হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৬ পিএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ফলের চালানের কাঠের পাটাতনের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার নিরাপত্তা, পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কীভাবে বিদেশ থেকে আসা ফলের চালানের সঙ্গে কার্গো ভিলেজ পর্যন্ত পৌঁছাল, চালানটি কোন কোন ধাপ অতিক্রম করেছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল-এসব বিষয় এখন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ফলের চালানের পাটাতনে ১৬ কেজি স্বর্ণ


মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই ২০২৬ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিমানবন্দরের বর্তমান আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সের গেট ৮(এ)-এর অভ্যন্তরে বিজিএমইএ শেডের পেছনে সন্দেহজনক একটি ফলের চালান শনাক্ত করা হয়। পরে চালানটি স্ক্যান ও ইনভেন্টরির জন্য কাস্টমস হাউস, ঢাকার অধীন এক্সপ্রেস সার্ভিস ইউনিটের গেট-৯ এলাকায় নেওয়া হয়।


প্রথম দফায় ফলের চালানের মধ্যে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। তবে চালানটি যে কাঠের সমতল পাটাতনের ওপর রাখা ছিল, সেটি নিয়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পাটাতনটি স্ক্যানিং মেশিনে পরীক্ষা করলে এর ভেতরে স্বর্ণসদৃশ ধাতব বস্তুর অস্তিত্বের প্রাথমিক আলামত পাওয়া যায়।


এরপর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কাঠের পাটাতন খুলে হলুদ রঙের স্কচটেপে মোড়ানো ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বারের ওজন এক কেজি করে। অর্থাৎ মোট ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার হয়। জব্দ তালিকায় বারগুলোর গায়ে সিরিয়াল নম্বর এবং কয়েকটির গায়ে ‘KILO’ লেখা থাকার কথাও উল্লেখ রয়েছে।


পরবর্তীতে স্বর্ণ পরীক্ষক দি নিউ ইসলাম জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. মাহফুজুল ইসলাম বারগুলোর ওজন ও বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে প্রত্যয়ন দেন। ওই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে স্বর্ণগুলো জব্দ করা হয়।


সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, স্বর্ণের বারগুলো ফলের চালানের কাঠামোর মধ্যে লুকানো ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস চালানটি শনাক্ত করে স্বর্ণ উদ্ধার করে। কার্গো এলাকায় স্ক্যানিং মেশিন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বর্ণ চোরাচালানে কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা জড়িত নন বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।


নিরাপত্তা নিয়ে কী বলছে বেবিচক


কার্গো ভিলেজের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা রয়েছে কি না-এমন প্রশ্নে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরদারির মধ্যে রয়েছে।


কার্গো ভিলেজের নিরাপত্তা দুর্বল-এমন অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তবে ১৬ কেজির মতো বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ফলের চালানের কাঠের পাটাতনের ভেতরে লুকিয়ে কার্গো এলাকায় পৌঁছানোর ঘটনা বিদ্যমান নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।


আমদানিকারকসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা


মামলার নথি অনুযায়ী, স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান Food Link-এর স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম মোস্তফাকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


চালানটি খালাসের জন্য ASYCUDA World System-এ A. RAZZAQUE TRADING নামের একটি সিএন্ডএফ এজেন্টকে ট্যাগ করা ছিল। সংশ্লিষ্ট এয়ারওয়ে বিলের নথিতে FASTRACK CARGO SOLUTIONS LTD. নামের একটি ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের তথ্যও পাওয়া যায়।


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মাস্টার ও হাউস এয়ারওয়ে বিলের মাধ্যমে আমদানি করা পণ্য ১৯ জুলাই ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভের কাছে ডেলিভারি দেওয়া হয়।


মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, সন্দেহজনক চালানটির প্রাথমিক কার্যক্রমের সময় সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে একজন কাস্টমস সরকার উপস্থিত ছিলেন। ওই সময়ের কার্যক্রম বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা প্রতিনিধির বডি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।


অভিযান ও জব্দ প্রক্রিয়ার ভিডিও ফুটেজও বডি ক্যামেরায় ধারণ করা হয় এবং পরে চাহিদার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পেনড্রাইভে সরবরাহ করা হয়েছে বলে কাস্টমসের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।


ফলে চালানটি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কারা এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং কার্গো ভিলেজে প্রবেশ থেকে স্বর্ণ শনাক্ত হওয়া পর্যন্ত এটি কী কী নিরাপত্তা ও ছাড়করণ ধাপ অতিক্রম করেছে-এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত উদ্ধার ৬০ কেজির বেশি স্বর্ণ


