হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ফলের চালানের কাঠের পাটাতনের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার নিরাপত্তা, পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কীভাবে বিদেশ থেকে আসা ফলের চালানের সঙ্গে কার্গো ভিলেজ পর্যন্ত পৌঁছাল, চালানটি কোন কোন ধাপ অতিক্রম করেছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল-এসব বিষয় এখন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলের চালানের পাটাতনে ১৬ কেজি স্বর্ণ
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই ২০২৬ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিমানবন্দরের বর্তমান আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সের গেট ৮(এ)-এর অভ্যন্তরে বিজিএমইএ শেডের পেছনে সন্দেহজনক একটি ফলের চালান শনাক্ত করা হয়। পরে চালানটি স্ক্যান ও ইনভেন্টরির জন্য কাস্টমস হাউস, ঢাকার অধীন এক্সপ্রেস সার্ভিস ইউনিটের গেট-৯ এলাকায় নেওয়া হয়।
প্রথম দফায় ফলের চালানের মধ্যে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। তবে চালানটি যে কাঠের সমতল পাটাতনের ওপর রাখা ছিল, সেটি নিয়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পাটাতনটি স্ক্যানিং মেশিনে পরীক্ষা করলে এর ভেতরে স্বর্ণসদৃশ ধাতব বস্তুর অস্তিত্বের প্রাথমিক আলামত পাওয়া যায়।
এরপর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কাঠের পাটাতন খুলে হলুদ রঙের স্কচটেপে মোড়ানো ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বারের ওজন এক কেজি করে। অর্থাৎ মোট ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার হয়। জব্দ তালিকায় বারগুলোর গায়ে সিরিয়াল নম্বর এবং কয়েকটির গায়ে ‘KILO’ লেখা থাকার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তীতে স্বর্ণ পরীক্ষক দি নিউ ইসলাম জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. মাহফুজুল ইসলাম বারগুলোর ওজন ও বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে প্রত্যয়ন দেন। ওই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে স্বর্ণগুলো জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, স্বর্ণের বারগুলো ফলের চালানের কাঠামোর মধ্যে লুকানো ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস চালানটি শনাক্ত করে স্বর্ণ উদ্ধার করে। কার্গো এলাকায় স্ক্যানিং মেশিন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বর্ণ চোরাচালানে কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা জড়িত নন বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
নিরাপত্তা নিয়ে কী বলছে বেবিচক
কার্গো ভিলেজের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা রয়েছে কি না-এমন প্রশ্নে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
কার্গো ভিলেজের নিরাপত্তা দুর্বল-এমন অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তবে ১৬ কেজির মতো বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ফলের চালানের কাঠের পাটাতনের ভেতরে লুকিয়ে কার্গো এলাকায় পৌঁছানোর ঘটনা বিদ্যমান নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আমদানিকারকসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা
মামলার নথি অনুযায়ী, স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান Food Link-এর স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম মোস্তফাকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চালানটি খালাসের জন্য ASYCUDA World System-এ A. RAZZAQUE TRADING নামের একটি সিএন্ডএফ এজেন্টকে ট্যাগ করা ছিল। সংশ্লিষ্ট এয়ারওয়ে বিলের নথিতে FASTRACK CARGO SOLUTIONS LTD. নামের একটি ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের তথ্যও পাওয়া যায়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মাস্টার ও হাউস এয়ারওয়ে বিলের মাধ্যমে আমদানি করা পণ্য ১৯ জুলাই ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভের কাছে ডেলিভারি দেওয়া হয়।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, সন্দেহজনক চালানটির প্রাথমিক কার্যক্রমের সময় সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে একজন কাস্টমস সরকার উপস্থিত ছিলেন। ওই সময়ের কার্যক্রম বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা প্রতিনিধির বডি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।
অভিযান ও জব্দ প্রক্রিয়ার ভিডিও ফুটেজও বডি ক্যামেরায় ধারণ করা হয় এবং পরে চাহিদার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পেনড্রাইভে সরবরাহ করা হয়েছে বলে কাস্টমসের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ফলে চালানটি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কারা এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং কার্গো ভিলেজে প্রবেশ থেকে স্বর্ণ শনাক্ত হওয়া পর্যন্ত এটি কী কী নিরাপত্তা ও ছাড়করণ ধাপ অতিক্রম করেছে-এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত উদ্ধার ৬০ কেজির বেশি স্বর্ণ
