনের সারল্য ও জাদু। অপেক্ষা, ছোট ছোট উপহার কিংবা সামান্য কোনো মুহূর্তও তখন অনেক বড় আনন্দের কারণ হয়ে উঠত। ‘ডিয়ার ৯০’স’-এর গল্প তাঁকে সেই দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। এমন একটি গল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে ভালো লাগছে তাঁর। দর্শকরাও ধারাবাহিকটি দেখতে গিয়ে নিজেদের জীবনের পুরোনো কোনো স্মৃতির সঙ্গে মিল খুঁজে পাবেন বলে আশা করছেন অভিনেত্রী।
সুরিন্দর ফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রযোজনায় নির্মিত ধারাবাহিকটিতে কোয়েলের পাশাপাশি অভিনয় করবেন শঙ্খজিৎ সেনগুপ্ত ও অপরাজিতা মুখার্জি।
বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের ৬১তম জন্মদিনে চলচ্চিত্র জগতের বহু তারকা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে সবার মাঝেই আলাদা করে নজর কেড়েছে অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খানের একটি পোস্ট। সুপারস্টারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি যেন তার আসন্ন ‘কিং’ সিনেমায় একটি বিশেষ উপস্থিতির ইঙ্গিতও দিয়েছেন।গত ২ নভেম্বর ইনস্টাগ্রামে শাহরুখ খানের জন্মদিনে একটি বিশেষ ছবি শেয়ার করেন কারিনা। সেই ছবিতে কারিনা এবং শাহরুখের সিল্যুট বা ছায়াছবি একসঙ্গে নাচতে দেখা গেছে। যদিও ছবিতে তাদের মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি, তবুও পর্দায় তাদের বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন নিয়ে ভক্তদের মাঝে উন্মাদনা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এইটুকুই যথেষ্ট ছিল।‘কিং’ সিনেমায় তার যুক্ত থাকা নিয়ে চলা সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কারিনা তার জন্মদিনের বার্তায় সিনেমার নাম উল্লেখ করেছেন। পোস্টটি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন কিং! সাম্রাজ্যের চিরকালের শাসক। চলো একসঙ্গে নাচি... আর অপেক্ষা করতে পারছি না। ২৪-১২-২৬।’একসঙ্গে নাচার এই প্রসঙ্গটি আসন্ন অ্যাকশন এন্টারটেইনার ছবির জন্য নির্মিত ‘ড্যাডি কুল’ শিরোনামের একটি বিশেষ গান নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই গানের মাধ্যমেই শাহরুখের সঙ্গে পর্দায় ফিরছেন কারিনা। তবে অভিনেত্রীর শেয়ার করা ছবিটি সিনেমার শ্যুটিংয়ের সময়কার কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, কারিনা এবং শাহরুখ এর আগেও বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছেন। এই জুটি ‘অশোকা’, ‘কভি খুশি কভি গম’ এবং ‘রা.ওয়ান’-এর মতো প্রজেক্টে কাজ করেছেন। ফলে ‘কিং’ সিনেমায় তাদের এই পুনর্মিলন ভক্তদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
কারিনার এই জন্মদিনের পোস্টটি তাদের পর্দার পেছনের রসায়নের ইঙ্গিত দেওয়ায়, এখন দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ‘কিং’ সিনেমায় এই দুই তারকাকে একসঙ্গে দেখার জন্য।
সূত্র: ফিল্মফেয়ার
হলিউডে ব্লকবাস্টার সিনেমা তৈরির স্বপ্ন বহুদিনের। ১৯৭৫ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গের জস সিনেমা উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে ১০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে নতুন ইতিহাস গড়েছিল। সেই থেকে বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য হয়ে ওঠে বক্স অফিসে বিপুল আয়। তবে একটি সিনেমা কীভাবে শতকোটি ডলারের ব্যবসা করে, সেই প্রশ্নের সহজ কোনো উত্তর নেই।
ফোর্বসের বিনোদনবিষয়ক লেখক টিম ল্যামারসের বিশ্লেষণ বলছে, সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমাগুলোর সাফল্যের পেছনে দুটি বিষয় বিশেষভাবে কাজ করেছে—দর্শকের সঙ্গে গল্পের সংযোগ এবং পরিচিত চরিত্র ও ফ্র্যাঞ্চাইজির আকর্ষণ। ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসের হিসাব বিশ্লেষণ করে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে পরিচিত গল্প, জনপ্রিয় চরিত্র, আবেগ এবং দর্শনীয় নির্মাণশৈলী মিলে তৈরি হয়েছে একেকটি ব্লকবাস্টার।
সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা ১০ সিনেমা
মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে টিকিটের দাম সমন্বয় না করে বিশ্বব্যাপী আয়ের হিসাবে সর্বকালের সেরা ১০ সিনেমার তালিকায় আটটি ছবির আয় ২০০ কোটি ডলারের বেশি। বাকি দুটি ছবিও সেই মাইলফলকের খুব কাছাকাছি।
‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ (২০১৯)—২৯৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।
‘অ্যাভাটার’ (২০০৯)—২৯২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ (২০২৬)—২৫১ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ (২০২২)—২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
‘নে ঝা ২’ (২০২৫)—২২৭ কোটি ডলার।
‘টাইটানিক’ (১৯৯৭)—২২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স’ (২০১৫)—২০৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।
‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ (২০১৮)—২০৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।
‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ (২০২১)—১৯২ কোটি ১০ লাখ ডলার।
‘জুটোপিয়া ২’ (২০২৫)—১৮৭ কোটি ডলার।
শীর্ষে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’
২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ এখনো বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার তালিকায় শীর্ষে। অ্যান্থনি ও জো রুশো পরিচালিত ছবিটি ছিল মার্ভেলের মূল অ্যাভেঞ্জারদের দীর্ঘদিনের গল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ক্রিস ইভানস, ক্রিস হেমসওয়ার্থ ও স্কারলেট জোহানসনের মতো তারকারা অভিনয় করেছেন এতে।
২০১৮ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’-এর শেষে থানোসের আঙুলের এক চুটকিতে মহাবিশ্বের অর্ধেক প্রাণী বিলীন হয়ে যায়। সেই ঘটনার পাঁচ বছর পরের কাহিনি নিয়ে নির্মিত এন্ডগেম। হারিয়ে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনতে অ্যাভেঞ্জাররা শুরু করে সময়ভ্রমণের এক বিপজ্জনক অভিযান।
ছবিটির সাফল্যের বড় কারণ ছিল দর্শকের দীর্ঘদিনের আবেগ ও অপেক্ষা। ২০০৮ সালে আয়রন ম্যান দিয়ে যে গল্পের সূচনা, এক দশকের বেশি সময় ধরে সেই গল্পের সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন দর্শকেরা। ফলে প্রিয় চরিত্রগুলোর বিদায়, ত্যাগ ও আবেগঘন পরিণতি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করেছিলেন তাঁরা। যদিও ২০২৪ সালে মার্ভেল ঘোষণা দেয়, আবারও ফিরছেন অ্যাভেঞ্জাররা। আসছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’।
‘অ্যাভাটার’ বদলে দিয়েছিল সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা
জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার’ মুক্তি পায় ২০০৯ সালে। কাল্পনিক গ্রহ প্যান্ডোরার পটভূমিতে নির্মিত এই ছবিতে দেখা যায়, সাবেক সেনাসদস্য জেক সালি সেখানে গিয়ে এক ভিন্ন জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। নাভি জনগোষ্ঠীর সদস্য নেইতিরির প্রেমে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যায় তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। পৃথিবীর মানুষের লোভ ও প্যান্ডোরার প্রাকৃতিক সম্পদ দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দাঁড়ান তিনি।
‘টাইটানিক’-এর পর আবারও বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন ক্যামেরন। তবে শুধু গল্প নয়, ছবিটির ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ও চোখধাঁধানো দৃশ্যও দর্শকদের আকৃষ্ট করেছিল। বড় পর্দায় নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম হয়েছিল ছবিটি। টিকিটের বাড়তি দাম দিয়েও দর্শকেরা সিনেমাটি দেখতে আগ্রহী হয়েছিলেন।
১৩ বছর পর মুক্তি পায় ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’। এবার প্যান্ডোরার জলজ পরিবেশ ও মেটকায়িনা জনগোষ্ঠীকে ঘিরে এগিয়েছে গল্প। প্রথম ছবির জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সিক্যুয়েলটিও বিশ্বব্যাপী ২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করে। ক্যামেরনের পরিচালনায় ২০০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করা সিনেমার সংখ্যা দাঁড়ায় তিনে—‘টাইটানিক’, ‘অ্যাভাটার’ও ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’।
চীনা অ্যানিমেশনও দেখিয়েছে চমক
তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনা অ্যানিমেশন সিনেমা ‘নে ঝা ২’। ইউ ইয়াং পরিচালিত ছবিটি ২০১৯ সালের ‘নে ঝা’র সিক্যুয়েল। চীনা পুরাণের জনপ্রিয় চরিত্র নে ঝাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই অ্যাকশন-ফ্যান্টাসি ছবির গল্প।
বিশ্বব্যাপী ২২৭ কোটি ডলার আয় করা ছবিটির সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে চীনের বাজার থেকে। মোট আয়ের প্রায় ২২০ কোটি ৯০ লাখ ডলারই এসেছে দেশটি থেকে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ছবিটির আয় ছিল মাত্র ২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের মতো। অর্থাৎ হলিউডের বাইরের একটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পুরাণভিত্তিক অ্যানিমেশনও যে বিশ্ব বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেতে পারে, তার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে ‘নে ঝা ২’।
তালিকায় ব্যতিক্রম ‘টাইটানিক’
সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার তালিকায় ‘টাইটানিক’ কিছুটা ব্যতিক্রম। কারণ, অন্য ছবিগুলোর অধিকাংশই কল্পবিজ্ঞান, সুপারহিরো কিংবা ফ্যান্টাসিনির্ভর। কিন্তু জেমস ক্যামেরনের ১৯৯৭ সালের এই সিনেমার গল্পের ভিত্তি বাস্তব একটি ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা।
লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ও কেট উইন্সলেট অভিনীত ছবিটিতে জ্যাক ও রোজের প্রেমের গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ১৯১২ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া টাইটানিক জাহাজের মর্মান্তিক ঘটনা। শ্রেণিবৈষম্য, প্রেম, বিচ্ছেদ ও মৃত্যুর মতো সর্বজনীন আবেগ ছবিটিকে দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
১১টি অস্কার জেতা ছবিটি শিল্প ও বাণিজ্য—দুই ক্ষেত্রেই বিরল সাফল্য পেয়েছে। তালিকার সেরা ১০ সিনেমার মধ্যে একমাত্র ‘টাইটানিক’ই সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে অস্কার জিতেছে।
পরিচিত চরিত্র ও গল্পই কি সাফল্যের চাবিকাঠি?
সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমাগুলোর তালিকা বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শীর্ষ ১০ ছবির মধ্যে টাইটানিক বাদে বাকি নয়টি সিনেমাই কোনো না কোনো জনপ্রিয় ঘরানা কিংবা পরিচিত গল্পের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে আটটি ছবিই আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ।
সুপারহিরো সিনেমার আধিপত্যও চোখে পড়ার মতো। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ ও ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’—চারটি ছবিই এই ঘরানার।
পরিচিত চরিত্র ও গল্পের প্রতি দর্শকের আগ্রহকে কাজে লাগাতে চায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ, শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করে সম্পূর্ণ নতুন গল্প ও চরিত্র নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে প্রতিষ্ঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন কিস্তি নির্মাণ তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করে তারা।
তবে শুধু পরিচিতি থাকলেই সাফল্য আসে না। দর্শকের সঙ্গে গল্পের আবেগের সংযোগও জরুরি। পর্দার চরিত্রের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করতে পারলে কিংবা তাদের আনন্দ-বেদনার সঙ্গে একাত্ম হতে পারলে সেই সিনেমা দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। আবার সেই অভিজ্ঞতা ফিরে পেতে দর্শক ছবিটি দ্বিতীয়বারও দেখতে চান।
সুপারহিরো সিনেমায় ক্লান্তি, তবু আশা ছাড়ছে না হলিউড
‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ মুক্তির পর সুপারহিরো সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহে ভাটা পড়তে শুরু করে। চলচ্চিত্রবিশ্বে এই প্রবণতা পরিচিতি পেয়েছে ‘সুপারহিরো ফ্যাটিগ’ নামে। একের পর এক সুপারহিরো সিনেমা মুক্তি পেলেও আগের মতো সাফল্য পাচ্ছে না অনেক ছবিই।
২০১৯ সালের পর ডিজনির প্রযোজিত মার্ভেল সিনেমাগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করতে পেরেছে মাত্র একটি-২০২৪ সালের ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন। ছবিটি আয় করে ১৩৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
অবশ্য কিছু ছবি ভালো ব্যবসা করেছে। ২০২২ সালে ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস’ আয় করে ৯৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। একই বছর ব্ল্যাক প্যান্থার: ওয়াকান্ডা ফরএভার আয় করে ৮৫ কোটি ৯২ লাখ ডলার। তবু সামগ্রিকভাবে মার্ভেলের আগের সাফল্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এখন মার্ভেলের ভরসা আবারও পরিচিত তারকারা। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ছবিতে ফিরছেন আগের অ্যাভেঞ্জারদের অনেকেই। এই ছবি সুপারহিরো ঘরানার হারানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে পারে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।
এক বিলিয়ন ডলারের সাফল্য কি বারবার পাওয়া সম্ভব
বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণ করলেই যে বক্স অফিসে সাফল্য আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। জেমস ক্যামেরন ও ক্রিস্টোফার নোলান—এই দুই নির্মাতাই যেন একাধিকবার প্রমাণ করেছেন, কীভাবে দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনা যায়। ক্যামেরনের টাইটানিক ও অ্যাভাটার সিরিজের পাশাপাশি নোলানের ‘দ্য ডার্ক নাইট’ ফ্র্যাঞ্চাইজিও বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছে। নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ ও আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে তারকা থাকলেই যে সিনেমা সফল হবে, সেই ধারণাও এখন আর নিশ্চিত নয়। ২০২৬ সালে টম ক্রুজ অভিনীত অ্যাপোক্যালিপটিক ব্যঙ্গধর্মী ছবি ‘ডিগার’ বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ বড় তারকার উপস্থিতিও সব সময় দর্শক টানতে পারে না।