কাস্টমসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ৬০ কেজি ১৮৭ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।


বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের এই তথ্য চোরাচালানের প্রবণতা এবং বিমানবন্দরের কার্গো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে একাধিক বড় চালান শনাক্ত হওয়ার পর পণ্য পরীক্ষা, স্ক্যানিং সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।


৩৭৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ


১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্গো নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ-চাঁদাবাজি, রোস্টার প্রভাবিত করা, পণ্য ছাড়করণে অনিয়ম এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ সামনে এসেছে।


সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, কার্গো শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মইনউদ্দিন লোটাস, কর্মী নম্বর পি-৩৬৭৩৯-এর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রটিতে ৩৭৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।


অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, কার্গো শাখার সিএন্ডএফ এজেন্ট, রপ্তানি পণ্যের ফরওয়ার্ডার, হেলপার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ বা চাঁদা আদায় করা হতো। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বদলি, চাকরিচ্যুতি কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয় এবং সংশ্লিষ্ট নথি, সাক্ষ্য ও তদন্তের মাধ্যমে এর সত্যতা যাচাই প্রয়োজন।


চার শিপমেন্টের কাগজপত্র নিয়েও অভিযোগ


অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বরের একটি ঘটনায় চারটি শিপমেন্টের কাগজপত্র ও এক্সিট নম্বর নিয়ে অনিয়ম হয়েছিল। বিমান কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে দায় নির্ধারণ করা হলেও পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়।


এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিপমেন্টের নথি, এক্সিট রেকর্ড, ডেলিভারি তথ্য এবং তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই প্রয়োজন।


১,৯২১ কেজি পণ্যের হদিস নিয়ে প্রশ্ন


অভিযোগপত্রে চীন থেকে আমদানি করা ইলেকট্রনিক পণ্যের একটি চালান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে এয়ারওয়ে বিল নম্বর ৭৮৪-৬৯২৫৩৩৬৫-এর অধীনে ৫৬ পিস, মোট ১ হাজার ৯২১ কেজি পণ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযোগকারীদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই ওই পণ্য সিএন্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে বের করে নেওয়া হয় এবং পরে পণ্যগুলোর হদিস পাওয়া যায়নি। এর ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও কাস্টমসের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।


অভিযোগে এয়ারওয়ে বিল নম্বর ৬১৯-১০৭৭১৬৮১-এর অধীনে ১৩২ পিস এবং প্রায় ৩ হাজার ২৩৯ কেজি কার্গো পণ্য ছাড়করণ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।


অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জাল কাগজপত্র ব্যবহার ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে ওই পণ্য ছাড় করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে মইনউদ্দিন লোটাস ডেলিভারি গেটে দায়িত্বে ছিলেন।


তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এয়ারওয়ে বিল, ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, কাস্টমস ডকুমেন্ট, ডেলিভারি রেকর্ড, এক্সিট নম্বর এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


‘বকশিশ’ নেওয়ার বক্তব্য


অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত বলে দাবি করা হাতে লেখা দুটি বক্তব্যেও কার্গোতে অতিরিক্ত কাজের বিনিময়ে টাকা পাওয়ার প্রসঙ্গ রয়েছে।


মো. আলী-আশরাফুজ্জামান, জি-৫২৭৯৬-এর নামে থাকা একটি বক্তব্যে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে সেটিকে কাজের বিনিময়ে ‘বকশিশ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে মোরশেদ ও আশরাফের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।


অন্য একটি বক্তব্যে কার্গো হেলপার খোরশেদ আলম, জি-৫২৫০৯-এর নামে অতিরিক্ত কাজ, নাইট চেকিং ও মালামাল লোডিংয়ের সঙ্গে বকশিশ পাওয়ার কথা লেখা রয়েছে।


রোস্টার ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও অভিযোগ


কার্গো বিভাগের রোস্টার প্রণয়ন ও দায়িত্ব বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একই কর্মকর্তা নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেকশনে বারবার দায়িত্ব পেয়েছেন এবং স্বাভাবিক রোটেশন অনুসরণ করা হয়নি। নিরাপত্তা বিভাগেও একই এলাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


এ অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য অন্তত গত এক বছরের ডিউটি রোস্টার, সংশোধিত রোস্টার, উপস্থিতি রেজিস্টার এবং দায়িত্ব পরিবর্তনের অনুমোদনপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