কাস্টমসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ৬০ কেজি ১৮৭ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের এই তথ্য চোরাচালানের প্রবণতা এবং বিমানবন্দরের কার্গো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে একাধিক বড় চালান শনাক্ত হওয়ার পর পণ্য পরীক্ষা, স্ক্যানিং সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
৩৭৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ
১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্গো নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ-চাঁদাবাজি, রোস্টার প্রভাবিত করা, পণ্য ছাড়করণে অনিয়ম এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, কার্গো শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মইনউদ্দিন লোটাস, কর্মী নম্বর পি-৩৬৭৩৯-এর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রটিতে ৩৭৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, কার্গো শাখার সিএন্ডএফ এজেন্ট, রপ্তানি পণ্যের ফরওয়ার্ডার, হেলপার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ বা চাঁদা আদায় করা হতো। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বদলি, চাকরিচ্যুতি কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয় এবং সংশ্লিষ্ট নথি, সাক্ষ্য ও তদন্তের মাধ্যমে এর সত্যতা যাচাই প্রয়োজন।
চার শিপমেন্টের কাগজপত্র নিয়েও অভিযোগ
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বরের একটি ঘটনায় চারটি শিপমেন্টের কাগজপত্র ও এক্সিট নম্বর নিয়ে অনিয়ম হয়েছিল। বিমান কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে দায় নির্ধারণ করা হলেও পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়।
এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিপমেন্টের নথি, এক্সিট রেকর্ড, ডেলিভারি তথ্য এবং তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই প্রয়োজন।
১,৯২১ কেজি পণ্যের হদিস নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগপত্রে চীন থেকে আমদানি করা ইলেকট্রনিক পণ্যের একটি চালান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে এয়ারওয়ে বিল নম্বর ৭৮৪-৬৯২৫৩৩৬৫-এর অধীনে ৫৬ পিস, মোট ১ হাজার ৯২১ কেজি পণ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই ওই পণ্য সিএন্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে বের করে নেওয়া হয় এবং পরে পণ্যগুলোর হদিস পাওয়া যায়নি। এর ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও কাস্টমসের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।
অভিযোগে এয়ারওয়ে বিল নম্বর ৬১৯-১০৭৭১৬৮১-এর অধীনে ১৩২ পিস এবং প্রায় ৩ হাজার ২৩৯ কেজি কার্গো পণ্য ছাড়করণ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জাল কাগজপত্র ব্যবহার ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে ওই পণ্য ছাড় করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে মইনউদ্দিন লোটাস ডেলিভারি গেটে দায়িত্বে ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এয়ারওয়ে বিল, ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, কাস্টমস ডকুমেন্ট, ডেলিভারি রেকর্ড, এক্সিট নম্বর এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
‘বকশিশ’ নেওয়ার বক্তব্য
অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত বলে দাবি করা হাতে লেখা দুটি বক্তব্যেও কার্গোতে অতিরিক্ত কাজের বিনিময়ে টাকা পাওয়ার প্রসঙ্গ রয়েছে।
মো. আলী-আশরাফুজ্জামান, জি-৫২৭৯৬-এর নামে থাকা একটি বক্তব্যে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে সেটিকে কাজের বিনিময়ে ‘বকশিশ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে মোরশেদ ও আশরাফের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
অন্য একটি বক্তব্যে কার্গো হেলপার খোরশেদ আলম, জি-৫২৫০৯-এর নামে অতিরিক্ত কাজ, নাইট চেকিং ও মালামাল লোডিংয়ের সঙ্গে বকশিশ পাওয়ার কথা লেখা রয়েছে।
রোস্টার ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও অভিযোগ
কার্গো বিভাগের রোস্টার প্রণয়ন ও দায়িত্ব বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একই কর্মকর্তা নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেকশনে বারবার দায়িত্ব পেয়েছেন এবং স্বাভাবিক রোটেশন অনুসরণ করা হয়নি। নিরাপত্তা বিভাগেও একই এলাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য অন্তত গত এক বছরের ডিউটি রোস্টার, সংশোধিত রোস্টার, উপস্থিতি রেজিস্টার এবং দায়িত্ব পরিবর্তনের অনুমোদনপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
যা বলছেন মইনউদ্দিন লোটাস ও বিমান কর্তৃপক্ষ