এর বিপরীতে কম বাজেটের সিনেমাও যে বিপুল মুনাফা করতে পারে, তার উদাহরণ ‘অবসেশন’। কারি বার্কার পরিচালিত হরর ছবিটির নির্মাণ ব্যয় ছিল মাত্র ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রায় দেড় কোটি ডলারে কিনে নেয় ফোকাস ফিচার্স। মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই ছবিটি আয় করে ১ কোটি ৭১ লাখ ডলার। শেষ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকায় ২৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ২৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার আয় করে। বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ৫২ কোটি ডলার।
একইভাবে কেন পারসনসের স্বল্প বাজেটের হরর ছবি ব্যাকরুমস নির্মাণে খরচ হয়েছিল ১ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় দাঁড়ায় ৪০ কোটি ডলার। এই দুই ছবির নির্মাতারই ইউটিউবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে আগে থেকে দর্শক তৈরি হয়েছিল। সেই দর্শকেরাই পরে তাঁদের সিনেমা দেখতে প্রেক্ষাগৃহে গেছেন। অর্থাৎ নতুন গল্পের পাশাপাশি নতুন নির্মাতারাও দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করছেন।
সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমাগুলোর তালিকা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার—বক্স অফিসে সাফল্যের কোনো নির্দিষ্ট সূত্র নেই। পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি, জনপ্রিয় তারকা, বড় বাজেট কিংবা চোখধাঁধানো ভিজ্যুয়াল-কোনোটিই এককভাবে সাফল্যের নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
বরং দর্শকের সঙ্গে গল্পের সংযোগ তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি সিনেমা দর্শককে আনন্দ দিতে পারলে, আবেগে নাড়া দিতে পারলে কিংবা নতুন অভিজ্ঞতা দিতে পারলে বক্স অফিসে সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
টিকটক তারকার মেহেদি অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে নিহত ১, আহত ১৩
পাকিস্তানের শিয়ালকোটে জনপ্রিয় এক টিকটক তারকার মেহেদি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ঘিরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে শিয়ালকোটের একটি ক্রিকেট মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা হতাহতের তথ্য জানান। খবর জিও নিউজের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই টিকটকারের নাম মুহাম্মদ আনসার জাট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘মিস্টার পাতলো’ নামে পরিচিত।
উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার রাতে শিয়ালকোটের ডাসকা রোডের ফারাজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা ছিল। অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য আয়োজকেরা স্টেডিয়ামের ফটক খুলে দিলে হঠাৎ হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এতে অনেকেই মাটিতে পড়ে যান এবং পদদলিত হন।
শিয়ালকোট পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ১৪ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩০ বছর বয়সী মুহাম্মদ আকিলের অবস্থা গুরুতর ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। এতে চারটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স অংশ নেয়। আহত ব্যক্তিদের শিয়ালকোটের আল্লামা ইকবাল মেমোরিয়াল টিচিং হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বেশিরভাগ আহতকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তিদের বয়স ২২ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে। তারা নারোওয়াল, গুজরানওয়ালা, শেখুপুরা, খানেওয়াল, ওকারা, শিয়ালকোট, গুজরাট ও বাহাওয়ালপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
তবে স্থানীয় দুই বাসিন্দা মুহাম্মদ আসিফ ও আমির আলীর দাবি, পদদলিত হওয়ার ঘটনায় ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই উপস্থিত লোকজন আহত কয়েকজনকে নিজেদের উদ্যোগে আশপাশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যান।
শিয়ালকোটের জেলা জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা প্রকৌশলী নাভিদ ইকবাল বলেন, ক্রিকেট মাঠে এত বড় জমায়েতের আয়োজন সম্পর্কে উদ্ধারকারী সংস্থাকে আগাম জানানো হয়নি।
দুর্ঘটনার পর শিয়ালকোটের জেলা পুলিশপ্রধান (ডিপিও) দোস্ত মুহাম্মদ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও এলিট ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার নির্দেশে পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব হয়।
এ সময় আয়োজকদের সমালোচনা করেন জেলা পুলিশপ্রধান। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেডিয়ামের ফটক খুলে দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডিপিও আরও বলেন, নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। দুর্ঘটনার সব দিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।