যা বলছেন মইনউদ্দিন লোটাস ও বিমান কর্তৃপক্ষ


অভিযোগের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মইনউদ্দিন লোটাসের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দেননি। অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়গুলো যাচাই করছেন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে মইনউদ্দিন লোটাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তিনি আরও জানান, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে এবং সেগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।


সব মিলিয়ে, ফলের চালানের কাঠের পাটাতনে ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা শুধু একটি চোরাচালান মামলা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। চালানটির প্রবেশ, সংরক্ষণ, হ্যান্ডলিং ও ছাড়করণ প্রক্রিয়ায় কারা দায়িত্বে ছিলেন, কোথায় নজরদারির ঘাটতি ছিল এবং কার্গো শাখাকে ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলোর সঙ্গে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার যোগসূত্র রয়েছে কি না-এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৫ এএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া গতিশীল করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবস্থাপনা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ পাঁচ সদস্যের ‘কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দল’ (প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন টিম - পিআইটি) পুনর্গঠন করেছে।


রোববার (১ নভেম্বর) অর্থ বিভাগের বাজেট শাখা-৩ থেকে জারি করা এই সংক্রান্ত বিশেষ প্রজ্ঞাপনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়।


প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা ও প্রেক্ষাপট


প্রজ্ঞাপনটি গত ২৮ অক্টোবর জারি করা হলেও তা রোববার প্রকাশ করা হয়। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুনর্গঠিত এই দলের মেয়াদ ও কার্যকারিতা ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আনিছুর রহমান বালীর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটির অনুলিপি এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রধান দপ্তরসমূহে পাঠানো হয়েছে। মূলত অর্থ বিভাগ প্রণীত ‘সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ (পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট - পিএফএম) সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পিএফএম কর্মপরিকল্পনার আওতাধীন ‘কম্পোনেন্ট-২: ডমেস্টিক রিসোর্স মোবিলাইজেশন (ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউ)’ নামক কৌশলগত অংশ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই এই দল পুনর্গঠন করা হয়েছে।


পুনর্গঠিত টিমের সদস্যবৃন্দ


অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ে আধুনিক কৌশল প্রয়োগ ও তদারকি জোরদার করতে এনবিআরের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ৫ সদস্যের এই উচ্চপর্যায় কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন:

 * দলনেতা: কাজী লতিফুর রহমান — সদস্য (চলতি দায়িত্ব) (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

 * সদস্য: মো. মনিরুজ্জামান — পরিচালক, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), এনবিআর।

 * সদস্য: সিরাজুম মুনীর — প্রথম সচিব, কর অডিট, ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন, এনবিআর।

 * সদস্য: তারেক হাসান — প্রথম সচিব, কাস্টমস নীতি, এনবিআর।

 * সদস্য: নাজমা জ্যাবিন — দ্বিতীয় সচিব, কাস্টমস আধুনিকায়ন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, এনবিআর।


মূল দায়িত্ব ও প্রত্যাশা


পুনর্গঠিত এই দলটি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা (পিএফএম) কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে:

 * দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিত করা।

 * কাস্টমস ও কর নীতি আধুনিকীকরণ।

 * কর ফাঁকি রোধে সিআইসি ও অডিট শাখার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা।

 * কাস্টমস ডিজিটালাইজেশন ও নতুন রাজস্ব নীতি প্রণয়নের কাজ ত্বরান্বিত করা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি টেকসই ও স্বনির্ভর রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনবিআরের এই বাস্তবায়ন দল একটি কার্যকর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।


শ্রম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় গিয়ে কাজে ফেরার আহ্বান জানান শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৮ পিএম

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। সোমবার ঢাকার বিজয়নগরে শ্রম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তৈরি পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার। এ সময় ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত না থেকেও আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 


সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দয়া করে আপনারা কারখানায় ফিরে কাজে যোগ দিন। আমরা আপনাদের ন্যায্য মজুরির জন্য লড়াই করব। প্রয়োজন হলে আন্দোলনে যোগ দিতে আপনাদের ডাকব।’


তিনি বলেছেন, ‘আমরা মজুরি বোর্ডে এমনভাবে কাজ করব, যাতে আগামী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা বাড়তি মজুরি হাতে পান। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ার কোনো কারণ নেই। সভা করার অজুহাতে নতুন মজুরি কার্যকরে কোনো বিলম্ব হতে দেব না।’ 