অভিযোগের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মইনউদ্দিন লোটাসের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দেননি। অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়গুলো যাচাই করছেন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে মইনউদ্দিন লোটাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে এবং সেগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ফলের চালানের কাঠের পাটাতনে ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা শুধু একটি চোরাচালান মামলা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। চালানটির প্রবেশ, সংরক্ষণ, হ্যান্ডলিং ও ছাড়করণ প্রক্রিয়ায় কারা দায়িত্বে ছিলেন, কোথায় নজরদারির ঘাটতি ছিল এবং কার্গো শাখাকে ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলোর সঙ্গে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার যোগসূত্র রয়েছে কি না-এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা বৃদ্ধি ও দুদেশের মধ্যকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক (Sarah Cooke) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার। তিনি বলেন, ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা ব্রিটেন ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধন জোরদার ও উন্নয়নে প্রভূত অবদান রাখছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি কমনওয়েলথের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়ন ও অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় সারাহ কুক (Sarah Cooke) রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রপতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনপত্রের জন্য রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনারের মাধ্যমে রাজার প্রতি শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক আগামী দিনে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ হবে।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ, কমনওয়েলথ এর শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। এ ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ সময় ওয়েস্টমিনিস্টার পদ্ধতির গণতন্ত্র চর্চায় যুক্তরাজ্যের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
হাইকমিশনার এ সময় জানান, তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রায় ৯৯.৯৯ শতাংশ পণ্য এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আরো তিন বছর যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত অবাধ প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। রাষ্ট্রপতি এ সুবিধাকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ডিজিটাল ক্লাইমেট ডাটা বিনিময়ের উদ্যোগের বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। দুই দেশের মধ্যে আবহাওয়া ও জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রেস সচিব, ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার ও উন্নয়ন পরিচালক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হাওড়া ফিশ মার্কেটের ইলিশ
বাংলাদেশের ইলিশের জন্য মুখিয়ে থাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে তৈরি হয় আগ্রহ। অথচ এবার পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো। দেশের বাজারের ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকেই ইলিশ আসছে ‘ইলিশের দেশে’।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টেই এসেছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি। জুলাইয়ে এসেছিল ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি। আমদানি করা এসব ইলিশের ঘোষিত মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইলিশ উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। বিশ্বে মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বাংলাদেশে হয় বলে জানিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। দেশের নদনদী ও বঙ্গোপসাগর ইলিশের অন্যতম প্রধান বিচরণক্ষেত্র। সেই বাংলাদেশের বাজারেই এখন ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে ইলিশের জোগান কমে যাওয়ায় চাহিদা মেটাতে আমদানি করতে হচ্ছে।
ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই মাসে ভারত থেকে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে। হাওড়া পাইকারি ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশে এবার ইলিশের ঘাটতি থাকায় প্রথমবারের মতো হাওড়া বাজার থেকেও ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। সাধারণত হাওড়া থেকে বাংলাদেশে রুই, পারসে, ট্যাংরাসহ বিভিন্ন মাছ যায়।
গুজরাটের ইলিশের ক্ষেত্রেও এবার ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গুজরাটে এবার ইলিশের জোগান ভালো হওয়ায় তুলনামূলক কম দামে মাছ পাওয়া যাচ্ছে। ডিমওয়ালা ইলিশের চাহিদা থাকায় এসব মাছ বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে ইলিশের ডিম আলাদা করে বিক্রি এবং কিছু মাছ নোনা ইলিশ হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে। আরও ১০০ থেকে ১৫০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্ট মাসে মোট ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ইলিশ এনেছে। জুলাইয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। আমদানি করা এসব মাছের ঘোষিত মূল্য ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা।