বাবুল আখতার বলেন, ‘চলমান মজুরি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অজুহাতে কিছু শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেসব শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা শুধু মজুরি–সংক্রান্ত ন্যায্য দাবি উত্থাপন বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে আটক হয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হোক।’


তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রমিক ভাইবোনদের আশ্বস্ত করতে চাই, মজুরি বোর্ডে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব। আমরা একা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। সব শ্রমিক ফেডারেশন, কারখানাভিত্তিক ইউনিয়ন এবং সাধারণ শ্রমিকদের মতামত নিয়ে একটি সম্মিলিত অবস্থান তৈরি করতে চাই।’


একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার ও মালিকপক্ষকে বলতে চাই, একটি গ্রহণযোগ্য মজুরিকাঠামো নির্ধারণের জন্য শ্রমিকদের বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, পরিবারের মৌলিক চাহিদা এবং শিল্পের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে।’


এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন। আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার, আবুল হোসাইন, লাভলী ইয়াসমিন, সুলতানা বেগম প্রমুখ।


সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, চলমান আন্দোলনে শ্রমিকদের কোনো উপকার হচ্ছে না; বরং এতে তাদের ন্যায্য দাবিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে কারখানার মালিকেরা ক্রয়াদেশ হারাচ্ছেন। শ্রমিকদের আন্দোলনে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করেছে কিনা, তা চিহ্নিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 


রোববার তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দাবি পূরণ হওয়ায় সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমকিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। 


ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার। 


সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা।


  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৮ পিএম

বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কেমিক্যাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে অভিযান চালিয়ে ৮১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন কেমিক্যালের সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। রোববার এ অভিযানে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মেসার্স এমআর ট্রেডার্সের গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে 


এনবিআর বলছে, একই সঙ্গে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ৪৫ মেট্রিক টন কেমিক্যালের হদিস দিতে না পারায় সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।


কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযানে মেসার্স এমআর ট্রেডার্সের গুদামে সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটসহ প্রায় ৮১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল মজুদ পাওয়া যায়। 


তবে এসব পণ্য ক্রয়, আমদানি কিংবা বৈধভাবে মজুদ রাখার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পরে মজুদ করা পণ্যসহ গুদামটি সিলগালা করা হয়। অন্যদিকে, সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডেও অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দার একটি দল। 


প্রতিষ্ঠানটি গত ১৭ অক্টোবর ভারত থেকে বন্ড সুবিধায় ৪৫ মেট্রিক টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট আমদানি করে। তবে সরেজমিনে আমদানি করা কেমিক্যালের মজুদ দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা এসব কেমিক্যাল উৎপাদন কাজে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা।


এনবিআর বলছে, একদিকে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কেমিক্যালের হদিস নেই, অন্যদিকে নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের গুদামে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল পাওয়া গেলেও সেগুলোর বৈধ কাগজপত্র নেই। এ দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জব্দ কেমিক্যালের প্রকৃত উৎস, আমদানি ও কেনা-বেচার তথ্য, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং এর মাধ্যমে সরকারের কী পরিমাণ শুল্ক-কর ফাঁকি হয়েছে, তা নিরূপণে তদন্ত চলছে।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্কমুক্ত কাঁচামালের অবৈধ বাজারজাতকরণ এবং রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চলবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পোশাক খাতের অস্থিরতায় নিষিদ্ধ সংগঠনের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের ইন্ধন

কিছু শিল্প মালিকও জড়িত বলে দাবি মন্ত্রীর


সচিবালয়ে পোশাক শিল্প মালিকদের দুটি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১৮ পিএম

দেশের পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 


তিনি বলেন,‘এ কাজে কিছু শিল্প মালিকও জড়িত রয়েছেন বলে সরকারের কাছে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের আলোচনা চলার মধ্যে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। এ ঘটনায় জড়িত শিল্প মালিক, শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।’


সচিবালয়ে সোমবার পোশাক শিল্প মালিকদের দুটি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যেসব শিল্প মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তাঁদের তালিকা সরকারের কাছে জমা দেবেন মালিকপক্ষ। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত সন্দেহভাজন শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের নামের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব শিল্প মালিকের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, যারা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে কেউ সংসদ সদস্য, কেউ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, সেসব শিল্প মালিক এই অস্থিরতার পেছনে কাজ করছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে এবং এর প্রমাণও রয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠনের আলোচনা চলছে। এমন একটি সময়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন কেউ কেউ। এর পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে। দুঃখজনক হলেও কিছু শিল্প মালিক এ কর্মকাণ্ডে জড়িত। পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা এমন কিছু ব্যক্তিও জড়িত, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে শ্রমিকদের কল্যাণ চান কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শ্রমিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। বরং এর ফলে দেশের শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