জুলাইয়ে আমদানি মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা। বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, প্রথম দুই মাসে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। মাছ পরীক্ষা করে কোয়ারেন্টাইন সনদ দেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ভারতীয় ইলিশ আমদানি হয়েছে। কাস্টমসের ছাড়পত্র ও বন্দরের শুল্ক আদায়ের পর আমদানিকারকরা বাংলাদেশি ট্রাকে করে এসব মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গেছেন।
বেনাপোল, যশোরের বড় বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে এখন আমদানি করা ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। এসব মাছের বড় অংশ ভারতীয় ইলিশ বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানালেও স্থানীয় বাজারে কিছু ব্যবসায়ী এগুলোকে মিয়ানমারের ইলিশ বলছেন। আবার ক্রেতাদের অভিযোগ, ভারত বা মিয়ানমার থেকে আসা মাছকে পদ্মা, চাঁদপুর, বরিশাল কিংবা চট্টগ্রামের ইলিশ বলে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, ১ কেজি ২০০ থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ বর্তমানে কেজিপ্রতি ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিপরীতে একই ধরনের আমদানি করা ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। কম দামে বড় মাছ পাওয়ায় অনেক ক্রেতা আমদানি করা ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন। এতে দেশি ইলিশের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, আমদানি করা মাছ দেশি বলে বিক্রি করার বিষয়টি মৎস্য আইনের আওতায় সরাসরি পড়ে না। ফলে আমরা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না।
বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতিকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। মৎস্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোতে দূষণ ও নাব্য সংকট দীর্ঘদিনের। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হওয়ায় ইলিশের আবাস ও চলাচলের ওপর চাপ বাড়ছে।
বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়ে যদি বাজারের চাহিদা পূরণে প্রতিবেশী দেশের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে এটি ইলিশের জন্য বড় হুমকি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
‘ডোপ টেস্ট’-এ মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় পুলিশ অধিদপ্তরের পুলিশ সুপার (টিআর) আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১০ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মিরপুর সেনানিবাসে ‘ডিএসসিএসসি-২০২৬’ কোর্সে অংশ নিতে গত ৮ জানুয়ারি পুলিশ অধিদপ্তর থেকে যান নিজাম উদ্দিন। কোর্স চলাকালে গত ৭ জুন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হিসেবে নিজাম উদ্দিনের ‘ডোপ টেস্ট’ করা হয়। পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ আসে, যা এই কোর্সের শৃঙ্খলা পরিপন্থী।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী, নিজাম উদ্দিনকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালে নিজাম উদ্দিন বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।
জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হবে। শিগগিরই ঘোষণা করা হবে নির্বাচনের তফসিল। এ কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তবে কবে নাগাদ তফসিল ঘোষণা করা হবে- সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তিনি জানাননি।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার ব্যাপারে ইসির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে আইন পরিবর্তন না হয়, তবে আমরা বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা করব।’
স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ঘোষণা করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের কোনো মন্তব্য না করে তিনি বলেছেন, শিগগিরই ইসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে।
এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলতি মাসেই এ নির্বাচনের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আরও জানিয়েছিলেন, ‘আমরা আশা করছি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন একটা পর্যায়ে গেলে আমরা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো করব।’
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল কবে হবে- সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই মাসের মধ্যেই আপনারা অনেক কিছু দেখবেন এবং অনেক কিছুই আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব। আমাদের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ খুব দ্রুত গতিতে চলছে।’