কারখানা বন্ধের তালিকা চেয়েছে সরকার


বৈঠকে শিল্প মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু শিল্প মালিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের কারখানা বন্ধ রেখেছেন। এমন কারখানা ও মালিকদের তালিকা সরকারকে দেওয়া হবে। 


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কারখানার তালিকা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রাখা শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের নামও দিতে বলা হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে, কোনো শ্রমিক কিংবা শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে না। তবে ভুলক্রমে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ইন্ধন দিয়ে থাকলে কিংবা জড়িত থাকলে তাঁদের সেখান থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


তিনি বলেন, সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা করবে। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি কিংবা রাজনৈতিক কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সীমান্তের ওপার থেকে ইশারায় কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।


শিল্প কারখানা বন্ধ চায় না সরকার


পোশাক খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো শিল্প কারখানা বন্ধ হোক, তা চায় না। এক মুহূর্তের জন্যও কোনো কারখানা বন্ধ থাকুক, সেটি সরকারের কাম্য নয়। একইভাবে শিল্প খাতে কোনো ধরনের অস্থিরতাও চায় না সরকার।


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা জরুরি। শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।


আবহাওয়া অধিদপ্তর

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৮ এএম

এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও একটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে যাচ্ছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে। এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘মুরাসু’। গত ২৭ অক্টোবর অন্ধ্রের উপকূলে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। নামটি ছিল বাংলাদেশের দেওয়া। আর ‘মুরাসু’ নামটি দিয়েছে ভারতই। এটি আজ সোমবার সন্ধ্যার দিকে আঘাত হানতে পারে বলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।


‘মুরাসু’একটি তামিল শব্দ। এর অর্থ হলো বিশাল আকারের ড্রাম বা রণঢাক জাতীয় বাদ্যযন্ত্র। কোনো দুর্যোগ সম্পর্কে বা কিছু ঘোষণা করতে, সবাইকে সচেতন করতে এই বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয়। অনেক সময় এটিকে যুদ্ধের বাদ্য হিসেবেও ধরে নেওয়া হয়। এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আকার নিতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।


আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক আজ সকালে বলেন, গতবার অর্ণব যেখানে আঘাত হেনেছিল, সেখান থেকে বেশ অনেকটা দূরে আরও উত্তরে প্রবল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে আজই।


আগের ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূল এবং দেশের নানা স্থানে বৃষ্টি হয়েছিল। এর পরিমাণ বেশি না হলেও তাতে কয়েক দিনের তাপপ্রবাহ কমে গিয়েছিল। তাহলে এবারের ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের ওপর প্রভাব কী?


ওমর ফারুক বলেন, অর্ণবের যেমন প্রভাব ছিল, তার চেয়ে মুরাসুর প্রভাব অনেকটাই কম হতে পারে। এতে বৃষ্টির সম্ভাবনা তেমন নেই। তবে আজ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। তবে তাতে বৃষ্টি হবে, এমন সম্ভাবনা কম। আগামীকাল মঙ্গলবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা তেমন নেই। আসলে বাংলাদেশের উপকূল থেকে মুরাসুর এবারের সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল অনেকটাই দূরে।


এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গরম কমছে না। গত মাসে কয়েক দফায় তাপপ্রবাহ বয়ে গিয়েছিল। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়, ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে গতকাল তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫২ পিএম

তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির যে চেষ্টা চলছে, তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে সরকার।


আজ রোববার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে জরুরি বৈঠক শেষে এ কথা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।


বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এরপরও পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যাহত করা এবং অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে মনে করছে সরকার। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে শ্রমিক অসন্তোষের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং তা মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণ এবং পোশাক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।


ব্রিফিংয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দাবি যেটা ছিল, মজুরি বোর্ড সেটাতো হয়ে গেছে। কাজেই এখন যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়, পোশাক খাতে যাতে অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। এটা পরিষ্কার যে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লোকজন ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’


সোমবারও শ্রমিকদের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। সরকার তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


দিনভর উত্তেজনা, সংঘর্ষ: মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আজ সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুরসহ গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। দিনভর বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।


এতে কয়েকটি এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পোশাক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।


একই সঙ্গে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া ও অসন্তোষের কারণ বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং সংসদ সদস্য ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।