এ নির্বাচনের তফসিল এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক, বৃত্তি ও টেস্ট পরীক্ষাসহ নানা ব্যস্ততা থাকে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষকরাই প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। তাই পরীক্ষার সময়গুলো বাদ দিয়ে, আগে বা পরে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা নির্বাচনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা এবার আরও সাহসী পদক্ষেপ নিচ্ছি। সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুভমেন্ট দ্রুত করতে ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হবে। এছাড়া অপতথ্যের ঝুঁকি মোকাবিলাতেও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও আচরণবিধিতে কিছু কড়াকড়ি থাকছে। ভিআইপিরা যেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন, সেটির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া পচনশীল নয় এমন দ্রব্য বা পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত সংশোধিত আচরণবিধির প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিলে সহকর্মীরা তার পক্ষে কাজ করেন, যা ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে এবং শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে তারা যেন নির্বাচনে অংশ না নেন, এমন একটি পর্যবেক্ষণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি।
মেট্রোরেল
অবশেষে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের লাইন-৫-এর দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট অনুমোদনের জন্য উঠছে। আগামী বুধবার অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করছে পরিকল্পনা কমিশন। একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাজধানীর পশ্চিম অংশ গাবতলী থেকে পূর্ব অংশ দাশেরকান্দিতে যাওয়া যাবে মাত্র ২৮ মিনিটে। পরিবহন ব্যয়ও কমবে। রুটে প্রতিদিন যাতায়াত করবেন ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী। প্রতিটি ট্রেনে যাত্রী ধারণক্ষমতা দুই হাজার ৩১২ জন। ২১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। সড়কে গাড়ি চলাচল কমবে ১ হাজার ৪৯টি। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে বাতাসে ২ লাখ ৮ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারবে এ প্রকল্প।
২০৩০ সালের জুনে এই মেট্রোরেল নগরবাসীর ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০৩২ সাল পর্যন্ত। এটি মেট্রো লাইন-৫ (উত্তর) ও মেট্রো লাইন-২-কে সংযুক্ত করবে। এর ফলে গোটা রাজধানীই মেট্রোরেল অবকাঠামোর আওতায় আসবে।
মেট্রোরেল-৫ (দক্ষিণ) লাইনের রুট পরিকল্পনায় দেখা যায়, মোট স্টেশন থাকছে ১৫টি। গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদগেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব, নাছিরাবাদ ও সর্বশেষ স্টেশন হবে দাশেরকান্দি। দৈর্ঘ্য হবে ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথ। উড়ালপথ ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার। পাতাল স্টেশন হবে ১১টি। উড়াল স্টেশন চারটি।
সূত্র বলছে, এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ) প্রকল্পটি অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে বর্তমান সরকার। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ ও পরিবহন খাত নিয়ে যে রূপরেখা দেওয়া হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ঢাকার যানজট নিরসনে মেট্রোরেল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, মৌলিক প্রকৌশল নকশা, দরপত্র, ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন-সংক্রান্ত পরিকল্পনার কাজ শেষ করা হয়েছে আগেই।
গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হাদীউজ্জামান বলেন, প্রকল্পটি অবশ্যই গণমুখী। তবে অন্য মেট্রোরেল প্রকল্পের তুলনায় এ প্রকল্পে যাত্রী চাহিদা তুলনামূলক কম। প্রতিটি স্টেশনের সঙ্গে আন্তঃসংযোগের বিষয়টি প্রকল্পভুক্ত করতে হবে, যাতে প্রকল্পটি আরও বেশি গণমুখী হয়। প্রকল্পটির বড় অংশ পাতাল হওয়ায় নির্মাণ ও পরিচালনও চ্যালেঞ্জিং। সে বিষয়েও সতর্কতা প্রয়োজন।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির শুরুর দিকে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে ৭ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা কমিয়ে প্রস্তাব পুনর্গঠন করা হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়া সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) এ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে। আগের প্রাক্কলনে মোট ব্যয় ধরা হয় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। এবার ব্যয় ধরা হচ্ছে ৪৭ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। এই ব্যয়ে এডিবি ও ইডিসিএফ দিচ্ছে ৩২ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব জোগান।
প্রকল্পে বিদেশি অর্থায়ন বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, আলোচনা ও চুক্তি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এস এম জাকারিয়া হক বলেন, এ বিষয়ে এডিবির সঙ্গে আগেই কাঠামো চুক্তি হয়েছিল। নতুন করে আবার এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
গাবতলী থেকে আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে। ২০২২ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করা হয়। এ বাবদ এবং ডিটেইল্ড ডিজাইনে মোট ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে যায়। পরে ব্যয় কমিয়ে একনেকে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সাড়া না পাওয়ায় একনেকে ওঠানো যায়নি।
জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, বর্তমান সরকার প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে চাইছে। উন্নয়ন সহযোগীরাও তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনেছে। নগরবাসীর যোগাযোগ উন্নয়ন এবং যানজট থেকে মুক্তির জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উদ্যোগ।
রাজধানীতে যানজটের সমস্যা কমাতে সরকারি গণপরিবহন নেটওয়ার্ক হিসেবে পাঁচটি মেট্রোরেল (এমআরটি) লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। মেট্রোরেল-৬ এরই মধ্যে চালু হয়েছে, যা নগর যাতায়াতে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির
১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা যাকে হত্যা করে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছিল, সেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ ফকিরের রক্ত ও ত্যাগের উত্তরাধিকার আজ স্বাধীন বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ আসনে।
অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে যাঁর পুত্র আলী হোসেন ফকির আজ বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে বহুমুখী সংস্কার প্রচেষ্টা এবং সমান্তরালে তীব্র অপপ্রচার।
এই লড়াই কেবল একজন ব্যক্তির পদ রক্ষার লড়াই নয়, বরং একটি স্বাধীন দেশের পুলিশ বাহিনীকে দল দাসত্ব থেকে মুক্ত করে 'জনগণের পুলিশ' হিসেবে গড়ে তোলার ঐতিহাসিক লড়াই।
বাবার মাথাবিহীন কবরের ছায়া থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বে
১৯৭১ সালে শহীদ নূর মোহাম্মদ ফকিরকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাঁর পরিবার একটি মাথাবিহীন মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হয়েছিল। যে শিশুটি সেদিন পিতৃহীন শৈশব পার করেছিল, আজ তিনি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্বে।
স্বাধীন দেশের মাটিতে বড় হওয়া সেই সন্তান আলী হোসেন ফকিরের কাঁধে এখন পুলিশ বাহিনীকে জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত করার বিশাল দায়।
স্বাধীনতার মূল্য যে পরিবার রক্ত দিয়ে পরিশোধ করেছে, সেই পরিবারের উত্তরসূরির হাত ধরেই আজ রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কঠিন দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।
সংস্কারের চ্যালেঞ্জ ও জনগণের পুলিশ গড়ার অঙ্গীকার
বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ বাহিনীকে অতীতের বিতর্কিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বের করে আধুনিক, পেশাদার, জবাবদিহিমূলক ও জনগণবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা থানা হবে বিচার চাওয়ার নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না।
পুলিশ কোনো ব্যক্তি, দল বা ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত বাহিনী না হয়ে প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে কাজ করবে এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর। কিন্তু দীর্ঘদিনের চর্চিত ক্ষমতা ও সুবিধার সংস্কৃতিতে যখন আঘাত লাগে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই স্বার্থান্বেশী মহল থেকে প্রতিরোধ ও ষড়যন্ত্রের সৃষ্টি হয়।
অপপ্রচার, কুৎসা ও সত্য উদঘাটনের দাবি
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও কুৎসা ছড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তথ্য-প্রমাণের চেয়ে রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে অতীতের সুবিধাভোগী ও পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রের অর্থায়নের গুঞ্জন রয়েছে।
সচেতন মহল মনে করেন, আলী হোসেন ফকির সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন এবং তাঁর কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি; তবে প্রমাণ ছাড়া অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কখনো ন্যায়বিচার বা সাংবাদিকতা হতে পারে না।
প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে কে বা কারা অর্থ দিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
ব্যক্তি আলী হোসেন ফকিরকে টিকিয়ে রাখা এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য নয়; বরং পুলিশ বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার এবং জনগণের পুলিশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আসল কথা।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধার রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো এমন একটি পুলিশ বাহিনী তৈরি করা, যার পোশাক দেখলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত নয়, বরং নিরাপদ বোধ করবে। মিথ্যা, কুৎসা ও ষড়যন্ত্রকে পেছনে ফেলে পুলিশ যেন সত্যিকার অর্থেই জনগণের প্রজাতন্ত্রের বাহিনী হয়ে উঠতে পারে এটাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।